একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দশ হাজার বা তদূর্ধ্ব রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানের তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শচীন তেন্ডুলকর ১০,০০০ রানের মাইল ফলক অতিক্রম করেন।

একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেটের এক ধরনের স্তর, যেখানে দু’টি জাতীয় ক্রিকেট দল একে-অপরের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে। একদিনের আন্তর্জাতিকে ১০,০০০ রান একজন খেলোয়াড়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত।

২০০১ সালে নিজদেশে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা চলাকালীন ভারতীয় তারকা শচীন তেন্ডুলকর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ১০,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।[১] শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রহকারীদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান তারকা ডেসমন্ড হেইন্স ১৯৯৪ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত ৮,৬৪৮ রান তুলে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছিলেন। এর চারবছর পর ভারতীয় তারকা মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন তাঁর রেকর্ডটি ভেঙ্গে ফেলেন।[২] অক্টোবর, ২০০০ সালে দলীয় সঙ্গী তেন্ডুলকর তাঁর এ রেকর্ড টপকানো পর্যন্ত শীর্ষস্থানে অবস্থান করছিল।[৩]

মার্চ, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছয়টি ভিন্ন দেশের মাত্র চৌদ্দজন ব্যাটসম্যান একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দশ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন।[৪] তন্মধ্যে ভারত থেকে পাঁচজন ও শ্রীলঙ্কা থেকে চারজন এ সম্মাননায় অভিষিক্ত হয়েছেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুইজন এবং অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একজন করে এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।[৫] এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ডজিম্বাবুয়ের কোন খেলোয়াড় এ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে পারেনি।

বিখ্যাত ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন তেন্ডুলকর সর্বাধিক খেলায় অংশগ্রহণ, রেকর্ডসংখ্যক ৪৯টি সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চসংখ্যক আঠারো সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছেন।[৬][৪] বিরাট কোহলি তৃতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়মহেন্দ্র সিং ধোনি’র পর[ক] এ মাইলফলক স্পর্শ করেন।[৯] এ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। তন্মধ্যে, এমএস ধোনি সবচেয়ে কম ২০৫ ইনিংস খেলে ১০,০০০ রান সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে সর্বাধিক ৩৩৩ ইনিংসে খেলে এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন।

তবে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে ৪৫.২৬ রান গড়ে সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান করছেন রাহুল দ্রাবিড়।[৪] অন্যদিকে, সৌরভ গাঙ্গুলী ১০ বছর ৩১৭ দিনের দ্রুততম সময়ে এ তালিকায় জায়গা করে নেন।[৯][৬] কোহলি’র অন্তর্ভূক্তির পূর্বে শ্রীলঙ্কার বামহাতি ব্যাটসম্যান সনাথ জয়াসুরিয়া সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রতি ১০০ বলে ৯১ রানের অধিক রান সংগ্রহ করেন। কিন্তু ব্যাটিং গড়ের দিক দিয়ে তিনি সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান করছেন।[৪][১০] দক্ষিণ আফ্রিকার অল-রাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস বিরাট কোহলির অন্তর্ভূক্তির পূর্বে সর্বোচ্চ গড়ের অধিকারী ছিলেন, যিনি দশ সহস্রাধিক রানের কোটা অতিক্রম করেছেন।[১১][১২] একমাত্র অস্ট্রেলীয় হিসেবে রিকি পন্টিং দশ সহস্রাধিক রান করেছেন।

জুলাই, ২০১৫ সাল পর্যন্ত শচীন তেন্ডুলকর ১৮,৪২৬ রান নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তারপরেই ১৪,২৩৪ রান নিয়ে কুমার সাঙ্গাকারা ২য় স্থানে রয়েছেন।[৪] পাশাপাশি, ৬০.০৮ ব্যাটিং গড় ও ৯২.৯৫ স্ট্রাইক রেট নিয়ে বিরাট কোহলি শীর্ষস্থান দখল করে আছেন। তার সাথে এমএস ধোনি ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিস গেইল এ স্তরের ক্রিকেটে সক্রিয় রয়েছেন।

তালিকা[সম্পাদনা]

