বিষয়বস্তুতে চলুন

ম্যাজিস্ট্রেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ম্যাজিস্ট্রেট
বাংলাদেশ সরকারের সীল

ম্যাজিস্ট্রেট হচ্ছেন আইন প্রয়োগ ও বিচারিক দায়িত্ব পালনকারী প্রজাতন্ত্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।[]

Magistrate শব্দটি ল্যাটিন Magistratus শব্দ থেকে এসেছে যার মানে Administrator বা শাসক। একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার এখতিয়ারাধীন এলাকায় আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর বর্তমানে বাংলাদেশে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নামে দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। যদিও, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ক(১)(ক) ধারা অনুযায়ী, "ম্যাজিস্ট্রেট" বলতে শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝায়।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হলেন জেলার প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এছাড়াও এক বা একাধিক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটজুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন উপজেলা বা থানার আমলী আদালতের দায়িত্ব পালন করেন। তাদেরকে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বলা হয়।

একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১) ধারার বিধান মোতাবেক তার এখতিয়ারাধীন অঞ্চলে সংঘটিত যেকোনো অপরাধ আমলে নিতে পারেন। তিনি তার অধিক্ষেত্রের মধ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমন করার জন্য যেকোনও আদেশ দিতে পারেন। পুলিশ, RAB, BGB সহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত সহ আইনের প্রয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপের বিবরণ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করে।[]

ইতিহাস ও উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের[] মাধ্যমে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদটি সৃষ্টি করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে জেলা প্রশাসকের সকল প্রকার বিচারিক ক্ষমতা পৃথক করে বৃহৎ পরিসরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর অর্পণ করা হয়। প্রাচীন রোমে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন একজন অন্যতম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যার নির্বাহী ও বিচারিক[] উভয় ধরনের ক্ষমতাই ছিল।

জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়নের পর জুডিসিয়াল অফিসারকে বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগ সংবিধান অনুযায়ী ultra vires বা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিসিয়াল অফিসার বা বিচারকগণ স্বাধীন হবেন এবং তারা সিভিল সার্ভিসের সদস্য বলে গণ্য হবেন না। পরবর্তীতে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে জুডিসিয়াল অফিসার নিয়োগ পদ্ধতি বন্ধ করা হয় এবং তাদের নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অধীনে স্বতন্ত্র বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বা বিজেএস পরীক্ষা চালু হয়। এরপর থেকে বিসিএস ক্যাডারভুক্তির তালিকা থেকে সরে গিয়ে বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে জুডিসিয়াল সার্ভিস সদস্যদের নিয়োগ চালু হয় অর্থাৎ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ উক্ত বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান। নিয়োগ প্রাপ্তির সময়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিবেচিত হন এবং কিছুদিন পর সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে তাদেরকে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করে। একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন। একটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রধান হচ্ছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

বিসিএসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নামে আদতে কোনো ক্যাডার বা পদ নেই। যারা প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একজন স্টাফ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। দুই বছর পর তাদের চাকরি স্থায়ী হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড পদে নিযুক্ত হন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০(৫) ধারা অনুযায়ী, সরকার চাইলে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা দিতে পারেন। তখন তাদেরকে বলা হবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর বাইরে তিনি প্রশাসন ক্যাডারের একজন সহকারী কমিশনার।

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করার এখতিয়ার নেই। তিনি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ক্ষেত্রবিশেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) এর মাধ্যমে তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন যেখানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের বিচার করতে পারেন। তবে তাদের এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সীমিত আকারে দেয়া হয়। এটা একটা ডেলিগেইটেড ডিউটি অর্থাৎ অর্পিত দায়িত্ব। যতক্ষণ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন। এর বাইরে তিনি ডিসি অফিসের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। একটি জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসক এই দায়িত্ব পালন করেন।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ক১(ক) ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে, "ম্যাজিস্ট্রেট" বলতে শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকেই বোঝাবে। যদি কেউ নিজেকে 'ম্যাজিস্ট্রেট' হিসেবে পরিচয় দেয় তাহলে বুঝতে হবে তিনি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা, অর্থাৎ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের সম্পর্ক

[সম্পাদনা]

প্রত্যেক পুলিশ অফিসার সকল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে - এটা আইনগত বাধ্যবাধকতা। শুধু তাই নয়, কোনো পুলিশ অফিসার প্রকাশ্যে কোনো আদালত কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি কোনো ধরনের কটাক্ষ করতে পারবে না, এমনকি প্রকাশ হতে পারে এমন কোনো প্রতিবেদন বা দলিলে আদালত কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটদের কোনো ধরনের সমালোচনাও করতে পারবে না। (প্রবিধান ৩০, পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল)

তাছাড়া, পুলিশ আইনের ২৩ ধারাতে পুলিশ অফিসার কর্তৃক অবশ্য পালনীয় দায়িত্বসমূহের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত ধারার বিধান অনুযায়ী অন্যান্য অনেক দায়িত্বের পাশাপাশি প্রত্যেক পুলিশ অফিসার শীঘ্রই ম্যাজিস্ট্রেটের সকল নির্দেশ মানতে এবং বাস্তবায়ন করতে আইনত বাধ্য।[]

