অরবিন্দ ডি সিলভা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অরবিন্দ ডি সিলভা
අරවින්ද ද සිල්වා
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম পিন্নাদুয়াগে অরবিন্দ ডি সিলভা
জন্ম (১৯৬৫-১০-১৭) ১৭ অক্টোবর ১৯৬৫ (বয়স ৪৯)
কলম্বো, শ্রীলঙ্কা
ডাকনাম ম্যাড ম্যাক্স
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণ ডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকা ব্যাটসম্যান, অধিনায়ক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৯৩) ২৩ আগস্ট ১৯৮৪ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট ২৩ জুলাই ২০০২ বনাম বাংলাদেশ
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৩০৮) ৩১ মার্চ ১৯৮৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ ওডিআই ১৮ মার্চ ২০০৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৮৯–২০০২ নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব
১৯৯৫ কেন্ট
১৯৯৬/১৯৯৭ অকল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৯৩ ৩০৮ ২২০ ৩৯২
রানের সংখ্যা ৬৩৬১ ৯২৮৪ ১৫০০০ ১২০৯৫
ব্যাটিং গড় ৪২.৯৭ ৩৪.৯০ ৪৮.৩৮ ৩৬.৩২
১০০/৫০ ২০/২২ ১১/৬৪ ৪৩/৭১ ১৭/৭৭
সর্বোচ্চ রান ২৬৭ ১৪৫ ২৬৭ ১৫৮*
বল করেছে ২৫৯৫ ৫১৪৮ ৯০০৫ ৭৩৭৭
উইকেট ২৯ ১০৬ ১২৯ ১৫৬
বোলিং গড় ৪১.৬৫ ৩৯.৪০ ২৯.১৭ ৩৬.৩০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ৩/৩০ ৪/৩০ ৭/২৪ ৪/২৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪৩/– ৯৫/– ১০৮/– ১১৬/–
উত্স: ক্রিকইনফো, ২৫ আগস্ট ২০০৭

পিন্নাদুয়াগে অরবিন্দ ডি সিলভা (সিংহলি: පින්නදුවගේ අරවින්ද ද සිල්වා; জন্ম: ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৫) কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী শ্রীলঙ্কার সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার। তাঁকে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাটসম্যানদের একজনরূপে গণ্য করা হয়।[১] এছাড়াও, তিনি তাঁর সময়কালে সর্বাধিক মার্জিত রূচিসম্পন্ন খেলোয়াড় ছিলেন। অদ্যাবধি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৩ উইকেট লাভ করেছেন। স্বল্পকালের জন্য জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা দল থেকে পদত্যাগ করেন।[২]

ক্রীড়া জীবন[সম্পাদনা]

কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ডি সিলভা ৩১ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটান নিজেকে। অতঃপর ২৩ আগস্ট, ১৯৮৪ তারিখে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত টেস্টের মাধ্যমে অভিষিক্ত হন তিনি।[৩] শুরুতে তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় খেলতেন। ফলে বাজে শট খেলে আউট হয়ে যাওয়ায় তাঁর ডাকনাম হয়ে যায় ম্যাড ম্যাক্স। এ বিষয়ে তিনি তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রসঙ্গে জানান: এ ধরণের খেলা আমার সহজাত প্রবৃত্তি। আমি এ ধারা পরিবর্তন করবো না। এ ধারায় খেলতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেউ যদি বোলিংয়ের উপর প্রভুত্ব ঘটাতে চায়, তাকে তাই করতে দেয়া উচিত। শৈশব থেকেই আমি এভাবে খেলে আসছি।[৪] নিউজিল্যান্ড সফর শেষে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এপ্রিল, ১৯৯৫ সালে পূর্ববর্তী মৌসুমে শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান কার্ল হুপার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সাথে খেলার লক্ষ্যে চলে যাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে কেন্টে যোগ দেন।[৪] প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার ফলে খেলোয়াড়ী জীবনের মোড় ঘুরে যায় ও খেলার ধারা পরিবর্তিত হয় তাঁর। ঐ মৌসুমে কেন্ট কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে সর্বশেষ অষ্টাদশ স্থান দখল করেছিল।[৫]

