ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস


প্রাচীন ভারত এবং বর্তমান পাকিস্তানের আদি সভ্যতা হিসেবে পরিচিত সিন্ধু সভ্যতার হাত ধরেই মূলত কৃষি এবং কারুশিল্পের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভারতের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।[২] বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের করা একটি হিসাব অনুযায়ী, খ্রিস্টীয় ১ম থেকে ১০০০ অব্দ পর্যন্ত আধুনিক ভারতের ভৌগোলিক অঞ্চলগুলো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এবং মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ অধিকার করে রেখেছিল।[৩]
মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধিতে এক উল্লেখযোগ্য গতি লক্ষ্য করা যায়।[৪] সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগের কথা বিচার করলে দেখা যায় যে, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ এলাকা একটি শাসনের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ম্যাডিসনের মতে, সেই নির্দিষ্ট সময়ে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং সবচেয়ে বড় শিল্প উৎপাদনকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। সেই যুগে সারা বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশই ভারতের হাত ধরে আসত। তবে এর পরবর্তী শতাব্দীতে মুঘল সাম্রাজ্য খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায় এবং বিভিন্ন শক্তির মাধ্যমে বিজিত হতে শুরু করে।[৫]
অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।[৬] ভারতের এই শিল্পায়নের গতিকে অনেক সময় প্রাক-শিল্পায়ন হিসেবে অভিহিত করা হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের আগের সময়ে পশ্চিম ইউরোপে ঠিক যে ধরনের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখা গিয়েছিল, ভারতের পরিস্থিতিও ছিল অনেকটা সেই রকম।[৭] তবে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের একটি পরোক্ষ ফল হিসেবে এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাবে আঠারো শতকের শেষার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশে এক প্রকার বি-শিল্পায়ন বা শিল্পের অবনতি শুরু হয়েছিল।[৮]
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের চিরাচরিত কারুশিল্প ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ে এবং দেশে চরম বি-শিল্পায়ন পরিলক্ষিত হয়।[৯] সেই একই সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে জনসংখ্যা এবং অর্থনীতির দ্রুত প্রসার ঘটছিল। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ১৭০০ সালের ২৪.৪ শতাংশ থেকে ব্যাপকভাবে কমে গিয়ে ১৯৫০ সালে মাত্র ৪.২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছিল।[১০] এছাড়া বিশ্বব্যাপী শিল্পজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারতের অংশ ১৭৫০ সালের ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯০০ সালে মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসে।[৯] তবে প্রাচীনকাল থেকেই বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি থাকা এবং পরবর্তী সময়ে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকার কারণে ওই সময়েও ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। সেই সময় ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানুষের অভিপ্রায়ণ চলত।[১১]
১৮৫০ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়কালের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ১৯৯০ সালের আন্তর্জাতিক ডলারের মান অনুযায়ী ভারতের জিডিপি ১২৫.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২১৩.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ অথবা গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ০.৫৫ শতাংশ। ১৮২০ সালে সারা বিশ্বের মোট জিডিপির ১৬ শতাংশ ছিল ভারতের দখলে। ১৮৭০ সালে সেই অংশটি কমে হয় ১২ শতাংশ এবং ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সময় তা মাত্র ৪ শতাংশে নেমে আসে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারত প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশটির অধিকাংশ সময়ের ইতিহাস জুড়েই কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় বড় বড় কলকারখানার ওপর সরকারি মালিকানা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান ছিল।[১২][১৩] পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে ভারত সরকার বাজার সংস্কার এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণেরনীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
সিন্ধু সভ্যতা
[সম্পাদনা]
সিন্ধু সভ্যতা ছিল বিশ্বের প্রথম পরিচিত স্থায়ী এবং প্রধানত নগরকেন্দ্রিক জনবসতি, যা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ১৮০০ অব্দের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল। এই সভ্যতায় একটি অত্যন্ত উন্নত এবং সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। এখানকার বাসিন্দারা নিয়মিত কৃষিকাজ, পশুপালন করতেন এবং তামা, ব্রোঞ্জ এবং টিন, দিয়ে ধারালো যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করতেন। এছাড়া তারা অন্যান্য শহরের সাথে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্যও চালিয়ে যেতেন।[১৪] এই উপত্যকার প্রধান শহরগুলো, যেমন ধোলাবীরা, হরপ্পা, লোথাল, মহেঞ্জোদাড়ো এবং রাখিগড়িতে সুপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জল সরবরাহের যে প্রমাণ পাওয়া যায়, তা থেকে তাদের উন্নত নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রাচীন এবং মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]প্রাচীন ভারতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শহরবাসী থাকলেও, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ গ্রামেই বসবাস করতেন। এই গ্রামগুলোর অর্থনীতি ছিল মূলত বিচ্ছিন্ন এবং আত্মনির্ভরশীল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কৃষিকাজই ছিল সেই সময়ে মানুষের প্রধান জীবিকা, যা গ্রামের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বস্ত্রশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং হস্তশিল্পের মতো কুটির শিল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যোগান দিত। কৃষক ছাড়াও সমাজে অন্যান্য পেশার মানুষ হিসেবে নাপিত, ছুতার, চিকিৎসক (আয়ুর্বেদ শাস্ত্রজ্ঞ), স্বর্ণকার এবং তাঁতিরা কাজ করতেন।[১৫]
পারিবারিক ব্যবসা
[সম্পাদনা]যৌথ পরিবার প্রথার অধীনে পরিবারের সকল সদস্য তাদের নিজেদের সম্পদ একত্রিত করতেন, যাতে পরিবারের ভরণপোষণ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে বিনিয়োগ করা যায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারের তরুণ সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত হতো এবং বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হতো। এই প্রথাটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কৃষি জমি ভাগ হয়ে যাওয়া রোধ করত, যা বড় আকারের চাষাবাদের সুবিধা নিয়ে ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করত। পরিবারের এই ধরনের সামাজিক নিয়মকানুন ছোট সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনত এবং তাদের মনে বড়দের প্রতি আনুগত্যের বোধ জাগিয়ে তুলত।[১৬]
সাংগঠনিক সত্তা
[সম্পাদনা]
পরিবার বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যবসার পাশাপাশি প্রাচীন ভারতে যৌথভাবে কাজ করার আরও বিভিন্ন রূপ বিদ্যমান ছিল, যার মধ্যে রয়েছে গণ, পাণি, পুগ, ব্ৰত, সংঘ, নিগমএবং শ্রেণী। নিগম, পাণি এবং শ্রেণী শব্দগুলো সাধারণত বণিক, কারুশিল্পী এবং শিল্পীদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংগঠনকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। এমনকি এগুলো তৎকালীন আধাসামরিক কোনো সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারত। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শ্রেণীর সাথে আধুনিক কর্পোরেশন বা বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ভারতে আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতাব্দী থেকে ১০ম শতাব্দী পর্যন্ত এই ধরনের সংগঠনের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। প্রাচীন ভারতে ব্যবসা, রাজনীতি এবং পৌর প্রশাসনসহ প্রায় সব ধরনের কাজে এই সংগঠনগুলোর ব্যাপক ব্যবহার ছিল।[১৮]
শ্রেণী ছিল একটি স্বতন্ত্র আইনি সত্তা, যার নিজস্ব মালিকদের বাইরেও আলাদাভাবে সম্পত্তি রাখার অধিকার ছিল। এই সংগঠনগুলো তাদের সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব নিয়মকানুন তৈরি করতে পারত এবং নিজেদের নামেই চুক্তি সম্পাদন, মামলা দায়ের বা মামলার সম্মুখীন হতে পারত। প্রাচীন উৎস যেমন মনুসংহিতার অষ্টম অধ্যায় এবং চাণক্যের অর্থশাস্ত্রের মতো বইগুলোতে দুই বা ততোধিক শ্রেণীর মধ্যে আইনি লড়াইয়ের নিয়মাবলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু প্রাচীন উৎস থেকে ভাণ্ডাগারিক নামক এক সরকারি কর্মকর্তার কথা জানা যায়, যিনি অন্তত খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে শ্রেণীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে সালিশি বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।[১৯] প্রাচীন ভারতে বিভিন্ন সময়ে ১৮ থেকে ১৫০টি শ্রেণী ছিল, যারা ব্যবসা এবং কারুশিল্প উভয় ধরনের কাজ পরিচালনা করত। এই পর্যায়ের বিশেষীকরণ একটি উন্নত অর্থনীতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শ্রেণী এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিছু কিছু শ্রেণীতে এক হাজারের বেশি সদস্য যুক্ত ছিলেন।
শ্রেণীর ভেতরে এক ধরনের শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যেত। শ্রেণীর প্রধান ব্যক্তি বা দলপতি রাজার দরবারে এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিষয়ে সংগঠনের স্বার্থ রক্ষা করতেন। এই প্রধান ব্যক্তি শ্রেণীর হয়ে কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারতেন অথবা কাজের শর্তাবলি নির্ধারণ করতে পারতেন। তিনি প্রায়ই অন্যদের তুলনায় বেশি পারিশ্রমিক পেতেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। অনেক সময় শ্রেণীর সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রধানকে বেছে নিতেন এবং সাধারণ সভার মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার অধিকারও তাদের ছিল। প্রধান ব্যক্তি সাধারণত সভার মাধ্যমে নির্বাচিত আরও দুই থেকে পাঁচজন নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় পুরো প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
মুদ্রাব্যবস্থা
[সম্পাদনা]খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৫ভ শতাব্দীর দিকে ছাপ মারা রুপোর বার বা বাট মুদ্রার বিকল্প হিসেবে প্রচলিত ছিল।[২০] খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীর দিকে গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের মহাজনপদগুলো প্রথম ধাতব মুদ্রা তৈরি করে বাজারে ছাড়ে, যা ভারতে মুদ্রার ব্যবহারের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।
মৌর্য সাম্রাজ্য
[সম্পাদনা]
মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসনকালে (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ থেকে ১৮৫ অব্দ) ভারতের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারতের বিশাল এক ভূখণ্ড একজন মাত্র শাসকের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। একটি সুসংহত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত হয়ে উঠেছিল।[২২]
কৃষিকাজ ছিল মৌর্য অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। রাষ্ট্র নিজেই নতুন জমি চাষযোগ্য করে তোলা, কৃষকদের বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসন এবং সেচ কার্যের জন্য খাল ও জলাধার নির্মাণ ও সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করত। বিশেষ করে সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে এই ধরনের সেচ প্রকল্পের কাজ অনেক বেশি পরিমাণে করা হত।[২৩]
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে বর্ণিত তথ্যানুযায়ী, তৎকালীন মৌর্য প্রশাসন ব্যবসা, শিল্প এবং বাণিজ্যের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত। এই গ্রন্থে বাজার নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের দাম নির্ধারণ, ওজন ও পরিমাপের সঠিক মানদণ্ড বজায় রাখা, কর ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতিমালা সম্পর্কে অত্যন্ত বিস্তারিত নিয়মাবলির উল্লেখ রয়েছে।[২৪][২৫] এছাড়া এই সাম্রাজ্য রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং সেগুলো চলাচলের উপযোগী করে রাখার পেছনে প্রচুর পরিমাণে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যয় করত।[২৬]
উন্নত পরিকাঠামো এবং বর্ধিত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাপজোখের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সমতা আসার ফলে বাণিজ্যের গতি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে রুপোর ছাপ মারা মুদ্রার ব্যবহার ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই বিষয়টি একটি শক্তিশালী মুদ্রাভিত্তিক অর্থনীতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে মুদ্রার প্রচলন ছিল অত্যন্ত ব্যাপক।[২৭]
সেই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৩২ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ভারতের দখলে ছিল বলে অনুমান করা হয়।[২৮]
গুপ্ত সাম্রাজ্য
[সম্পাদনা]
খ্রিস্টীয় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ভারত এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছিল। এই সময়কালে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কারুশিল্পের উৎপাদনের পাশাপাশি মুদ্রার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই সমস্ত উন্নতির কারণেই অনেক ঐতিহাসিক এই সময়কালকে প্রাচীন ভারতের "স্বর্ণযুগ" হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।[২৯]
এই যুগেও কৃষিকাজ ছিল অর্থনীতির প্রধান মেরুদণ্ড। লোহার যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার, চাষযোগ্য জমির সীমানা বৃদ্ধি এবং কূপ, পুকুর ও খালের মতো উন্নত সেচ ব্যবস্থার কারণে কৃষিকাজে বিশেষ জোয়ার এসেছিল।[৩০]
মূলত ভূমি রাজস্ব এবং কৃষি থেকে উৎপাদিত ফসলই ছিল রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর এবং পণ্য সরবরাহের মতো বিষয়গুলোও প্রচলিত ছিল।[৩১]
এই শাসনকালে ব্যবসা এবং বাণিজ্যের প্রভূত প্রসার ঘটেছিল। ভারতের ভেতরে যেমন একটি অত্যন্ত মজবুত অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তেমনি জলপথ ও স্থলপথের মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন সভ্যতার সাথে ভারতের এক বিস্তৃত বৈদেশিক বাণিজ্য চলত।[৩২]
গুপ্ত প্রশাসনিক কাঠামো শহরগুলোর দ্রুত বিকাশের জন্য অত্যন্ত অনুকূল এবং সহায়ক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। পাটলীপুত্রকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রধান এবং আদি রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।[৩৩]
কটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খ্রিস্টীয় ১ম অব্দে এবং ১০০০ অব্দে প্রাচীন ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি ছিল সারা বিশ্বের মোট জিডিপির যথাক্রমে ৩২ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ।[৩৪] এছাড়াও, খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭.১৫ শতাংশ থেকে ৩০.৩ শতাংশের মত।[৩৫][৩৬][৩৭]
মধ্যযুগীয় ভারত
[সম্পাদনা]এই সময়ে বাজারে প্রচলিত মুদ্রার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল এবং তার পরিবর্তে বাকিতে লেনদেন বা ঋণ ব্যবস্থার প্রাধান্য অনেক বেড়ে গিয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] সেই সময়ের সমসাময়িক হিন্দু আইনশাস্ত্রে জামিনদার, বন্ধক বা জামানত, অঙ্গীকারপত্র এবং চক্রবৃদ্ধি সুদের মত বিষয়গুলোর ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।[৩৮]
গ্রামের মানুষজন তাদের উৎপাদিত কৃষি ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ শাসকদের রাজস্ব হিসেবে প্রদান করতেন। অন্যদিকে, গ্রামের কারুশিল্পীরা তাদের সেবার বিনিময়ে ফসল কাটার সময়ে সেই শস্যেরই একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে লাভ করতেন।[৩৯]
বাণিজ্য
[সম্পাদনা]প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আনুমানিক খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দী পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত বিস্তৃত সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রচলিত ছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীর মতো প্রাচীন সময় থেকেই মালাবার এবং করমণ্ডল উপকূলীয় অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। এই বন্দরগুলো আমদানি-রপ্তানির কাজের পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট বা সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হত।[৪০] সময়ের সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা নিজেদের বিভিন্ন সঙ্ঘ বা সমিতিতে সংগঠিত করেছিলেন, যারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করত। ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরী এবং ইরফান হাবিব দাবি করেছেন যে, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা খ্রিস্টীয় ১৩শ শতাব্দীর দিকে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর এই বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ মূলত স্থানীয় পার্সি, ইহুদি, সিরীয় খ্রিস্টান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের হাতে চলে যায়; যা প্রথমে মালাবার উপকূলে এবং পরবর্তীতে করমন্ডল উপকূলে বিস্তৃত হয়েছিল।[৪১]
অন্যান্য পণ্ডিতদের মতে, ১৪শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপে বাণিজ্যের ধারা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।[৪২][৪৩][৪৪] এই সময়কালেই আজারবাইজানের বৃহত্তর বাকু শহরের উপকণ্ঠ সুরাখানিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বসতি স্থাপন করেছিলেন। এই ব্যবসায়ীরা সেখানে একটি হিন্দু মন্দিরনির্মাণ করেছিলেন, যা থেকে এটি স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ১৭শ শতাব্দী নাগাদ ভারতীয়দের বাণিজ্যিক অবস্থা বেশ সমৃদ্ধ এবং রমরমা ছিল।[৪৫][৪৬][৪৭][৪৮]
আরও উত্তর দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সৌরাষ্ট্র এবং বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সামুদ্রিক বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। এছাড়া গাঙ্গেয় সমভূমি এবং সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চলে নদীপথের বাণিজ্যের জন্য বেশ কিছু কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। স্থলপথের বেশিরভাগ বাণিজ্যই পরিচালিত হতো খাইবার গিরিপথের মাধ্যমে, যা পাঞ্জাব অঞ্চলের সাথে আফগানিস্তান এবং তারও আগে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার সংযোগ স্থাপন করেছিল।[৪৯]
