লেন ডার্লিং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লেন ডার্লিং
Len Darling 1934.jpg
১৯৩৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে লেন ডার্লিং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলিওনার্ড স্টুয়ার্ট ডার্লিং
জন্ম১৪ আগস্ট, ১৯০৯
দক্ষিণ ইয়ারা, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু২৪ জুন, ১৯৯২
ড পার্ক, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ডাকনামডার্লস
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৪৭)
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১ জানুয়ারি ১৯৩৭ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ১০০
রানের সংখ্যা ৪৭৪ ৫৭৮০
ব্যাটিং গড় ২৭.৮৮ ৪২.৫০
১০০/৫০ ০/৩ ১৬/২৬
সর্বোচ্চ রান ৮৫ ১৮৮
বল করেছে ১৬২ ৩০৭৫
উইকেট ৩২
বোলিং গড় ৪৬.৯৩
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৫৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৮/০ ৫৯/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লিওনার্ড স্টুয়ার্ট ডার্লিং (ইংরেজি: Len Darling; জন্ম: ১৪ আগস্ট, ১৯০৯ - মৃত্যু: ২৪ জুন, ১৯৯২) ভিক্টোরিয়ার দক্ষিণ ইয়ারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[২]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘ডার্লস’ ডাকনামে পরিচিত লেন ডার্লিং

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত লেন ডার্লিংয়ের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত ভিক্টোরিয়ার পক্ষে শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় অংশ নেন।

১৭ বছর বয়সে ১৯২৬-২৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বড়দের খেলায় অংশ নেন। তবে, শিল্ডের খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। সিডনিতে বিস্ময়কর খেলায় নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ডন ব্র্যাডম্যানের অপরাজিত ৩৪০ রানের কল্যাণে নিউ সাউথ ওয়েলস দল ৭১৩/৬ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ভিক্টোরিয়া দল পরাজয়ের শঙ্কা গুণছিল। তবে, লেন ডার্লিংয়ের ৯৬ রানের কল্যাণে ফলো-অনের পরও দলটি সম্মানজনকভাবে ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল।

১৯২৮-২৯ মৌসুমে এমসিসি দল অস্ট্রেলিয়া গমন করে। সফররত দলটিতে হ্যারল্ড লারউড, মরিস টেট, টিচ ফ্রিম্যানজর্জ গিয়েরির ন্যায় বোলারের অংশগ্রহণ ছিল। তাদের মারাত্মক বোলিং আক্রমণ মোকাবেলা করে মেলবোর্নে তিনি ৮৭ রান তুলেন। তবে, ১৯৩১-৩২ মৌসুমের পূর্ব-পর্যন্ত তেমন ভালো খেলা উপহার দেননি। ঐ মৌসুমে প্রথমবারের মতো শতরানের সন্ধান পান ও ৪৮.৮৮ গড়ে রান তুলেন। পরের বছর রাজ্য দলের খেলায় তিনটি শতরান করেন ও ৬৯.১৪ গড়ে রান পেয়েছিলেন। এরফলে, বডিলাইন সিরিজের ব্রিসবেন ও সিডনি টেস্টের শেষ দুই খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮৮ রান তুলেন। এরপর সিডনিতে শিল্ডের চূড়ান্ত খেলায় ৯৩ রান তুলে ভিক্টোরিয়াকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান ও এক পয়েন্টের ব্যবধানে তার দল শিরোপা জয় করতে সক্ষমতা দেখায়।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বাউন্ডারি সীমানা এলাকায় ফিল্ডিংকালে ডন ব্র্যাডম্যানের ক্যাচ নেয়ার প্রস্তুতিকালে বল শূন্যে থাকা অবস্থায় দর্শকেরা অনুরোধ জানাচ্ছিলেন যেন তিনি বলটি তালুবন্দী না করেন। তবে, ১৯৩৪ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে ব্র্যাডম্যান তার সর্বশেষ ইনিংসে ১২৪ রান তুলে তার কটে বিদায় নিতে বাধ্য হন। এ পর্যায়ে ব্র্যাডম্যান তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে চতুর্থটিতে ধরা পড়েন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে বারোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন লেন ডার্লিং। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে ব্রিসবেনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ব্রিসবেনে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রান তুলে রান আউট হন। সিডনিতে দলের ৪৩৫ রানের মধ্যে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংশৈলী উপহার দিয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ রান তুলেন। ক্রিকেটবোদ্ধারা ভেবেছিলেন কেবলমাত্র স্ট্যান ম্যাককাবে ভিন্ন অন্য কেউ হ্যারল্ড লারউড ও তার সঙ্গীদেরকে মোকাবেলা করতে পারবে না।

