জন স্নো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জন স্নো
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন অগাস্টিন স্নো
জন্ম (1941-10-13) ১৩ অক্টোবর ১৯৪১ (বয়স ৭৮)
পিপলটন, ওরচেস্টারশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামস্নোয়ি, দি অ্যাবোমিনেবল স্নোম্যান
উচ্চতা৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪২৮)
১৭ জুন ১৯৬৫ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৭ জুলাই ১৯৭৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১)
৫ জানুয়ারি ১৯৭১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই১৮ জুন ১৯৭৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৬১–১৯৭৭সাসেক্স
১৯৮০ওয়ারউইকশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৪৯ ৩৪৬ ১৮২
রানের সংখ্যা ৭৭২ ৪,৮৩২ ১,২০৯
ব্যাটিং গড় ১৩.৫৪ ৪.৫০ ১৪.১৭ ১২.৮৬
১০০/৫০ –/২ –/– –/১১ –/২
সর্বোচ্চ রান ৭৩ * ৭৩* ৫৭
বল করেছে ১২,০২১ ৫৩৮ ৬০,৯৯৫ ৮,৮৮২
উইকেট ২০২ ১৪ ১,১৭৪ ২৫১
বোলিং গড় ২৬.৬৬ ১৬.৫৭ ২২.৭৩ ১৯.৩৪
ইনিংসে ৫ উইকেট - ৫৬
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৭/৪০ ৪/১১ ৮/৮৭ ৫/১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৬/– ৪৭/– ১২৫/– ৩৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জন অগাস্টিন স্নো (ইংরেজি: John Snow; জন্ম: ১৩ অক্টোবর, ১৯৪১) ওরচেস্টারশায়ারের পিপলটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে ভূমিকা পালন করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ‘দি অ্যাবোমিনেবল স্নোম্যান’ ডাকনামে পরিচিত জন স্নো

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

স্কটিশ পুরোহিতের সন্তান জন স্নো ওরচেস্টারশায়ারের পিপলটন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টীয় এলাকা ওরচেস্টারশায়ারের এমলে ক্যাসল গ্রামে বসবাস করতে থাকে তার পরিবার। জন্মকালীন তার ক্রিকেট কোচ দাদা স্কটল্যান্ড এ সংবাদ শুনে ঘোষণা করেছিলেন যে, সে ক্ষুদে ক্রিকেটার। শৈশবে তাকে ব্যাট উপহার দিলে সে তা কামড়াতে থাকে।[১] তিন একরের যাজকীয় মাঠে স্নো তার বাবা, মা, দাদা ও তিন বোনকে খেলাধূলা শিখতে থাকেন ও পরবর্তীকালে গ্রামের খেলাগুলোয় অংশ নিতে থাকেন। গ্রামে অবস্থান করায় যুদ্ধের প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। জ্বালানী কাঠ দিয়ে ফাস্ট বোলিংয়ের অনুশীলনী কর্ম সম্পাদন করতেন যা এক সময় ফ্রাঙ্ক টাইসনও করেছিলেন। শুরুতে ক্রাইস্টস হসপিটালে শিক্ষালাভ করতে যান। পরবর্তীতে বালকদের চিচেস্টার হাই স্কুলে ভর্তি হন। ঐ বছরই তার বাবা বোগনর রেজিসের কাছাকাছি এলাকায় যাজকীয় পদবী ধারন করেন। এ সময়ে তিনি ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটসম্যান লেন বেটসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।

পিটার মেডেভিড শেফার্ডের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বোগনর কোল্টসে যোগ দেন। অ্যান্টিলেসে অনুষ্ঠিত খেলায় ফ্রাঙ্ক ওরেলকে বোল্ড করে ব্যাপক পরিচিতি পান। এছাড়াও তিনি সাসেক্স ইয়ং অ্যামেচার্স ও জুনিয়র মার্লেটসের পক্ষে খেলতে থাকেন। কৈশোরে বোলারের তুলনায় ব্যাটসম্যান হিসেবেই তিনি দক্ষতা দেখিয়েছেন। কিন্তু বালকদের প্রায় সকলেই ব্যাটিংয়ের দিকে ধাবিত হওয়ায় পরবর্তীকালে বোলিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এছাড়াও তিনি রাগবিতে খেলেছেন; কিন্তু, ১৯৬১ সালে ঐ খেলা পরিত্যাগ করে ক্রিকেটের দিকে মনোনিবেশ ঘটান।[২]

অক্সফোর্ডশায়ারের অ্যাবিংডনের কাছাকাছি কালহাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ওডিংডিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। কিন্তু, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাপকসংখ্যক খেলায় অংশগ্রহণের কারণে তার শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[২]

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

সাসেক্সের খেলোয়াড় ও কোচ কেন সাটল তাকে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলাতে চেয়েছিলেন। কেননা, তিনি বলকে দূর্দান্তভাবে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় মোকাবেলায় সক্ষম ছিলেন। কিন্তু, তার বোলিংয়ের ধার কমে যায় ও তেমন আশাপদ ছিল না।[৩] তিনি দ্রুতলয়ে ফাস্ট সিম বোলার হিসেবে উত্তরণ ঘটান। তিনি ব্যাটসম্যানদের মাথায় তার খাঁটো প্রকৃতির বল দিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম হন। তিনি দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেন। গ্ল্যামারগন বনাম সাসেক্সের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জন স্নো’র।[৪]

