ইরানে ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইরানে ইসলামের বিভিন্ন মতাবলম্বীদের অনুপাত (২০১০ পর্যন্ত)[১]
মতাবলম্বী শতকারা
শিয়া ইসলাম
  
৯৫%
সুন্নী ইসলাম
  
৫%

মুসলিমদের পারস্য বিজয় (৬৪৭-৬৫১) সালে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটায় এবং এই বিজয়ের ফলে ইরানে জরস্ট্রিয়ান ধর্মের প্রভাব কমে আসে। তবে, পূর্ববর্তী ফার্সি সভ্যতার অর্জন হারিয়ে যায়নি, কিন্তু নতুন ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দ্বারা এটি ব্যাপকভাবে শোষিত হয়েছে। মঙ্গোল অভিযান এবং ইলখানাত প্রতিষ্ঠার (১৩ শতাব্দীতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়) পর অল্প সময় ছাড়া তখন থেকেই ইসলাম ইরানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইসলামী বিজয়ের আগে, পারস্যরা প্রধানত জরস্ট্রিয়ান ধর্মের অনুসারী ছিলেন; তবে সেখানে বেশ বিশাল ও সমৃদ্ধশালী খৃস্টান এবং ইহুদি সম্প্রদায়ও ছিল, বিশেষ করে সেই সময়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণ ইরান, বিশেষত ককেশীয় আলবেনিয়া, অশরিতান, ফার্সি আর্মেনিয়া এবং ককেশীয় ইবেরিয়া অঞ্চলের অঞ্চলগুলির মধ্যে। ইসলামের দিকে মানুষের একটি ধীর কিন্তু স্থিতিশীল ঝোঁক জন্মাচ্ছিল। ইরানে ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিজাত ও শহরের অধিবাসীরা সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে শুরু করে, তবে গ্রামের কৃষক মধ্যবিত্তরা ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে শুরু করে। একাদশ শতাব্দির শেষের দিকে, পারস্যদের অধিকাংশ লোকই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।

ইরানের উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বসবাসরতদের অধিকাংশ সুন্নিই কুর্দি, লরেস্তানীয় জনগণ (লারস্তান থেকে), তুর্কমেন এবং বালুচ। ইরানের অধিকাংশ শিয়ারা ইসলামের বারো ইমামের অনুসারী।

যদিও ইরান বর্তমানে শিয়া ইসলামের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত, তবে পঞ্চাদশ শতাব্দির দিকে এবং আরো অনেক সময় পরও এখানে এই মতবাদ ততটা শক্ত ভিত পায়নি। ষষ্ঠদশ শতাব্দির শুরু দিকে সাফাভি রাজবংশ শিয়া ইসলামকে ইরানের রাষ্ট্রীয় ধর্মে পরিণত করে এবং এই মতবাদের পক্ষে হয়ে মানুষকে জোরপূর্বক এই ধর্মে ধর্মান্তরীত হতে বাধ্য করে। এটিও বিশ্বাস করা হয় যে সতের শতকের মাঝামাঝি ইরানের অধিকাংশ মানুষ এবং সমসাময়িক প্রতিবেশী আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রও শিয়া হয়ে উঠেছিল, যা অব্যাহতভাবে অব্যাহত রয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মুসলিমদের পারস্য বিজয়[সম্পাদনা]

তৃতীয় ইয়াজদিগার্দ ৬৫১ সালে এক জেলা থেকে আরেক মার্ভে পালিয়ে যান। ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দে, মুসলমানরা বৃহত্তর খোরাসান জয় করেন (যা আধুনিক ইরানের খোরাসান প্রদেশ এবং বর্তমান আফগানিস্তান, মাওয়ারাননহর অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল)।

ইসলামের বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫-১০ শতাংশ মানুষ সুন্নী মুসলমান। লারী জনগোষ্ঠীর (পারস্য অধিবাসী) অধিকাংশ, কুর্দিদের একটি অংশ, প্রায় সকল বেলুচী এবং তুর্কিমেনরা এবং আরব ও আজেরীয়দের কিছু সংখ্যক অধিবাসী সুন্নী মতাবলম্বী।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Middle East :: IRAN"। CIA The World Factbook। ২০১২-০২-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।