অবস্থান খেলোয়াড় ইনিংস[১৩] রান খেলা গড় স্ট্রাইক রেট ১০০ ৫০ মেয়াদকাল
ভারত শচীন তেন্ডুলকর ৪৫২ ১৮,৪২৬ ৪৬৩ ৪৪.৮৩ ৮৬.২৩ ৪৯ ৯৬ ১৯৮৯-২০১২
শ্রীলঙ্কা কুমার সাঙ্গাকারা ৩৮০ ১৪,২৩৪ ৪০৪ ৪১.৯৮ ৭৯.৮৮ ২৫ ৯৩ ২০০০-২০১৫
অস্ট্রেলিয়া রিকি পন্টিং ৩৬৫ ১৩,৭০৪ ৩৭৫ ৪২.০৩ ৮০.৩৯ ৩০ ৮২ ১৯৯৫-২০১২
শ্রীলঙ্কা সনাথ জয়াসুরিয়া ৪৩৩ ১৩,৪৩০ ৪৪৫ ৩২.৩৬ ৯১.২০ ২৮ ৬৮ ১৯৮৯-২০১১
শ্রীলঙ্কা মাহেলা জয়াবর্ধনে ৪১৮ ১২,৬৫০ ৪৪৮ ৩৩.০১ ৭৮.৬৭ ১৯ ৭৭ ১৯৯৮-২০১৫
পাকিস্তান ইনজামাম-উল-হক ৩৫০ ১১,৭৩৯ ৩৭৮ ৩৯.৫২ ৭৪.২৪ ১০ ৮৩ ১৯৯১-২০০৭
দক্ষিণ আফ্রিকা জ্যাক ক্যালিস ৩১৪ ১১,৫৭৯ ৩২৮ ৪৪.৩৬ ৭২.৮৯ ১৭ ৮৬ ১৯৯৬-২০১৪
ভারত সৌরভ গাঙ্গুলী ৩০০ ১১,৩৬৩ ৩১১ ৪১.০২ ৭৩.৭০ ২২ ৭২ ১৯৯৬-২০০৭
ভারত রাহুল দ্রাবিড় ৩১৮ ১০,৮৮৯ ৩৪৪ ৩৯.১৬ ৭১.২৪ ১২ ৮৩ ১৯৯৫-২০১১
১০ ভারত বিরাট কোহলি ২১৭ ১০,৮৮৯ ২২৫ ৬০.০৮ ৯২.২৫ ৪১ ৪৯ ২০০৮-বর্তমান
১১ ভারত এমএস ধোনি ২৮৯ ১০,৫০০ ৩৪১ ৫০.৭২ ৮৭.৫৫ ১০ ৭১ ২০০৪-বর্তমান
১২ ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্রায়ান লারা ২৮৯ ১০,৪০৫ ২৯৯ ৪০.৪৮ ৭৯.৫১ ১৯ ৬৩ ১৯৯০-২০০৭
১৩ শ্রীলঙ্কা তিলকরত্নে দিলশান ৩০৩ ১০,২৯০ ৩৩০ ৩৯.২৭ ৮৬.২৩ ২২ ৪৭ ১৯৯৯-২০১৫
১৪ ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিস গেইল ২৮৩ ১০,১৫১ ২৮৯ ৩৮.১৬ ৮৭.১৪ ২৫ ৫১ ১৯৯০-বর্তমান
উৎসস্থল: ক্রিকইনফো। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৯ মার্চ, ২০১৯

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. After making his ODI debut in January 1992, Ganguly was dropped and made a comeback to the side in May 1996.[৭][৮][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Time Line of Tendulkar's cricketing achievements"The Hindu। ১০ অক্টোবর ২০১৩। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৫ 
  2. Kahate, Atul (৯ নভেম্বর ১৯৯৮)। "Azharuddin's world record"। ESPNcricinfo। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৫ 
  3. Gupta, Rajneesh (১৮ অক্টোবর ২০০০)। "Tendulkar overhauls Azharuddin's record tally of runs in one-day Internationals"। ESPNcricinfo। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৫ 
  4. "Records / One-Day Internationals / Batting records / Most runs in career", Cricinfo, accessed 24 October 2009
  5. Jeswant, Bishen (২৬ জুলাই ২০১৫)। "Dilshan joins the 10,000 club"। ESPNcricinfo। ২১ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৫ 
  6. "Records / One-Day Internationals / Batting records / Fastest to 10000 runs"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  7. "Factbox on Sourav Ganguly"Rediff.com। ৩ আগস্ট ২০০৫। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৫ 
  8. "Statistics / Statsguru / SC Ganguly / One-Day Internationals"। ESPNcricinfo। ১০ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১৫ 
  9. Gollapudi, Nagraj (৩ আগস্ট ২০০৫)। "Ganguly landmark no consolation"। ESPNcricinfo। ১৭ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০০৯ 
  10. "Sanath Jayasuriya", Cricinfo, accessed 24 October 2009
  11. "A patient accumulator", Cricinfo, 28 February 2009, accessed 24 October 2009
  12. "A slow but steady ascent", Cricinfo, 23 January 2009, accessed 24 October 2009
  13. "Records / One-Day Internationals / Batting records / Fastest to 10000 runs"ESPNCricinfo। ESPN EMEA। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]