দিল্লি সালতানাত
[সম্পাদনা]দিল্লি সুলতানি আমলের আগে এবং চলাকালীন সময়ে ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্বজনীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এই ব্যবস্থাটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কসহ এক বিস্তৃত আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছিল।[৫০] এটি আফ্রো-ইউরেশিয়া আফ্রো-ইউরেশিয়ার এক বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যার ফলে পণ্যসামগ্রী, মানুষ, প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন ধ্যান-ধারণার আদান-প্রদান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও, দিল্লি সুলতানি আমলই ভারতীয় উপমহাদেশকে একটি ক্রমবর্ধমান বিশ্ব ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।[৫১]
এই সময়কালেই ভারতীয় উপমহাদেশে যান্ত্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৩শ শতাব্দী থেকে ভারত মুসলিম বিশ্ব, থেকে কিছু যান্ত্রিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে শুরু করে, যার মধ্যে গিয়ার, কপিকল এবং ক্যাম ও ক্র্যাঙ্কযুক্ত বিভিন্ন যন্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৫২] ১৩শ এবং ১৪শ শতাব্দীর দিকে ভারতীয় উপমহাদেশে ওয়ার্ম গিয়ার যুক্ত রোলার তুলা ঝাড়াই কল (কটন জিন) উদ্ভাবিত হয়েছিল,[৫৩] যা আজও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।[৫৪] তুলা ঝাড়াই করার এই যন্ত্রে ক্র্যাঙ্ক হ্যান্ডেল বা ঘোরানোর হাতলের ব্যবহার প্রথম লক্ষ্য করা যায় দিল্লি সুলতানি আমলের শেষ দিকে অথবা মুঘল সাম্রাজ্যের শুরুর দিকে।[৫৫] এই সময়ে সুতির বস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়। তুলা মূলত গ্রামগুলোতে কাটা হতো এবং সুতা হিসেবে সেগুলো শহরে নিয়ে আসা হতো কাপড় বোনার জন্য। দিল্লি সুলতানি আমলে ভারতজুড়ে চরকার ব্যাপক প্রসারের ফলে সুতা তৈরির খরচ অনেক কমে যায়, যা সুতির কাপড়ের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। চরকার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং তুলা ঝাড়াই কলে ওয়ার্ম গিয়ার ও ক্র্যাঙ্ক হ্যান্ডেলের সংযোজন ভারতীয় সুতি বস্ত্রের উৎপাদনকে এক বিশাল উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।[৫৬]
জিডিপির হিসাব
[সম্পাদনা]বিখ্যাত অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসন তার কনট্যুরস অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি, ১–২০৩০ খ্রিস্টাব্দ: এসেজ ইন ম্যাক্রো-ইকোনমিক হিস্ট্রি নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দী থেকে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়কালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল অঞ্চল হিসেবে নিজের স্থান দখল করে রেখেছিল।[৫৭]
| বছর | জিডিপি (পিপিপি) (১৯৯০ সালের ডলার) |
মাথাপিছু জিডিপি (১৯৯০ সালের ডলার) |
গড় % জিডিপি প্রবৃদ্ধি | বিশ্ব জিডিপির % (পিপিপি) | জনসংখ্যা | বিশ্ব জনসংখ্যার % | সময়কাল | ||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ৩৩,৭৫০,০০০,০০০ | ৪৫০ | — | ৩২.০ | ৭০,০০০,০০০ | ৩০.০৩ | প্রাচীন যুগ | ||||
| ১০০০ | ৩৩,৭৫০,০০০,০০০ | ৪৫০ | ০.০ | ২৮.০ | ৭২,৫০০,০০০ | ২৭.১৫ | প্রারম্ভিক মধ্যযুগ | ||||
| ১৫০০ | ৬০,৫০০,০০০,০০০ | ৫৫০ | ০.১১৭ | ২৪.৩৫ | ৭৯,০০০,০০০ | ১৮.০ | পরবর্তী মধ্যযুগ | ||||
| বিকল্প হিসাব: | [৫৮] | [৫৯] | [৬০] | [৬১] | |||||||
| ১৬০০ | ৭৪,২৫০,০০০,০০০ | ৫৫০ | ৭৮২ | ৬৮২ | ৭৫৮ | ৭৩৫ | ০.২০৫ | ২২.৩৯ | ১০০,০০০,০০০ | ১৭.৯৮ | প্রারম্ভিক আধুনিক যুগ |
| ১৭০০ | ৯০,৭৫০,০০০,০০০ | ৫৫০ | ৭১৯ | ৬২২ | ৬৯৭ | ৬৭৬ | ০.২০১ | ২৪.৪৩ | ১৬৫,০০০,০০০ | ২৭.৩৬ | |
| ১৮২০ | ১১১,৪১৭,০০০,০০০ | ৫৩৩ | ৫৮০ | ৫২০ | ৫৬২ | ৫৪৫ | ০.১৭১ | ১৬.০৪ | ২০৯,০০০,০০০ | ২০.০৬ | |
| ১৮৭০ | ১৩৪,৮৮২,০০০,০০০ | ৫৩৩ | ৫২৬ | ৫২৬ | ৫১০ | ৪৯৪ | ০.৯৭৫ | ১২.১৪ | ২৫৩,০০০,০০০ | ১৯.৮৩ | ঔপনিবেশিক যুগ |
| ১৯১৩ | ২০৪,২৪২,০০০,০০০ | ৬৭৩ | ৬২৪ | ০.৯৬৫ | ৭.৪৭ | ৩০৩,৭০০,০০০ | ১৬.৬৪ | ||||
| ১৯৪০ | ২৬৫,৪৫৫,০০০,০০০ | ৬৮৬ | ৬৩৬ | ০.৯৭৬ | ৫.৯ | ৩৮৬,৮০০,০০০ | ১৬.৮২ | ||||
| ১৯৫০ | ২২২,২২২,০০০,০০০ | ৬১৯ | ৫৭৪ | -১.৭৯৪ | ৪.১৭ | ৩৫৯,০০০,০০০ | ১৪.১১ | ভারত প্রজাতন্ত্র | |||
| ১৯৯০ | ১,০৯৮,১০০,০০০,০০০ | ১,৩০৯ | ১,২১৩ | ৪.০৭৫ | ৪.০৫ | ৮৩৯,০০০,০০০ | ১৫.৯২ | ||||
মুঘল সাম্রাজ্য
[সম্পাদনা]মুঘল শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনীতি প্রাচীন আমলের মতোই অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। যদিও এই সময়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে অর্থনীতিকে কিছুটা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।[৬২] ঐতিহাসিক প্রসন্ন পার্থসারথির একটি অনুমান অনুযায়ী, ১৬০০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ২৮,০০০ টন সোনা ও রুপো (যার বেশিরভাগই এসেছিল আমেরিকা মহাদেশ বা নতুন পৃথিবী থেকে) ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করেছিল। এই বিপুল পরিমাণ ধাতব সম্পদ সেই নির্দিষ্ট সময়ে সারা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশের সমান ছিল।[৬৩]
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবরের রাজকোষের বার্ষিক আয়ের একটি আনুমানিক হিসাব ছিল প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে দেখা যায় যে, প্রায় ২০০ বছর পর ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে গ্রেট ব্রিটেন রাজ্যের সংগৃহীত মোট করের পরিমাণও ছিল ঠিক একই অর্থাৎ ৯০ মিলিয়ন ডলার। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনীতি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং এই দৌড়ে ভারতের ঠিক ওপরেই ছিল একমাত্র চীন।
সম্রাট আকবরের শাসনকালে মুঘল সাম্রাজ্য তার উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে উত্তর ভারতের এক বিশাল এলাকা মুঘলদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলোর সাথেও তাদের মিত্রতা গড়ে উঠেছিল। মুঘল প্রশাসন সারা দেশে একই ধরনের শুল্ক এবং কর ব্যবস্থা চালু করেছিল। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকোষে বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ছিল ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৪৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই রাজস্বের পরিমাণ ছিল তার সমসাময়িক ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের মোট রাজস্বের তুলনায় দশ গুণেরও বেশি,[৬৪] যদিও সেই সময়ে আওরঙ্গজেব প্রায় ১৭ গুণ বেশি জনসংখ্যা শাসন করতেন।
খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দী থেকে শুরু করে ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত সারা বিশ্বের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশই ভারতে উৎপাদিত হতো[৯][৬৫] মুঘল শাসকরা একটি অত্যন্ত বিস্তৃত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা,[৬২] সারা দেশে একটি অভিন্ন মুদ্রাব্যবস্থা চালু করা এবং গোটা দেশকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেছিলেন।[৬৬] মুঘলরা সূর বংশের সম্রাট শের শাহ সুরি কর্তৃক প্রবর্তিত রুপি মুদ্রাকে গ্রহণ করে এবং সেটির মানকে নির্দিষ্ট করে দেয়।[৬৭] মুঘল আমলে কোটি কোটি ধাতব মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল। এই মুদ্রাগুলো অন্তত ৯৬ শতাংশ খাঁটি ছিল এবং ১৭২০-এর দশক পর্যন্ত এর মানে কোনো ধরনের আপস বা অবনমন করা হয়নি।[৬৮] ভারতের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের যে বিশ্বব্যাপী চাহিদা ছিল, মুঘল সাম্রাজ্য অত্যন্ত সফলভাবে সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিল।[৬৯]
মুঘল সাম্রাজ্যের আমলে ভারতের শহর ও জনপদগুলোর অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল এবং সেই সময়ে নগরায়নের হারও ছিল তুলনামূলকভাবে বেশ বেশি।[৭০] ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৬ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ শহর এলাকায় বসবাস করতেন। ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৬.৪ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে।[৫৯][৭১] বেশ কিছু শহরের জনসংখ্যা ছিল আড়াই লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষের মধ্যে।[৭০] আবার আগ্রা সুবার অন্তর্ভুক্ত আগ্রা শহরে প্রায় ৮,০০,০০০ মানুষের বসবাস ছিল।[৭২] এমনকি কিছু তথ্য অনুযায়ী বাংলা সুবার অধীনে থাকা ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল ১০ লক্ষেরও বেশি।[৭৩] ইতিহাসবিদ শিরিন মুসভির একটি অনুমান অনুসারে, সেই সময়ে ভারতের মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ৩৬ শতাংশ মাধ্যমিক এবং তৃতীয় স্তরের পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন।[৭৪] অ-প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলোতে বা অ-কৃষিজ পেশায় নিয়োজিত জনসংখ্যার এই হার ছিল তৎকালীন পূর্ব ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব ইউরোপের প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।[৭৫]
কৃষিকাজ
[সম্পাদনা]মুঘল আমলে ভারতের কৃষিকাজ উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল।[৬২] উৎপাদিত খাদ্যশস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গম, চাল, এবং যব। while non-পাশাপাশি তুলা, নীল এবং আফিমের মতো বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের চাষও বড় পরিসরে করা হতো। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় নাগাদ ভারতের কৃষকরা আমেরিকা অঞ্চলথেকে আসা ভুট্টা এবং তামাকের মতো ফসলের চাষ ব্যাপকভাবে শুরু করেছিলেন।[৬২] বাংলার কৃষকরা তুঁত চাষ এবং রেশম চাষের বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছিলেন। এর ফলে তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যের বাংলা সুবা একটি প্রধান রেশম উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।[৭৬] ইউরোপের তুলনায় সেই সময়ে ভারতের কৃষি ব্যবস্থা বেশ উন্নত ছিল। এই অগ্রগতির একটি বিশেষ উদাহরণ হল বীজ বপন যন্ত্রের সাধারণ ব্যবহার, যা ইউরোপের অনেক আগেই ভারতে প্রচলিত হয়েছিল।[৭৭] মুঘল প্রশাসন মূলত ভূমি সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিল। এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল মুঘল সম্রাট না হয়েও শের শাহ সুরির হাত ধরে। সম্রাট আকবর পরবর্তীতে এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করেন এবং এতে আরও নতুন কিছু সংস্কার যুক্ত করেন।[৭৮] মুঘল সরকার উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে অর্থ বিনিয়োগ করত, যার ফলে ফসলের উৎপাদন এবং ফলন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।[৬২]
সম্রাট আকবরের প্রবর্তন করা অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য সংস্কার ছিল জব্ত নামক নতুন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। তিনি পুরনো উপঢৌকন দেওয়ার প্রথার পরিবর্তে একটি সুনির্দিষ্ট মুদ্রার ওপর ভিত্তি করে নগদ অর্থ ভিত্তিক কর ব্যবস্থা চালু করেন।[৬৮] এই রাজস্ব ব্যবস্থায় তুলা, নীল, আখ, বৃক্ষজাত ফসল এবং আফিমের মতো উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসলের চাষের প্রতি বেশি পক্ষপাতিত্ব দেখানো হয়েছিল। এর ফলে কৃষকরা এই ফসলগুলো চাষ করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাড়তি উৎসাহ পেতেন, যা বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।[৭৯] জব্ত ব্যবস্থার অধীনে মুঘলরা ঠিক কতটা জমিতে চাষ হচ্ছে তা নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করার জন্য এক বিস্তৃত ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ বা জমির সীমানা নির্ধারণী জরিপ পরিচালনা করেছিল। এছাড়া মুঘল রাষ্ট্র নতুন জমিকে চাষের আওতায় আনার জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর মকুবের সুবিধা দিয়ে উৎসাহিত করত।[৮০]
ইমানুয়েল ওয়ালারস্টিন, ইরফান হাবিব, পার্সিভাল স্পিয়ার এবং অশোক দেশাইয়ের মতো প্রখ্যাত অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সপ্তদশ শতাব্দীর মুঘল ভারতের মাথাপিছু কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের ভোগের মান ছিল তৎকালীন ১৭শ শতাব্দীর ইউরোপ এবং ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকের ব্রিটিশ ভারতের সমান।[৮১]
শিল্প উৎপাদন
[সম্পাদনা][[File:Renaldis muslin woman.jpg|thumb|250px|১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে অঙ্কিত ঢাকার এক নারী, যিনি সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় পরিহিত।
অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুঘল ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র।[৬] এখানকার প্রধান শিল্পগুলোর মধ্যে বস্ত্রশিল্প, জাহাজ বা নৌনির্মাণ শিল্প এবং ইস্পাত শিল্প ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রক্রিয়াজাত পণ্যের তালিকায় ছিল সুতির কাপড়, সুতা, রেশম, পাটের তৈরি দ্রব্য, ধাতব সরঞ্জাম এবং চিনি, তেল ও মাখনের মতো বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য।[৬২] Tউৎপাদনের এই বিপুল বৃদ্ধিকে অনেক সময় প্রাক-শিল্পায়নের একটি রূপ হিসেবে দেখা হয়। এটি ছিল অনেকটা ১৮শ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের আগের পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতই।[৭]
আধুনিক যুগের শুরুর দিকে ইউরোপ মুঘল ভারত থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানি করত। এর মধ্যে মূলত সুতির বস্ত্র, মসলা, গোলমরিচ, নীল, রেশম এবং বারুদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শোরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৬২][৮২] উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, তৎকালীন ইউরোপীয় ফ্যাশন বা পোশাকের ধরন অনেকাংশেই ভারতীয় সুতি এবং রেশমি বস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। ১৭শ শতাব্দীর শেষ থেকে ১৮শ শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত ব্রিটেনের এশিয়া থেকে আমদানিকৃত মোট পণ্যের ৯৫ শতাংশই আসত মুঘল ভারত থেকে। এমনকি ডাচদের এশিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৪০ শতাংশের যোগান দিত শুধুমাত্র বাংলা সুবা প্রদেশ।[৮৩] বিপরীতে, ভারতের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের চাহিদা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশ কম। ইউরোপের রপ্তানি মূলত পশমি কাপড়, ধাতুর পাত বা বাট, কাঁচের তৈরি সরঞ্জাম, যান্ত্রিক ঘড়ি, অস্ত্র, বিশেষ করে ফিরিঙ্গি তলোয়ারের ফলা এবং কিছু বিলাসদ্রব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।[৮৪] বাণিজ্যের এই ভারসাম্যের অভাবের কারণে ইউরোপীয়দের প্রচুর পরিমাণে রুপো এবং কিছুটা কম পরিমাণে সোনা ভারতে পাঠাতে হতো, যাতে তারা দক্ষিণ এশীয় পণ্যগুলোর দাম মেটাতে পারে।[৬২][৮৪] ভারতীয় পণ্য, বিশেষ করে বাংলার উৎপাদিত পণ্যগুলো ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানের মতো এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করা হত।[৮৫][৮২]
তৎকালীন ভারতের বৃহত্তম উৎপাদন শিল্প ছিল সুতির বস্ত্রশিল্প। এর মধ্যে পিস গুডস বা থান কাপড়, ক্যালিকো এবং মসলিন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সাদা বা কোরা কাপড় হিসেবে এবং বিভিন্ন রঙে বাজারে পাওয়া যেত। এই সুতি বস্ত্রশিল্পই ছিল সাম্রাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বিশাল বড় অংশ।[৬২] সুতি বস্ত্র উৎপাদনের সবচেয়ে প্রধান কেন্দ্র ছিল বাংলা সুবা প্রদেশ, যার মূল বিস্তার ছিল বিশেষ করে ঢাকা শহরের আশেপাশে।[৮৬] ডাচদের আমদানিকৃত বস্ত্রের ৫০ শতাংশেরও বেশি এবং রেশম পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই আসত শুধুমাত্র বাংলা থেকে।[৮৩] বাংলার রেশম, সুতির কাপড় এবং কড়ি প্রচুর পরিমাণে ইউরোপ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান[৮৭] এবং আফ্রিকায় রপ্তানি করা হতো। আফ্রিকায় এই পণ্যগুলো ক্রীতদাস[৮৮] এবং বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদের বিনিময়ে পণ্য লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[৮৯] তবে ব্রিটেনের নিজস্ব শিল্প রক্ষার জন্য সেখানে ১৬৮৫ থেকে ১৭৭৪ সালের মধ্যে ক্যালিকো অ্যাক্টসের মতো বিভিন্ন সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে আমদানিকৃত ভারতীয় কাপড়ের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়।[৮২]
মুঘল ভারতের নৌনির্মাণ শিল্প ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বিশাল, বিশেষ করে বাংলা সুবা প্রদেশে এই শিল্প অনেক বেশি প্রসার লাভ করেছিল। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ইন্দ্রজিৎ রায়ের এক অনুমান অনুযায়ী, ১৬শ এবং ১৭শ শতাব্দীতে বাংলার বার্ষিক নৌনির্মাণ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,২৩,২৫০ টন। এর তুলনায় ১৭৬৯ থেকে ১৭৭১ সালের মধ্যে উত্তর আমেরিকার ১৯টি ব্রিটিশ কলোনি বা উপনিবেশে উৎপাদিত জাহাজের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৩,০৬১ টন।[৯০]
- সুবাহ বাংলা
সুবাহ বাংলা ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধতম এবং সম্পদশালী প্রদেশ। বস্ত্র উৎপাদন এবং নৌনির্মাণ শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এটি সারা বিশ্বের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।[৯১] এখান থেকে রেশম ও সুতির বস্ত্র, ইস্পাত, শোরা এবং বিভিন্ন ধরনের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। বাংলার তৎকালীন রাজধানী ঢাকা ছিল সেই সাম্রাজ্যের আর্থিক রাজধানী, যার জনসংখ্যা সেই সময়ে ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়।[৯২]
ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ, যেমন চাল, রেশম এবং সুতির বস্ত্রের জন্য সারা দেশ বাংলার উৎপাদিত পণ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।[৮৩][৮৭]
- মুঘল-পরবর্তী সাম্রাজ্য (১৭৩০–১৮১৮)
১৮শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। নাদির শাহ যখন মুঘল সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন, তখন দিল্লি শহরকে ব্যাপকভাবে লুণ্ঠন করা হয়েছিল। সেই সময়ে রাজকোষ একেবারে শূন্য হয়ে যায়, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন এবং আরও অনেক হাজার মানুষকে তাদের গবাদি পশুর সাথে ক্রীতদাস হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার ফলে সাম্রাজ্যটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মুঘল-পরবর্তী বিভিন্ন নতুন ছোট ছোট রাজ্যের উত্থান হতে শুরু করে। ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে মুঘলদের জায়গা দখল করে নেয় মারাঠারা। অন্যদিকে, মুঘলদের অনুগত বা করদ রাজ্য হিসেবে পরিচিত উত্তর ভারতের নবাব এবং দক্ষিণ ভারতের নিজামদের মতো ছোট ছোট আঞ্চলিক রাজ্যগুলো নিজেদের স্বায়ত্তশাসন ঘোষণা করে। তবে মুঘল আমলের কর আদায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাটি মূলত আগের মতোই বজায় ছিল, যদিও সেখানে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরীর অনুমান অনুযায়ী, বিভিন্ন যুদ্ধের খরচ মেটানোর জন্য করের পরিমাণ বাড়িয়ে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি করা হয়েছিল। এর তুলনায় সেই সময়ে চিনে করের হার ছিল মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশের মতো।[৯৩] ঠিক একই সময়ে মুঘল আমলের শেষ দিকে অর্থনীতির আয় বণ্টনের একটি আনুমানিক হিসাব ম্যাডিসন এইভাবে প্রদান করেছেন:
