ভারতের স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক বিভাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতে স্বায়ত্বশাসিত কাউন্সিল
উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বায়ত্বশাসিত কাউন্সিল

ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের অনুমতি দেয় যা তাদের নিজ রাজ্যে মধ্যে বিশেষভাবে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে।[১] এই স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদগুলোর বেশিরভাগই উত্তর পূর্ব ভারতে অবস্থিত তবে দুটি রয়েছে উত্তর ভারতের লাদাখ অঞ্চলে। বর্তমানে ভারত প্রজাতন্ত্রের আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মোট দশটি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল ষষ্ঠ তফসিলের ভিত্তিতে[২] এবং বাকি অঞ্চলগুলো অন্যান্য আইনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে।

ক্ষমতা এবং কার্যাবলী[সম্পাদনা]

নির্বাহী ও আইনি ক্ষমতা[সম্পাদনা]

ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের বিধানের অধীনে, স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদগুলি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে আইন ও বিধিবিধান তৈরি করতে পারে:[৩]

  • ভূমি ব্যবস্থাপনা
  • বন ব্যবস্থাপনা
  • পানি সম্পদ
  • কৃষি ও চাষাবাদ
  • গ্রাম কাউন্সিল গঠন
  • জনস্বাস্থ্য
  • স্যানিটেশন
  • গ্রাম এবং শহর পর্যায়ের পুলিশিং
  • ঐতিহ্যবাহী প্রধান এবং হেডমেন নিয়োগ
  • সম্পত্তির উত্তরাধিকার
  • বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদ
  • সামাজিক প্রথা
  • অর্থ, ঋণ এবং বাণিজ্য
  • খনিজ শিল্প

বিচারিক ক্ষমতা[সম্পাদনা]

স্বায়ত্তশাসিত জেলাগুলোতে কোন মামলার যদি উভয় পক্ষই যদি তফসিলি উপজাতি সদস্য হয় তাহলে জেলা পরিষদ মামলার শুনানি করার জন্য আদালত গঠন এবং সর্বোচ্চ সাজা অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।[৩]

কর ও রাজস্ব[সম্পাদনা]

স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদগুলো ভবন ও ভূমি, প্রাণি, যানবাহন, নৌকা, এলাকায় পণ্য প্রবেশ, রাস্তা, ফেরি, সেতু, কর্মসংস্থান, আয় এবং বিদ্যালয় ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাধারণ কর সগ অন্যান্য কর, ফি এবং টোল-লেভি আদায় করার ক্ষমতা রয়েছে। [৪]

স্বায়ত্বশাসিত প্রশাসনিক বিভাগের তালিকা[সম্পাদনা]

ভারতের সংবিধানের ৬ষ্ঠ তফসিলের অধীনে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদগুলোকে গাঢ় হরফ-এ দেখানো হয়েছে।

রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল স্বায়ত্বশাসিত কাউন্সিল সদরদপ্তর জেলা/মহকুমা
আসাম বড়োল্যান্ড কোকড়াঝাড় বাকসা, চিরাং, কোকরাঝার, উদলগৌরি
দেউরি নারায়ণপুর লাখিমপুর
উত্তর কাছার পাহাড় (ডিমা হাছাও) হাফলং ডিমা হাছাও
কারবি আংলং ডিফু কারবি আংলং, পশ্চিম কারবি আংলং
মিশিং ধেমাজি ধেমাজি
রাভা হাসং দুধনৈ গ্রামীণ কামরূপ, গোয়ালপাড়া
সনোওয়াল কাছারি ডিব্রুগড়
ঠেঙ্গাল কাছাড়ি তিতাবড়
তিওয়া মরিগাঁও
ত্রিপুরা ত্রিপুরা উপজাতীয় এলাকা খুমুলুঙ
পশ্চিমবঙ্গ গোর্খাল্যান্ড দার্জিলিং জেলার দার্জিলিং দার্জিলিং, কার্শিয়াং এবং মিরিক মহকুমা, কালিম্পং জেলা
লাদাখ কার্গিল কার্গিল কার্গিল জেলা
লেহ লেহ লেহ জেলা
মণিপুর চান্দেল চান্দেল
চূড়াচাঁদপুর চূড়াচাঁদপুর
সদর পাহাড় কাংপোকপি কাংপোকপি জেলার সাইকুল, সাইতু ও সদর পাহাড় পশ্চিম মহকুমা
সেনাপতি সেনাপতি, মণিপুর
তামেংলং জেলা তামেংলং
উখরুল জেলা উখরুল
মেঘালয় গারো পাহাড় তুরা পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড়, উত্তর গারো পাহাড়, দক্ষিণ গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম গারো পাহাড়
জৈন্তিয়া পাহাড় জোয়াই পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়, পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড়
খাসি পাহাড় শিলং পশ্চিম খাসি পাহাড়পূর্ব খাসি পাহাড় এবং রি ভোই
মিজোরাম চাকমা কমলানগর তুইচাওয়াং মহকুমা
লাই লংৎলাই লংৎলাই মহকুমা, সাংগাও মহকুমা
মারা সাইহা সাইহা মহকুমা, টিপা মহকুমা

