ভারতে ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই নিবন্ধটিতে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে ইসলাম প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি জানতে দেখুন দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলাম
সমসাময়িক ভারতীয় মুসলমান
মোট জনসংখ্যা
আনুমানিক 18,90,00000(2017) [১]
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ
জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডপশ্চিমবঙ্গ
ভাষা
উর্দু, হিন্দি, ভারতীয় ইংরেজি, বাংলা, কাশ্মীরি, মালয়ালম

ভারতে ইসলাম


New Delhi Jama Masjid.jpg


ইতিহাস

স্থাপত্য

মুঘল · ইন্দো-ইসলামীয় · ইন্দো-আরব

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তবর্গ

মঈনুদ্দীন চিশতী · আকবর
 · আহমদ রাজা খান
 · মৌলানা আজাদ
স্যার সৈয়দ আহমদ খান · বাহাদুর ইয়ার জং

সম্প্রদায়

উত্তরাঞ্চলীয় · মাপ্পালিয় · তামিল
কোঙ্কানি · মরাঠি · ভরা পাতেল
মেমন · উত্তর পূর্ব অঞ্চলীয় · কাশ্মিরিয়
হায়দ্রাবাদী · দাউদী বোহারা · খোজা
ওড়িয় · নবায়থ · বিয়ারি · পীর
মিও · সুন্নি বোহরা
কামাখ্যিয় · বাঙালি

আইন

হানাফি · শাফিঈ · মালিকি · হানবালি

চিন্তা

বারেলভি · দেওবন্দী · আহলে হাদিস

ভারতের মসজিদ

ভারতের ঐতিহাসিক মসজিদ

সংস্কৃতি

হায়দ্রাবাদের মুসলিম সংস্কৃতি

অন্যান্য বিষয়

দক্ষিণ এশিয়ার আহলে সুন্নাহ্ আন্দোলন
কেরালার ইসলামী আন্দোলন
ভারতীয় মুসলমানদের জাতীয়তাবাদ
ভারতীয় ইতিহাসের ইসলামের কালপঞ্জি

ইসলাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় বহুল-প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস। জনসংখ্যার বিচারে ভারতে মুসলমানদের স্থান হিন্দুদের ঠিক পরেই। ভারতের জনসংখ্যার মোট ১৩.৪ শতাংশ মুসলমান। দেশের মুসলমান জনসংখ্যা ২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে ১৩৮,০০০,০০০ এবং ২০০৯ সালের প্রাককলন অনুসারে ১৬০,৯৪৫,০০০।[২][৩]

ভারতে মুসলমান জনসংখ্যা সমগ্র বিশ্বের নিরিখে তৃতীয় বৃহত্তম।[৪] ভারত বিশ্বের বৃহত্তম সংখ্যালঘু-মুসলমান অধ্যুষিত রাষ্ট্রও বটে।[৫]

ভারতে ইসলামের ইতিহাস[সম্পাদনা]

জামা মসজিদ, দিল্লি; এশিয়ার বৃহত্তম মসজিদগুলির অন্যতম[৬]

ইসলামের ভারত বিজয়ের পূর্বেই দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছিল। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগে আরব বণিক সম্প্রদায়ের ভারতে আগমনের সূত্র ধরে ভারতবাসী ইসলাম সম্পর্কে অবহিত হন। আরব ও উপমহাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অবশ্য আরবে ইসলামের প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই বজায় ছিল। সেযুগে মালাবার অঞ্চলের বন্দরগুলিতে আরব বণিকদের প্রায়শই যাতায়াত ছিল। কারণ এই বন্দরগুলি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্দরগুলির প্রধান যোগসূত্র। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ প্রথম মুসলমান পর্যটকরা নৌপথে ভারতীয় উপকূলভাগে অবতরণ করেন। সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে আরব মুসলমানরা প্রথম ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। ইসলামের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আরব জাতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক শক্তিতে পরিণত হয়। এরপর আরব বণিক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিশ্বের সর্বত্র তাঁদের নতুন ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।[৭]

৬২৯ সালে মুহাম্মদের (৫৭১–৬৩২ খ্রি.) জীবদ্দশাতেই ভারতে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয়। চেরামন পেরুমল নামে জনৈক ধর্মান্তরিত মুসলমানের নির্দেশে কেরলের ত্রিসূর জেলায় মালিক বিন দিনার এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। উল্লেখ্য, পেরুমলকেই প্রথম ভারতীয় মুসলমান মনে করা হয়।[৮][৯][১০]

মালাবারের মাপ্পিলা সম্প্রদায়ই সম্ভবত প্রথম ভারতীয় ধর্মান্তরিত মুসলমান সম্প্রদায়; কারণ এই সম্প্রদায়ই আরব বণিকদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করত। এই সময় সমগ্র উপকূল জুড়ে ব্যাপক প্রচারকার্য চালানো হয় এবং বেশ কিছু স্থানীয় অধিবাসী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এই সকল নব্য ধর্মান্তরিতেরা মাপ্পিলা সম্প্রদায়ভুক্ত হয়েছিলেন। আরব বণিকদের সঙ্গে এই সম্প্রদায়ের বৈবাহিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়েছিল।[১১]

অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমের নেতৃত্বে আরব বাহিনী সিন্ধু (অধুনা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সিন্ধুপ্রদেশ) জয় করে। সিন্ধু উমায়াদ খিলাফতের পূর্বতম প্রদেশে পরিণত হয়।

দশম শতাব্দীর প্রথম ভাগে গজনির মামুদ পাঞ্জাব গজনাভিদ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বর্তমান ভারত ভূখণ্ডের অন্যান্য স্থানেও অভিযান চালিয়েছিলেন। তবে দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে আরও সফলভাবে ভারতে অভিযান চালান মুহাম্মদ ঘোরি। তাঁর অভিযানের ফলস্রুতিতে শেষ পর্যন্ত দিল্লি সুলতানির পত্তন হয়।

আরব-ভারতীয় সম্পর্ক[সম্পাদনা]

আরবে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই আরবদের সঙ্গে ভারতীয়দের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে ইসলামের আবির্ভাবের পরেও এই সম্পর্ক বজায় থাকে। অষ্টম শতাব্দী থেকে সংস্কৃত গ্রন্থাদি আরবি ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করে।[১২]

সুফি ইসলামের প্রসার[সম্পাদনা]

দিল্লির একটি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা, ১৯৫২ খ্রি.

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

ভারতের মিলনআত্মক সংস্কৃতিতে সুফিবাদ বিকশিত হয়েছে। কাওয়ালি, গযল ইত্যাদি সুর এসেছে।

স্থাপত্য[সম্পাদনা]

নতুন স্থাপত্য পদ্ধতি প্রয়োগ হয়। তাজ মহল,কুতুব মিনার,আদিনা মসজিদ জলন্ত উদাহরণ।

খাদ্য[সম্পাদনা]

নতুন খাদ্য আসে যেমন বিরিয়ানি, মগলাই ইত্যাদি।

রাজ্যভিত্তিক তথ্য[সম্পাদনা]

State Population Percentage
জম্মু ও কাশ্মীর 6,793,240 66.9700
আসাম 1o.659.891 34.2252
পশ্চিমবঙ্গ 20,240,543 25.2451
কেরালা 7,863,842 24.6969
উত্তর প্রদেশ 38,519,225 19.3300
বিহার 13,722,048 16.5329
ঝারখণ্ড 3,731,308 13.8474
কর্ণাটক 6,463,127 12.2291
উত্তরাঞ্চল 1,012,141 11.9225
দিল্লি 1,623,520 11.7217
মহারাষ্ট্র 10,270,485 10.6014
অন্ধ্র প্রদেশ 6,986,856 9.1679
গুজরাট 4,592,854 9.0641
মণিপুর 190,939 8.8121
রাজস্থান 4,788,227 8.4737
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুণ্জ 29,265 8.2170
ত্রিপুরা 254,442 7.9533
দমন ও দিউ 12,281 7.7628
গোয়া 92,210 6.8422
মধ্য প্রদেশ 3,841,449 6.3655
পণ্ডিচেরী 59,358 6.0921
হরিয়ানা 1,222,916 5.7836
তামিলনাড়ু 3,470,647 5.5614
মেঘালয় 99,169 4.2767
চন্ডীগড় 35,548 3.9470
দাদরা ও নগর হাভেলী 6,524 2.9589
উড়িষ্য্া 761,985 2.0703
ছত্রিশ গড় 409,615 1.9661
হিমাচল প্রদেশ 119,512 1.9663
অরুণাচল প্রদেশ 20,675 1.8830
নাগাল্যান্ড 35,005 1.7590
পাঞ্জাব 80,045 1.5684
সিকিম 7,693 1.4224
মিযোরাম 10,099 1.1365

সমসাময়িক পরিস্থিতি[সম্পাদনা]

সমসাময়িক অবস্থা শান্তিপূর্ণ। হিন্দু মুসলিম বিবাহও বিরল নয়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

ইসলাম

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Miller, Tracy, সম্পাদক (২০০৯), Mapping the Global Muslim Population: A Report on the Size and Distribution of the World’s Muslim Population (PDF), Pew Research Center, সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-০৮  অজানা প্যারামিটার |month= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  2. CIA's The World Factbook - India
  3. Census of Indian: Religious Composition
  4. Indian and foreign review By India. Ministry of Information and Broadcasting. Publications Division
  5. Muslims of India
  6. Jami Masjid
  7. -Genesis and Growth of the Mappila Community
  8. -Cheraman Juma Masjid A Secular Heritage
  9. Bahrain tribune World’s second oldest mosque is in India
  10. -A mosque from a Hindu king
  11. - Genesis and Growth of the Mappila Community
  12. Saliba, George (২০০৭)। Islamic Science and the Making of the European RenaissanceThe MIT Pressআইএসবিএন 978-0-262-19557-7 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

Articles

(