আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(আ-ধ্ব-ব থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা
ধরন
অশব্দীয়, আংশিকভাবে ধ্বনিক
ভাষাসমূহ যে কোন ভাষার ধ্বনিভিত্তিক এবং স্বনিমভিত্তিক প্রতিবর্ণীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়
সময় কাল
১৯৮৮ থেকে
উদ্ভবের পদ্ধতি
রোমিক বর্ণমালা
পরিচালনা বামদিক থেকে ডানদিকে
আইএসও ১৫৯২৪ Latn, ২১৫
ইউনিকোড উপনাম
লাতিন


আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (সংক্ষেপে আ-ধ্ব-ব) বা আন্তর্জাতিক ধ্বনিলিপি হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক ধ্বনিভিক্তিক প্রতিবর্ণীকরণ পদ্ধতি যা আন্তর্জাতিক ধ্বনিবিজ্ঞান সংগঠন বিশ্বের সব কথিত ভাষার সব ধ্বনিকে প্রমিতভাবে তুলে ধরার জন্য উনবিংশ শতকের শেষ দিকে সৃষ্টি করেছিল।[১] এই বর্ণমালা ইংরেজিতে International Phonetic Alphabet, সংক্ষেপে IPA (আইপিএ) এবং ফরাসিতে Alphabet Phonétique International, সংক্ষেপে API (আপেই) নামেও সুপরিচিত। অভিধানবিদ, বিদেশী ভাষার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, ভাষাবিজ্ঞানী, বাগ্‌চিকিত্স‌ক, গায়ক, অভিনেতা, কৃত্রিম ভাষা নির্মাতা ও অনুবাদকেরা এই বর্ণমালাটি ব্যবহার করে থাকেন।[২][৩]

এই বর্ণমালাতে প্রধানতঃ রোমান বর্ণমালার (এবং এর পরিবর্তিত রূপের) ব্যবহার হয়ে থাকে। এর সঙ্গে ব্যবহার হয় গ্রীক বর্ণমালার এবং কিছু বিশেষক ধ্বনিচিহ্নের। আ-ধ্ব-বতে প্রতিলিপিকরণ দুরকম ভাবে করা হয়ে থাকে, স্বনিমভিত্তিক বা প্রশস্ত প্রতিবর্ণীকরণ, যা চিহ্নিত করা হয় [ ] বন্ধনী দিয়ে, এবং ধ্বনিভিত্তিক বা সুক্ষ্ম প্রতিবর্ণীকরণ যা চিহ্নিত করা হয় / / বন্ধনী দিয়। যেমন বাংলার "ঊলটো" এবং "আলতা" শব্দগুলোতে "ল" বর্ণের উচ্চারণ স্বনিমভিত্তিক ভাবে চিহ্নিত করা হয় [l] দিয়ে, কিন্তু "ট" এবং "ত" এর প্রভাবে শব্দ দুটিতে "ল"-এর যে সুক্ষ্ম উচ্চারণ পরিবর্তন হয়েছে তা চিহ্নিত করার হয় প্রথম শব্দের ক্ষেত্রে /ɭ/দিয়ে এবং দ্বিতীয় শব্দের ক্ষেত্রে /l̪/ দিয়ে।[৪]

