তিব্বতী মুসলিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লাসা পুরাতন মসজিদের প্রবেশদ্বার – ১৯৯৩।
লাসা জামে মসজিদ

তিব্বতীয় মুসলিম, কাছী নামেও পরিচিত (তিব্বতি: ཁ་ཆེ་ওয়াইলি: kha-che; কাছে ও বলা হয়), তিব্বতের একটি সংখ্যা লঘু জাতি। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, চীন সরকারের দ্বারা তারা তিব্বতীয় হিসেবে , যা হুই মুসলিমদের অসদৃশ, তারা আলাদাভাবে স্বীকৃত। আক্ষরিক অর্থে তিব্বতীয় শব্দ কাছী দ্বারা বুঝায় কাশ্মীরী, এবং কাশ্মীর কাছী ইউল নামে পরিচিত ছিল (ইউল মানে দেশ বুঝায়)।

বংশবৃত্তান্ত[সম্পাদনা]

সাধারণ অর্থে, তিব্বতীয় মুসলিমরা এই বিষয়ে স্বতন্ত্র যে তারা পিতৃপরিচয়ের দিক দিয়ে বৃহৎভাবে কাশ্মীরী বংশোদ্ভূত এবং মাতৃপরিচয়ের দিক দিয়ে তারা দেশীয় তিব্বতি সম্প্রদায়ের, যদিও এর বিপরীতটাও অপরিচিত নয়। এইভাবে, তাদেরকে ইন্দো-ইরানীয় এবং আদি দেশীয় তিব্বতি মুখাবয়ব প্রকৃতির মিশ্রনে দেখা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সময়ের বিবর্তনে তিব্বতে প্রথম মুসলিম আগমনের কথা হারিয়ে গেছে, যদিও আরবি ইতিহাস গ্রন্থসমূহে তিব্বতের নামের ধরণ খোঁজে পাওয়া যাবে।

উমাইয়া খলীফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ-এর শাসনামলে, তিব্বত এবং চীনথেকে একটি প্রতিনিধিদল তাকে এই দেশে ইসলাম ধর্মপ্রচারক পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানায়, এর ফলে সালেহ বিন আবদুল্লাহ হানাফিকে প্রেরণ করা হয়। অষ্টম এবং নবম শতাব্দীর মধ্যকার সময়ে, বাগদাদের আব্বাসীয় শাসকরা তিব্বতের সাথে সম্পর্ক রেখে গেছেন। যাইহোক, প্রথম দিকে ধর্মপ্রচারকদের মধ্যে ধর্মান্তরীকরণের প্রবণতা খুবই কম ছিল, যদিও তাদের অনেকে তিব্বতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন এবং তিব্বতীয় মহিলাদের বিয়ে করেন।

৭১০-৭২০ সালে, মে আগ্তজমের শাসনামলে, আরবরা, যাদের বেশির ভাগ এখন চীনে দেখা যায়, তিব্বতে আসতে থাকে এবং চীনাদের বিরুদ্ধে তাদের সাথে পূর্বাঞ্চলীয় তুর্কদের সহায়তা পায়।

খ্রি-ল্দে-স্রোং-ব্ত্সান (৭৯৯-৮১৫) এর শাসনামলে, পশ্চিমাঞ্চলে আরব শক্তির সাথে দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটা জানা যায় যে তিব্বতীয়রা কিছু সংখ্যক আরব সৈন্যকে গ্রেফতার করে এবং ৮০১ সালে তাদের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করে। পশ্চিমে যতদূর সম্ভব সমরকন্দ এবং কাবুল পর্যন্ত তিব্বতীয়রা সক্রিয় ছিল। আরব বাহিনী প্রাধান্য পেতে শুরু করে, এবং কাবুলের তিব্বতীয় শাসক আরবদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে এবং আনুমানিক ৮১২ বা ৮১৫ সালে মুসলিম হয়।[১]

ধর্মান্তর[সম্পাদনা]

সালার জাতিগোষ্ঠীর দ্বারা ইসলাম ধর্ম ছড়িয়ে পড়েছিল লামো-শান-কেন এর পূর্ববর্তী বৌদ্ধ কারগান তিব্বতীয়দের মধ্যে।[২][৩] কিংহাইয়ের কিছু তিব্বতীয় যারা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তাদেরকে বর্তমানে হুই জাতিগোষ্ঠী হিসেবে মনে করা হয়।[৪][৫]

বাল্তি জাতিগোষ্ঠী[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের বাল্তিস্থান অঞ্চলের এবং কার্গিলের বাল্তি জাতিগোষ্ঠীরা হচ্ছে তিব্বতীয় বৌদ্ধদের বংশধর যাদের বেশীরভাগ শিয়া ইসলাম, কিছু সুন্নি সংখ্যালঘুতে ধর্মান্তরিত হয়। তাদের বাল্তি ভাষা খুবই প্রাচীন এবং রক্ষণশীল এবং তিব্বতি ভাষার অন্যান্য ভাষার তুলনায় অধিক কাছের প্রাচীন তিব্বতীয় ভাষা।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Beckwith, Christopher I. The Tibetan Empire in Central Asia. A History of the Struggle for Great Power among Tibetans, Turks, Arabs, and Chinese during the Early Middle Ages, 1987, Princeton: Princeton University Press. আইএসবিএন ০-৬৯১-০২৪৬৯-৩, p. 14, 48, 50.
  2. The Geographical Journal। Royal Geographical Society.। ১৮৯৪। পৃষ্ঠা 362–। 
  3. The Geographical Journal। Royal Geographical Society.। ১৮৯৪। পৃষ্ঠা 362–। 
  4. 樊, 前锋 (২০০৮-০৬-১৮)। "青海,那些说藏语的回族乡亲"中国民俗网 
  5. "青海,那些讲藏话的回回"宁夏新闻网। ২০০৮-০৬-১৯। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • অক্ষয়, অ্যানা; বার্নেট, চার্লস; ইউওলি-ত্লালিম, রনিট। (২০১৬)। ইসলাম এবং তিব্বত: আবৃত পথ বরাবর মিথষ্ক্রিয়া। রাউটলেজ, ২০১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৮-২৪৭০৪-৮
  • সিদ্দিকি, আতাউল্লা। (১৯৯১)। "তিব্বতের মুসলিম।" দ্য তিব্বত জার্নাল। খণ্ড- ১৬, নং ৪। উইন্টার, ১৯৯১, পৃ;৭১–৮৫
  • শেখ, আব্দুল গনি। (১৯৯১)। "তিব্বতীয় মুসলিম।" দ্য তিব্বত জার্নাল। খণ্ড- ১৬, নং ৪। উইন্টার, ১৯৯১, পৃ;৮৬–৮৯।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]