ডি ফ্যাক্টো স্ব-শাসিত অঞ্চল[সম্পাদনা]

ডি ফ্যাক্টো বা দে ফ্যাক্টো স্ব-শাসিত অঞ্চল হচ্ছে সেসব অঞ্চল, যেগুলো নির্দিষ্ট কোন আইন অনুসারে স্বায়ত্তশাসিত না হলেও কার্যত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ[সম্পাদনা]

উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এই দ্বীপটি সমগ্র পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন সেন্টিনেলী জনগোষ্ঠীর আবাস্থল। তারা বাইরের পৃথিবীর সাথে একেবারেই যোগাযোগহীন এবং কোন বহিরাগত তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। আধুনিক সভ্যতা কার্যত যাদের ছুঁতে পারেনি। আধুনিক সভ্যতার সাথে একেবারেই সম্পর্কহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারাই সর্বশেষ।[৫][৬] ১৯৫৬ সালের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী উপজাতি সুরক্ষা আইনের বলে[৭] এই দ্বীপে ভ্রমণ এবং পাঁচ নটিক্যাল মাইলের (৯.২৬ কিমি) থেকে কাছাকাছি যে-কোন যোগাযোগের চেষ্টা নিষিদ্ধ, ভারতীয় নৌবাহিনীর সেনা, সমুদ্র পথে, এই জায়গায় টহল দেয়।[৮] ভারতীয় সুরক্ষার অধীনে দ্বীপটি কার্যত একটি "সার্বভৌম" অঞ্চল। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে ভারত সরকারের অধীনস্থ অঞ্চল হলেও, বাস্তবে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় সরকার জানিয়েছে যে সেন্টিনেলী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা বা আবাসে হস্তক্ষেপ করার কোনও উদ্দেশ্য তাদের নেই।[৯]

২০০৪ সালের ডিসেম্বরের সুনামির প্রভাবের ফলে দ্বীপটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেন্টিনেলী জনগোষ্ঠী সহজাত দক্ষতার বলে বেঁচে যায়। কিছুদিন পর ভারত সরকারের একটি হেলিকপ্টার এলাকাটি পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

যদিও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়নি, তবুও ভারত সরকারের 'ন্যূনতম হস্তক্ষেপের সরকারি নীতি' নিশ্চিত করেছে যে সেন্টিনেলী জনগোষ্ঠী ভারতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের কাঠামোর আওতায় তাদের উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপের উপর ডি ফ্যাক্টো (বা দে ফ্যাক্টো) অর্থাৎ কার্যত স্বায়ত্তশাসন এবং সার্বভৌমত্ব লাভ করবে। .[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. https://www.mea.gov.in/Images/pdf1/S6.pdf ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে.
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  3. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  4. "mea.gov.in PDF" (PDF)। ২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  5. "Sentinelese tribe has closer resemblance to Jarawas, slightly taller than other Andaman tribes, says expert"। ২৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২১ 
  6. "A Human Zoo on the World's Most Dangerous Island? The Shocking Future of North Sentinel"। ২২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২১ 
  7. "Ten Indian families world knows nothing about"Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১১-২৫। ২০২১-০১-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-২২ 
  8. "Indian authorities struggle to retrieve US missionary feared killed on remote island"CNN (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১১-২৫। ২০১৮-১১-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১১-২৫ 
  9. The Sentineli ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ মার্চ ২০০৯ তারিখে.
  10. "Administration in India's Andaman and Nicobar Islands has finally decided upon a policy of minimal interference"। ২০১২-০৯-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৮-২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]