মালদ্বীপে ইসলাম
| দেশ অনুযায়ী ইসলাম |
|---|
|
|
সুন্নি ইসলাম মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং ২০০৮ সালের সংবিধানের ৯ ধারার ডি অনুচ্ছেদের একটি সংশোধনীতে বলা হয় কোন অমুসলিম মালদ্বীপের নাগরিকত্ব পাবে না।। ১২তম শতাব্দীতে এই দ্বীপটি বৌদ্ধ ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী কার্যকরভাবে সবাই মুসলমান। মরক্কোর পরিব্রাজক ইবনে বতুতার মতে, মালদ্বীপে ইসলাম্ এসেছে এজিনসিুন্নি মুসলিম পরিব্রাজকের দ্বারা যার নাম আবু আল বারাকাত যিনি মরক্কো থেকে এসেছিলেন।
মালদ্বীপে ইসলামের প্রভাব সম্ভবত ১০ম শতাব্দী পর্যন্ত পুরনো, কারণ ৯ম ও ১০ম শতাব্দীর আরব লেখকদের বিবরণে এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিছু মালদ্বীপবাসী ১১৫৩ সালের রাজা ধর্মান্তরিত হওয়ার আগেই মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন।
১২শ শতাব্দীতে ভারত মহাসাগরে আরবদের বাণিজ্যিক গুরুত্ব আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করে কেন মালদ্বীপের শেষ বৌদ্ধ রাজা ধোভেমি ১১৫৩ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন (কিছু তাম্রলিপি অনুসারে এটি ১১৯৩ সালও হতে পারে)। এরপর তিনি আরবিতে মুসলিম উপাধি ও নাম গ্রহণ করেন — সুলতান মুহাম্মদ আল-আদিল, যদিও প্রাচীন ধিভেহি উপাধি মাহা রাদুন, রাস কিলেজে, বা রাসগেফানু-ও ব্যবহার করতেন।
এই ধর্মান্তরের ফলে ছয়টি ইসলামি রাজবংশের সূচনা হয়, যাতে মোট ৮৪ জন সুলতান ও সুলতানা শাসন করেন এবং এই শাসন ১৯৩২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যখন সুলতানত নির্বাচিত পদে পরিণত হয়। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত মালদ্বীপের সুলতানের আনুষ্ঠানিক উপাধি ছিল:
"স্থল ও সমুদ্রের সুলতান, বারো হাজার দ্বীপের প্রভু এবং মালদ্বীপের সুলতান।"
ধর্মান্তরের জন্য যাকে ঐতিহাসিকভাবে দায়ী করা হয়, তিনি ছিলেন একজন সুন্নি মুসলমান ভ্রমণকারী — আবু আল-বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারি। তাঁর সমাধি বর্তমানে রাজধানী মালেতে মেধু জিয়ারাই প্রাঙ্গণে অবস্থিত, যা হুকুরু মসজিদের বিপরীতে। এই মসজিদটি ১৬৫৬ সালে নির্মিত হয় এবং এটি মালদ্বীপের প্রাচীনতম মসজিদ।
গবেষকদের মতে, মালদ্বীপে ইসলামের প্রচার ছিল ধাপে ধাপে সম্পন্ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা রাজা ধোভেমির আনুষ্ঠানিক ধর্মান্তরের আগে শুরু হয়েছিল এবং অনেক পরে গিয়েও চলমান ছিল।
ইসলাম ধর্মের গুরুত্ব
[সম্পাদনা]মালদ্বীপের আইনে ইসলামের সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। ইসলামের প্রথাগত শরীয়াহ আইন অনুযায়ী মালদ্বীপের মৌলিক আইন প্রণীত হয় যা রাষ্ট্রপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এবং মজলিস কর্তৃক স্থানীয়দের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়। ইসলাম অধ্যুষিত এই দ্বীপে, মিস্কি বা মসজিদ হচ্ছে ইসলাম চর্চার প্রধানতম স্থান।