বিষয়বস্তুতে চলুন

রোশন মহানামা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রোশন মহানামা
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম
রোশন শ্রীবর্ধনে মহানামা
জন্ম (1966-05-31) ৩১ মে ১৯৬৬ (বয়স ৫৯)
কলম্বো, শ্রীলঙ্কা
ডাকনামমহা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান, অধিনায়ক, ম্যাচ রেফারি
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় দল
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫২)
১৪ মার্চ ১৯৮৬ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট২৭ মার্চ ১৯৯৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩৬)
২ মার্চ ১৯৮৬ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই৩০ মে ১৯৯৯ বনাম কেনিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব
কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ৫২ ২১৩
রানের সংখ্যা ২৫৭৬ ৫১৬২
ব্যাটিং গড় ২৯.২৭ ২৯.৪৯
১০০/৫০ ৪/১১ ৪/৩৫
সর্বোচ্চ রান ২২৫ ১১৯*
বল করেছে ৩৬
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫৬/- ১০৯/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো, ১৫ মার্চ ২০১৪

রোশন শ্রীবর্ধনে মহানামা (সিংহলি: රොෂාන් මහානාම; জন্ম: ৩১ মে, ১৯৬৬) কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী সাবেক শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। এরপর তিনি আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন।[]

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় দলের অধিনায়কেরও দায়িত্ব পালন করেছেন ‘মহা’ ডাকনামে পরিচিত রোশন মহানামা। ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবন

[সম্পাদনা]

১৯৮৫/৮৬ মৌসুমে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬তম শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্যাপ পড়েন তিনি।[] মহানামা তার সমগ্র টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে ৩০-এরও কম ব্যাটিং গড়ের অধিকারী ছিলেন। তা স্বত্ত্বেও তিনি চারটি সেঞ্চুরি করেছেন। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারত ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তিনি সর্বোচ্চ ২২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ রান সংগ্রহের সময় তিনি দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শ্রীলঙ্কার অন্যতম ব্যাটিং প্রতিভা সনাথ জয়াসুরিয়া’র সাথে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড গড়েন।[] কিন্তু এ রেকর্ডটি পরবর্তীতে জুলাই, ২০০৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যে-কোন উইকেটে সবচেয়ে দীর্ঘতম জুটি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনে ৬২৪ রান করে ভঙ্গ করেন।[]

খেলার ধরন

[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকের শেষ থেকে শুরু করে ও ১৯৯০-এর দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত তিনি নিজেকে একজন আদর্শ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অতুলা সামারাসেকারাহাথুরুসিংহা’র সাথে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নেমেছিলেন। ৯০-এর দশকের প্রথমার্ধে অরবিন্দ ডি সিলভা’র অধিনায়কত্বকালেও তিনি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৯৫/৯৬ মৌসুমে রোশন মহানামা’র আউটের সাথে সাথেই অরবিন্দ ডি সিলভাও খুব সহজেই আউট হয়ে যেতেন।

১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলের খারাপ ফলাফলের পর থেকেই তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ও টেস্টে উপেক্ষিত হচ্ছিলেন। তরুণদেরকে দলে সুযোগ দিতেই তিনি ক্রিকেট জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিসমূহ

[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামতেন। কিন্তু রমেশ কালুবিতরাণাসনাথ জয়াসুরিয়া’র ব্যাটিং উদ্বোধনে বৈপ্লবিক সাফল্য লাভ করায় পরবর্তীকালে তাঁকে মাঝারি সারিতে ব্যাটিং করতে হয়েছে। অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত তিনি চারটি টেস্ট ও চারটি ওডিআই সেঞ্চুরি হাঁকান।

টেস্ট সেঞ্চুরি

[সম্পাদনা]

রোশন মহানামার টেস্ট সেঞ্চুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা ছক আকারে নিম্নে তুলে ধরা হলো।

