বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা
জন্ম (১৯৫৩-০৩-০১) ১ মার্চ ১৯৫৩ (বয়স ৬৫)
রাম্বুক্কানা, শ্রীলঙ্কা
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকা অল-রাউন্ডার, ম্যাচ রেফারি
সম্পর্ক বিএসএম ওয়ার্নাপুরা (ভাইপো)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১০)
১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১)
৭ জুন ১৯৭৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ বনাম ভারত
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৯০-৯১ ব্লুমফিল্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ৫৭ ৩৩
রানের সংখ্যা ৯৬ ১৮০ ২২৮০ ৫৭৯
ব্যাটিং গড় ১২.০০ ১৫.০০ ২৫.০৫ ১৯.৩০
১০০/৫০ ০/০ ০/১ ২/১০ ১/৩
সর্বোচ্চ রান ৩৮ ৭৭ ১৫৪ ১০৬
বল করেছে ৯০ ৪১৪ ১২১১ ১০১৮
উইকেট ১৩ ২১
বোলিং গড় ৩৯.৫০ ৪৮.৩০ ৩৭.৪২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ০/১ ৩/৪২ ২/৩৩ ৩/২১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ৫/– ২৩/– ১৩/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা (জন্ম: ১ মার্চ, ১৯৫৩) রাম্বুকানায় জন্মগ্রহণকারী শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার[১] শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম টেস্টে দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ মেয়াদে টেস্টএকদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন ওয়ার্নাপুরা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পান। এছাড়াও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রশাসনে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কার বর্তমান ক্রিকেটার মালিন্দা ওয়ার্নাপুরা সম্পর্কে তাঁর ভাইপো।[২] কলম্বোর নালন্দা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তিনি।[৩] ১৯৭১ সালে তিনি প্রথম একাদশে অধিনায়কত্ব করেন।

শ্রীলঙ্কা দলের প্রথম টেস্ট অভিষেকে দলের অধিনায়ক ছিলেন ওয়ার্নাপুরা। ১০ম শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্যাপ পরিধান করেন।[৪] ১৯৮২ সালে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি প্রথম বল মোকাবেলাসহ দলের প্রথম রানের সূচনা করেন।[৫] ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে পাইকিয়াসোথি সারাভানামুত্তু স্টেডিয়ামে ওয়ার্নাপুরা-কিথ ফ্লেচার টসে যান। টসে অবশ্য ওয়ার্নাপুরা টসে জয়ী হন। সিদাথ ওয়েতিমুনিকে সাথে নিয়ে ব্যাটিং উদ্বোধনে যান। এছাড়াও প্রথম শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে বুকে আঘাত পান। কিন্তু ৩৫ মিনিটে ২৫ বল মোকাবেলা করে মাত্র ২ রানে বব উইলিসের বলে ডেভিড গাওয়ারের হাতে ধরা পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান।[৫][৬] দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৫ বলে ৩৮ রান তোলেন। এ রানটিই তাঁর সর্বোচ্চ টেস্ট রান।[৭] ঐ খেলায় ইংল্যান্ড জয়লাভ করে।[৮] চার টেস্ট খেলে সবগুলো টেস্টেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোন টেস্টেই তাঁর দল জয়লাভে সক্ষম হয়নি।

একাদশ শ্রীলঙ্কান হিসেবে ওডিআইয়ে ক্যাপ পরিধান করেন ওয়ার্নাপুরা।[৯] ৭ জুন, ১৯৭৫ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক ঘটে। ১৯৭৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত ঐ খেলাটি শ্রীলঙ্কা দলের প্রথম ওডিআই খেলা ছিল। ঐ খেলায় তিনি মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করেন ও তাঁর দল পরাজিত হয়।[১০] নিজস্ব পঞ্চম ওডিআইয়ে অনূঢ়া তেনেকুনের আঘাতপ্রাপ্তির কারণে অস্থায়ীভাবে দলের অধিনায়কত্ব করেন।[১১] তাঁর অধিনায়কত্বে ১৬ জুন, ১৯৭৯ তারিখে ভারতের বিপক্ষে ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিকে জয়লাভে সক্ষম হয়। ঐ খেলায় তিনি ১৮ রানসহ এক উইকেট লাভ করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। প্রতিযোগিতায় সহযোগী সদস্য হিসেবে এ জয়টি একমাত্র জয় ছিল।[১২][১৩] একদিনের আন্তর্জাতিকে তিনি একটিমাত্র অর্ধ-শতক লাভ করেছেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালে বিদ্রোহী দলের সফরে আরোসা শ্রীলঙ্কা দলে অংশ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেন। এরফলে তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে অবশ্য এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও তিনি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেননি। অবসর পরবর্তীকালে আইসিসি ম্যাচ রেফারিসহ আম্পায়ার হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০১ সালে দুই টেস্ট ও তিনটি ওডিআইয়ে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন।[১] এছাড়াও ক্রিকেট কোচ হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে। ১৯৯৪ সালে কোচিং পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন। পরবর্তীতে জাতীয় দলের কোচ হন। ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ডাইরেক্টর অব অপারেশন্স পদে যোগ দেন।[১৪] ২০০৮ সাল পর্যন্ত আট বছর এ দায়িত্বে থেকে পদত্যাগ করেন।[১৫] বর্তমানে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ডেভেলপম্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।[১৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bandula Warnapura"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  2. "Sri Lanka batsmen dominate India"BBC Sport। ২৪ জুলাই ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  3. Anandappa, Ranjan (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫)। "Ananda-Nalanda on quiet note this year"Sunday Observer। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  4. "Sri Lanka Players by Caps (Tests)"। Cricinfo.com। ২৪ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  5. Frith, David (এপ্রিল ১৯৮২)। "Sri Lanka come of age"Wisden Cricket Monthly। Cricinfo.com। ২৮ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  6. Williamson, Martin (২৬ মে ২০০৬)। "The birth of a nation"। Cricinfo.com। ৪ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  7. "B Warnapura: High scores in Test matches"। Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  8. "England in Sri Lanka (1981–82): Scorecard of Only Test"। Cricinfo.com। ২০ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  9. "Sri Lanka Players by Caps (ODI)"। Cricinfo.com। ২৪ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  10. "Prudential World Cup (1975): Scorecard of 4th match, Group B"। Cricinfo.com। ২০ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  11. "Prudential World Cup 1979, fifth Group B match"Wisden। Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  12. "Prudential World Cup (1979): Scorecard of 9th match, Group B"। Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  13. "Prudential World Cup 1979, fifth Group B match: India vs Sri Lanka"Wisden। Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  14. "Bandula Warnapura: Managing Development"। Asian Cricket Council। ১০ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 
  15. Thawfeeq, Sa'adi (৮ জুন ২০০৮)। "Warnapura joins ACC"The Nation। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]