ব্রাহ্মীজাত লিপিসমূহে যেমন বর্ণগুলি উচ্চারণ অনুসারে সাজান হয়, এই বর্ণমালাতেও বর্ণগুলির উচ্চারণ অনুসারে ছক তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ধ্বনিবিজ্ঞান সংগঠন সময়ে সময়ে এই বর্ণমালায় পরিবর্তন করে থাকে। সাম্প্রতিকতম পরিবর্তন অনুযায়ী বর্ণমালাটিতে মোট ১০৭টি বর্ণ, ৫২টি বিশেষক ধ্বনিচিহ্ন এবং ৪টি ছান্দিক চিহ্ন আছে।[৫] প্রত্যেকটি বর্ণ তার নিজস্ব উচ্চারণস্থানউচ্চারণরীতি দ্বারা চিহ্নিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৮৬ সালে ফরাসি ভাষাতত্ত্ববিদ পল এদুওয়ার্দ পাসির নেতৃত্বে একদল ফরাসি এবং ইংরেজ ভাষা শিক্ষক প্যারিসে এক সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম ছিল "Dhi Fonètik Tîcerz' Asóciécon" (দি ফোনেটিক টিচার্জ অ্যাসোসিয়েশন)। এই সংগঠনেরই ১৮৯৭ এর পরে নামাঙ্করন হয় International Phonetic Association। তাদের প্রাথমিক বর্ণমালাটি হেনরি সুইটের রোমিক বর্ণমালাকে ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। [৬] শুরুতে এই বর্ণমালাটির বর্ণগুলি বিভিন্ন ভাষার ধ্বনিমূলক লিপ্যন্তর করার সময় বিভিন্ন মান গ্রহন করত।[৭] এই ধ্বনিমূলক বর্ণমালাকে সব ভাষার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য আন্তর্জাতিক রূপ দেবার প্রথম প্রস্তাব করেন ভাষাবিজ্ঞানী অটো ইয়েসপার্সেন, পল পাসিকে লিখিত একটি চিঠিতে।[৮] এরপর পাসি, আলেক্সান্ডার জন এলিস, হেনরি সুইট, এবং ড্যানিয়েল জোন্স আ-ধ্ব-ব নির্মান করেন। ১৯৮৮ সালে এই বর্ণমালাটিকে সংশোধিত করা হয় যাতে একই বর্ণ বিভিন্ন ভাষাতেও তার উচ্চারণ বজায় রাখে এবং একটি বর্ণের একটিই উচ্চারণ বিধি থাকে।[৯] এরপর আ-ধ্ব-ব অনেকবার পরিবর্তিত করা হয়েছে, আ-ধ্ব-ব ছকেও এবং বর্ণমালা বাছাই করাতেও।

১৯৮৭-৮৮ সালের সংশোধিত সংস্করণে বর্ণগুলি একটি তালিকা হিসাবে প্রকাশ করা হয় এবং বর্ণগুলি কেবলমাত্র ইংরেজি, জার্মান এবং ফরাসি ভাষার জন্য ব্যবহৃত হত। ১৯০০ সালে বর্ণমালাটি প্রথমবার একটি ছক আকারে প্রকাশ করা হয় এবং আরবি ভাষাকে এর আয়ত্তে আনা হল।[১০] ১৯৩২ সালে দ্বিতীয় দফায় আ-ধ্ব-ব-র সম্প্রসারণ এবং পুনর্বিন্যাস করা হয়।[১১][১২] এরপরের গুরুত্বপুর্ণ পরিবর্তনটি আনা হয় ১৯৭৬ সালে যখন প্রথমবার স্বরধনির জন্য ব্যবহৃত বর্ণগুলিকে আলাদা ছকে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৮৯ সালে কিয়েল সম্মেলনে আ-ধ্ব-ব-র পরিষোধন করা হয় এবং বর্তমানের ছক তার প্রথম রূপ গ্রহণ করে। ২০১৫ সালে আ-ধ্ব-ব-এ শেষ পরিবর্তন আনা হয় এবং বর্তমান আ-ধ্ব-ব ছক প্রকাশিত হয়।[৫]

ব্যবহারিক নীতি[সম্পাদনা]

ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে ধ্বনি। শ্রব্য ধ্বনির দৃশ্য রূপ হচ্ছে বর্ণ। ভাষার ধ্বনির পরিবর্তনের সঙ্গে বর্ণের তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হয় না। যে কারণে ভাষা ও লিপির মধ্যে বড় ব্যবধান গড়ে ওঠে, এবং লিখন পদ্ধতিতে সমস্যা দেখা যায়। যেমন কখনো কখনো একাধিক ধ্বনি একটিই বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় বা একটি বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত ধ্বনি পার্শ্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তিত হয়, কিন্তু বর্ণ পরিবর্তীত হয় না। বাংলায় "এ" বর্ণ দিয়ে "অ্যা" ([æ], উদাহরণ স্বরূপ 'একটা') এবং "এ" ([e], উদাহরণ স্বরূপ 'এসব') দুটি ধ্বনিই চিহ্নিত করা হয়। আবার "শীল" এবং "শ্লীল" শব্দ দুটিতে "শ" বর্ণের উচ্চারণ দুরকম। অনেক সময় দুটি বর্ণের উচ্চারণ একই হয়ে থাকে, যেমন বাংলায় "ন" এবং "ণ" বর্ণগুলির উচ্চারণ একই।[১৩] আবার এক ভাষার উচ্চারণ অন্য একটি ভাষায় চিহ্নিত করার সময় সঠিক বর্ণ পাওয়া যায় না, আনুমানিক উচ্চারণটি শুধু মাত্র চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। যেমন হিন্দির "अ" বর্ণটির উচ্চারণ চিহ্নিত করতে হলে আমাদের "অ" ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এটি সঠিক উচ্চারণ নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র বর্ণান্তর করা হচ্ছে, অর্থাৎ অন্য ভাষার এক বর্ণের জায়গায় বাংলার এক বর্ণ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, ধ্বনিমূলক লিপ্যন্তর করা হচ্ছে না।