| সামাজিক গোষ্ঠী | জনসংখ্যার শতাংশ | মোট আয়ের শতাংশ | মাথাপিছু গড় আয়ের নিরিখে আয় |
|---|---|---|---|
| অভিজাত শ্রেণি এবং জমিদার | ১ | ১৫ | ১৫ |
| বণিক থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত | ১৭ | ৩৭ | ২.২ |
| গ্রামীণ অর্থনীতি | ৭২ | ৪৫ | ০.৬ |
| উপজাতীয় অর্থনীতি | ১০ | ৩ | ০.৩ |
| মোট | ১০০ | ১০০ | ১ |
১৮শ শতাব্দীতে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর যে রাজ্যগুলোর উদ্ভব হয়েছিল, তাদের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং শক্তিশালী ছিল মারাঠা সাম্রাজ্য, সুবাহ বাংলা (যা বাংলার নবাবদের অধীনে ছিল) এবং দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্য।[৯৫][৯৬][৯৭]
জেফরি জি. উইলিয়ামসন যুক্তি দিয়েছেন যে, মুঘল সাম্রাজ্যের পতন এবং ভেঙে যাওয়ার একটি পরোক্ষ ফল হিসেবে ১৮শ শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে বি-শিল্পায়নের একটি পর্যায় শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনামলে এই শিল্পের অবনতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।[৯][৯৮] অবশ্য ১৯শ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্পের সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো যথেষ্ট সক্ষম ছিল।[৯৯] তবে প্রসন্ন পার্থসারথি এই যুক্তির বিরোধিতা করে বলেছেন যে, মুঘল-পরবর্তী সব রাজ্যের কিন্তু পতন ঘটেনি। বিশেষ করে বাংলা, মারাঠা এবং মহীশূর অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত ব্রিটেনের অর্থনীতির সাথে তুলনা করার মতো যথেষ্ট মজবুত ছিল।[১০০]
ব্রিটিশ শাসন
[সম্পাদনা]
বাংলার নতুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কলকাতার বাণিজ্যিক ঘাঁটি এবং আমদানিকৃত মূল্যবান ধাতুর ভাণ্ডার হারানোর ঠিক এক বছর পরেই, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে তারা নবাব ও তার ফরাসি মিত্রদের বিরুদ্ধে এক নির্ণায়ক জয় লাভ করে। এই জয় নিশ্চিত করার জন্য কোম্পানি নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের সাথে একটি গোপন চুক্তি করেছিল। শর্ত অনুযায়ী মীর জাফরকে নবাবের আসনে বসানো হবে, যদি তিনি সিরাজউদ্দৌলা বিশাল সৈন্যবাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে অকেজো করে রাখেন এবং যুদ্ধের পর নবাবের রাজকোষ দুই পক্ষের ক্ষতিপূরণের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়। এই যুদ্ধের পর কোম্পানি কলকাতাকে পুনরায় নিজেদের দখলে নেয় এবং সেখানে শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ করে। পরবর্তীতে ১৭৬৫ সাল থেকে তারা বাংলার নবাবের হয়ে রাজস্ব আদায়ের অধিকার বা দেওয়ানি লাভ করে। এর পাশাপাশি বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার সুবিধা, বিভিন্ন শহর ও কারখানা সুরক্ষিত করার জন্য দুর্গ নির্মাণের অধিকার এবং নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতাও তাদের হাতে চলে আসে। এভাবেই একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি কার্যকরভাবে একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক শক্তিতে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ রাজের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি এই শাসন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে এবং কোম্পানির শাসিত অঞ্চলে একটি আনুষ্ঠানিক ঔপনিবেশিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন
[সম্পাদনা]বাংলার নবাবের পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায়ের অধিকার পাওয়ার সাথে সাথেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গত প্রায় দেড়শ বছর ধরে চলা সোনা ও রুপো আমদানির প্রথাটি অনেকাংশেই বন্ধ করে দেয়। এর আগের দশকগুলোতে তারা ব্রিটেন, আমেরিকার উপনিবেশ, পূর্ব এশিয়া বা আফ্রিকার দাস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য এই মূল্যবান ধাতুগুলো ব্যবহার করত।[৮৯]
| বছর | মূল্যবান ধাতু (£) | বার্ষিক গড় |
|---|---|---|
| ১৭০৮/৯-১৭৩৩/৪ | ১২,১৮৯,১৪৭ | ৪২০,৩১৫ |
| ১৭৩৪/৫-১৭৫৯/৬০ | ১৫,২৩৯,১১৫ | ৫৮৬,১১৯ |
| ১৭৬০/১-১৭৬৫/৬ | ৮৪২,৩৮১ | ১৪০,৩৯৬ |
| ১৭৬৬/৭-১৭৭১/২ | ৯৬৮,২৮৯ | ১৬১,৩৮১ |
| ১৭৭২/৩-১৭৭৫/৬ | ৭২,৯১১ | ১৮,২২৭ |
| ১৭৭৬/৭-১৭৮৪/৫ | ১৫৬,১০৬ | ১৭,৩৪৫ |
| ১৭৮৫/৬-১৭৯২/৩ | ৪,৪৭৬,২০৭ | ৫৫৯,৫২৫ |
| ১৭৯৩/৪-১৮০৯/১০ | ৮,৯৮৮,১৬৫ | ৫২৮,৭১৫ |
মুঘল আমলের মতোই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি থেকে সংগৃহীত ভূমি এবং আফিম রাজস্ব কোম্পানির প্রশাসনিক খরচ মেটাতে এবং সিপাহি বাহিনী গড়ে তুলতে সাহায্য করত। এমনকি ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে এবং পরবর্তীতে বিদেশের মাটিতে যেমন আফিম যুদ্ধের মতো লড়াই পরিচালনার জন্যও এই অর্থ ব্যবহার করা হতো। এছাড়া বানিয়া মহাজনদের কাছ থেকে সাধারণত ১০ শতাংশ সুদে সংগৃহীত বাড়তি মূলধনও তারা কাজে লাগাত।[১০২]
১৭৬০ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে বাংলার বাজারে অর্থের সরবরাহ বা মুদ্রা সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যায়। বেশ কিছু স্থানীয় টাকশাল বন্ধ করে দেওয়া এবং বাকিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চালানো, মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ এবং মুদ্রার মানকে একীভূত করার ফলে অর্থনৈতিক মন্দা আরও প্রকট হয়েছিল।[১০৩]
এই সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রায় ২৫ কোটি একর বা ১০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত তাদের বিশাল সাম্রাজ্যে কর প্রশাসনের সংস্কার শুরু করে। এই এলাকাটি ছিল তৎকালীন ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশ। তারা বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য জমি, আফিম এবং লবণের ওপর কর নির্ধারণ ও তা আদায় করার ব্যবস্থা করেছিল। এছাড়া বিভিন্ন আশ্রিত রাজ্য বা মধ্যবর্তী রাজ্যগুলোর ওপর পরোক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
১৭৮০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে ভারত একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। আগে ভারত প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বিনিময়ে মূল্যবান ধাতু লাভ করত, কিন্তু এই সময়ে দেশটি কাঁচামাল রপ্তানিকারক এবং বিদেশের তৈরি পণ্যের ক্রেতা হিসেবে পরিণত হয়।[১০৩]
১৮০৭ সাল থেকে আটলান্টিক দাস প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার ফলে ভারতের একটি বড় রপ্তানি বাজার বন্ধ হয়ে যায়।[৮৯] এর ফলে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বাগানগুলোতে কাজের জন্য দক্ষিণ এশীয় শ্রমিক আমদানির প্রবণতা বাড়তে থাকে।[১০৪]
ব্রিটিশদের নেওয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি তাদের ভারতের বিশাল বাজার এবং তুলোর ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারে সহায়তা করেছিল।[১০৫][৯৯][১০৬]
- বস্ত্রশিল্প
১৭৫০-এর দশকে ভারত থেকে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার বাজারে উচ্চমানের সুতি ও রেশমি বস্ত্র রপ্তানি করা হতো।[৮৯] অ্যাংলো-আফ্রিকান ত্রিমুখী বাণিজ্যে দাসদের বিনিময়ে দেওয়া পণ্যের মূল্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরবরাহ করা সুতির কাপড়। ফরাসি এবং আরবদের দাস বাণিজ্যেও এই কাপড়ের বড় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়।[৮৯]
অতীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রেতারা এবং ব্রিটিশ, ডাচ ও ফরাসি স্বাধীন কোম্পানিগুলো বাংলার মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সুতির কাপড়ের জন্য আগেভাগে অগ্রিম অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করত। এই কাপড়গুলো সাধারণত ১৮ গজ দৈর্ঘ্য এবং ১ গজ প্রস্থের হতো এবং সেগুলোর গুণমান ও নকশা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো।[১০৭] অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগীরা চুক্তিমতো সঠিক পরিমাণে বা সঠিক মানের কাপড় সরবরাহ করতে ব্যর্থ হতো। কোনো একটি কোম্পানির দেওয়া টাকায় স্থানীয় তাঁতিদের কাছ থেকে কেনা কাপড় অনেক সময় বেশি দাম দেওয়া অন্য কোনো ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো।[১০৭] বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর কোম্পানি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাধ্য করে যাতে তারা অন্য সবার আগে কোম্পানির অর্ডার সরবরাহ করে। এর ফলে স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী এবং অন্যান্য প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।[১০৭] এরপর কোম্পানি এই অঞ্চলে সুতার দামও নিজে থেকে নির্ধারণ করতে শুরু করে, যা আগে একটি কাপড়ের মূল দামের সিংহভাগ জুড়ে থাকত। কোম্পানির এই পদক্ষেপগুলো স্থানীয় উৎপাদনের ওপর বড় কোনো প্রভাব না ফেললেও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত মধ্যস্বত্বভোগী ও অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় কলকাতার ব্রিটিশ প্রশাসনের আর্থিক মুনাফা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল।[১০৭][১০৭]
১৮শ শতাব্দীর শেষের দিকে ব্রিটিশ শিল্পপতিরা তাদের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন যাতে পুনরায় ক্যালিকো অ্যাক্ট বা এই জাতীয় আইন চালু করা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় বস্ত্র আমদানির ওপর আবার কর বসানো এবং একই সাথে ভারতের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।[১০৮] ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তাদের এই দাবির কিছু অংশ মেনে নেয়। ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে ভারতের সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুইশ বছরের পুরনো একচেটিয়া অধিকার বাতিল করা হয়। এর ফলে ভারতের সুরক্ষিত বাজার ব্রিটিশ পণ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং সেখানে কোনো শুল্ক ছাড়াই ব্রিটিশ পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হয়। ১৯শ শতাব্দীর শুরু থেকেই ভারতের বাজারে ব্রিটিশ বস্ত্রের আধিপত্য বাড়তে শুরু করে। বস্ত্র আমদানির মূল্য ১৮৫০ সালের ৫.২ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৮৯৬ সালে ১৮.৪ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছায়।[১০৯] কোনো শুল্ক ছাড়াই ভারতের কাঁচা তুলো ব্রিটিশ কারখানায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে তৈরি সুতা ও কাপড় পুনরায় কোনো শুল্ক ছাড়াই ভারতের বাজারে বিক্রি করা হতো।
| বছর | তুলোর ব্যবহার (মিলিয়ন গজ) | স্থানীয় উৎপাদন (মিলিয়ন গজ) | স্থানীয় উৎপাদন (১৮৭১=১০০) | ব্রিটেন থেকে আমদানি (মিলিয়ন গজ) | ব্রিটেনে রপ্তানি (থান) |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৬০০ | ৯৪৬ | ৯৪৬ | ৭২.৪ | ০ | |
| ১৬৫০ | ৮৭৬ | ৮৭৬ | ৬৭.১ | ০ | |
| ১৭০০ | ৯৭০ | ৯৭০ | ৭৪.৩ | ০ | ৮৬৮,০৯৫ |
| ১৭৫০ | ১,০৯৮ | ১,০৯৮ | ৮৪ | ০ | ৭০১,৪৮৫ |
| ১৮০১ | ১,১৭৮ | ১,১৭৮ | ৯০.২ | ০ | ১,০৩৭,৪৪০ |
| ১৮১১ | ১,০৭৬ | ১,০৭৫ | ৮২.৩ | ১ | ৬৯১,৬৪০ |
| ১৮১১ | ১,০৪৬ | ১,০২৬ | ৭৮.৬ | ২০ | ৭৫৮,৩৯৭ |
| ১৮৩১ | ১,১৩৯ | ১,১০১ | ৮৪.৩ | ৩৮ | ২৮৭,৭১৪ |
| ১৮৪১ | ১,৪০৭ | ১,২৬৬ | ৯৭ | ১৪১ | ১৮৫ |
| ১৮৫১ | ১,৭২২ | ১,৩৭৪ | ১০৫.২ | ৩৪৮ | ১৮ |
| ১৮৬১ | ১,৯৮৯ | ১,৪৭৫ | ১১২.৯ | ৫১৪ | ১৮ |
| ১৮৭১ | ২,০৯৯ | ১,৩০৬ | ১০০ | ৭৯৩ | ০ |
ভারতীয় ঐতিহাসিক রজতকান্ত রায় লক্ষ্য করেছেন যে, ১৮২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতীয় সুতি বস্ত্রশিল্পের তুলনামূলক অবনতি শুরু হয়েছিল। শুরুতে এই পতনের গতি ধীর এবং স্থির থাকলেও ১৮৬০ সাল নাগাদ এটি এক চরম সংকটে রূপ নেয়, যখন প্রায় ৫,৬৩,০০০ বস্ত্রশিল্পী তাদের জীবিকা হারান। রায়ের মতে, ১৮৫০ সাল নাগাদ এই শিল্প প্রায় ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। তবে অত্যন্ত দামী বা খুব সস্তা পণ্যের স্থানীয় বাজারে এটি কোনোমতে টিকে ছিল। রায় আরও যুক্তি দেন যে, ব্রিটিশদের বৈষম্যমূলক নীতিগুলো নিশ্চিতভাবেই এই শিল্পের রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছিল, তবে এই ধ্বংসের পেছনে ব্রিটেনের আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনেরও বড় ভূমিকা ছিল।[১১১] অমিয় বাগচী স্পিনিং মিউলের উদ্ভাবনের ফলে হস্তচালিত সুতা কাটুনীদের কর্মসংস্থানের ওপর যে প্রভাব পড়েছিল তার একটি আনুমানিক চিত্র তুলে ধরেছেন:
| পেশা | ১৮০৯–১৮১৩ | ১৯০১ |
|---|---|---|
| সুতা কাটুনী | ১০.৩ | – |
| সুতা কাটুনী/ তাঁতি | ২.৩ | ১.৩ |
| অন্যান্য শিল্প | ৯.০ | ৭.২ |
| মোট | ২১.৬ | ৮.৫ |
১৯শ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্পের সাথে সমানে সমান পাল্লা দিয়ে টিকে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ব্রিটেন ভারতকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সুতি বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়।[৯৯] I১৮১১ সালেও বাংলা থেকে আমেরিকা এবং ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সুতির কাপড় রপ্তানি করা হতো। তবে ১৯শ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলার সুতি বস্ত্র রপ্তানি কমতে শুরু করে এবং বাংলায় ব্রিটিশ পণ্যের আমদানি ১৮১১ সালের ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮৪০ সালে ৯৩ শতাংশে দাঁড়ায়।[১১৪]
১৯শ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে ভারতের রপ্তানির সিংহভাগই ছিল কাঁচা তুলো, আফিম এবং নীলের মতো বিভিন্ন কাঁচামাল।[১০৮] ১৯৩০-এর দশকের শেষ দিকে ভারতের বস্ত্র এবং কাঁচা তুলো, পাট, শণ ও রেশম রপ্তানির পরিমাণ বার্ষিক ২০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।[১১৫]
- খননকার্য
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে ভারতে প্রথম খনিজ সম্পদের সন্ধান ও উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছিল। এই সময়েই ভারতের প্রথম কয়লা খনিগুলো চিহ্নিত করা হয়। দেশের ভূখণ্ডে ঠিক কী পরিমাণ এবং কোথায় খনিজ সম্পদ রয়েছে তার মানচিত্র তৈরি ও অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।[১১৬] ১৯শ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে ভারতে আধুনিক লোহা ও ইস্পাত শিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৯৪০-এর দশকের মধ্যে ভারতে প্রতি বছর ৩০ লক্ষ টনেরও বেশি ধাতু এবং প্রায় আড়াই কোটি টন কয়লা উৎপাদিত হতে শুরু করে।[১১৭][১১৫]
- রাস্তাঘাট
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সুবিধার্থে পাকা রাস্তার নেটওয়ার্ক বা জাল অনেক বেশি বিস্তৃত করা হয়েছিল। ১৮৫০ সাল পর্যন্ত যেখানে মাত্র ২,৫০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল, ১৯৪৩ সাল নাগাদ সেই রাস্তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩,৫০,০০০ কিলোমিটারে।[১১৮][১১৯]
- ভারতীয় সমরাস্ত্র কারখানা
১৭৮৭ সালে ইছাপুরে একটি বারুদ তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল এবং ১৭৯১ সাল থেকে সেখানে নিয়মিত উৎপাদন শুরু হয়। ১৯০৪ সাল থেকে এটি ‘রাইফেল ফ্যাক্টরি ইছাপুর’ হিসেবে কাজ শুরু করে। ১৮০১ সালে কলকাতায় ‘গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮০২ সালের ১৮ মার্চ থেকে সেখানে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত দেশে মোট আঠারোটি সমরাস্ত্র কারখানা বিদ্যমান ছিল।[১২০]
- কাগজ ও প্রকাশনা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাগজ ব্যবহার করে ভারতীয় লেখকদের লেখা প্রথম বই বা প্রকাশনাগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করে। সেই সময়ে স্থানীয়ভাবে স্থাপিত কাগজের কলগুলোতেই এই কাগজ তৈরি করা হতো। বেঙ্গল গেজেট থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর দশক নাগাদ ভারতে বার্ষিক এক লক্ষ টন কাগজ উৎপাদিত হচ্ছিল।[১১৫]
ব্রিটিশ রাজ
[সম্পাদনা]মুঘল সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক পতনের ফলে ভারতীয় প্রজাদের প্রতি ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ব্রিটিশ রাজের সময় দেশজুড়ে বিশাল সব রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ গুরুত্বের সাথে শুরু করা হয়। এই সময়ে সরকারি চাকরি এবং নিশ্চিত পেনশনের হাতছানিতে প্রথমবার বিপুল সংখ্যক উচ্চবর্ণের হিন্দুরা সিভিল সার্ভিসে যোগ দিতে আগ্রহী হন। ১৮৭৫ সাল নাগাদ ভারতের কাপড়ের বাজারের প্রায় ৫৫ শতাংশই ব্রিটিশ সুতি বস্ত্রের দখলে চলে গিয়েছিল।[১২১] ১৮৫০-এর দশকে বোম্বেতে প্রথম সুতির কলগুলো চালু হয়, যা মূলত পারিবারিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে চলা কুটির শিল্প বা ঘরোয়া উৎপাদন ব্যবস্থার সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।[১২২] ১৮৭০ সাল থেকে ১৯০৬ সালের মধ্যে ভারতের মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- রুপির অবমূল্যায়ন
| সময়কাল | রুপার দাম (প্রতি ট্রয় আউন্স থেকে পেনিতে) | রুপির বিনিময়ের হার (পেনিতে) |
|---|---|---|
| ১৮৭১–১৮৭২ | ৬০+১⁄২ | ২৩+১⁄৮ |
| ১৮৭৫–১৮৭৬ | ৫৬+৩⁄৪ | ২১+৫⁄৮ |
| ১৮৭৯–১৮৮০ | ৫১+১⁄৪ | ২০ |
| ১৮৮৩–১৮৮৪ | ৫০+১⁄২ | ১৯+১⁄২ |
| ১৮৮৭–১৮৮৮ | ৪৪+৫⁄৮ | ১৮+৭⁄৮ |
| ১৮৯০–১৯৫১ | ৪৭+১১⁄১৬ | ১৮+১⁄৮ |
| ১৮৯১–১৮৯২ | ৪৫ | ১৬+৩⁄৪ |
| ১৮৯২–১৮৯৩ | ৩৯ | ১৫ |
| উৎস: বি.ই. দাদাচানজি। হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়ান কারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ, ৩য় পরিবর্ধিত সংস্করণ। (বোম্বে: ডি.বি. তারাপোরওয়ালা সন্স অ্যান্ড কোং, ১৯৩৪), পৃ. ১৫। | ||
মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় অর্থাৎ ১৮৬৪ সাল নাগাদ মার্কিন ডলারের মান কমে ₹১.৫৪ টাকা হয়ে গিয়েছিল। ১৮৭০-৭১ সালের ফ্রাঙ্কো-প্রুশীয় যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর জার্মানি ফ্রান্সের কাছ থেকে ২০ কোটি পাউন্ডের এক বিশাল ক্ষতিপূরণ আদায় করে এবং এরপর ব্রিটেনের মতো তারাও স্বর্ণ মুদ্রামান বা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করে। ১৮৭৩ সালের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার পর ফ্রান্স, আমেরিকা এবং অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলোও জার্মানিকে অনুসরণ করে সোনাকে বিনিময়ের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে। তবে জাপানের মতো যে দেশগুলোর কাছে পর্যাপ্ত সোনার যোগান ছিল না কিংবা ভারতের মতো যে দেশগুলো সাম্রাজ্যবাদী নীতির অধীনে ছিল, তারা মূলত রৌপ্য মুদ্রামান বা সিলভার স্ট্যান্ডার্ডের ওপরেই নির্ভরশীল থেকে যায়। এর ফলে সোনা ও রুপা ভিত্তিক অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেই সব রৌপ্য ভিত্তিক দেশগুলো যারা মূলত স্বর্ণ ভিত্তিক দেশগুলোর সাথে ব্যবসা করত। বিশ্বজুড়ে রুপার মজুত বেড়ে যাওয়ার ফলে সোনার আপেক্ষিক মূল্য অনেক বৃদ্ধি পায়। ভারতের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর, কারণ ভারতের অধিকাংশ ব্যবসাই পরিচালিত হতো ব্রিটেনের মতো স্বর্ণ ভিত্তিক দেশগুলোর সাথে। রুপার দাম কমে যাওয়ার ফলে স্টার্লিংয়ের বিপরীতে ভারতীয় রুপির বিনিময় হারও ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