১৯৬১ সালে কার্ডিফ আর্মস পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসটিতে ২/১২ ও ৩/৬৭ বোলিং পরিসংখ্যানসহ ১২ রান তুলেছিলেন। কাউন্টি ক্যাপ লাভের জন্য তাকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। এ সময়ে সাসেক্স দলে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। ১৯৬৩ সালে জিলেট কাপের চূড়ান্ত খেলায় ওরচেস্টারশায়ারকে পরাভূত করে দলের শিরোপা বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।[৫] কাপের অভিষেক খেলায় তিনি ৩/১৩ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে অভিষেক ঘটিয়ে ২/২৮ পান।[৬]

১৯৬০-এর দশকে সাসেক্স দল চারজন সিম বোলারকে খেলায়। এ সময়ে তাদের কোন স্পিনার ছিল না। জিলেট কাপ ও হোভের সবুজ উইকেটের উপযোগী বোলিং নিয়ে অগ্রসর হলেও অন্যত্র সফলতা পায়নি তারা। স্নো’র মতে, এরফলে দলকে বেশ মূল্য দিতে হয়েছে। ১৯৬৩ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে দলটি চতুর্থ স্থান দখল করে। অনেকগুলো খেলায় খণ্ডকালীন স্পিনারকে বোলিং করতে দেখা যায়।[৭] দলে প্রতিষ্ঠা লাভ ও টেস্ট বোলার হিসেবে নিয়মিত খেলার ফলে নির্জীব উইকেটেও তাকে দীর্ঘসময় ব্যবহার করা হয়। এরফলে তিনি প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন না বলে অভিযোগ উঠে ও তিনি মাঝে-মধ্যেই বোলিং করতে অস্বীকার করতে থাকেন।[৮]

এ প্রসঙ্গে সাসেক্স কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারা ও দলকে পরিচালনা না করার কথা বলেন যা ক্লাবের ও দলের গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়।[৯] উল্টো তারা জানায় যে, তিনি তার সেরা বোলিং ইংল্যান্ডের জন্য সংরক্ষণ করে চলেছেন। তাস্বত্ত্বেও ১৯৬১ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে ২১.৩০ গড়ে ৮৮৩ উইকেট পেয়েছিলেন ও এ সময়ে ক্লাবের সেরা সফলতম বোলারের মর্যাদা পেয়েছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৭ জুন, ১৯৬৫ তারিখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এম. জে. কে. স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে টেস্ট অভিষেক ঘটে জন স্নোয়ের। লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি ফ্রেড ট্রুম্যানের সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এ টেস্টে সাসেক্সের দলীয় সঙ্গী টেড ডেক্সটারউইকেট-রক্ষক জিম পার্কসও অংশগ্রহণ করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২৮/৪ থাকা অবস্থায় তিনি বোলিং আক্রমণে নামেন। মধ্যাহ্নবিরতির পূর্বে জন রিডকে পার্কসের কটে ও উইকেট-রক্ষক আর্টি ডিককে বোল্ড করেন জন স্নো।[১০] তবে গ্রেইম পোলকের ১২৬ রান ও পিটার পোলকের ১০/৮৭ বোলিং পরিসংখ্যানের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা দল খেলায় জয় পায়। স্নো ১/৬৩ ও ৩/৮৩ লাভ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টসহ এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