আ-ধ্ব-ব-এর নির্মাণের এবং ব্যবহারের মূল দুটি নীতি হচ্ছে ১) যখন কোন একটি ভাষার দুটি ধ্বনি একটি শব্দ থেকে অন্য একটি শব্দকে আলাদা করে, তখন সেই দুটি ধ্বনি চিহ্নিত করা হবে দুটি স্বতন্ত্র বর্ণ দ্বারা এবং ২) যখন দুটি ধ্বনি একে অপরের অনুরূপ হয় এবং এবং কোন ভাষায় ওই ধ্বনি দুটি শব্দের বিভিন্নতা নির্দেশ করা না, তখন ওই দুটি ধ্বনি চিহ্নিত করা হবে একই বর্ণের দ্বারা।[১৪]

ছক[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালার বর্ণ ও চিহ্নতালিকা (২০১৫)

কথিত ভাষায় কোন ধ্বনি উচ্চারণ করার সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ু স্বরযন্ত্র, গলনালি এবং মুখগহ্বর বা নাক হয়ে বেরিয়ে যায়। এই বহির্গামী বায়ু নির্গমনের সময় অধিজিহ্বা, আলজিহ্বা, জিহ্বা, তালু, দাঁত এবং ঠোঁটে বাধা পায় এবং এই সংঘর্ষের স্থান, পরিমাণ ও রূপ অনুসারে বিভিন্ন ধ্বনি সৃষ্টি হয়। আবার কোন সময় অন্তর্গামী বায়ু বা স্বরতন্ত্রী উর্ধস্থ বায়ুও ঠোঁট, তালু ইত্যাদি জায়গায় বাধা প্রাপ্ত হয়েও ধ্বনির সৃষ্টি করে। এই সমস্ত অঙ্গকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলা হয়।[১৫]

মানুষের বাকপ্রবাহকে বিশ্লেষণ করলে যে সব ধ্বনিগত উপাদান পাই সেগুলি দু'রকমের হয়, বিভাজ্য ধ্বনি এবং অবিভাজ্য ধ্বনিস্বরধ্বনি এবং ব্যঞ্জনধ্বনি হল বিভাজ্য ধ্বনি এবং সুর, শ্বাসাঘাত ইত্যাদি হল আবিভাজ্য ধ্বনি। উচ্চারণের সময়ে বায়ু বাগযন্ত্রটির মধ্য দিয়ে মুক্ত অবস্থায় বাধাহীন ভাবে বেরিয়ে যেতে পারলে যে ধ্বনি উৎপন্ন হয় তাকে স্বরধ্বনি বলে। আর বাধা পেলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে বলে ব্যঞ্জনধ্বনি। আন্তর্জাতিক ধ্বনিবিজ্ঞান সংগঠন ধ্বনির উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর ভিত্তি করে বর্তমানের আ-ধ্ব-ব ছকটি করেছে।[১৬] আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালার ছকটি ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়: ১) ব্যঞ্জনধ্বনি, ২) স্বরধ্বনি, এবং ৩) সহায়ক চিহ্ন।

ব্যঞ্জনধ্বনি[সম্পাদনা]

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু স্বরতন্ত্রী বা মুখে বাধা, ঘর্ষণ অথবা সংকোচনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়, সেই ধ্বনিকে বলা হয় ব্যঞ্জনধ্বনি। ব্যঞ্জনধ্বনিকে আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালার ছকটিতে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনি, অফুসফুসীয় ব্যঞ্জনধ্বনি এবং যুগ্মোচ্চারিত ব্যঞ্জনধ্বনি। এছাড়াও ব্যঞ্জনধ্বনিকে ছকে সঘোষ এবং অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনিতে ভাগ করা হয়েছে।[৫]

ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনি[সম্পাদনা]

যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণকালে ফুসফুসের চাপের কারণে বহির্গামী বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয় সেগুলোকে ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনি বলা হয়। বায়ু ফুসফুস থেকে তিনটি পথ দিয়ে বের হতে পারে: নাসিক পথে, কেন্দ্রিক পথে, বা পার্শ্বিক পথে। পৃথিবীর ভাষাসমূহে, এবং আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালায়, বেশিরভাগ ব্যঞ্জনধ্বনিই এই ধরণের ব্যঞ্জনধ্বনি। বাংলার সমস্ত ব্যঞ্জনধ্বনি এই শ্রেণীর অন্তর্গত।

ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনি ছকে অনুভূমিকভাবে ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণের স্থান, অর্থাৎ শ্বাসবায়ু বাগ্‌যন্ত্রের যে অংশে বাধা পায়, এবং উল্লম্বভাবে বাধার প্রকৃতি অনুযায়ী সাজান। উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ছকের শ্রেণীবিভাগগুলি হল উভয়ৌষ্ঠ্য, দন্তৌষ্ঠ্য, দন্ত্য, দন্তমূলীয়, পশ্চাদ্দন্তমূলীয়, মূর্ধন্য, তালব্য, পশ্চাত্তালব্য, অলিজিহ্ব্য, গলনালীয়, কন্ঠনালীয়। বাধার প্রকৃতি অনুযায়ী ছকের শ্রেণীবিভাগগুলি হল স্পর্শ, নাসিক্য, কম্পিত, তাড়িত, উষ্ম, পার্শ্বিক উষ্ম, নৈকট্যক এবং পার্শ্বিক নৈকট্যক।

আন্তর্জাতিক ধ্বনিবিজ্ঞান সংগঠন আ-ধ্ব-বর যে ছক প্রকাশ করে সেই ছকে জায়গার অভাবে ব্যঞ্জনধ্বনির সব দিক তুলে ধরা যায় না। আমরা যদি বাগ্‌যন্ত্র এবং তার অঙ্গগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষেণ করি তাহলে দেখব যে আ-ধ্ব-ব ছকে উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী আরও একটি শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, অধিজিহ্ব্য ব্যঞ্জনধ্বনি। একইভাবে উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী আরও তিনটি শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, উষ্ম ধ্বনিকে বিভক্ত করে শিশ-উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি এবং অশিশ-উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি, এবং পার্শ্বিক তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি। [১৭]

নীচে আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালার মূল ছকটির ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনির সারণিটি বর্দ্ধিত আকারে দেওয়া হল।

উচ্চারণস্থান → ওষ্ঠ্য শীর্ষ পশ্চাজ্জিহ্ব্য কণ্ঠমূলীয়
উচ্চারণরীতি ↓ উভয়ৌষ্ঠ্য দন্তৌষ্ঠ্য দন্ত্য দন্তমূলীয় পশ্চাদ্দন্ত
মূলীয়
মূর্ধন্য তালব্য পশ্চাত্তালব্য অলিজিহ্ব্য গলনালীয় অধিজিহ্ব্য কণ্ঠনালীয়
নাসিক্য m
ɱ

n

ɳ̊ ɳ ɲ̊ ɲ ŋ̊ ŋ
ɴ





স্পর্শ p b

t d

ʈ ɖ c ɟ k ɡ q ɢ

ʡ
ʔ
শিশ উষ্ম





s z ʃ ʒ ʂ ʐ ɕ ʑ









অশিশ উষ্ম ɸ β f v θ ð θ̠ ð̠ ɹ̠̊˔ ɹ̠˔
ɻ˔ ç ʝ x ɣ χ ʁ ħ ʕ
ʢ h ɦ
নৈকট্য

ʋ̥ ʋ

ɹ̥ ɹ

ɻ̊ ɻ j ɰ̊ ɰ






ʔ̞
তাড়নজাত
ⱱ̟


ɾ̥ ɾ

ɽ̊ ɽ




ɢ̆


ʡ̮

কম্পনজাত ʙ̥ ʙ



r

ɽ̊ɽ̊ ɽɽ



ʀ̥ ʀ

ʜ ʢ

পার্শ্বিক





ɬ ɮ

ɭ̊˔
ʎ̥˔ ʎ̝ ʟ̝̊ ʟ̝







পার্শ্বিক নৈকট্য





l

ɭ̊ ɭ ʎ̥ ʎ ʟ̥ ʟ
ʟ̠





পার্শ্বিক তাড়নজাত






ɺ


ɺ̢
ʎ̮
ʟ̆







টীকা:

  • সারণির এক ঘরে দুইটি বর্ণ থাকলে, ডানদিকেরটি ঘোষ ধ্বনি এবং বাঁদিকেরটি অঘোষ ধ্বনি।
  • সারণির এক ঘরে একটি বর্ণ থাকলে সেটি ঘোষ ধ্বনি। শুধুমাত্র কণ্ঠনালীয় স্পর্শধ্বনিটি অঘোষ।
  • যেসব ঘরে ধূসর রং দেয়া হয়েছে সেই ধ্বনিগুলো উচ্চারণ করা যায় না।
  • সবুজ রঙের বর্ণগুলি মূল ছকের ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনির সারণিতে দেওয়া নেই, "অন্যান্য চিহ্ন" নামক সারণিতে দেওয়া হয়ছে।
  • অলিজিহ্ব্য, গলনালীয়, ও অধিজিহ্ব্য ধ্বনিগুলো ([ʁ], [ʕ], [ʢ]) কিছু কিছু ভাষায় ক্ষেত্রে ঘোষ ও ঊষ্ম হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে ঘোষ ও নৈকট্য হয়।
  • শীর্ষধ্বনিগুলো একই উচ্চারণরীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উচ্চারণস্থানের অন্তর্গত হতে পারে। কিন্ত যে সমস্ত ভাষায় এই ধ্বনিগুলো ব্যবহার হয়, তার মধ্যে বেশিরভাগ ভাষাতেই একটি মাত্র উচ্চারণ স্থানের অন্তর্গত হয়। তাই কোন একটি ভাষার ক্ষেত্রে এক জোড়া বর্ণ দিয়েই একটি উচ্চারণ স্থানের যে কোন উচ্চারণ রীতি বোঝান যায়। প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বিশেষক ধ্বনিচিহ্ন দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উচ্চারণ বোঝান যেতে পারে। যেমন [t] বর্ণের উচ্চারণস্থান দন্ত্য, দন্ত্যমূলীয়, অথবা পশ্চাদ্দন্তমূলীয় হতে পারে, ইংরেজির ক্ষেত্রে সেটি দন্ত্যমূলীয় আর ফরাসির ক্ষেত্রে সেটি দন্ত্য।
  • পশ্চাদ্দন্তমূলীয়, দন্তমূল-তালব্য, ও মূর্ধন্য ঊষ্মধ্বনিগুলোর ([ʃ]/[ʒ], [ɕ]/[ʑ], [ʂ]/[ʐ]) উচ্চারণের বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। এদের পার্থক্যটা প্রধানতঃ জিহ্বার আকারে গঠিত।
  • কোন কোন ধ্বনি মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের দ্বারা উচ্চারণ করা গেলেও কোন ভাষায় সেইগুলোর কোন ব্যাবহার হয় না।

অফুসফুসীয় ব্যঞ্জনধ্বনি[সম্পাদনা]

বিশ্বের সব ভাষায় ফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনি আছে, অবশ্য অনেকগুলো ভাষায় কয়েকটি অফুসফুসনির্গত ব্যঞ্জনধ্বনিও আছে। এই ধ্বনিগুলোর উচ্চারণকালে ফুসফুসের কোনও বিশেষ কার্য নেই, বরং বায়ুটি সঞ্চলিত হয় অন্য যন্ত্রের মাধ্যমে। ফুসফুস ছাড়া আরও দুটো বায়ুসঞ্চালক কথ্য ভাষায় ব্যবহার করা হয়ঃ শ্বাসরন্ধ্র (ধ্বনিদ্বার বা কন্ঠনালিপথ) ও পশ্চাত্তালু (কোমল বা নরম তালু)। এই দুই যন্ত্রগুলো বন্ধ করলে বায়ুসঞ্চালক হিসাবে কাজ করতে পারে।

বহিঃস্ফোটী ব্যঞ্জনধ্বনি - পশ্চাত্তালুটি পুরোপুরি বন্ধ করে মুখের ভিতরের বাতাসটা দ্রুতভাবে বহিষ্কার করে ধ্বনি উচ্চারিত হলে বহির্গামী শ্বাসরন্ধ্রিক ব্যঞ্জনধ্বনি বা বহিঃস্ফোটী ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করা হয়।