- কৃষি ও শিল্প
১৮৯০ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই প্রবৃদ্ধি ছিল মূলত কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। পাঞ্জাব ক্যানেল কলোনি, গঙ্গা খাল এবং আসামের প্রায় ৪০ লক্ষ একর জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদের আওতায় আনার মতো বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কারণে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছিল। তবে যে হারে চাষের জমির পরিমাণ বাড়ছিল, একই হারে জনসংখ্যাও দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ফলে মানুষের প্রকৃত আয়ের স্তরে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।[১২৩][১২৪] কৃষিই ছিল তৎকালীন অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বেশিরভাগ কৃষকই কেবল জীবনধারণের মতো নামমাত্র ফসল উৎপাদন করতে পারতেন।
বিখ্যাত শিল্পপতি জামশেদজী টাটা (১৮৩৯–১৯০৪) ১৮৭৭ সালে বোম্বেতে সেন্ট্রাল ইন্ডিয়া স্পিনিং, উইভিং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার শিল্প জীবনের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে ভারতের অন্যান্য কলগুলো স্থানীয় ছোট আঁশের তুলা এবং ব্রিটেন থেকে আনা সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সস্তা ও মোটা সুতা (এবং পরবর্তীতে কাপড়) তৈরি করত। কিন্তু টাটা মিশর থেকে দামী এবং লম্বা আঁশের তুলা আমদানি করে এবং আমেরিকা থেকে আরও উন্নত ‘রিং-স্পিন্ডল’ যন্ত্রপাতি কিনে অনেক বেশি সূক্ষ্ম সুতা তৈরি করতে শুরু করেন, যা ব্রিটেনের আমদানিকৃত সুতার সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে পারত।[১২৫]
১৮৯০-এর দশকে টাটা ভারতীয় মূলধনের ওপর ভিত্তি করে ভারী শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। ব্রিটিশ রাজ এই কাজে সরাসরি কোনো মূলধন প্রদান না করলেও, তারা ইস্পাত শিল্পের ক্ষেত্রে আমেরিকা ও জার্মানির কাছে ব্রিটেনের পিছিয়ে পড়া সম্পর্কে অবগত ছিল। তারা চেয়েছিল ভারতেই ইস্পাতের কল স্থাপিত হোক, তাই টাটা যে বাড়তি ইস্পাত বাজারে বিক্রি করতে পারবেন না, তা সরকার নিজেই কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।[১২৬]
১৯৩০-এর দশকের শেষ দিকে তুলা, পাট, চিনাবাদাম, চা, তামাক এবং চামড়া ছিল বার্ষিক ৫০ কোটি ডলারের বেশি কৃষিভিত্তিক রপ্তানি পণ্যের প্রধান উৎস।[১১৫]
- রেলপথ


১৯শ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা ভারতে একটি আধুনিক রেলপথ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। সেই সময়ে এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেলপথ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং এর নির্মাণশৈলী ও সেবার মান ছিল অত্যন্ত উচ্চমানের।[১২৭] সামরিক ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থনৈতিক উন্নতির কথা চিন্তা করে সরকার এই প্রকল্পে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। শুরুর দিকে রেলপথগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল এবং ব্রিটিশ প্রশাসক, ইঞ্জিনিয়ার ও দক্ষ কারিগররাই এগুলো পরিচালনা করতেন। প্রথম দিকে ভারতীয়দের মূলত অদক্ষ শ্রমিক হিসেবেই কাজে লাগানো হতো।[১২৮]
১৮৩২ সালে প্রথমবার রেল ব্যবস্থার একটি পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছিল। ১৮৩৭ সালে চেন্নাইয়ে রেড হিলস থেকে চিন্তাদ্রিপেট ব্রিজ পর্যন্ত ভারতের প্রথম ট্রেনটি চালু হয়। এর নাম ছিল রেড হিল রেলওয়ে।[১২৯] মূলত মালপত্র পরিবহনের জন্য এটি ব্যবহৃত হতো। ১৮৩০ এবং ১৮৪০-এর দশকে আরও কিছু ছোট ছোট রেললাইন তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত ছিল না এবং কেবল নির্দিষ্ট দূরত্বে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হতো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (এবং পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক সরকার) একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের নতুন নতুন রেল কোম্পানি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করত। এই প্রকল্পের অধীনে সরকার তাদের জমি প্রদান করত এবং ব্যবসার শুরুর বছরগুলোতে বার্ষিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কোম্পানিগুলোকে ৯৯ বছরের লিজে এই রেলপথ নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তবে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে সেগুলো কিনে নেওয়ার সুযোগ ছিল।[১২৯] ১৮৫৪ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি প্রধান প্রধান অঞ্চলগুলোকে যুক্ত করার জন্য একটি ট্রাঙ্ক লাইন নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেন। এর ফলে বেশ কিছু নতুন রেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রেলপথের দ্রুত বিস্তার ঘটে।[১৩০]
১৮৫৩ সালে মুম্বইের বোরি বন্দর থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু হয়, যা ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল।[১৩১] ১৮৬০ সালে রেললাইনের দৈর্ঘ্য ছিল ১,৩৪৯ কিলোমিটার, যা ১৮৮০ সাল নাগাদ বেড়ে ২৫,৪৯৫ কিলোমিটারে গিয়ে পৌঁছায়। এই রেলপথগুলো মূলত বোম্বে, চেন্নাই এবং কলকাতার মতো বন্দর শহরগুলো থেকে দেশের ভেতরের দিকে বিস্তৃত হয়েছিল।[১৩২] রেলওয়ে নির্মাণের অধিকাংশ কাজ ভারতীয় কোম্পানিগুলো করলেও সেগুলোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়াররা। গোটা ব্যবস্থাটি অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। বেশ কিছু বড় দেশীয় রাজ্যও তাদের নিজস্ব রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল এবং ধীরে ধীরে এই জালের মতো রেলপথ সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।[১২৯] ১৯০০ সাল নাগাদ ভারতে ব্রড গেজ, মিটার গেজ এবং ন্যারো গেজ—এই তিন ধরনের নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে বিচিত্র মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার অধীনে এক পূর্ণাঙ্গ রেল পরিষেবা গড়ে উঠেছিল।[১৩৩]
হেড্রিক যুক্তি দিয়েছেন যে, ব্রিটিশ রাজের নিয়ন্ত্রিত লাইন এবং ব্যক্তিগত কোম্পানিগুলো কেবলমাত্র ইউরোপীয়দেরই সুপারভাইজার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা লোকোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করত। সরকারের ভাণ্ডার নীতি অনুযায়ী রেলের সমস্ত দরপত্র লন্ডনের ইন্ডিয়া অফিসে জমা দিতে হতো, যার ফলে অধিকাংশ ভারতীয় সংস্থা এই কাজ থেকে বঞ্চিত হতো।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] রেল কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ব্রিটেনের বাজার থেকে কিনত। যদিও ভারতে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ কারখানা ছিল, তবে সেখানে ইঞ্জিন তৈরি বা বড় ধরনের সংস্কারের অনুমতি খুব কমই দেওয়া হতো।[১৩৪] ক্রিস্টেনসেন (১৯৯৬) ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্য, স্থানীয় প্রয়োজন, মূলধন এবং সরকারি বনাম ব্যক্তিগত স্বার্থের দিকটি পরীক্ষা করে দেখেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, রেলপথকে পুরোপুরি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল করার ফলে এর সাফল্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ রেলের খরচ মেটানোর জন্য অন্যান্য সরকারি খরচের মতোই দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক বাজেট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। এর ফলে রেলপথ বা যাত্রীদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এই ব্যবস্থাটি দ্রুত সাড়া দিতে পারত না।[১৩৫]
১৯৫১ সালে বিয়াল্লিশটি আলাদা রেল ব্যবস্থা, যার মধ্যে বত্রিশটি ছিল দেশীয় রাজ্যগুলোর মালিকানাধীন লাইন, সেগুলোকে একত্রিত করে ভারতীয় রেল নামে একটি একক সংস্থা গঠন করা হয়। ১৯৫১ সালে পুরনো ব্যবস্থা বাতিল করে কয়েকটি জোন বা অঞ্চল গঠন করা হয় এবং ১৯৫২ সালে মোট ছয়টি জোন কার্যকর হয়।[১৩৩]
- রাসায়নিক দ্রব্য
স্থানীয়ভাবে কেরোসিন, পেট্রোল, রঙ এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের জন্য ভারতে প্রথম শোধনাগারগুলো স্থাপিত হয়েছিল। স্থানীয় খনি থেকে খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়ার পর উৎপাদন অনেক বেড়ে যায়। ১৯৪০-এর দশক নাগাদ ভারতে বার্ষিক ছয় কোটি গ্যালন পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদিত হতে শুরু করে।[১১৫]
- সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক প্রভাব

ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আজও চলমান। এই বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন এডমান্ড বার্ক, যিনি ১৭৮০-এর দশকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে ওয়ারেন হেস্টিংস এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভারতীয় অর্থনীতি ও সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ১৯শ শতাব্দীতে রমেশচন্দ্র দত্ত এই আলোচনাকে আরও বিস্তারিত রূপ দান করেন। ভারতীয় ঐতিহাসিক রজতকান্ত রায়ের মতে, ১৮শ শতাব্দীর বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল তা ছিল এক ধরনের লুণ্ঠন এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী অর্থনীতির জন্য একটি বিপর্যয়। এটি খাদ্য ও অর্থের ভাণ্ডারকে নিঃশেষ করে দেয় এবং উচ্চ কর আরোপ করে, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের অন্যতম কারণ ছিল। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ প্রাণ হারিয়েছিলেন।[১১৬] রায় আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, ব্রিটিশ ভারত স্বাধীনতার আগে ব্রিটেনের নিজস্ব শিল্পায়নের অনুকরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সংরক্ষণবাদী কাঠামো প্রদানে ব্যর্থ হয়েছিল।[১৩৬]
ব্রিটিশ ঐতিহাসিক পি. জে. মার্শাল এই ধারণাটিকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে মুঘল আমলের সমৃদ্ধি দারিদ্র্য ও অরাজকতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তিনি যুক্তি দেন যে ব্রিটিশদের ক্ষমতা দখল অতীতের সাথে কোনো আকস্মিক বিচ্ছেদ ছিল না। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ মূলত আঞ্চলিক শাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো এবং ঘন ঘন ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছাড়া ১৮শ শতাব্দী জুড়ে সামগ্রিকভাবে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির মাধ্যমেই এটি টিকে ছিল। মার্শাল উল্লেখ করেছেন যে ব্রিটিশরা স্থানীয় কর প্রশাসকদের মাধ্যমেই রাজস্ব আদায় করত এবং মুঘল আমলের পুরনো কর হার বজায় রেখেছিল। মার্শাল ব্রিটিশদের একটি বিদেশি আক্রমণকারী শক্তি হিসেবে দেখার পরিবর্তে—যারা পাশবিক শক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে এই অঞ্চলকে দরিদ্র করে দিয়েছিল—একটি ব্রিটিশ জাতীয়তাবাদী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়েছে যে ব্রিটিশরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল না, বরং তারা মূলত একটি ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত সমাজের নিয়ন্ত্রক ছিল এবং তাদের ক্ষমতা বজায় রাখা নির্ভর করত ভারতীয় অভিজাতদের সহযোগিতার ওপর। মার্শাল নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর এই ব্যাখ্যার অনেকটা অংশই অনেক ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান করেছেন।[১৩৭]
কিছু ঐতিহাসিক কোম্পানি শাসনকে ভারতের বি-শিল্পায়ন এবং ব্রিটেনের শিল্প বিপ্লব, উভয় ক্ষেত্রেই একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।[১৩৮][১৩৯][১৪০][১৪১] তাঁদের মতে, ১৭৫৭ সালে বাংলা জয়ের পর সেখান থেকে সঞ্চিত পুঁজি শিল্প বিপ্লবের সময় ব্রিটিশ শিল্পে, যেমন বস্ত্র উৎপাদনে বিনিয়োগে সহায়তা করেছিল এবং ব্রিটেনের সম্পদ বৃদ্ধি করেছিল, যা একই সাথে বাংলায় বি-শিল্পায়নে ভূমিকা রেখেছিল।[১৩৮][১৩৯][১৪০]
অন্যান্য অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদরা ভারতের বর্তমান শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য ঔপনিবেশিক শাসনকেই দায়ী করেছেন, কারণ উপনিবেশ হওয়ার কারণে ভারতীয় শিল্পে বিনিয়োগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।[১৪২] ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতের অনেক দেশীয় উৎপাদন শিল্প সংকুচিত হয়ে পড়েছিল।[১০৫][৯৯][১০৬] ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক নীতিগুলোর ফলে হস্তশিল্প এবং তাঁতশিল্পে অবনতি ঘটে, যার ফলে চাহিদা কমে যায় এবং কর্মসংস্থান হ্রাস পায়;[১৪৩] উদাহরণস্বরূপ, তাঁতশিল্পের সুতা উৎপাদনের পরিমাণ ১৮৫০ সালের ৪১৯ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ১৯০০ সালে ২৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছিল।[৯]
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগের যে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেমব্রিজ ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের পরিশ্রমসাধ্য পরিসংখ্যানগত কাজ থেকে দেখা যায় যে, ১৭০০ সালে বিশ্ব আয়ে ভারতের অংশ ছিল ২২.৬ শতাংশ, যা তৎকালীন ইউরোপের ২৩.৩ শতাংশের প্রায় সমান ছিল। সেই অংশ ১৯৫২ সালে ৩.৮ শতাংশের মতো নিচে নেমে আসে। প্রকৃতপক্ষে, ২০শ শতাব্দীর শুরুতে "ব্রিটিশ মুকুটের উজ্জ্বলতম রত্ন" মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ ছিল।
অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদরা ব্রিটিশ রাজ জুড়ে কর ব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক পরিষেবার আঞ্চলিক পার্থক্যগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন। এতে দেখা গেছে যে ভারতে শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সাক্ষরতার হারের মধ্যে একটি শক্তিশালী ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান; ঐতিহাসিক প্রাদেশিক নীতিগুলো আজও তুলনামূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলছে।[১৪৫]
অন্যান্য অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদরা ১৯৩০-এর দশকে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিষ্ঠিত স্বদেশী আন্দোলন এবং নিখিল ভারত গ্রাম্য শিল্প সমিতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক করেন। ধ্রুপদী পশ্চিমা অর্থনৈতিক মডেলের পরিবর্তে উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে স্বনির্ভর ও দেশীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজের শেষ পঁচিশ বছরে শিল্পজাত পণ্যের ব্যাপক বর্জন, কর ধর্মঘট এবং লবণ কর বাতিলের মতো অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাব জনরাজস্ব, সরকারি কর্মসূচি, প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের ওপর কতটা ছিল, তা নিয়েও আলোচনা হয়।[১৪৬][১৪৭][১৪৮]
ভারত ব্রিটিশ শিল্পপতিদের কাছে কাঁচামালের এক বিশাল সরবরাহকারী এবং একই সাথে ব্রিটিশ শিল্পজাত পণ্যের একটি বড় একচেটিয়া বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[১৪৯]
- উৎপাদনশীলতার আপেক্ষিক হ্রাস

১৭৫০ সালে বিশ্বের মোট শিল্প উৎপাদনের ২৫ শতাংশ ছিল ভারতের দখলে, যা ১৯০০ সালে কমে গিয়ে মাত্র ২ শতাংশে দাঁড়ায়।[৯] নগরায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ১৯শ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের তুলনায় ১৬০০ সালের মুঘল ভারতের জনসংখ্যার বেশি শতাংশ (১৫ শতাংশ) শহরাঞ্চলে বসবাস করত।[৯৯][৭০]
- উৎপাদনশীলতার তুলনা
স্টিভেন ব্রডবেরি, জোহান কাস্টোডিস এবং বিশ্নুপ্রিয়া গুপ্ত ২০১৪ সালে ১৬০০ থেকে ১৮৭১ সালের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা এবং মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি)-এর একটি তুলনামূলক হিসাব প্রদান করেছেন। এই হিসাবটি ১৯৯০ সালের আন্তর্জাতিক ডলারের নিরিখে তৈরি করা হয়েছে।
| বছর | ভারত ($) | যুক্তরাজ্য ($) | অনুপাত (%) | ভারতের জনসংখ্যা (মিলিয়ন) | যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা (মিলিয়ন) |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৬০০ | ৬৮২ | ১,১২৩ | ৬১.৫ | ১৪২ | ৫ |
| ১৬৫০ | ৬৩৮ | ১,১০০ | ৫৮.৮ | ১৪২ | ৫.৮ |
| ১৭০০ | ৬২২ | ১,৫৬৩ | ৪০.৩ | ১৬৪ | ৮.৮ |
| ১৭৫০ | ৫৭৬ | ১,৭১০ | ৩৪.২ | ১৯০ | ৯.২ |
| ১৮০১ | ৫৬৯ | ২,০৮০ | ২৭.৭ | ২০৭ | ১৬.৩ |
| ১৮৫১ | ৫৫৬ | ২,৯৯৭ | ১৮.৮ | ২৩২ | ২৭.৫ |
| ১৮৭১ | ৫২৬ | ৩,৬৫৭ | ১৪.৫ | ২৫৬ | ৩১.৬ |
বেশ কিছু অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদের মতে, ১৮শ শতাব্দীতে ভারতে প্রকৃত মজুরি কমছিল এবং তা "ইউরোপীয় স্তরের অনেক নিচে" অবস্থান করছিল।[১৫১] তবে অনেকে এই মতের বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছেন যে, মজুরির এই পতন মূলত ১৯শ শতাব্দীর শুরুর দিকে বা সম্ভবত ১৮শ শতাব্দীর শেষ ভাগে শুরু হয়েছিল। তাঁদের মতে, "বিশ্বায়নের প্রভাবেই" মূলত এমনটা ঘটেছিল।[৯]
ক্লিনজিংস্মিথ এবং উইলিয়ামসন দাবি করেছেন যে, ১৭৫০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে ভারত বি-শিল্পায়নের শিকার হয়েছিল।[১১২] তাঁদের মতে এর পেছনে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ ছিল। ১৭৫০ থেকে ১৮১০ সালের মধ্যে মুঘল আধিপত্য খর্ব হওয়ায় নতুন স্বৈরাচারী শাসকরা বিজিত জনগণের কাছ থেকে জোরপূর্বক কর আদায় শুরু করেন। সেই সময়ে চিনে করের হার যেখানে ৫ থেকে ৬ শতাংশ ছিল, ভারতে তা বেড়ে উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ মূলত আঞ্চলিক যুদ্ধবিগ্রহের কাজে ব্যয় করা হতো। যুদ্ধের কারণে শ্রমিক এবং গবাদি পশুকে সামরিক কাজে ব্যবহারের ফলে খাদ্যশস্য ও বস্ত্রের দামের পাশাপাশি নামমাত্র মজুরিও বেড়ে যায়। এর ফলে ভারতীয় হস্তশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা কমে যায় এবং আঞ্চলিক বস্ত্র ব্যবসায় ধস নামে। পরবর্তীতে ১৮১০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে ব্রিটিশ কারখানা ব্যবস্থার প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে বস্ত্রের আপেক্ষিক দাম কমে যায়। ভারতে তখন উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে যাতায়াত খরচও অনেক কমে গিয়েছিল। এর আগে উপমহাদেশে কোনো পাকা রাস্তা ছিল না। যান্ত্রিক পরিবহনের সূচনার ফলে আগেকার সুরক্ষিত বাজারগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এর ফলে কারুশিল্পীদের উৎপাদন মার খেলেও কৃষি খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা পায়।
অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসন উল্লেখ করেছেন:[১৫২]
This was a shattering blow to manufacturers of fine muslins, jewellery, luxury clothing and footwear, decorative swords and weapons. My own guess would be that the home market for these goods was about 5 percent of Moghul national income and the export market for textiles probably another 1.5 percent.
