লোকসভা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লোকসভা
Coat of arms or logo
ধরন
ধরন নিম্নকক্ষ
নেতৃত্ব
অধ্যক্ষ মীরা কুমার
জুন ০৩, ২০০৯ থেকে
গরিষ্ঠ দলনেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়, (ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস)
জুন ০১, ২০০৯ থেকে
বিরোধী দলনেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, (ভারতীয় জনতা পার্টি)
জুন ০১, ২০০৯ থেকে
গঠন
আসন ৫৫২ (৫৫০ জন নির্বাচিত + ২ জন মনোনীত)
রাজনৈতিক দল সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট (ইউপিএ)
জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)
বামফ্রন্ট
নির্বাচন
সর্বশেষ নির্বাচন এপ্রিল-মে, ২০০৯
সভাস্থল
Loksabha.jpg
লোকসভা কক্ষ, সংসদ ভবন
ওয়েবসাইট
loksabha.nic.in

লোকসভা ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ। এই কক্ষের প্রতিনিধিরা প্রত্যক্ষভাবে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল অবধি ভারতে মোট পনেরোটি লোকসভা গঠিত হয়েছে। সংবিধান অনুসারে, এই কক্ষের প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫৫২। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি সর্বোচ্চ ২০ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে সভায় অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের যথেষ্ট প্রতিনিধি নেই, তবে তিনি সর্বোচ্চ দুইজনকে মনোনীত করতে পারেন। বর্তমানে অধ্যক্ষ এবং দুইজন মনোনীত প্রতিনিধি (যদি থাকেন) সহ লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৫৪৫।

প্রত্যেক লোকসভার মেয়াদ পাঁচ বছরের। পাঁচ বছর অন্তর এই সভা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিলুপ্ত হয়। তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে এই সভার মেয়াদ আরও একবছর বাড়ানো যায়। ভারতের পঞ্চদশ লোকসভা গঠিত হয়েছে ২০০৯ সালের মে মাসে।

২০০১ সালের ভারতীয় জনগণনার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিককালে লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য গঠিত হয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন। সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজটি প্রকৃতপক্ষে প্রতি জনগণনার পর হওয়ার কথা। কিন্তু ১৯৭৬ সালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির প্রভাব এড়াতে একটি বিশেষ সংবিধান সংশোধনীর দ্বারা এই কাজ স্থগিত করা হয়েছিল।[১] বর্তমানে লোকসভা টিভি নামে লোকসভার একটি নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল আছে, যার সদর সংসদ ভবন চত্বরেই অবস্থিত।

সদস্য হওয়ার যোগ্যতা[সম্পাদনা]

সংবিধানের ৮৩ নং অনুচ্ছেদে সংসদের দুই কক্ষের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়েছে। লোকসভার সদস্যদের অবশ্যই ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের নাগরিক হতে হয় – যাঁর বয়স ২৫ বছরের কম নয়। অনাগরিক, আদালত কর্তৃক বিকৃত মস্তিষ্ক বা দেউলিয়া ঘোষিত বা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের লাভজনক কোনো পদে চাকুরিরত ব্যক্তিরা লোকসভার সদস্যপদের প্রার্থী হতে পারেন না। সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই তফসিলি জাতি বা উপজাতি তালিকাভুক্ত হতে হবে।

অধিবেশন ও দৈনিক কার্যকাল[সম্পাদনা]

সাধারণ দিনে লোকসভার কার্যকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যে ৬টা। প্রত্যেক বৈঠকের প্রথম ঘণ্টাটি প্রশ্নোত্তর কাল বা কোশ্চেন আওয়ার নামে পরিচিত। এই পর্বে সদস্যরা নির্দিষ্ট সরকারি মন্ত্রকের বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেন।

অর্থ বিল ছাড়া অন্য সকল ক্ষেত্রে রাজ্যসভা ও লোকসভার আইনবিভাগীয় ক্ষমতা একই। অর্থ বিলের ক্ষেত্রে লোকসভাই সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। আইনবিভাগের কোনো বিষয় নিয়ে উভয় কক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা গেলে যৌথ অধিবেশনের মাধ্যমে তার মীমাংসা করা হয়। তবে এই ধরনের অধিবেশনে সাধারণত লোকসভার সদস্যদেরই জয় হয়। কারণ, লোকসভার সদস্যসংখ্যা রাজ্যসভার প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতিবছর লোকসভার তিনটি অধিবেশন বসে। যথা:

  • বাজেট অধিবেশন: ফেব্রুয়ারি-মে
  • বাদল অধিবেশন বা বর্ষাকালীন অধিবেশন: জুলাই-সেপ্টেম্বর
  • শীতকালীন অধিবেশন: নভেম্বর-ডিসেম্বর

বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা[সম্পাদনা]

বিভাগ ধরন কেন্দ্রের সংখ্যা [২]
দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল
অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য ৪২
অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য
অসম রাজ্য ১৪
বিহার রাজ্য ৪০
চণ্ডীগড় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
ছত্তীসগঢ় রাজ্য ১১
দাদরা ও নগর হাভেলি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
দমন ও দিউ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
গোয়া রাজ্য
গুজরাট রাজ্য ২৬
হরিয়ানা রাজ্য ১০
হিমাচল প্রদেশ রাজ্য
জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য
ঝাড়খণ্ড রাজ্য ১৪
কর্ণাটক রাজ্য ২৮
কেরল রাজ্য ২০
লাক্ষাদ্বীপ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
মধ্যপ্রদেশ রাজ্য ২৯
মহারাষ্ট্র রাজ্য ৪৮
মণিপুর রাজ্য
মেঘালয় রাজ্য
মিজোরাম রাজ্য
নাগাল্যান্ড রাজ্য
ওড়িশা রাজ্য ২১
পুদুচেরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
পাঞ্জাব রাজ্য ১৩
রাজস্থান রাজ্য ২৫
সিক্কিম রাজ্য
তামিলনাড়ু রাজ্য ৩৯
ত্রিপুরা রাজ্য
উত্তরাখণ্ড রাজ্য
উত্তরপ্রদেশ রাজ্য ৮০
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ৪২

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Election Commission India
  2. "Lok Sabha Introduction"। National Informatics Centre, Government of India। সংগৃহীত 2008-09-22 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]