এপ্রিল, ১৯৯৭ সালে আটদিনের ব্যবধানে তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন। তন্মধ্যে কলম্বোর সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩৮* ও ১০৫* রান করেন। ভারতের সুনীল গাভাস্কারঅস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং উভয় ইনিংসে তিনবার করে সেঞ্চুরি করেছেন। তিনি ৭৬.২৫ গড়ে ঐ মৌসুমে রান করেন ১,২২০।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ১৯৯৬[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা টসে জয়ী হয়ে ফিল্ডিং নেন ও ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ বিজয়ী ও তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে অংশগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। ডি সিলভা রিকি পন্টিংমার্ক টেলরকে আউট করলে দলের রান ৪ উইকেটে ১৫৬ হয়। স্টুয়ার্ট ল এবং স্টিভ ওয়াহ দলের হাল ধরেন। দু’জনে আউট হলে দল ৬ উইকেটে ২০২ করে। ইয়ান হিলিমাইকেল বেভান ক্রিজে আসলে ডি সিলভা পুণরায় হিলিকে আউট করেন। অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪১ রান করে। জবাবে কুয়াশা ও শিশিরাচ্ছন্ন মাঠে অস্ট্রেলিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে শুরুতেই সচেষ্ট হয়। শ্রীলঙ্কা তাদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ২৩ রানের মধ্যে হারায়।[৬] তারপর ডি সিলভা ক্রিজে আসেন ও তাঁর জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন খেলাটি বিচক্ষণতার সাথে খেলেন।[৭] ডি সিলভা ৪২ রানে ৩ উইকেট সংগ্রহের পাশাপাশি অপরাজিত ১০৭ রান করেন ১২৪ বল খেলে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সেঞ্চুরির ঘটনা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন অশঙ্কা গুরুসিংহা (৬৫) ও অর্জুনা রানাতুঙ্গা (৪৭*)। ৪৭তম ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তাঁর দল। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক কিংবা সহ-স্বাগতিক দেশের বিশ্বকাপ জয়ের প্রথম ঘটনার সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। বোলিং ও ব্যাটিং - উভয় বিভাগেই অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনা করায় ডি সিলভা ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।[৮]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালে উইজডেন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে।[৯] এছাড়াও উইজডেনের শীর্ষ ১০০ তালিকায় ৬টি বিভাগে রাখে যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডসের চেয়ে মাত্র একটি কম।[১০] ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ বিজয়ে তাঁর অবদানের জন্য উইজডেন কর্তৃপক্ষ ওডিআইয়ের ব্যাটিং বিভাগে ৮ম এবং বোলিং বিভাগে ৮২তম স্থানে রাখে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Aravinda de Silva"Cricinfo। ১ ডিসেম্বর ২০০৭-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৭-১০-২৭ 
  2. "Probe into selection policy and jeers at home as Sri Lanka lose Cricket World Cup final"। Island Cricket। 
  3. "TEST: England v Sri Lanka at Lord's, 23–28 Aug 1984"Cricinfo। ২৮ আগস্ট ২০০৭-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-০৩ 
  4. ৪.০ ৪.১ Murray Hedgcock। "Hi Ho de Silva"Cricinfo। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-০৪ 
  5. "Britannic Assurance County Championship 1995 Table"CricketArchive। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-০৪ 
  6. Sri Lanka v Australia 1996 Cricket World Cup Final
  7. Cricinfo Report 1996 Cricket World Cup final
  8. "FINAL: Australia v Sri Lanka at Lahore, 17 Mar 1996"Cricinfo। ১৬ আগস্ট ২০০৭-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-০৫ 
  9. "Aravinda de Silva"CricketArchive। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-০৫ 
  10. "Wisden's Top ODI performances"Rediff.com। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-০৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]