অন্তঃস্ফোটী ব্যঞ্জনধ্বনি - শ্বাসরন্ধ্রটা অসম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে মুখের বাইরের বাতাসটা চুষে নিয়ে ধ্বনি উচ্চারিত হলে অন্তর্গামী শ্বাসরন্ধ্রিক ব্যঞ্জনধ্বনি বা অন্তঃস্ফোটী ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করা হয়।

শীৎকার ব্যঞ্জনধ্বনি - পশ্চাত্তালুটা পুরোপুরি বন্ধ করে মুখের বাইরের বাতাসটা চুষে নিয়ে ধ্বনি উচ্চারিত হলে অন্তর্গামী পশ্চাত্তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি বা শীত্কার ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করা হয়।

যুগ্মোচ্চারিত ব্যঞ্জনধ্বনি[সম্পাদনা]

স্বরধ্বনি[সম্পাদনা]

সম্পাদনা - সম্মুখ প্রায়-সম্মুখ কেন্দ্রীয় প্রায়-পশ্চাৎ পশ্চাৎ
সংবৃত
Blank vowel trapezoid.svg
i • y
ɨ • ʉ
ɯ • u
ɪ • ʏ
• ʊ
e • ø
ɘ • ɵ
ɤ • o
ɛ • œ
ɜ • ɞ
ʌ • ɔ
a • ɶ
ɑ • ɒ
প্রায়-সংবৃত
সংবৃত-মধ্য
মধ্য
বিবৃত-মধ্য
প্রায়-বিবৃত
বিবৃত

দ্বিস্বরধ্বনি[সম্পাদনা]

সহায়ক চিহ্ন[সম্পাদনা]

ছকের খালি ঘরগুলি[সম্পাদনা]

ছকের পরিবর্তন[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. International Phonetic Association (IPA), Handbook.
  2. MacMahon, Michael K. C. (১৯৯৬)। "Phonetic Notation"। in P. T. Daniels and W. Bright (eds.)। The World's Writing Systems। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড উইনিভার্সিটি প্রেস। পৃ: ৮২১–৮৪৬। আইএসবিএন 0-19-507993-0 
  3. Wall, Joan (১৯৮৯)। International Phonetic Alphabet for Singers: A Manual for English and Foreign Language Diction। Pst। আইএসবিএন 1-877761-50-8 
  4. সেন, সুকুমার (২০১৫)। ভাষার ইতিবৃত্ত। কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। পৃ: ৩২। আইএসবিএন 81-7215-123-3 
  5. "সম্পূর্ণ আ-ধ্ব-ব ছক"International Phonetic Association। সংগৃহীত ২১শে জানুয়ারি ২০১৮ 
  6. (কেলি, ১৯৮১)
  7. International Phonetic Association (IPA), Handbook। কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ: ১৯৪–১৯৬। 
  8. IPA in the Encyclopædia Britannica
  9. Passy, Paul (১৮৮৮)। "Our revised alphabet"। The Phonetic Teacher: 57–60। 
  10. International Phonetic Association. (১৯০৮). Exposé des principes de l’Association phonétique internationale, পৃঃ ১২ [১]
  11. Passy, Paul (এপ্রিল-জুন ১৯২৭)। "desizjɔ̃ dy kɔ̃sɛːj rəlativmɑ̃ (sic) o prɔpozisjɔ̃ d la kɔ̃ferɑ̃ːs də *kɔpnag" [Décisions du conseil relativement aux propositions de la conférence de Copenhague]। । artiklə də fɔ̃Le Maître Phonétique ১৮: ১৪। 
  12. কেম্প ২০০৬, পৃঃ ৪০৯।
  13. শ', ডঃ রামেশ্বর (২০১২)। সাধারণ ভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা ভাষা। কলকাতা: পুস্তক বিপনি। পৃ: ১৮৫–১৯৫। আইএসবিএন 81-85471-12-6 
  14. International Phonetic Association (IPA), Handbook। কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ: ১৫৯–১৬০। 
  15. বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচরিতা (২০০৭)। "ধ্বনিতত্ত্ব"। আধুনিক বাংলা ভাষাতত্ত্ব। কলকাতা: প্যাপিরাস। পৃ: ১০৭–১০৮। আইএসবিএন 81-8175-076-4 
  16. International Phonetic Association, Handbook, পৃঃ ৩–৪
  17. The Handbook of Phonetic Sciences (২০১০), Hardcastle, Laver & Gibbon (সম্পাঃ), ২য় সংঃ-এ, John Esling "Phonetic Notation", পৃঃ ৬৮৮, ৬৯৩।