  • রানের কলামের পার্শ্বে (*) চিহ্নটি অপরাজিত বুঝায়
  • খেলা কলামে খেলোয়াড়ের সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের খেলা নম্বর বুঝায়
রোশন মহানামা’র টেস্ট সেঞ্চুরি
রানখেলাপ্রতিপক্ষনগর, দেশস্থানবছর
[১]১৫৩১৫ নিউজিল্যান্ডমোরাতুয়া, শ্রীলঙ্কাতাইরোন ফার্নান্দো স্টেডিয়াম১৯৯২
[২]১০৯১৬ নিউজিল্যান্ডকলম্বো, শ্রীলঙ্কাসিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড১৯৯২
[৩]১৫১২০ ভারতকলম্বো, শ্রীলঙ্কাপি. সারাভানামুত্তু স্টেডিয়াম১৯৯৩
[৪]২২৫৪৪ ভারতকলম্বো, শ্রীলঙ্কারানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম১৯৯৭

ওডিআই সেঞ্চুরি

[সম্পাদনা]

রোশন মহানামার ওডিআই সেঞ্চুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা ছক আকারে নিম্নে তুলে ধরা হলো।

  • রানের কলামের পার্শ্বে (*) চিহ্নটি অপরাজিত বুঝায়
  • খেলা কলামে খেলোয়াড়ের সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের খেলা নম্বর বুঝায়
রোশন মহানামা’র ওডিআই সেঞ্চুরি
রানখেলাপ্রতিপক্ষনগর, দেশস্থানবছর
[১]১০৭৭২ নিউজিল্যান্ডকলম্বো, শ্রীলঙ্কাআর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম১৯৯২
[২]১১৯*১০৮ জিম্বাবুয়েহারারে, জিম্বাবুয়েহারারে স্পোর্টস ক্লাব১৯৯৪
[৩]১০৮১০৯ জিম্বাবুয়েহারারে, জিম্বাবুয়েহারারে স্পোর্টস ক্লাব১৯৯৪
[৪]১০১১২৪ ওয়েস্ট ইন্ডিজশারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাতশারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম১৯৯৫

ম্যাচ রেফারি

[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ম্যাচ রেফারি হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৪ সালে কিংসটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশের মধ্যকার ওডিআই খেলার মাধ্যমে তার ম্যাচ রেফারি হিসেবে অভিষেক ঘটে। একই সিরিজে তিনি টেস্ট খেলা পরিচালনা করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত তিনি ৫৮ টেস্ট, ২২২টি ওডিআই ও ৩৫টি টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক খেলা রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২১ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে নিউজিল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজে ৪র্থ ম্যাচ রেফারি হিসেবে ২০০তম ওডিআই খেলা পরিচালনা করেছেন।[] এ সময়কালে তিনি তিনবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পরিচালনা করেন।

সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালে মহানামা ঘোষণা করেন যে, এ বছর শেষে আইসিসি ম্যাচ রেফারি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেবেন। এরফলে তিনি পরিবারকে আরও সময় দেয়াসহ নিজের ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।[] পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখে আইসিসি কর্তৃক ম্যাচ রেফারি হিসেবে খেলা পরিচালনার তার পরিবর্তে রিচি রিচার্ডসনকে মনোনয়ন দেয়া হয়।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Observer schoolboy cricketers Madugalle and Mahanama now International Match Referees!, The Observer, ২৮ জুন ২০০৯, ১৬ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১২
  2. "Players / Sri Lanka / Test caps"ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১২
  3. World record-holder Mahanama Observer Schoolboy Cricketer in 1983 and 1984, The Observer, ৬ এপ্রিল ২০০৮, ১ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১২
  4. "Test matches – Partnership records – Highest partnerships for any wicket"ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১২
  5. Mahanama becomes fourth match referee to achieve 200-ODI landmark, , ২১ অক্টোবর ২০১৪, ৫ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৪ {{citation}}: |publisher=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)
  6. http://www.espncricinfo.com/ci-icc/content/story/920731.html
  7. "Richie Richardson appointed to Elite Panel of ICC Match Referees"। GrenadaSports। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]