কুমিল্লা বিভাগ
| কুমিল্লা বিভাগ | |
|---|---|
| প্রস্তাবিত বিভাগ | |
প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগ | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| আসন | কুমিল্লা |
| আয়তন | |
| • মোট | ১৩,৩৬৮.২ বর্গকিমি (৫,১৬১.৫ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১) | |
| • মোট | ১,৯৩,৬৬,৮১২ |
| • জনঘনত্ব | ১,৪০০/বর্গকিমি (৩,৮০০/বর্গমাইল) |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| আইএসও ৩১৬৬ কোড | BD-B |
কুমিল্লা বিভাগ হলো বাংলাদেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রস্তাবিত প্রশাসনিক বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সমন্বয়ে বিভাগটি গঠিত হবে বলে প্রস্তাব করা হয়।[১][২][৩][৪] এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে অবস্থিত মোট ১৩,৩৬৮.২ কিমি২ (৫,১৬১.৫ মা২)[৫] জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানে জনসংখ্যা ছিল ১,৯৩,৬৬,৮০৯ জন। আয়তনের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ বৃহত্তম বিভাগ হবে।
আয়তন
প্রস্তাবিত এ বিভাগের মোট আয়তন ১৩,৩৬৮.২ বর্গ কিলোমিটার বা ৫,১৬১.৫ বর্গ মাইল। আয়তনে এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম বিভাগ হবে।
জনসংখ্যা
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় ১,৯৩,৬৬,৮১২ জন। জনসংখ্যায় এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিভাগ হবে।
নামকরণে মতপার্থক্য
প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের আওতাভুক্ত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অঞ্চলকে বর্ণনা করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়:
- ময়নামতি বিভাগ: ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লা অঞ্চলের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ময়নামতির নামানুসারে বিভাগের নাম “ময়নামতি” করার ঘোষণা দেওয়া হয়।[৬] তবে এই নামকরণের বিরুদ্ধে কুমিল্লা শহরে বিক্ষোভ সংঘটিত হয়।[৭]
- মেঘনা বিভাগ: বাংলাদেশের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা নামের প্রতি আপত্তি জানিয়ে "কু" দিয়ে শুরু হওয়া নামের বদলে এই প্রস্তাবিত বিভাগের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীর নামানুসারে মেঘনা বিভাগ করার ঘোষণা দেন।[৮]
- সমতট: এটি প্রাচীন বাংলার একটি ভূ-রাজনৈতিক ভাগ ছিল। বর্তমানের অবিভক্ত কুমিল্লা জেলা ও অবিভক্ত নোয়াখালী জেলা অঞ্চল সমতটের অন্তর্গত ছিল। ভৌগোলিকভাবে প্রস্তাবিত বিভাগটি অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশের প্রাক্তন দুটো বৃহত্তর জেলা নিয়ে গঠিত—কুমিল্লা ও নোয়াখালী।
- বৃহত্তর কুমিল্লা: কুমিল্লার আদিনাম কমলাঙ্ক, যার অর্থ কমল বা পদ্মফুলের দিঘী। আধুনিক "কুমিল্লা" নামটি কমলাঙ্কের অপভ্রংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৯] ১৭৯০ সালে ব্রিটিশ ভারত সরকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বঙ্গের একটি জেলা যা প্রথমে 'ত্রিপুরা জেলা' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১০] এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে কুমিল্লা নামে নামকরণ করা হয়।[১১] এতে বর্তমানের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা অন্তর্গত ছিল যা ১৯৮৪ সালে পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বৃহত্তর নোয়াখালী: নোয়াখালীর প্রাচীন নাম ভুলুয়া। অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশের নোয়াখালী জেলাটি ১৮২১ সালে ব্রিটিশ ভারত সরকার কর্তৃক ভুলুয়া জেলা নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ১৮৬৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নোয়াখালী নামকরণ করা হয়। এতে বর্তমানের লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল যা ১৯৮৪ সালে পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- রোসানবাদ: মুঘল আমলে সুবাহ বাংলার এই এলাকা রোসানবাদ এলাকা নামে সুপরিচিত ছিল।
- ত্রিপুরা: প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগটি ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে একটি জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ইতিহাস

কুমিল্লা নামে প্রস্তাবিত বিভাগটি অর্থাৎ বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামক প্রাচীন রাজ্যের অধীনে ছিল। এখানে কুমিল্লা পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৯০ সালে ও সিটি কর্পোরেশন হয় ২০১১ সালে।