- শিল্পায়নের অনুপস্থিতি
ঐতিহাসিকরা প্রায়ই এই প্রশ্ন তোলেন যে ভারত কেন শিল্পায়নে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৮শ শতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী তুলা শিল্পে এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসছিল। সেই সময়ে ভারতীয় শিল্প ফ্লাইং শাটল বা দ্রুতগামী মাকু গ্রহণ করার পর স্থবির হয়ে পড়ে এবং ১৯শ শতাব্দীর শেষ দিকেই কেবল প্রকৃত শিল্পায়ন শুরু হয়। বেশ কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন যে, ভারত মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ ছিল যেখানে পণ্যভিত্তিক মজুরির হার অনেক কম ছিল। ব্রিটেনে নামমাত্র মজুরি বেশি হওয়ায় সেখানে তুলা উৎপাদনকারীদের আধুনিক এবং শ্রম-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আবিষ্কার ও কেনার তাগিদ ছিল। অন্যদিকে ভারতে মজুরি কম থাকায় উৎপাদনকারীরা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করার চেয়ে বেশি শ্রমিক নিয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানোর পথকেই বেছে নিয়েছিলেন।[১৫৩]
ঔপনিবেশিক প্রবৃদ্ধি
[সম্পাদনা]১৯০৬ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে ভারতের মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি ৫.৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অথচ একই সময়ে যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৪৫ শতাংশ এবং আমেরিকার জিডিপি ১১১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ব্রিটিশ শাসন ভারতে একটি স্থিতিশীল সমাজ তৈরির পরিবেশ দিলেও বিশ্বের বাকি অংশের সাথে ভারতের বাণিজ্যকে সংকুচিত করে রেখেছিল। তারা রেলওয়ে, টেলিগ্রাফ এবং একটি আধুনিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এছাড়া বিস্তৃত সেচ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যা পাট, তুলা, আখ, কফি, রাবার এবং চায়ের মতো কাঁচামাল ও রপ্তানিযোগ্য অর্থকরী ফসলের চাষে গতি প্রদান করেছিল।[১৫৪][১১৫]
১৯২৮ সালে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং জাপানের বাইরে স্থাপিত মোট সুতির মাকু বা স্পিন্ডলের ৪৮ শতাংশই ছিল ভারতে। ১৯৩৫ সালে এই অঞ্চলগুলোর বাইরে উৎপাদিত মোট ইস্পাতের ৫০ শতাংশ ভারত থেকেই আসত। দোরাবজি টাটার নেতৃত্বে টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি (টিসকো) ১৯০৮ সালে বিহারের জামশেদপুরে (বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে) তাদের কারখানা স্থাপন করে। ১৯৪৫ সাল নাগাদ ১,২০,০০০ কর্মী নিয়ে এটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় লোহা ও ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।[১৫৫] টিসকো তখন ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা, ব্যবসায়িক প্রতিভা এবং শিল্প শ্রমিকদের উচ্চ বেতনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।[১৫৬]
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্য এবং খাদ্যশস্য বোম্বে ও করাচি বন্দর দিয়ে ব্রিটেন, মেসোপটেমিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায় পাঠানোর জন্য রেলপথ ব্যবহার করা হতো।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ব্রিটেন থেকে যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ আসা কমে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে। দক্ষ কর্মীরা সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং রেলের ওয়ার্কশপগুলোকে সমরাস্ত্র তৈরির কারখানায় রূপান্তরিত করা হয়। এমনকি কিছু রেললাইনের ইঞ্জিন, বগি এবং ট্র্যাক খুলে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রেলের ওপর হঠাৎ আসা এই বিপুল চাপের সাথে মানিয়ে নেওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।[১৫৭] যুদ্ধের শেষে রেলের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।[১৫৮][১৩৩] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও রেলের ওয়ার্কশপগুলোকে পুনরায় সমরাস্ত্র তৈরির কারখানায় পরিণত করা হয়েছিল।[১৫৯]
বিশ্বযুদ্ধগুলোর সময়ে মুদ্রাস্ফীতি একটি বড় জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়, অথচ প্রকৃত জিডিপিতে তেমন কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি। এই সময়ে ঔপনিবেশিক প্রশাসন রাজপরিবারের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করেছিল। বিড়লা এবং সাহু জৈন গোষ্ঠী সেই সময়ে মার্টিন বার্ন, বার্ড হেইলজার্স এবং অ্যান্ড্রু ইউলের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ সংস্থাগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করে। ১৯২৫ সাল নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ ভাগের এক ভাগ মানুষ শহরে বসবাস শুরু করেছিলেন।
- অর্থনৈতিক মন্দা
ভারতে অর্থনৈতিক উন্নতির প্রথম চক্রটি মহামন্দার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। ঋণের বোঝা লাঘব করার ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক প্রশাসন তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।[১৬০] মুদ্রাসঙ্কোচন ছিল এর সবচেয়ে খারাপ ফল, যা গ্রামবাসীদের ওপর ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।[১৬১] ১৯২৯ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন একেবারে কমে না গেলেও বাংলার পাট শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বৈদেশিক বাণিজ্যে পাটের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ১৯২০-এর দশকে এই শিল্প বেশ সমৃদ্ধ হলেও ১৯৩০-এর দশকে পাটের দাম অনেক কমে যায়।[১৬২] কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যদিও কৃষি এবং ক্ষুদ্র শিল্প কিছুটা উন্নতির মুখ দেখেছিল।[১৬৩] সেই সময়ে চিনি শিল্প সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছিল এবং ১৯৩০-এর দশকে এই শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি ঘটে।[১৬৪][১৬৫]
১৯২০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে সোনা ও রুপোর মূল্যের অনুপাত পাঁচ গুণ বেড়ে ১০০:১-এ পৌঁছে গিয়েছিল। এর ফলে ১৯শ শতাব্দীর শেষদিকের তুলনায় আরও ভয়াবহ একটি স্টার্লিং সংকট দেখা দেয়। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে প্রায় ১,১৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের ইতিবাচক ব্যালেন্স বা ভারসাম্য জমা ছিল। তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজের পুরো সময়কালেই ভারতের সাথে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভারত উদ্বৃত্ত বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।[১৬৬]
| সময়কাল | বাণিজ্য ভারসাম্য ও নিট অদৃশ্য আয় | যুদ্ধ ব্যয় | অন্যান্য উৎস | মোট |
|---|---|---|---|---|
| সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – মার্চ ১৯৪০ | ৬৫ | ২ | ১৩ | ৮০ |
| ১৯৪০–৪১ | ৫৭ | ৩০ | ৬ | ৯৩ |
| ১৯৪১–৪২ | ৭৩ | ১৪৬ | ৬ | ২২৫ |
| ১৯৪২–৪৩ | ৯২ | ২৪৪ | ৭ | ৩৪৩ |
| ১৯৪৩–৪৪ | ১০৫ | ২৮৯ | ৩ | ৩৯৭ |
| ১৯৪৪–৪৫ | ৯২ | ৩০৮ | ২ | ৪০২ |
| ১৯৪৫–৪৬ | ৭০ | ২৮২ | ৩ | ৩৫৫ |
| মোট | ৫৫৪ | ১,৩০১ | ৪০ | ১,৮৯৫ |
উৎস: ইন্ডিয়ান স্টার্লিং ব্যালান্সেস, পৃষ্ঠা ২, ১৫ জানুয়ারি ১৯৪৭, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই), ওভি৫৬/৫৫।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যান্য দেশের সাথে ভারতের কর ব্যবস্থার তুলনামূলক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাথাপিছু কর মেটানোর জন্য একজন ভারতীয়কে যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় অর্ধেক সময় শ্রম দিতে হতো। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও হংকংয়ের মতো উপনিবেশগুলোর তুলনায় এই সময় ছিল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। কিছু অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদের মতে, এই স্বল্প রাজস্ব আদায়ের কারণেই ঔপনিবেশিক সরকার ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাক্ষরতা এবং শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। সাম্রাজ্যের অন্যান্য অংশে এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলোর মাধ্যমেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছিল।[১৬৭][১৬৮]
১৯৫০ সালে ভারতের নবগঠিত কিন্তু দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের রাজকোষে বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৩৩৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এর বিপরীতে তৎকালীন হায়দ্রাবাদ রাজ্যের নিজাম আসাফ জাহর সপ্তম ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৬৮ মিলিয়ন পাউন্ড।[১৬৯] ১৯৫০ সাল নাগাদ ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ মানুষ শহরে বসবাস করতেন।[১৭০] সেই সময়ে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৪.৭৯ টাকা।
১৮৫৭ সালে কার্ল মার্ক্স লিখেছিলেন যে, ১৮৫৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসিত অঞ্চলে নামমাত্র মাথাপিছু আয় ছিল যুক্তরাজ্যের তুলনায় ১:১২ ভাগ। এমনকি করের বোঝাও ছিল যুক্তরাজ্যের তুলনায় ১:১২, ফ্রান্সের তুলনায় ১:১০ এবং প্রুশিয়ার তুলনায় ১:৫ ভাগ।[১৭১] তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, এই কারণেই কোম্পানির প্রশাসন সর্বদা স্থানীয় আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়ত এবং প্রশাসনিক কাজ চালানোর জন্য তাদের ভারতের বাজার থেকেই ঋণ নিতে হতো।[১৭২]
প্রসন্ন পার্থসারথির মতো অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদরা এই ধরনের হিসাবের সমালোচনা করেছেন।[৬৩][৯] তার মতে, ঐতিহাসিক উৎসগুলো প্রমাণ করে যে ১৮শ শতাব্দীর বাংলা এবং মহীশূরে শস্যভিত্তিক প্রকৃত মজুরির হার ব্রিটেনের প্রায় সমকক্ষ ছিল।[১০০][৯] ইমানুয়েল ওয়ালারস্টিন, ইরফান হাবিব, পার্সিভাল স্পিয়ার এবং অশোক দেশাইয়ের মতো গবেষকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৭শ শতাব্দীর মুঘল ভারতের মাথাপিছু কৃষি উৎপাদন এবং ভোগের মান তৎকালীন ইউরোপ এবং ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকের ব্রিটিশ ভারতের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।[৮১] শিবরামকৃষ্ণ ১৮০০–১৮০১ সালে ফ্রান্সিস বুকাননের করা মহীশূরের কৃষি জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, সেখানে বাজরা চাষীদের আয় জীবনধারণের "ন্যূনতম প্রয়োজনের" তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ছিল। ধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল তিন গুণ। এটি ইউরোপের উন্নত অঞ্চলগুলোর সাথে তুলনা করার মতো একটি অবস্থা।[১৭৩] তবে তথ্যের অভাব থাকায় কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।[১৭৪] শিরিন মুসভির মতে, ১৬শ শতাব্দীর শেষ দিকে মুঘল ভারতের মাথাপিছু আয় ২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকের ব্রিটিশ ভারতের চেয়ে প্রায় ১.২৪ শতাংশ বেশি ছিল। তবে শিল্পজাত পণ্যের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করলে এই পার্থক্য কিছুটা কম হতে পারত। তিনি আরও দেখিয়েছেন যে, মুঘল অর্থনীতিতে মাধ্যমিক ক্ষেত্রের অবদান (১৮.২ শতাংশ) ২০শ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের (১১.২ শতাংশ) তুলনায় অনেক বেশি ছিল।[১৭৫]
অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ পল বাইরকের মতে, ১৭৫০ সালে ভারত ও চীন উভয়েরই মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) ইউরোপের চেয়ে বেশি ছিল।[১৭৬][১৭৭] পশ্চিমা বিশ্বের জিএনপি ছিল ১৯৬০ সালের মার্কিন ডলারের হিসেবে ১৮২ ডলার (১৯৯০ সালের মান অনুযায়ী ৮০৪ ডলার)। অন্যদিকে অ-পশ্চিমা বিশ্বের জন্য এই পরিমাণ ছিল ১৮৮ ডলার (১৯৯০ সালের মান অনুযায়ী ৮৩০ ডলার), যা ভারত ও চীন উভয় দেশই অতিক্রম করেছিল।[১৭৮] তার দেওয়া অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী, ১৭০০ সালে ইংল্যান্ডের মাথাপিছু আয় ছিল ১৫০–১৯০ ডলার এবং ১৮০০ সালে ভারতের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৬০–২১০ ডলার।[১৭৯] বাইরকের মতে, ১৮০০ সালের পরেই কেবল পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে।[১৮০] আন্দ্রে গুন্ডার ফ্রাঙ্ক, রবার্ট এ. ডেনেমার্ক, কেনেথ পোমেরানজ এবং অমিয় কুমার বাগচীর মতো গবেষকরা ১৯শ শতাব্দীর আগের এশীয় অঞ্চলের নিম্ন প্রবৃদ্ধির হারের হিসাবের সমালোচনা করেছেন। পরবর্তী গবেষণায় এই অঞ্চলে সেই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চতর মাথাপিছু আয় এবং প্রবৃদ্ধির হারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।[১৮১]
ভারত প্রজাতন্ত্র
[সম্পাদনা]সমাজতান্ত্রিক যুগ
[সম্পাদনা]স্বাধীনতার আগে ভারতের মোট কর রাজস্বের একটি বিশাল বড় অংশ সংগৃহীত হতো ভূমি রাজস্ব বা জমির ওপর ধার্য করা কর থেকে। তবে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সরকারের মোট আয়ের অংশ হিসেবে এই ভূমি রাজস্বের পরিমাণ নিয়মিতভাবে এবং ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।[১৮২]
স্বাধীনতার সময় ভারত উত্তরাধিকার সূত্রে যেসব অর্থনৈতিক সমস্যা পেয়েছিল, দেশভাগের ফলে সৃষ্ট হওয়া বিশাল ব্যয়ের কারণে সেই সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। দেশভাগের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের নতুন সীমান্তের দুই পাশে প্রায় ২০ থেকে ৪০ লক্ষ শরণার্থী জীবন বাঁচাতে একে অপরের দেশ অভিমুখে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ভারতীয় অর্থনীতির ওপর এক চরম চাপের সৃষ্টি করেছিল। দেশভাগ ভারতের পরস্পর পরিপূরক অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে আলাদা করে দিয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত বাংলার পূর্ব অংশে (যা পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ হয়) মূলত পাট ও তুলা চাষ করা হতো। কিন্তু সেই পাট ও তুলা প্রক্রিয়াজাত করার কলকারখানাগুলোর বেশিরভাগই ছিল বাংলার পশ্চিম অংশে, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে স্বাধীনতার পর ভারতকে তার আগেকার খাদ্য উৎপাদনের জমিগুলোকে তুলা ও পাট চাষের জন্য ব্যবহার করতে হয়েছিল।[১৮৩]
১৯৫০-এর দশকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সেই বৃদ্ধির হার দেশটির তৎকালীন রাজনীতিবিদদের প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম ছিল।[১৮৪]
প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর শাসনকাল যখন শেষের দিকে পৌঁছায়, তখন ভারতকে এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
১৯৫০ সাল থেকেই ভারত বাণিজ্যিক ঘাটতির মুখে পড়তে শুরু করে এবং ১৯৬০-এর দশকে এই ঘাটতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। ভারত সরকারের বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় তারা আন্তর্জাতিক বাজার বা বেসরকারি উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ঋণ হিসেবে নিতে পারছিল না। এর প্রতিকার হিসেবে সরকার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে বন্ড বা ঋণপত্র ইস্যু করতে শুরু করে। এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বেড়ে যায় এবং দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। ১৯৬৫-এর ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর আমেরিকা এবং পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব রাখা অন্যান্য দেশগুলো ভারতকে দেওয়া বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে টাকার অবমূল্যায়ন করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। ভারতকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে পুনরায় সাহায্য পেতে হলে তাদের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও উদার করতে হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও টাকার অবমূল্যায়ন এবং বাজার উদারীকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ১৯৬৫-৬৬ অর্থবছর নাগাদ ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল মোট ব্যয়ের ২৪.০৬ শতাংশ, যা ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ছিল সর্বোচ্চ। ১৯৬৫-৬৬ সালের ভয়াবহ খরা এবং সেই সাথে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে। ১৯৬০-এর দশকে মাথাপিছু জিডিপি ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং ১৯৭০-এর দশকে তা সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ১৯৮০-র দশকে এই প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪১ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে তা ২০ শতাংশে নেমে আসে।[১৮৫]
১৯৫১ থেকে ১৯৭৯ অর্থবছর পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি বছরে গড়ে প্রায় ৩.১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার বার্ষিক মাথাপিছু বৃদ্ধির হার ছিল ১.০ শতাংশ।[স্পষ্টকরণ প্রয়োজন]</ref> এই সময়কালে শিল্প ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল বছরে ৪.৫ শতাংশ এবং এর তুলনায় কৃষি ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশ।[১৮৬][১৮৭] ১৯৫০ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ভারতের প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৫ সালে সারা দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং সংবিধানের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। ১৯৭৫ সাল নাগাদ ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষ শহর এলাকায় বসবাস করতেন।[১৮৮]
- ইস্পাত শিল্প
প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু মাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং তিনি মনে করতেন যে ভারতের উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ইস্পাত উৎপাদন করা একান্ত প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তিনি সরকারি মালিকানাধীন হিন্দুস্তান স্টিল লিমিটেড (এইচএসএল) নামক একটি সংস্থা গঠন করেন এবং ১৯৫০-এর দশকে তিনটি বড় ইস্পাত কারখানা স্থাপন করেন।[১৮৯]
- ভারী শিল্প
ভারতের সাথে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতকে তেল ও গ্যাস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উত্তোলন, ভারী যন্ত্রপাতি, রেলপথ এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সাহায্য করেছিল।
- অর্থনৈতিক মন্দা
ভারতের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক উন্নতির চক্রটি ১৯৭৯ সালের বিশ্বব্যাপী তেল সংকটের ফলে থমকে যায়। এই সংকটের কারণে ১৯৮০-র দশক জুড়ে ভারতের রাজকোষে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে ভারতের জিডিপি (১৯৯০ সালের মার্কিন ডলারের মান অনুযায়ী) ছিল ৫৪৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের জিডিপি ছিল ১,৫৬১ বিলিয়ন ডলার, জাপানের ১,২৬৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমেরিকার জিডিপি ছিল ৩,৫১৭ বিলিয়ন ডলার। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ভারতের প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।[১৯০]
পুঁজিবাদের উত্থান ও সমৃদ্ধি
[সম্পাদনা]১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া এই উদারীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধির ধরণ এবং জাতীয় আয়ের কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসে। ১৯৯৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ভারতের প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
২০০০ সাল নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মানুষ শহরে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন।[১৯৪]

২১শ শতাব্দীতে এসে ভারতের ইস্পাত শিল্প ইউরোপের বাজারে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের টাটা গ্রুপ ইউরোপের ইস্পাত উৎপাদনকারী সংস্থা কোরাস গ্রুপকে ১১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয়। এর আগে ২০০৬ সালে মিত্তাল স্টিল কোম্পানি (যা লন্ডন ভিত্তিক হলেও ভারতীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ছিল) আর্সেলর কোম্পানিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আর্সেলর মিত্তল গঠন করে। এই সংস্থাটি বিশ্বের মোট ইস্পাত উৎপাদনের ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।[১৯৫]
ভারত সরকার দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই এবং কলকাতাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যুক্ত করার জন্য স্বর্ণ চতুর্ভুজ নামক একটি বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের কাজ শুরু করে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়া এই প্রকল্পটি ছিল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং উচ্চাভিলাষী পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।[১৯৬][১৯৭]
- অর্থনৈতিক মন্দা

ভারত কোভিড-১৯ অতিমারিরকারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছিল। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
For ক্রয়ক্ষমতা সমতা তুলনার ক্ষেত্রে ১ মার্কিন ডলারকে ৯.৪৬ টাকার সমান ধরে হিসাব করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ভারতে অন্তত ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়মিতভাবে বজায় থাকলেও দেশটির অর্থনীতি নানা ধরনের আমূল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জালে আবদ্ধ ছিল।

আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Maddison, Angus (২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। Contours of the World Economy 1-2030 AD: Essays in Macro-Economic History (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-১৬৪৭৫৮-১। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ Mokyr, Joel (২০০৩)। The Oxford Encyclopedia of Economic History। Oxford University Press। পৃ. ২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১০৫০৭-০। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ Maddison, Angus (2003): Development Centre Studies The World Economy Historical Statistics: Historical Statistics, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা, আইএসবিএন ৯২৬৪১০৪১৪৩, p. 261
- ↑ ইরফান হাবিব। "Economic History of Delhi Sultanate" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ Maddison, Angus (২০০৬)। The World Economy (GDP) : Historical Statistics by Professor Angus Maddison (পিডিএফ)। Development Centre Studies। World Economy। ডিওআই:10.1787/9789264022621-en। আইএসবিএন ৯৭৮-৯২-৬৪-০২২৬১-৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৩।
- 1 2 Parthasarathi, Prasannan (২০১১), Why Europe Grew Rich and Asia Did Not: Global Economic Divergence, 1600–1850, Cambridge University Press, পৃ. ২, আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৪৯৮৮৯-০
- 1 2 Roy, Tirthankar (২০১০)। "The Long Globalization and Textile Producers in India"। Lex Heerma van Voss; Els Hiemstra-Kuperus; Elise van Nederveen Meerkerk (সম্পাদকগণ)। The Ashgate Companion to the History of Textile Workers, 1650–2000। Ashgate Publishing। পৃ. ২৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৫৪৬-৬৪২৮-৪।
- ↑ Williamson, Jeffrey G. (৭ জানুয়ারি ২০১১)। Trade and Poverty। MIT Press। পৃ. ৯১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৬২-২৯৫১৮-৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Jeffrey G. Williamson, David Clingingsmith (আগস্ট ২০০৫)। "India's Deindustrialization in the 18th and 19th Centuries" (পিডিএফ)। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১৭।
- ↑ Maddison 2003, পৃ. 261।
- ↑ Baten, Jörg (২০১৬)। A History of the Global Economy. From 1500 to the Present। Cambridge University Press। পৃ. ২৫০। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭৫০৭১৮০।
- 1 2 "Economic survey of India 2007: Policy Brief" (পিডিএফ)। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা। ৬ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Industry passing through phase of transition"। The Tribune। ২৪ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Marshall, John (১৯৯৬)। Mohenjo-Daro and the Indus Civilization: Being an Official Account of Archaeological Excavations at Mohenjo-Daro Carried Out by the Government of India Between the Years 1922 and 1927। Asian Educational Services। পৃ. ৪৮১। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২০৬১১৭৯৫।
- ↑ Chopra, Pran Nath (২০০৩)। A Comprehensive History Of Ancient India (3 Vol. Set)। Sterling। পৃ. ৭৩। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২০৭২৫০৩৪।
- ↑ Sarien, R. G. (১৯৭৩)। Managerial styles in India: proceedings of a seminar। পৃ. ১৯।
- ↑ M. K. Kuriakose, History of Christianity in India: Source Materials, (Bangalore: United Theological College, 1982), pp. 10–12. Kuriakose gives a translation of the related but later copper plate grant to Iravi Kortan on pp. 14–15. For earlier translations, see S. G. Pothan, The Syrian Christians of Kerala, (Bombay: Asia Publishing House, 1963), pp. 102–105.
- ↑ Khanna 2005।
- ↑ জাতক ৪.
- ↑ Ghosh, Amalananda (১৯৯০)। An Encyclopaedia of Indian Archaeology। Brill। পৃ. ১২। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪০৯২৬৪৮।
- ↑ Joppen, Charles। Historical atlas of India, for the use of high schools, colleges and private students। Cornell University Library। London; New York: Longmans, Green। পৃ. map ২।
- ↑ Thapar, Romila (১৯৮৭)। The Mauryas Revisited। K. P. Bagchi & Co. (for Centre for Studies in Social Sciences)। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০৭৪০২১৬।
- ↑ Sharma, R. S. (২০০৫)। India’s Ancient Past। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫৬৬৭১৪১।
- ↑ Kautilya (১৯৬৭)। Arthashastra। R. Shamasastry কর্তৃক অনূদিত। Motilal Banarsidass।
- ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৫১)। The Age of Imperial Unity। The History and Culture of the Indian People, Vol. II। Bharatiya Vidya Bhavan।
- ↑ Basham, A. L. (১৯৫৪)। The Wonder That Was India। Grove Press।
- ↑ Kosambi, D. D. (১৯৭৫)। An Introduction to the Study of Indian History। Popular Prakashan।
- ↑ Ratan Lal Basu & Rajkumar Sen, Ancient Indian Economic Thought, Relevance for Today আইএসবিএন ৮১-৩১৬-০১২৫-০, Rawat Publications, New Delhi, 2008.
- ↑ Basham, A. L. (১৯৫৪)। The Wonder That Was India। Grove Press।
- ↑ Sharma, R. S. (২০০৫)। India’s Ancient Past। Oxford University Press।
- ↑ Singh, Upinder (২০০৮)। A History of Ancient and Early Medieval India। Pearson Education।
- ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৫৪)। The Gupta Empire। The History and Culture of the Indian People, Vol. III। Bharatiya Vidya Bhavan।
- ↑ Chakrabarty, Dilip K. (১৮ অক্টোবর ২০১০), "The Re-emergence of the Gangetic Orbit and the Regional Power Centres C. AD 300 to C. AD 800", The Geopolitical Orbits of Ancient India, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৯০৮৮৩২৪,
Magadha and its capital Pataliputra come back into focus under the Gupta dynasty. Initially, the dynasty establishes its base by coming into a matrimonial alliance with the Lichchhavis of Vaisali or north Bihar. At this stage, it is likely that the Gupta power was stretched along the northern and southern banks of the Ganga in modern Bihar.
- ↑ Angus Maddison (২০০৭)। Contours of the World Economy, 1–2030 AD. Essays in Macro-Economic History। Oxford University Press। পৃ. ৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২২৭২১-১।
- ↑ Angus Maddison (২০০৭)। Contours of the World Economy, 1–2030 AD. Essays in Macro-Economic History। Oxford University Press। পৃ. ৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২২৭২১-১।
- ↑ Building Bridges Among the BRICs, p. 125, Robert Crane, Springer, 2014
- ↑ Raghu Vamsa v 4.60–75
- ↑ Graeber, David (২০১২)। Debt. The First 5,000 Years। Melville House। পৃ. ২৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১২১৯১২৯৪।
- ↑ Datt ও Sundharam 2009, পৃ. 14
- ↑ Raychaudhuri ও Habib 2004, পৃ. 17–18
- ↑ Raychaudhuri ও Habib 2004, পৃ. 40–41
- ↑ Hanway, Jonas (১৭৫৩), An Historical Account of the British Trade Over the Caspian Sea, Sold by Mr. Dodsley,
The Persians have very little maritime strength ... their ship carpenters on the Caspian were mostly Indians ... there is a little temple, in which the Indians now worship
- ↑ Stephen Frederic Dale (২০০২), Indian Merchants and Eurasian Trade, 1600–1750, Cambridge University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫২৫৯৭-৮,
The Russian merchant, F.A. Kotov ... saw in Isfahan in 1623, both Hindus and Muslims, as Multanis.
- ↑ Scott Cameron Levi (২০০২), The Indian diaspora in Central Asia and its trade, 1550–1900, Brill, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-১২৩২০-৫,
George Forster ... On the 31st of March, I visited the Atashghah, or place of fire; and on making myself known to the Hindoo mendicants, who resided there, I was received among these sons of Brihma as a brother
[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] - ↑ Abraham Valentine Williams Jackson (১৯১১), From Constantinople to the home of Omar Khayyam: travels in Transcaucasia and northern Persia for historic and literary research, The Macmillan company
- ↑ George Forster (১৭৯৮), A journey from Bengal to England: through the northern part of India, Kashmire, Afghanistan, and Persia, and into Russia, by the Caspian-Sea, R. Faulder,
A society of Moultan Hindoos, which has long been established in Baku, contributes largely to the circulation of its commerce; and with the Armenians they may be accounted the principal merchants of Shirwan
- ↑ James Justinian Morier (১৮১৮), A Second Journey through Persia, Armenia, and Asia Minor, to Constantinople, between the Years 1810 and 1816, A. Strahan
- ↑ United States Bureau of Foreign Commerce (১৮৮৭), Reports from the consuls of the United States, 1887, United States Government,
Six or 7 miles southeast is Surakhani, the location of a very ancient monastery of the fire-worshippers of India
- ↑ Raychaudhuri ও Habib 2004, পৃ. 10–13
- ↑ ইরফান হাবিব। "Economic History of Delhi Sultanate" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ Asher, C. B.; Talbot, C (১ জানুয়ারি ২০০৮), India Before Europe (1st সংস্করণ), কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, পৃ. ৫০–৫২, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫১৭৫০-৮
- ↑ Pacey, Arnold (১৯৯১) [1990]। Technology in World Civilization: A Thousand-Year History (First MIT Press paperback সংস্করণ)। Cambridge MA: The MIT Press। পৃ. ২৬–২৯।
- ↑ ইরফান হাবিব (2011), Economic History of Medieval India, 1200–1500, page 53, Pearson Education
- ↑ Lakwete, Angela (২০০৩)। Inventing the Cotton Gin: Machine and Myth in Antebellum America। Baltimore: The Johns Hopkins University Press। পৃ. ১–৬। আইএসবিএন ৯৭৮০৮০১৮৭৩৯৪২।
- ↑ ইরফান হাবিব (2011), Economic History of Medieval India, 1200–1500, pages 53–54, Pearson Education
- ↑ ইরফান হাবিব (2011), Economic History of Medieval India, 1200–1500, page 54, Pearson Education
- ↑ Maddison, Angus (৬ ডিসেম্বর ২০০৭)। Contours of the world economy, 1–2030 AD: essays in macro-economic history। Oxford University Press। পৃ. ৩৭৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২২৭২০-৪।
- ↑ Broadberry, Stephen; Gupta, Bishnupriya (২০১০)। "Indian GDP before 1870: Some preliminary estimates and a comparison with Britain" (পিডিএফ)। Warwick University। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০১৫।
- 1 2 3 4 Broadberry, Stephen; Gupta, Bishnupriya (২০১৫)। "India and the great divergence: an Anglo-Indian comparison of GDP per capita, 1600–1871"। Explorations in Economic History। ৫৫: ৫৮–৭৫। ডিওআই:10.1016/j.eeh.2014.04.003। এস২সিআইডি 130940341। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ Bolt, Jutta; Inklaar, Robert (২০১৮)। "Maddison Project Database 2018"। University of Groningen। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ Bolt, Jutta; Luiten van Zanden, Jan (২০২০)। "Maddison Project Database 2020"। University of Groningen। 1990 to 2011 International $ 1:1.72। ১৩ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২১।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Schmidt, Karl J. (২০ মে ২০১৫)। An Atlas and Survey of South Asian History। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-৪৭৬৮১-৮।
- 1 2 Parthasarathi, Prasannan (২০১১), Why Europe Grew Rich and Asia Did Not: Global Economic Divergence, 1600–1850, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, পৃ. ৪৫, আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৪৯৮৮৯-০
- ↑ Harrison, Lawrence; Berger, Peter L. (২০০৬)। Developing cultures: case studies। রাউটলেজ। পৃ. ১৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮০৪১৫৯৫২৭৯৮।
- ↑ Maddison 2003, পৃ. 257।
- ↑ Richards 1996, পৃ. 185–204।
- ↑ Picture of original Mughal rupiya introduced by Sher Shah Suri ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ মে ২০০৮ তারিখে
- 1 2 Richards 2003, পৃ. 27।
- ↑ Richards 1996, পৃ. 73–74।
- 1 2 3 Eraly, Abraham (২০০৭)। The Mughal World: Life in India's Last Golden Age। Penguin Books India। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-৩১০২৬২-৫।
- ↑ Ritchie, Hannah; Roser, Max (১৩ জুন ২০১৮)। "Urbanization"। Our World in Data।
- ↑ Habib, Kumar এবং Raychaudhuri 1987, পৃ. 171।
- ↑ Social Science Review। Registrar, Dhaka University। ১৯৯৭।
- ↑ Yazdani, Kaveh (১০ জানুয়ারি ২০১৭)। India, Modernity and the Great Divergence: Mysore and Gujarat (17th to 19th C.)। Brill। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৩৩০৭৯-৫।
- ↑ Cipolla, Carlo M. (২০০৪)। Before the Industrial Revolution: European Society and Economy 1000–1700। রাউটলেজ।
- ↑ Richards 1996, পৃ. 190।
- ↑ Habib, Kumar এবং Raychaudhuri 1987, পৃ. 230।
- ↑ Ignacio Pichardo Pagaza; Demetrios Argyriades (২০০৯)। Winning the Needed Change: Saving Our Planet Earth : a Global Public Service। IOS Press। পৃ. ১২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৮৬০৩-৯৫৮-৫।
- ↑ Richards 1996, পৃ. 174।
- ↑ Richards 2003, পৃ. 28।
- 1 2 Suneja, Vivek (২০০০)। Understanding Business: A Multidimensional Approach to the Market Economy। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস। পৃ. ১৩। আইএসবিএন ৯৭৮০৪১৫২৩৮৫৭১।
- 1 2 3 Roy, Tirthankar (২০১০)। "The Long Globalization and Textile Producers in India"। Lex Heerma van Voss; Els Hiemstra-Kuperus; Elise van Nederveen Meerkerk (সম্পাদকগণ)। The Ashgate Companion to the History of Textile Workers, 1650–2000। Ashgate Publishing। পৃ. ২৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৫৪৬-৬৪২৮-৪।
- 1 2 3 Om Prakash, "Empire, Mughal", History of World Trade Since 1450, edited by John J. McCusker, vol. 1, Macmillan Reference US, 2006, pp. 237–40, World History in Context, accessed 3 August 2017
- 1 2 Boyajian, James C. (২০০৮)। Portuguese Trade in Asia Under the Habsburgs, 1580–1640। JHU Press। পৃ. ৫১। আইএসবিএন ৯৭৮০৮০১৮৮৭৫৪৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ Richards 1996, পৃ. 20।
- ↑ Eaton, Richard M. (৩১ জুলাই ১৯৯৬)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760। University of California Press। পৃ. ২০২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৫০৭-৯।
- 1 2 Richards 1996, পৃ. 202।
- ↑ Wintjes, Justine (১ সেপ্টেম্বর ২০২১)। "Small seashells tell a big story of slavery and transoceanic trade 500 years ago"। The Conversation (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২৪।
- 1 2 3 4 5 "Indian cotton textiles in the eighteenth-century Atlantic economy"। South Asia @ LSE। ২৭ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২০।
- ↑ Indrajit Ray (২০১১)। Bengal Industries and the British Industrial Revolution (1757–1857)। Routledge। পৃ. ১৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৬-৮২৫৫২-১।
- ↑ Indrajit Ray (২০১১)। Bengal Industries and the British Industrial Revolution (1757–1857)। Routledge। পৃ. ৫৭, ৯০, ১৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৬-৮২৫৫২-১।
- ↑ Khandker, Hissam (৩১ জুলাই ২০১৫)। "Which India is claiming to have been colonised?"। The Daily Star (Op-ed)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৬।
- ↑ Raychaudhuri, Tapan (১৯৮৩)। The Cambridge Economic History of India, II: The mid-eighteenth-century background। Cambridge University Press। পৃ. ১৭।
- ↑ Branko, Milanovic; Peter H., Lindert; Jeffrey G., Williamson (নভেম্বর ২০০৭)। "Measuring ancient inequality"। World Bank: ১–৮৮। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৭।
- ↑ Raychaudhuri, Tapan (১৯৮৩)। The Cambridge Economic History of India, II: The mid-eighteenth-century background। Cambridge University Press। পৃ. ১৭।
- ↑ Branko, Milanovic; Peter H., Lindert; Jeffrey G., Williamson (নভেম্বর ২০০৭)। "Measuring ancient inequality"। World Bank: ১–৮৮। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৭।
- ↑ Parthasarathi, Prasannan (২০১১), Why Europe Grew Rich and Asia Did Not: Global Economic Divergence, 1600–1850, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, পৃ. ৪৫, আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৪৯৮৮৯-০
- ↑ Jeffrey G. Williamson (২০১১)। Trade and Poverty: When the Third World Fell Behind। MIT Press। পৃ. ৯১।
- 1 2 3 4 5 Broadberry, Stephen; Gupta, Bishnupriya (২০০৫)। "Cotton textiles and the great divergence: Lancashire, India and shifting competitive advantage, 1600–1850" (পিডিএফ)। International Institute of Social History। Department of Economics, University of Warwick। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৬।
- 1 2 Parthasarathi, Prasannan (২০১১)। Why Europe Grew Rich and Asia Did Not: Global Economic Divergence, 1600–1850। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৩৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৪৯৮৮৯-০।
- ↑ Sashi Sivramkrishna (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। In Search of Stability: Economics of Money, History of the Rupee। Taylor & Francis। পৃ. ৯১–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩৫১-৯৯৭৪৯-২।
- ↑ Roy, Tirthankar (২০১০)। "Rethinking the Origins of British India: State Formation and Military-Fiscal Undertakings in an Eighteenth Century World Region" (পিডিএফ)।
- 1 2 Robb 2004, পৃ. 131–34।
- ↑ Baten, Jörg (২০১৬)। A History of the Global Economy. From 1500 to the Present। Cambridge University Press। পৃ. ২৫২। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭৫০৭১৮০।
- 1 2 James Cypher (২০১৪)। The Process of Economic Development। রাউটলেজ।
- 1 2 Paul Bairoch (১৯৯৫)। Economics and World History: Myths and Paradoxes। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস। পৃ. ৮৯। ১২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 3 4 5 Prakash, Om (১১ মে ২০০৯), "From Market-Determined to Coercion-Based: Textile Manufacturing in Eighteenth-Century Bengal", How India Clothed the World (ইংরেজি ভাষায়), Brill, পৃ. ২১৭–২৫১, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৪৭৪-২৯৯৭-৫, সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২৩
- 1 2 Peers 2006, পৃ. 48–49
- ↑ Farnie 1979, পৃ. 33
- ↑ Roy, Tirthankar (২০১২)। "Consumption of Cotton Cloth in India, 1795–1940"। Australian Economic History Review (ইংরেজি ভাষায়)। ৫২ (1): ৬১–৮৪। ডিওআই:10.1111/j.1467-8446.2012.00341.x। আইএসএসএন 1467-8446। এস২সিআইডি 154211414।
- ↑ Indrajit Ray (নভেম্বর ২০০৯)। "Identifying the woes of the cotton textile industry in Bengal: Tales of the nineteenth century"। The Economic History Review। ৬২ (4): ৮৫৭–৯২। ডিওআই:10.1111/j.1468-0289.2009.00444.x। জেস্টোর 27771525। এস২সিআইডি 154976000।
- 1 2 Clingingsmith, David; Williamson, Jeffrey G.। "India's Deindustrialization in the 18th and 19th Centuries" (পিডিএফ)। Trinity College Dublin। Harvard University। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Bagchi, Amiya (১৯৭৬)। "Deindustrialization in India in the Nineteenth Century: Some Theoretical Implications"। Journal of Development Studies। ১২ (অক্টোবর) (2): ১৩৫–৬৪। ডিওআই:10.1080/00220387608421565।
- ↑ Giorgio Riello, Tirthankar Roy (২০০৯)। How India Clothed the World: The World of South Asian Textiles, 1500–1850। ব্রিল। পৃ. ১৭৪।
- 1 2 3 4 5 6 Foreign Commerce Yearbook (ইংরেজি ভাষায়)। U.S. Government Printing Office। ১৯৫০।
- 1 2 Rajat Kanta Ray (১৯৯৮)। "Indian Society and the Establishment of British Supremacy, 1765–1818"। P. J. Marshall (সম্পাদক)। The Oxford History of the British Empire। খণ্ড II: The Eighteenth Century। Oxford University Press। পৃ. ৫০৮–২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-১৬৪৭৩৫-২।
- ↑ Rao, K.N.P। Brief History of Iron and Steel Industry in India (পিডিএফ)। পৃ. ৪। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ St. John, Ian (২০১১)। The Making of the Raj: India under the East India Company। ABC-CLIO। পৃ. ৮৩–৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১৩০৯৭৩৬২। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৮।
- ↑ Gupta, Das (২০১১)। Science and Modern India: An Institutional History, c.1784-1947: Project of History of Science, Philosophy and Culture in Indian Civilization, Volume XV, Part 4। Pearson Education India। পৃ. ৪৫৪–৪৫৬। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৩১৭৫৩৭৫০।
- ↑ "Indian Ordnance Factories: Gun and Shell Factory"। Ofb.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১২।
- ↑ B. R. Tomlinson, The economy of modern India, 1860–1970 (1996)
- ↑ Judith Brown, Modern India: The Origins of an Asian Democracy (Oxford University Press, 1994) p. 12
- ↑ B. R. Tomlinson, The Economy of Modern India, 1860–1970 (1996) p. 5
- ↑ Dasgupta, Ajit K. (১ জুলাই ১৯৮১)। "Agricultural Growth Rates in the Punjab, 1906-1942"। The Indian Economic & Social History Review (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ (3–4): ৩২৭–৩৪৮। ডিওআই:10.1177/001946468101800304। আইএসএসএন 0019-4646। এস২সিআইডি 146371545।
- ↑ F. H. Brown and B. R. Tomlinson, "Tata, Jamshed Nasarwanji (1839–1904)", in Oxford Dictionary of National Biography (2004) accessed 28 Jan 2012 ডিওআই:10.1093/ref:odnb/36421
- ↑ Vinay Bahl, "The Emergence of Large-Scale Steel Industry in India Under British Colonial Rule, 1880–1907", Indian Economic and Social History Review, (October 1994) 31#4 pp. 413–60
- ↑ Ian J. Kerr (২০০৭)। Engines of change: the railroads that made India। Greenwood Publishing Group। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৭৫-৯৮৫৬৪-৬।
- ↑ Derbyshire 1987, পৃ. ৫২১-৪৫।
- 1 2 3 R.R. Bhandari (২০০৫)। Indian Railways: Glorious 150 years। Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃ. ১–১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৩০-১২৫৪-৪।
- ↑ Thorner, Daniel (২০০৫)। "The pattern of railway development in India"। Kerr, Ian J. (সম্পাদক)। Railways in Modern India। New Delhi: Oxford University Press। পৃ. ৮০–৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৭২৯২-৩।
- ↑ Babu, T. Stanley (২০০৪)। A shining testimony of progress। Indian Railway Board। পৃ. ১০১।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|work=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ Hurd, John (২০০৫)। "Railways"। Kerr, Ian J. (সম্পাদক)। Railways in Modern India। New Delhi: Oxford University Press। পৃ. ১৪৭–১৭২–৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৭২৯২-৩।
- 1 2 3 R.R. Bhandari (২০০৫)। Indian Railways: Glorious 150 years। Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃ. ৪৪–৫২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৩০-১২৫৪-৪।
- ↑ Headrick, Daniel R. (১৯৮৮)। The Tentacles of Progress: Technology Transfer in the Age of Imperialism, 1850–1940। Oxford University Press। পৃ. ৮১–৮২। আইএসবিএন ০-১৯-৫০৫১১৫-৭।
- ↑ R. O. Christensen, "The State and Indian Railway Performance, 1870–1920: Part I, Financial Efficiency and Standards of Service", Journal of Transport History (September 1981) 2#2, pp. 1–15
- ↑ Ray, Rajat K (নভেম্বর ১৯৮০)। "Industrialization in India: Growth and Conflict in the Private Corporate Sector, 1914–1947"। The Journal of Asian Studies। ৪০ (1)। Oxford University Press: ১৭৮–১৭৯। ডিওআই:10.2307/2055092। জেস্টোর 2055092। এস২সিআইডি 163361720। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ P.J. Marshall, "The British in Asia: Trade to Dominion, 1700–1765", in The Oxford History of the British Empire: vol. 2, The Eighteenth Century ed. by P. J. Marshall, (1998), pp. 487–507.
- 1 2 Junie T. Tong (১৫ এপ্রিল ২০১৬)। Finance and Society in 21st Century China: Chinese Culture Versus Western Markets। CRC Press। পৃ. ১৫১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-১৩৫২২-৭।
- 1 2 The Islamic World: Abba - Hist. 1। Oxford University Press। ২০০৪। পৃ. ১৯০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৬৫২০-৩।
- 1 2 Indrajit Ray (২০১১)। Bengal Industries and the British Industrial Revolution (1757-1857)। Routledge। পৃ. ৭–১০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৬-৮২৫৫২-১।
- ↑ Shombit Sengupta, Bengals plunder gifted the British Industrial Revolution, The Financial Express, 8 February 2010
- ↑ T.R. Jain; V.K. Ohri। Statistics for Economics and indian economic development। VK publications। পৃ. ১৫। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৯০৯৮৬৪৯৬।
- ↑ Kumar 2005, পৃ. 538–40।
- ↑ "Of Oxford, economics, empire, and freedom"। দ্য হিন্দু। Chennai। ২ অক্টোবর ২০০৫। ২৭ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১০।
- ↑ Chaudhary, Latika (১ জুলাই ২০১০)। "Taxation and educational development: Evidence from British India"। Explorations in Economic History। Asian Economic Growth and Development (ইংরেজি ভাষায়)। ৪৭ (3): ২৭৯–২৯৩। ডিওআই:10.1016/j.eeh.2009.08.005। আইএসএসএন 0014-4983।
- ↑ Kemp, Tom (১৪ জানুয়ারি ২০১৪)। Industrialisation in the Non-Western World (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-৯০১৩৪-১।
- ↑ "Mahatma Gandhi's views on Village Development"। www.mkgandhi.org। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২০।
- ↑ Seinivas, M N (১৯৬০)। "The Myth of Self-Sufficiency Of the Indian Village" (পিডিএফ)। The Economic Weekly: ১৩৭৫–১৩৭৮।
- ↑ Henry Yule, A. C. Burnell (২০১৩)। Hobson-Jobson: The Definitive Glossary of British India। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২০।
- ↑ Data table in Maddison A (2007), Contours of the World Economy I-2030AD, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৯২২৭২০৪
- ↑ de Vries, Jan (২০১২)। "Review"। American Historical Review। ১১৭ (5): ১৫৩৪।
- ↑ Madison, Angus (২০০১)। The World Economy: A Millennial Perspective। OECD। আইএসবিএন ৯৭৮-৯২-৬৪-১৮৯৯৮-০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Griffin, Emma। "Why was Britain first? The industrial revolution in global context"। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৩।
- ↑ B. H. Tomlinson, "India and the British Empire, 1880–1935", Indian Economic and Social History Review, (October 1975), 12#4 pp. 337–80.
- ↑ Nomura, Chikayoshi (২০১১)। "Selling steel in the 1920s: TISCO in a period of transition"। Indian Economic and Social History Review। ৪৮: ৮৩–১১৬। ডিওআই:10.1177/001946461004800104। এস২সিআইডি 154594018।
- ↑ Vinay Bahl, Making of the Indian Working Class: A Case of the Tata Iron & Steel Company, 1880–1946 (1995)
- ↑ Headrick, Daniel R. (১৯৮৮)। The Tentacles of Progress: Technology Transfer in the Age of Imperialism, 1850–1940। Oxford University Press। পৃ. ৭৮–৭৯। আইএসবিএন ০-১৯-৫০৫১১৫-৭।
- ↑ Awasthi, Aruna (১৯৯৪)। History and development of railways in India। New Delhi: Deep & Deep Publications। পৃ. ১৮১–২৪৬।
- ↑ Wainwright, A. Marin (১৯৯৪)। Inheritance of Empire। Westport, CT: Greenwood Publishing Group। পৃ. ৪৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৭৫-৯৪৭৩৩-০।
- ↑ K. A. Manikumar, A colonial economy in the Great Depression, Madras (1929–1937) (2003) pp. 138–39
- ↑ Dietmar Rothermund, An Economic History of India to 1991 (1993) p. 95
- ↑ Omkar Goswami, "Agriculture in Slump: The Peasant Economy of East and North Bengal in the 1930s", Indian Economic & Social History Review, July 1984, Vol. 21 Issue 3, p. 335–64
- ↑ Colin Simmons, "The Great Depression and Indian Industry: Changing Interpretations and Changing Perceptions", Modern Asian Studies, May 1987, Vol. 21 Issue 3, pp. 585–623
- ↑ Dietmar Rothermund, An Economic History of India to 1991 (1993) p. 111
- ↑ Dietmar Rothermund, India in the Great Depression, 1929–1939 (New Delhi, 1992).
- ↑ Abreu, Marcelo (২০১৫)। "India as a creditor: sterling balances, 1940–1953"। Econ Papers। Department of Economics PUC-Rio (Brazil)। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Frankema, Ewout (২০১০)। "Raising revenue in the British empire, 1870-1940: How 'extractive' were colonial taxes?"। Journal of Global History। ৫ (3): ৪৪৭–৪৭৭। ডিওআই:10.1017/S1740022810000227। এস২সিআইডি 56300408।
- ↑ "Income tax in India: An interesting history"। Tomorrowmakers (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "The Nizam's Daughter"। Time। ১৯ জানুয়ারি ১৯৫৯। ৩০ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ "One-sixth of Indians were urban by 1950"। ৩ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০০৮।
- ↑ "Marx and Engels. First Indian War of Independence 1857-58"। marxists.catbull.com। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "The Digital South Asia Library-Statistics: - No. 5 - Total Gross Amount of the Public Revenue and Expenditure of British India, showing Surplus Or Deficiency of Revenue, in each of the Years ended 30th April."। dsal.uchicago.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২০।
- ↑ Sivramkrishna, Sashi (২০০৯)। "Ascertaining Living Standards in Erstwhile Mysore, Southern India, from Francis Buchanan's Journey of 1800-01: An Empirical Contribution to the Great Divergence"। Journal of the Economic and Social History। ৫২ (4): ৭৩১।
- ↑ Sivramkrishna, Sashi (২০০৯)। "Ascertaining Living Standards in Erstwhile Mysore, Southern India, from Francis Buchanan's Journey of 1800-01: An Empirical Contribution to the Great Divergence"। Journal of the Economic and Social History। ৫২ (4): ৭২৯।
- ↑ Moosvi, Shireen (২০১৫) [First published 1989]। The Economy of the Mughal Empire c. 1595: A Statistical Study (2nd সংস্করণ)। Oxford University Press। পৃ. ৪৩২–৪৩৩। ডিওআই:10.1093/acprof:oso/9780199450541.001.0001। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯০৮৫৪৯-১।
- ↑ Paul Bairoch (১৯৯৫)। Economics and World History: Myths and Paradoxes। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস। পৃ. ৯৫–১০৪। ১২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Jochnick, Chris; Preston, Fraser A. (২০০৬)। Sovereign Debt at the Crossroads: Challenges and Proposals for Resolving the Third World Debt Crisis। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৬৮০১-৩।
- ↑ Paul Bairoch (১৯৯৫)। Economics and World History: Myths and Paradoxes। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস। পৃ. ১০৪। ১২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Fernand Braudel (১৯৮২)। Civilization and Capitalism, 15th–18th Century। খণ্ড ৩। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস। পৃ. ৫৩৪।
- ↑ John M. Hobson (২০০৪)। The Eastern Origins of Western Civilisation। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৭৫–৭৬।
- ↑ Frank, Andre Gunder; Denemark, Robert A. (২০১৫)। Reorienting the 19th Century: Global Economy in the Continuing Asian Age। রাউটলেজ। পৃ. ৮৩–৮৫।
- ↑ "One Polity, Many Countries: Economic Growth in India, 1873–2000" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ Chatterji (২০১০)। The Spoils of Partition। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮১১৩৯৪৬৮৩০৫।
- ↑ Philip A. Lawn; Matthew Clarke (২০০৮)। Sustainable Welfare in the Asia-Pacific: Studies Using the Genuine Progress Indicator। Edward Elgar। পৃ. ১৯৫। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৪৭২০৫০১৮।
Despite a considerable improvement in rate of growth of India's real GDP in the 1950s, the performance of the Indian economy did not meet the expectations of India's political leaders.
- ↑ Economics, Business, and the Environment — GDP: GDP per capita, current US dollars
- ↑ A.P. Thakur; Sunil Pandey (২০০৯)। 21st Century India: View and Vision। Global Vision Publishing House। পৃ. ৫২।
- ↑ ^ Lawrence H. Officer, "Exchange rate between the United States dollar and forty other countries, 1913–1999". Economic History Services, EH.Net, 2002. URL: "What was the exchange rate then? | EH.Net"। ১৫ জুন ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০০৬।
- ↑ "One-fifth of Indians were urban by 1975"। ৩ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০০৮।
- ↑ Sankar Ghose (১৯৯৩)। Jawaharlal Nehru: A Biography। Allied Publishers। পৃ. ৫৫০। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০২৩৩৬৯৫।
- ↑ Angus Maddison, The World Economy: A Millennial Perspective (2001) pp. 274–75, 298
- ↑ "Narasimha Rao – a Reforming PM"। news.bbc.co.uk। বিবিসি নিউজ। ২৩ ডিসেম্বর ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০০৭।
- ↑ V. Venkatesan (১–১৪ জানুয়ারি ২০০৫)। "Obituary: A scholar and a politician"। Frontline। ২২ (1)। ৩০ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০১০।
- ↑ PV Narasimha Rao Passes Away. Retrieved 7 October 2007. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে
- ↑ "One-fourth of Indians were urban by 2000"। ৩ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০০৮।
- ↑ Isobel Doole; Robin Lowe (২০০৮)। International Marketing Strategy: Analysis, Development and Implementation। Cengage Learning EMEA। পৃ. ২২৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৪৪৮০৭৬৩৫।
- ↑ "Govt declares Golden Quadrilateral complete"। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ৭ জানুয়ারি ২০১২।
- ↑ "National Highways Development Project Map"। National Highways Institute of India। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০১৩।
- ↑ "GDP at Factor Cost" (পিডিএফ)। report। Planning Commission (Govt. of India)। ৩১ মে ২০১৪। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৬।
গ্রন্থপঞ্জী
[সম্পাদনা]১৯৪৭-পূর্ববর্তী সময়
[সম্পাদনা]- ভেরা আনস্টে. দ্য ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (৪র্থ সংস্করণ, ১৯৫২), ৬৭৭ পৃষ্ঠা; গভীর গবেষণাভিত্তিক আলোচনা; মূলত ২০শ শতক এবং ১৯৩৯ পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে
- বাউয়েন, এইচ. ভি. বিজনেস অফ এম্পায়ার: দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অ্যান্ড ইম্পিরিয়াল ব্রিটেন, ১৭৫৬–১৮৩৩ (২০০৬), ৩০৪ পৃষ্ঠা
- বালাচন্দ্রন, জি., সম্পা. ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি, ১৮৫০–১৯৫০ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৫। আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৭২৩৪-৮
- ব্লিন, জর্জ. অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রেন্ডস ইন ইন্ডিয়া, ১৮৯১–১৯৪৭: আউটপুট, অ্যাভেইলেবিলিটি অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি (ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া প্রেস, ২০১৬)
- ব্রডবেরি, স্টিফেন; কুস্টোডিস, ইয়োহান; এবং বিশ্ণুপ্রিয়া গুপ্ত. “ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য গ্রেট ডাইভারজেন্স: মাথাপিছু জিডিপি নিয়ে অ্যাংলো–ভারত তুলনা, ১৬০০–১৮৭১।” Explorations in Economic History ৫৫#১ (২০১৫): ৫৮–৭৫। online
- চন্দাভারকর, রাজনারায়ণ. দ্য অরিজিনস অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিজম ইন ইন্ডিয়া: বিজনেস স্ট্র্যাটেজিজ অ্যান্ড দ্য ওয়ার্কিং ক্লাসেস ইন বোম্বে, ১৯০০–১৯৪০ (কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০২) online
- চট্টোপাধ্যায়, ডি. পি., ও চৌধুরী, বি. বি. (২০০৫)। ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া ফ্রম এইটিন্থ টু টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি। (নয়াদিল্লি: Centre for Studies in Civilizations)
- চৌধুরী, কে. এন. ট্রেড অ্যান্ড সিভিলাইজেশন ইন দ্য ইন্ডিয়ান ওশান: দ্য রাইজ অফ ইসলাম টু ১৭৫০ (১৯৮৫)
- ডার্বিশায়ার, আই. ডি. (১৯৮৭), "উত্তর ভারতে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও রেলওয়ে, ১৮৬০–১৯১৪", Population Studies, ২১ (3): ৫২১–৪৫, ডিওআই:10.1017/s0026749x00009197, জেস্টোর 312641, এস২সিআইডি 146480332
- ডেয়েল, জন এস. 2019. "ইন্ডিয়ান কিংডমস ১২০০–১৫০০ অ্যান্ড দ্য মেরিটাইম ট্রেড ইন মনিটারি কমোডিটিজ"। Currencies of the Indian Ocean World, ৪৯–৬৯। Springer
- ডোনাল্ডসন, ডেভ. “রেলরোডস অফ দ্য রাজ: পরিবহন অবকাঠামোর প্রভাবের মূল্যায়ন।” American Economic Review 108.4–5 (2018): ৮৯৯–৯৩৪। online
- দত্ত, রমেশ সি. দ্য ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া আন্ডার আর্লি ব্রিটিশ রুল, প্রথম প্রকাশ ১৯০২, ২০০১ সংস্করণ রাউটলেজ কর্তৃক, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-২৪৪৯৩-০
- ফার্নি, ডি. এ. (১৯৭৯), দ্য ইংলিশ কটন ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড মার্কেট, ১৮১৫–১৮৯৬, Oxford, UK: Oxford University Press. Pp. 414, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮২২৪৭৮-৫
- লাডেন, ডেভিড, সম্পা. নিউ কেমব্রিজ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া: অ্যান অ্যাগ্রেরিয়ান হিস্ট্রি অফ সাউথ এশিয়া (১৯৯৯)
- হাবিব, ইরফান (২০১১)। মধ্যযুগীয় ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস, ১২০০–১৫০০ (ইংরেজি ভাষায়)। Pearson Education India। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৩১৭-২৭৯১-১।
- হাবিব, ইরফান; কুমার, ধর্ম; রায়চৌধুরী, তপন, সম্পাদকগণ (১৯৮৭)। দ্য কেমব্রিজ ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া (পিডিএফ)। খণ্ড ১। Cambridge University Press। পৃ. ১৭১।
- হাবিব, ইরফান. অ্যাগ্রেরিয়ান সিস্টেম অফ মুঘল ইন্ডিয়া (১৯৬৩; সংশোধিত সংস্করণ ১৯৯৯)
- হাবিব, ইরফান. ইন্ডিয়ান ইকোনমি, ১৮৫৮–১৯১৪ (২০০৬)
- কুমার, ধর্ম, সম্পাদক (২০০৫)। দ্য কেমব্রিজ ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৫০-২৭৩১-৭।
- কুমার, প্রকাশ. ইন্ডিগো প্ল্যান্টেশন্স অ্যান্ড সায়েন্স ইন কলোনিয়াল ইন্ডিয়া (কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১২), ৩৩৪ পৃষ্ঠা
- লাল, দীপক. দ্য হিন্দু ইকুইলিব্রিয়াম: ইন্ডিয়া আনুমানিক ১৫০০ খ্রি.পূ.–২০০০ খ্রি. (২য় সংস্করণ, ২০০৫)
- লাল, কে. এস. (১৯৯৫)। গ্রোথ অফ স্কেজুল্ড ট্রাইবস অ্যান্ড কাস্টস ইন মিডিয়েভাল ইন্ডিয়া। নয়াদিল্লি: আদিত্য প্রকাশন
- লাল, কে. এস. (১৯৯৯)। থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া। নয়াদিল্লি: আদিত্য প্রকাশন
- লকউড, ডেভিড. দ্য ইন্ডিয়ান বুর্জোয়াজি: আ পলিটিক্যাল হিস্ট্রি অফ দ্য ইন্ডিয়ান ক্যাপিটালিস্ট ক্লাস ইন দ্য আর্লি টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি (I.B. Tauris, ২০১২)
- আর. সি. মজুমদার. (২০১০)। কর্পোরেট লাইফ ইন এনশিয়েন্ট ইন্ডিয়া। Charleston, SC: Bibliolife
- মহাজন, নূপম পি. (১৯৯৯)। ইন্ডিয়াস ফার্স্ট কয়েনেজ। Retrieved 24 February 2005
- মিকলথওয়েট, জন ও উলড্রিজ, অ্যাড্রিয়ান. (২০০৩)। দ্য কোম্পানি: আ শর্ট হিস্ট্রি অফ আ রেভল্যুশনারি আইডিয়া। আইএসবিএন ০-৬৭৯-৬৪২৪৯-৮
- পিয়ার্স, ডগলাস এম. (২০০৬), ইন্ডিয়া আন্ডার কলোনিয়াল রুল ১৭০০–১৮৮৫, হার্লো এবং লন্ডন: পিয়ারসন লংম্যানস। পৃষ্ঠা xvi, ১৬৩, আইএসবিএন ৯৭৮-০৫৮২৩১৭৩৮৩।
- যদুনাথ সরকার, ইকোনমিক্স অফ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, কলকাতা: সরকার
- রায়চৌধুরী, তপন ও হাবিব, ইরফান, সম্পা. দ্য কেমব্রিজ ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া: ভলিউম ১, আনু. ১২০০–১৭৫০ (১৯৮২)
- রায়চৌধুরী, তপন; হাবিব, ইরফান (২০০৪)। দ্য কেমব্রিজ ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, ভলিউম ১: আনুমানিক ১২০০ – ১৭৫০। নয়াদিল্লি: ওরিয়েন্ট লংম্যান। পৃ. ৫৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৫০-২৭০৯-৬।
- রায়, তীর্থঙ্কর. দ্য ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া ১৮৫৭–১৯৪৭ (২০০২, ২০০৬, ২০১১)
- রায়, তীর্থঙ্কর। ইন্ডিয়া ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফ্রম অ্যান্টিকুইটি টু দ্য প্রেজেন্ট (২০১২)।
- রায়, তীর্থঙ্কর (২০০২-এর গ্রীষ্মকাল), "ইকোনমিক হিস্ট্রি অ্যান্ড মডার্ন ইন্ডিয়া: রিডিফাইনিং দ্য লিঙ্ক", দ্য জার্নাল অফ ইকোনমিক পারসপেক্টিভস, ১৬ (৩): ১০৯–৩০, ডিওআই:10.1257/089533002760278749, জেস্টোর ৩২১৬৯৫৩
{{citation}}:|date=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - সিমন্স, কলিন (১৯৮৫), "'ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন', ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ইকোনমি, আনুমানিক ১৮৫০–১৯৪৭", মডার্ন এশিয়ান স্টাডিজ, ১৯ (৩): ৫৯৩–৬২২, ডিওআই:10.1017/s0026749x00007745, জেস্টোর ৩১২৪৫৩, এস২সিআইডি ১৪৪৫৮১১৬৮
{{citation}}:|s2cid=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - টমলিনসন, বি. আর.। দ্য ইকোনমি অফ মডার্ন ইন্ডিয়া, ১৮৬০–১৯৭০ (দ্য নিউ কেমব্রিজ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া) (১৯৯৬) সারসংক্ষেপ এবং টেক্সট সার্চ
- টমলিনসন, বি. এইচ.। "ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার, ১৮৮০–১৯৩৫", ইন্ডিয়ান ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল হিস্ট্রি রিভিউ, (অক্টোবর ১৯৭৫), ১২#৪ পৃষ্ঠা ৩৩৭–৮০।
- ওয়াশব্রুক, ডেভিড এ.। "ল, স্টেট অ্যান্ড এগ্রেরিয়ান সোসাইটি ইন কলোনিয়াল ইন্ডিয়া।" মডার্ন এশিয়ান স্টাডিজ ১৫.৩ (১৯৮১): ৬৪৯–৭২১।
- ম্যাক্স ওয়েবার। দ্য রিলিজিয়ন অফ ইন্ডিয়া: দ্য সোসিওলজি অফ হিন্দুইজম অ্যান্ড বুদ্ধিজম।
- ইয়াজদানি, কাভেহ। ইন্ডিয়া, মডার্নিটি অ্যান্ড দ্য গ্রেট ডাইভারজেন্স: মহীশূর অ্যান্ড গুজরাট (সেভেনটিন্থ টু নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি) (লেইডেন: ব্রিল), ২০১৭। xxxi + ৬৬৯ পৃষ্ঠা। অনলাইন রিভিউ
- রায়, কৌশিক (২০১২)। হিন্দুইজম অ্যান্ড দ্য এথিক্স অফ ওয়ারফেয়ার ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম অ্যান্টিকুইটি টু দ্য প্রেজেন্ট। কেমব্রিজ: কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৭-০১৭৩৬-৮।
গেজেটিয়ার ও পরিসংখ্যান
[সম্পাদনা]- দ্য ইম্পিরিয়াল গেজেটিয়ার অফ ইন্ডিয়া (২৬ খণ্ড, ১৯০৮–৩১), ১৯০১ সালের ভারতের অত্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ। online edition
- ইস্ট ইন্ডিয়া (স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাবস্ট্রাক্ট).: স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাবস্ট্রাক্ট রিলেটিং টু ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। এইচ.এম. স্টেশনারি অফিস। ১৯০৬।
১৯৪৭-এর পরবর্তী সময়
[সম্পাদনা]- বার্ধন, প্রণব. অ্যাওয়েকেনিং জায়ান্টস, ফিট অফ ক্লে: চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানের মূল্যায়ন (প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস; ২০১০), ১৭২ পৃষ্ঠা
- দত্ত, রুদ্রার ও সুন্দরম, কে. পি. এম. (১৯৬৫)। ইন্ডিয়ান ইকোনমি (৫১তম সংশোধিত সংস্করণ, ২০০৫)। এস. চাঁদ। আইএসবিএন ৮১-২১৯-০২৯৮-৩
- দাস, গুরুচরণ. ইন্ডিয়া আনবাউন্ড: স্বাধীনতা থেকে বৈশ্বিক তথ্যযুগ পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব (২০০২)
- দত্ত, রুদ্রার; সুন্দরম, কে.পি.এম. (২০০৯)। ইন্ডিয়ান ইকোনমি। New Delhi: S. Chand Group। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২১৯-০২৯৮-৪।
- কুমার, ধর্ম; দেসাই, মেঘনাদ, সম্পাদকগণ (১৯৮৩)। দ্য কেমব্রিজ ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া: আনু. ১৭৫১–আনু. ১৯৭০। খণ্ড ২।
- ফ্র্যাঙ্কেল, ফ্রান্সিন আর. ইন্ডিয়াস পলিটিক্যাল ইকোনমি, ১৯৪৭–১৯৭৭: দ্য গ্র্যাজুয়াল রেভলিউশন (১৯৭৮)
- লাল, দীপক. দ্য হিন্দু ইকুইলিব্রিয়াম: ইন্ডিয়া আনু. ১৫০০ খ্রি.পূ.–২০০০ খ্রি. (২য় সংস্করণ, ২০০৫)
- লারু, সি. স্টিভেন. দ্য ইন্ডিয়া হ্যান্ডবুক (১৯৯৭) (Regional Handbooks of Economic Development)
- ম্যাডিসন, অ্যাঙ্গাস (২০০৬)। দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি, ভলিউম ১–২। OECD Publishing। ডিওআই:10.1787/456125276116। আইএসবিএন ৯৭৮-৯২-৬৪-০২২৬১-৪। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১১।
- ম্যাডিসন, অ্যাঙ্গাস (২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্টাডিজ: দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি হিস্টোরিক্যাল স্ট্যাটিস্টিক্স। OECD Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮-৯২-৬৪-১০৪১৪-৩।
- মজুমদার, সুমিত কে. ইন্ডিয়াস লেট, লেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভলিউশন: ডেমোক্রাটাইজিং এন্টারপ্রেনারশিপ (কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস; ২০১২), ৪২৬ পৃষ্ঠা; ১৯৯০-পরবর্তী উদ্যোক্তা-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের উপর আলোকপাত
- মিরডাল, গুনার. এশিয়ান ড্রামা: দারিদ্র্যপীড়িত জাতিসমূহ নিয়ে অনুসন্ধান (৩ খণ্ড, ১৯৬৮), ২২৮৪ পৃষ্ঠা; এছাড়া পদ্ধতিবিদ্যা নিয়ে ৪র্থ খণ্ড (১৯৭০)
- রব, পিটার (১৭ জানুয়ারি ২০০৪)। এ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া। Palgrave Macmillan। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৩৩-৬৯১২৯-৮।
- রিচার্ডস, জন এফ. (১৯৯৬)। দ্য মুঘল এম্পায়ার (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge: Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫৬৬০৩-২।
- রিচার্ডস, জন এফ. (১৫ মে ২০০৩)। দ্য আনএন্ডিং ফ্রন্টিয়ার: আর্লি মডার্ন ওয়ার্ল্ডের পরিবেশগত ইতিহাস। University of California Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-৯৩৯৩৫-৬।
- রায়, তীর্থঙ্কর. ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া ১৮৫৭–১৯৪৭ (৩য় সংস্করণ, ২০১১)
- রুডলফ, লয়েড আই. ইন পারসুট অফ লক্ষ্মী: ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অর্থনীতি (১৯৮৭)
- শঙ্করন, এস. ইন্ডিয়ান ইকোনমি: প্রবলেমস, পলিসিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (Margham Publications, ৭ম সংস্করণ, ১৯৯৪)
- টমলিনসন, বি. আর. প্রমুখ. দ্য ইকোনমি অফ মডার্ন ইন্ডিয়া, ১৮৬০–১৯৭০ (১৯৯৬) (The New Cambridge History of India)
- রবিন্দর কৌর (২০১২)। "ইন্ডিয়া ইনক. অ্যান্ড ইটস মোরাল ডিসকনটেন্ট"। Economic and Political Weekly।
- ওলপার্ট, স্ট্যানলি, সম্পা. এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইন্ডিয়া (৪ খণ্ড, ২০০৫), গবেষক-প্রণীত বিস্তৃত সংকলন
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইনফোগ্রাফিক: ইতিহাসজুড়ে বিশ্ব জিডিপির অংশ | Infogram
- খান্না, বিক্রমাদিত্য এস. (২০০৫), প্রাচীন ভারতে কর্পোরেট রূপের অর্থনৈতিক ইতিহাস, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসআরএন 796464.
- পিয়ার্স, এইচ. থমাস (Spring 2003)। হিন্দু নীতি ও জাতি ব্যবস্থা নিয়ে ওয়েবারের গবেষণা।
- "জুলাই ২০০৫-এ অক্সফোর্ডে মনমোহন সিংহের ভাষণ"। দ্য হিন্দু। Chennai, India। ১০ জুলাই ২০০৫। ২৭ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০০৫।
- লিমকা বুক অফ রেকর্ডস (1993)। Bisleri Beverages Limited। আইএসবিএন ৮১-৯০০১১৫-৬-১.
- ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস[অধিগ্রহণকৃত!] প্রাক্-ঔপনিবেশিক যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত।
- আইএমএফ ডাটাবেস।