আইনের সুস্পষ্ট বাধ্যবাধকতামূলক ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও কোনো পুলিশ অফিসার যদি ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো আদেশ বাস্তবায়ন না করে কিংবা করতে অনীহা প্রকাশ করে এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা যথাক্রমে পুলিশ আইনের ২৩ ধারা মতে নির্ধারিত পুলিশ কর্তৃক অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের লঙ্ঘন এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) এর ৩০ প্রবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো পুলিশ অফিসার আদালত কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করলে, ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ পালন না করলে তার শাস্তির বিধান আছে পুলিশ আইনের ২৯ ধারায়।

কোনো পুলিশ অফিসার কর্তৃক কোনো অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)সি ধারা মোতাবেক অপরাধ আমলে গ্রহণ করতে পারেন। (প্রবিধান ২৫ক, পিআরবি)[]

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

[সম্পাদনা]

মেট্রোপলিটন এলাকায় নিযুক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলা হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রধান হলেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটঅতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড। পাশাপাশি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিভিন্ন আমলী আদালতের দায়িত্ব পালন করেন।[]

জাস্টিস অব পিস

[সম্পাদনা]

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ ধারার বিধান মোতাবেক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে নিজ অধিক্ষেত্রের মধ্যে জাস্টিস অব পিস বা শান্তি রক্ষাকারী বিচারপতি হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

এখতিয়ার ও ক্ষমতা

[সম্পাদনা]

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটচীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯(গ) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটচীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া সকল অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে। উক্ত আইনের ৩৩(ক) ধারায় উল্লেখ আছে যে, ২৯(গ) ধারা ক্ষমতাবলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটচীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ৭ বছরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যেকোনও কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটঅতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সাজা প্রদানের ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সমান। অর্থাৎ তারাও সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটমেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৫ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডের আদেশ দিতে পারেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডে প্রদানে সক্ষম।[][]

পদমর্যাদা

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের পদমর্যাদা ক্রমে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর অবস্থান ১৭,অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর অবস্থান ২১, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর অবস্থান ২৩।[১০][১১][১২][১৩]

অপরাধ আমলে গ্রহণ

[সম্পাদনা]

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)সি ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অভিযোগ ছাড়াই স্বত:প্রণোদিতভাবে যেকোনো অপরাধ আমলে নিতে পারেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমল যোগ্য অপরাধের সংবাদ পেলে তাকে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করেন। আমল অযোগ্য অপরাধ হলে সেটার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয় এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনুমতি দিলে পুলিশ তদন্ত করতে পারে। অন্যদিকে, আদালতে কেউ সরাসরি অভিযোগ নিয়ে আসলে এবং সেটা গুরুতর প্রকৃতির হলে সংশ্লিষ্ট প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সেটিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারা অনুযায়ী এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে‌ নির্দেশ দিতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুসারে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন বা ২০২ ধারা মোতাবেক পুলিশ বা অন্য যে কাউকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। রিপোর্ট প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহণ করতে পারেন।[১৪]

রিমান্ড

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের সংবিধান এর ৩৩(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় হতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত আমলী আদালতের অধিক্ষেত্রের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সম্মুখে উপস্থাপন করবে। সংশ্লিষ্ট প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর বা সূত্রবিহীন (Clueless) অপরাধের ক্ষেত্রে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭(১) ধারা মোতাবেক ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডের আদেশ দিতে পারেন।

নিয়োগ

[সম্পাদনা]

ফৌজদারী কার্যবিধির ১০ ধারা মোতাবেক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডার সদস্যগণের মধ্য থেকে সরকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানের[১৫] ১১৫ ও ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আইন মন্ত্রণালয়[১৬][১৭] সুপ্রীম কোর্টের[১৮] সাথে পরামর্শক্রমে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন ও বদলি করে থাকে।[১৯]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা"
  2. "বাংলাদেশের আদালতসমূহ"। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৭
  3. "বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ"
  4. "বিচার বিভাগ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা"। ২৫ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২
  5. "পুলিশ আইন, ১৮৬১"
  6. "পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি), ১৯৪৩"। ২৮ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২২
  7. "বিচার বিভাগের ইতিহাস"। ১৬ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২
  8. "বিচার বিভাগীয় বাতায়ন"। ২৩ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২২
  9. "দন্ডবিধি, ১৮৬০"
  10. "দশ পদের পদমর্যাদা পরিবর্তন"
  11. "জেলা জজের পদমর্যাদা সচিব ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদমর্যাদা সচিব মর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের সমান"
  12. "পদমর্যাদার ক্রম রিটের সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ"। ১৫ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২২
  13. "জেলা জজের পদক্রম ১৬ এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদক্রম ১৭ তে উন্নীত"
  14. "ক্রিমিনাল রুলস এন্ড অর্ডারস, ২০০৯"[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  15. "বাংলাদেশের সংবিধান"
  16. "আইন ও বিচার বিভাগ"। ১৮ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২২
  17. "শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে আপন করে নিয়েছেন"
  18. "২৩তম প্রধান বিচারপতি হলেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী"
  19. "বাংলাদেশের সংবিধানে বিচার বিভাগ"

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]