১৯৮৯ সালের দিকেই বৃহত্তর কুমিল্লার কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বৃহত্তর নোয়াখালীর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর—এই ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লাকে নতুন একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি শুরু হয়।[১২] চট্টগ্রাম বিভাগ ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কি না, এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্দেশনা দেন।[১২] ২০১৭ সালে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জানান যে, প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি বিভাগ।[৬] ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর মেঘনা নদীর নামে বিভাগ হবে বলে ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।[১৩] তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর নিকারের সভায় পদ্মা বিভাগ ও মেঘনা বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।[১৪][১৫] ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্ঠা আসিফ মাহমুদ সে বছরে নভেম্বরে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দ্রুত কুমিল্লা নামেই নতুন বিভাগ বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেন।[১৬] ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে বিভাগ করার সুপারিশ করে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন।[১৭][১৮]
তবে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের অধিবাসীরা প্রস্তাবিত কুমিল্লা নামের বিভাগটির সাথে সংযুক্ত হতে সম্মত নয়; বরং তারা নোয়াখালী নামে একটি পৃথক নোয়াখালী বিভাগ গঠনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।[১৯]
প্রশাসনিক জেলা
এই বিভাগটি ছয়টি জেলা ও ৫৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত হবে।
| নাম | সদর | আয়তন(কিঃমি২) | জনসংখ্যা ১৯৯১ আদমশুমারি | জনসংখ্যা ২০০১ আদমশুমারি | আদমশুমারি ২০১১ আদমশুমারি (প্রাথমিক তথ্য) |
|---|---|---|---|---|---|
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১,৯২৭.১২ | ২১,৪১,৭৪৫ | ২৩,৯৮,২৫৪ | ২৮,০৮,০০০ |
| কুমিল্লা জেলা | কুমিল্লা | ৩,০৮৭.৩৪ | ৪০,৩২,৬৬৬ | ৪৫,৯৫,৫৩৯ | ৫৩,০৪,০০০ |
| চাঁদপুর জেলা | চাঁদপুর | ১,৭০৪.০৬ | ২০,৩২,৪৪৯ | ২২,৭১,২২৯ | ২৩,৯৩,০০০ |
| লক্ষ্মীপুর জেলা | লক্ষ্মীপুর | ১,৪৫৬.৩৮ | ১৩,১২,৩৩৭ | ১৪,৮৯,৯০১ | ১৭,২৯,১৮৮ |
| নোয়াখালী জেলা | মাইজদী | ৪,২০২.৮৫ | ২২,১৭,১৩৪ | ২৫,৭৭,২৪৪ | ৩১,০৮,০৮৩ |
| ফেনী জেলা | ফেনী | ৯৯০.৩৬ | ১০,৯৬,৭৪৫ | ১২,৪০,৩৮৪ | ১৪,৩৭,৩৭১ |
| মোট | ১৩,৩৬৮.২ | ১,২৮,৩৩,০৭৬ | ১,৪৫,৭২,৫৫১ | ১,৬৭,০৮,০০০ |
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২০ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৮।
- ↑ "ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনে কাজ শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর"। দৈনিক প্রথম আলো। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "Mymensingh to become new division"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৬ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "3 new divisions to be formed"। The Independent। ঢাকা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "চট্টগ্রাম বিভাগ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 "কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি"। প্রথম আলো। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১।
- ↑ মোল্লা, মহিউদ্দিন (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "ময়নামতি না কুমিল্লা!"। কুমিল্লা: বাংলা ট্রিবিউন। ১৯ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১।
- ↑ "'কু' নাম দিয়ে বিভাগ দেব না, নদীর নামে হবে দুই বিভাগ"। কালের কণ্ঠ। ২১ অক্টোবর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ প্রেমময় দাশগুপ্ত। হিউয়েন সাঙের দেখা ভারত (অনুবাদ গ্রন্থ)। পৃ. ১৪৯।
- ↑ Bengal District Gazetteer, Tipperah District – 1933
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "কুমিল্লা জেলা"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 হক, গাজীউল (২৭ মার্চ ২০১৫)। "কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "'পদ্মা' ও 'মেঘনা' বিভাগ গঠন স্থগিত"। জাগো নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "পদ্মা ও কুমিল্লা বিভাগ করার প্রস্তাব স্থগিত"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "পদ্মা ও কুমিল্লা বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত স্থগিত"। banglanews24.com। ২৭ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা"। দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "কুমিল্লা-ফরিদপুর নতুন দুই বিভাগ, উপজেলায় কোর্ট স্থাপনের সুপারিশ"। ঢাকা পোস্ট। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন"। দৈনিক প্রথম আলো। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৮ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।