ম্যাজিস্ট্রেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ম্যাজিস্ট্রেট হচ্ছেন আইন প্রয়োগ ও বিচারিক দায়িত্বপালনকারী একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। প্রাচীন রোমে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন একজন অন্যতম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যার নির্বাহী ও বিচারিক উভয় ধরনের ক্ষমতাই ছিল। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরনের পর বাংলাদেশে বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেটগণ ফৌজদারী অভিযোগ আমলে গ্রহণ ও বিচার করেন। Magistrate শব্দটি ল্যাটিন Magistratus শব্দ থেকে এসেছে যার মানে Administrator বা শাসক। ২০০৭ সালে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বলতে শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝাবে। বিভিন্ন পর্যায়ের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ হচ্ছেনঃ

  1. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/ ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  4. জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ ২য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  5. ৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা আমলী আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার এখতিয়ারাধীন অঞ্চলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমন করার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর বিধান মোতাবেক যেকোনও আদেশ দিতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধান এর ৩৩(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় হতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা তার কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে উপস্থাপন করবে। পুলিশ তদন্ত সহ আইনের প্রয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপের বিবরণ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা তার দ্বারা নির্ধারিত অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট দাখিল করে। তিনি বা তার দ্বারা নির্ধারিত অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর বা সূত্রবিহীন (Clueless) অপরাধের ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আসামীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭(১) ধারা মোতাবেক ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডের আদেশ দিতে পারেন। তিনি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের বিধান অনুযায়ী মাসে একবার জেলার সমস্ত থানা পরিদর্শন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)সি ধারা অনুযায়ী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা তার কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অভিযোগ ছাড়াই স্বত:প্রণোদিতভাবে যেকোনো অপরাধ আমলে নিতে পারেন। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা তার দ্বারা নির্ধারিত অধিক্ষেত্রের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১) ধারার বিধান মোতাবেক তার এখতিয়ারাধীন অঞ্চলে সংঘটিত যেকোনও অপরাধ আমলে নিতে পারেন। থানা আমল যোগ্য অপরাধের সংবাদ পেলে এজাহার হয়। আমল অযোগ্য অপরাধ হলে সেটার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয় এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বারা নির্ধারিত একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট অনুমতি দিলে পুলিশ তদন্ত করতে পারে। অন্যদিকে, আদালতে কেউ সরাসরি অভিযোগ নিয়ে আসলে এবং সেটা গুরুতর অভিযোগ হলে বা পুলিশ কর্তৃক অভিযোগটি তদন্তের প্রয়োজন মনে করলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত একজন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেটিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারা অনুযায়ী এজাহার হিসেবে রুজু করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুসারে অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন বা ২০২ ধারা মোতাবেক পুলিশ বা অন্য যে কাউকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। রিপোর্ট প্রাপ্তির পর অপরাধ আমলে নিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেটগণ হাকিম নামেও অভিহিত। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকিকরণের পর বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ঃ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট[১]জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট[২] পূর্বেই বলা হয়েছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বলতে শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝায়।

জাস্টিস অব পিস[সম্পাদনা]

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ ধারার বিধান মোতাবেক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটচীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে নিজ অধিক্ষেত্রের মধ্যে জাস্টিস অব পিস বা শান্তি রক্ষাকারী বিচারপতি হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Executive Magistrates, ধারা ১০, ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮।
  2. Judicial Magistrates, ধারা ১১, ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮।