ভারতের গণমাধ্যম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভারতের গণমাধ্যম ২০০৩
ভারতশহর অঞ্চল
মুদ্রন25%46%
Terrestrial television53%80%
Cable and satellite television20%46%
Radio22%25%
Cinema7%11%
Internet1%3%

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্র ও পত্রিকা[সম্পাদনা]

বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র[সম্পাদনা]

বাংলা ম্যাগাজিন[সম্পাদনা]

টেলিভিশন[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট, আমার এই লেখার বর্তমান পাঠকদের অনেকের তখন জন্মই হয়নি। কলকাতায় টিভি চালু হোক সেই দাবি নিয়ে নানা মহল থেকে তখন চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান ‘ইন্সটিটিউট অব অডিও ভিজুয়াল কালচার’ এর সদস্যদের নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক সেমিনার চালিয়ে যাচ্ছি যাতে কলকাতায় দ্রুত টেলিভিশন চালু হয় সেই আর্জি এবং দাবি নিয়ে। ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকারের কাছেও নিয়মিত আবেদন নিবেদন এবং দাবিপত্র পাঠাচ্ছি। আসলে এর একটা প্রেক্ষাপট আছে। ভারতে টেলিভিশন চালু হয়েছিল অনেকদিন আগেই, কিন্তু তা বহুবছর ধরে কেবলমাত্র দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তখন একটা বিতর্ক চালু ছিল সারাভারত জুড়ে যে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে টেলিভিশনের মতো একটা মাধ্যমের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না! টেলিভিশনকে তখন একটা বিলাসবস্তু বলে মনে করা হতো। মূল বিতর্কটা ছিল এই নিয়ে যে ভারতের মতো দরিদ্র দেশে টেলিভিশন চালু করতে যে খরচ হবে সেই অর্থ বরং ব্যয় করা হোক শিক্ষা খাতে, স্বাস্থ্য খাতে, কিংবা পল্লি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনে। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিতর্ককে মান্য করে টেলিভিশন নামক আধুনিকতম মাধ্যমটিকে কেবলমাত্র দিল্লির সীমাতেই আটকে রাখলেন বহু বছর। [১]

পূর্ব ভারতে প্রথম টেলিভিশন কেন্দ্র কলকাতাতে স্থাপনের কাজ দ্রুত এগতে লাগল একটাসময়। জায়গার সন্ধানে টালিগঞ্জে রাধা ফিল্ম স্টুডিওকে সনাক্ত করা হল। ঐতিহাসিক এই ফিল্ম স্টুডিওতে অবিস্মরণীয় সব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে একদা।

রাজ্য সরকারের তৎকালীন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় রাধা ফিল্ম স্টুডিও পাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ তৎপর হয়েছিলেন। ফিল্ম স্টুডিওকে টেলিভিশন স্টুডিওতে রূপান্তরের কাজ দ্রুত এগতে লাগল। কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন বেরল। পূর্ব ভারতে প্রথম টিভি আসছে কাজেই সাংবাদিক, সাহিত্যিক, অধ্যাপক, সম্প্রচারক এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিপুল সারা পড়ে গেল। টেলিভিশন তখন আকাশবাণীরই একটা অংশ। এত হাজার হাজার দরখাস্ত পড়ল যে আকাশবাণী ভবনে এতজনের পরীক্ষা গ্রহণের স্থান সঙ্কুলান সম্ভব হল না। সেন্ট পলস চার্চের প্যারিস হল, যেটি বিয়েবাড়ির জন্য ভাড়া দেওয়া হতো, সেটিকে ভাড়া নিয়ে তখন বিয়েবাড়িতে যে টানা টেবিল ও ভাঁজ করা চেয়ার পাতা হতো অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য, তেমনই টেবিল চেয়ার সাজিয়ে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা হল সারাদিন ধরে। পুনের ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে অধ্যাপকরা এলেন পরীক্ষা নিতে। প্রথমার্ধে ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লিখতে দেওয়া হল আর দ্বিতীয়ার্ধে ভিজুয়ালাইজেশন টেস্ট হল। পরীক্ষায় যাঁরা সফল হলেন তাঁদের ইন্টারভিউতে আকাশবাণী ভবনে ডাকা হল। সেই ম্যারাথন ইন্টারভিউতে ছিলেন পুনের ফিল্ম ইন্সটিউটের বেশ কয়েকজন বিদগ্ধ অধ্যাপক। ইন্টারভিউ বোর্ডে এখান থেকে ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদার, তথ্যচ্চিত্র পরিচালক শান্তি চৌধুরী, আকাশবাণী কলকাতার স্টেশন ডিরেক্টর দিলীপকুমার সেনগুপ্ত। ইন্টারভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন ভারতীয় টেলিভিশনের প্রথম ডিরেক্টর জেনারেল পিভি কৃষ্ণমূর্তি। জীবনের নানা ক্ষেত্র থেকে প্রযোজকদের নির্বাচন করা হল। নাটক, গান, নাচ, সাহিত্য, বিজ্ঞান, কৃষি ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে থেকে। আমরা টেলিভিশন শিক্ষার্থী হিসেবে সরাসরি গিয়ে যোগ দিলাম পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে।

টেলিভিশন ফ্যাকাল্টি উদ্বধোন করলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। উদ্বোধনের দিন ঘটনাচক্রে ফিল্ম ইন্সটিটিউটে সেদিন উপস্থিতি ছিলেন ঋত্বিক ঘটক এবং মৃণাল সেনও। আমরা কোর্স শেষ করে এসে আকাশবাণী ভবনে কাজ শুরু করলাম। তখনও রাধা ফিল্ম স্টুডিও রূপান্তরের কাজ চলছে।

তখনও দূরদর্শন নাম হয়নি। বলা হত কলকাতা টেলিভিশন। বেশ কিছুদিন পড়ে একটি ভারতীয় নামের সন্ধানে ‘দূরদর্শন’ নামটি প্রস্তাবিত হয়। তখন ভারতের জাতীয় অধ্যাপক আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। আমাকে পাঠানো হয় তাঁর কাছে অনুমোদনের জন্য। ভাষাবিদ সুনীতিকুমার দূরদর্শন নামটি পছন্দ করেন। তখন থেকে ভারতে টেলিভিশন দূরদর্শন নামেই পরিচত হল।

১৯৭৫ সালে ৯ আগস্ট আমরা যখন প্রথম নিয়মিত সম্প্রচার শুরু করলাম। তখন আমাদের টেলিভিশনের প্রথম ঘোষিকা শর্মিষ্ঠা দাশগুপ্ত। স্টুডিও থেকে ঘোষণা করলেন, ‘নমস্কার আজ থেকে কলকাতা টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হল।’ যাত্রা শুরু হল কিন্তু তখনও প্রোডাকশন প্যানেলই তৈরি হয়নি। বাইরের খেলাধূলা, অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচারের মধ্যে ওবি ভ্যান ছিল সেটির মধ্যে বসে আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করে দিলাম। প্রথমদিন স্টুডিওতে ভিআইপিদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল, মন্ত্রী ধরমবীর সিংহ এবং সুব্রত মুখোপ্যাধ্যায়। কলকাতার অনেক আগেই ঢাকাতে টেলিভিশন চালু হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ডিরেক্টর জেনারেল জামিল চৌধুরীর নেতৃত্বে হামিদা আতিক, শাহনাজ রহমতুল্লাহ প্রমুখ শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন।

প্রথম দিকে ট্রান্সমিশন ছিল মাত্র দু’ঘণ্টার। তারই মধ্যে সংবাদ ছাড়াও থাকত গান, নাচ, নাটক, শিশু কিশোরদের অনুষ্ঠান, কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান, তরুণদের অনুষ্ঠান, সাহিত্য সংস্কৃতির অনুষ্ঠান ইত্যাদি। প্রথম থেকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ও খেলাধূলা বিষয়ক অনুষ্ঠানকে। সপ্তাহের ছ’দিন সিনেমা দেখানো হত। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আমাদের এখানকার ফিল্ম এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে সেসব জেলায় সিনেমা হলগুলিতে সন্ধেবেলায় সিনেমা বন্ধ হয়ে যায়। দর্শকদের মতামত ও চিঠিপত্র নিয়ে প্রথম দিন থেকে আমি একটা অনুষ্ঠান করতাম ‘দর্শকের দরবারে’ নামে। সেটি সে সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিল।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. "Start of Television"