১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়গণ ডন ব্র্যাডম্যান ও বিল পন্সফোর্ডের ব্যাটিংয়ের কাছে ম্রিয়মান ছিলেন। প্রথম চার টেস্টে অংশ নেন লেন ডার্লিং। তবে, খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। উইজডেন মন্তব্য করে যে, তিনি বলে খোঁচা মারার ন্যায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় মত্ত ছিলেন। তবে, অন্যান্য খেলাগুলোয় বেশ কিছু দর্শনীয় ইনিংস খেলেন। এ সফরে ৩৪.০৬ গড়ে ১,০২২ রান তুলেন।

ইংল্যান্ড দেশে ফিরে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজের সেরা ছন্দে প্রত্যাবর্তন করেন। উপর্যুপরী খেলায় তিনটি শতরান করেন। এরফলে, ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের জন্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনোনীত হন। এখানে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো খেলেন ও ৪৫.৮০ গড়ে রান তুলেন।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল নির্বাচকমণ্ডলী বেশ কয়েকজন তরুণ ব্যাটসম্যানকে পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করে। ফলে, লেন ডার্লিংয়ের খেলার সুযোগ কমে আসে। কেবলমাত্র, মেলবোর্নের খ্যাতনামা টেস্টে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। ৬৫,০০০ দর্শকের সামনে ওয়ালি হ্যামন্ডমরিস লেল্যান্ডের ক্যাচ দর্শনীয়ভাবে তালুবন্দী করেছিলেন।

মূল্যায়ণ[সম্পাদনা]

দুই যুদ্ধের মাঝামাঝি খেলেন তিনি। আক্রমণের দৃষ্টিনন্দন ফুলঝুড়ি ছোঁটাতেন। তবে, টেস্ট পর্যায়ে খুব কমই নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু, আকস্মিকভাবে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম শেষে খেলার জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। মাঠের যে-কোন অবস্থানে থেকে সুন্দরভাবে ফিল্ডিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিং করে গড়ে ৪৭ রান খরচায় ৩২টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভে সক্ষম হন। ১০০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪২.৫০ গড়ে ৫,৭৮০ রান তুলেন। ১৬টি শতক হাঁকিয়েছিলেন। ১২ টেস্টে ২৭.৮৮ গড়ে ৪৭৪ রান তুলেন।

বিখ্যাত ক্রিকেটার বিল ও’রিলি মন্তব্য করেছিলেন যে, ডার্লসের চেয়ে সেরা খেলোয়াড় থাকলেও আমি তাকে দলে নিতাম।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ও ২৪তম অস্ট্রেলিয়ান এন্টি-এয়ারক্রাফ্ট ব্যাটারীতে নিযুক্ত ছিলেন।[৩]

১৯৩৬-৩৭ মৌসুম শেষে মাত্র ২৭ বছর বয়সে আকস্মিকভাবে খেলার জগৎ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন ও অ্যাডিলেডে চলে যান। ধারণা করা হয় যে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার ফলে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। এরপর তিনি অ্যাডিলেড কুয়ারিং কোম্পানিতে বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতে থাকেন।

১৯৩৭ সালে ফাইলিস (ববি) নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন লেন ডার্লিং। এ দম্পতির দুই কন্যা ছিল। ২৪ জুন, ১৯৯২ তারিখে ৮২ বছর বয়সে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ড পার্ক এলাকায় লেন ডার্লিংয়ের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Australia – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. "Len Darling"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৮ 
  3. "Darling, Leonard Stuart"World War Two Nominal Roll। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৮ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]