১৯৬৬ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ড সফরে আসে। হোভে ১০,০০০ দর্শকের সম্মুখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে ৭/২৯ ও ৪/১৮ নিয়ে চমক দেখান।[১১] খেলায় সাসেক্স দল সফরকারী দলকে ৯ উইকেটে পরাভূত করে। ফলশ্রুতিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ট্রেন্ট ব্রিজে খেলার জন্য দলে ফিরিয়ে আনা হয়। খেলায় তিনি ৪/৮৪ ও ০/১১৭ লাভ করেন।[১২] হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টেস্টে ৩/১৪৩ লাভ করেন।[১৩] তাস্বত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। এ অবস্থায় সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে দলের নেতৃত্বে আসেন অবিস্মরণীয় ক্রিকেট তারকা ব্রায়ান ক্লোজ। শুরুতে দলের বাইরে অবস্থান করছিলেন জন স্নো।[১৪] কিন্তু, ইংল্যান্ডের তৎকালীন সেরা গতিসম্পন্ন বোলার জন প্রাইস আঘাত পেলে তিনি খেলার সুযোগ পান। সুযোগকে কাজে লাগান তিনি। এক পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ছিল ১৬৬/৭। টম গ্রেভেনি ১৬৫ ও জন মারে ১১২ রান তুলে দলের বিপর্যয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। এরপর স্নো আট বাউন্ডারি সহযোগে অপরাজিত ৫৯ ও সতীর্থ বোলার কেন হিগস ৬৩ রান তুলে ১২৮ রান যুক্ত করে দলকে চালকের আসনে এনে দেন। আর মাত্র দুই রান যুক্ত করতে পারলেই তারা তৎকালীন দশম উইকেটের সংগৃহীত বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসাতে পারতেন। তবে, তাদের সংগৃহীত রান অদ্যাবধি ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সর্বোচ্চ রানের জুটিরূপে স্বীকৃত হয়ে আসছে।[১৫] তাদের এ সংগ্রহটি ১০ ও ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের মধ্যকার জুটিতে সর্বকালের সেরাদের টেস রেকর্ড হিসেবে রয়ে গেছে।[১৬] এরপর তারা প্যাভিলিয়নে ফেরৎ আসলে বিয়ার সহযোগে উৎসবে মাতোয়ারা হন যা সংবাদপত্রে খেলার সচিত্র প্রতিমূর্তি তুলে ধরে। স্নো’র সংগৃহীত অপরাজিত ৫৯ রান ইংল্যান্ডের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম টেস্ট অর্ধ-শতক ছিল। পরবর্তীতে ২৯১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে জিমি অ্যান্ডারসন ৮১ রান তুলে তার এ রেকর্ডকে ম্লান করে দেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদ্বয় - কনরাড হান্টইস্টন ম্যাকমরিসকে ১২ রানে ফেরৎ পাঠান। সোবার্সকে প্রথম বলেই শূন্য রানে ব্রায়ান ক্লোজের কটে পরিণত করেন। এরফলে ইংল্যান্ড খুব সহজেই ইনিংস ও ৩৪ রানে জয় পায়। খেলায় জন স্নো ২/৬৬ ও ৩/৪০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। সোবার্স তার আউটের বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, স্নো’র বলটি কিছুটা বাউন্স আকারে আসে। তবে আমার মতে, যে-কোন কিছুর চেয়ে তার বলটি বেশ গতিসম্পন্ন ছিল। আমার শরীরের কিনারে স্পর্শ করে। এরপর বলটি ব্রায়ানের কাছে চলে যায়।[১৭] খেলার পর জন স্নো জাতীয় বীরে পরিণত হন। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রথমসারির ফাস্ট বোলারের মর্যাদা লাভসহ ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে থাকেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে কোন সফর হয়নি। ১৯৬৭ সালের গ্রীষ্মে ভারতের ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩০.০০ গড়ে ১৩ উইকেট পান। তবে ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ দুই টেস্ট খেলা থেকে বিরত থাকেন।[১৮]

ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন[সম্পাদনা]

ব্রায়ান ক্লোজের স্থির দৃষ্টিভঙ্গী কখনো লর্ডসে প্রতিষ্ঠা পায়নি। ফলশ্রুতিতে, অমায়িক প্রকৃতির অধিকারী কলিন কাউড্রেকে দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়। তিনি ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে এমসিসি দলের অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যান। এখানেই প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্নো তার অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুযোগ পান। ড্র হওয়া প্রথম টেস্টে তাকে খেলার সুযোগ না দেয়া হলেও দ্বিতীয় টেস্টে পূর্ণাঙ্গভাবে এ সুযোগ গ্রহণ করেন। জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত টেস্টটিতে ৭/৪৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।[১৯] উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান স্টিভ কামাচো, রোহন কানহাই, গ্যারি সোবার্স, ব্যাসিল বুচার, ডেভিড হলফোর্ড, চার্লি গ্রিফিথ ও ওয়েস হল তার শিকারে পরিণত হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৩ রানে তাদের ইনিংস গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। তন্মধ্যে, গ্যারি সোবার্সকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে প্রথম বলেই শূন্য রানে বিদায় করেন।

প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়ানো বুচারের আউটের পর দাঙ্গার উপক্রম হয়। দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।[২০] ফলো-অনের কবলে পড়েও ৩৯১ রান তুলে। স্নো ১/৯১ লাভ করেন। শেষদিনে ইংল্যান্ড ৬৮/৬ তুলে খেলা শেষ করে। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম খালি করা ছিল। বার্বাডোসে ব্যাটিং উপযোগী পিচে সোবার্স ব্যাট করতে নামেন।[২১] স্নো ৫/৮০ লাভ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৪৯ রানে ইনিংস শেষ করে দেন। ইংল্যান্ডের ৪৪৯ রানের বিপরীতে স্বাগতিক দল ২৮৪/৬ করে। স্নো ৩/৩৯ পান। ত্রিনিদাদে জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সিরিজ জয় করে।[২২] তবে ঐ টেস্টে স্নো ০/৬৮ ও ১/২৯ লাভ করে দলকে জয়ে তেমন ভূমিকা পালন করতে পারেননি। গ্যারি সোবার্স ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারী দলকে পৌনে তিন ঘন্টায় ২১৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন। তবে ইংল্যান্ড দল তিন মিনিট বাকী থাকতে নাটকীয়ভাবে তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। গায়ানার সিরিজের শেষ টেস্টে স্নো ৪/৮৪ ও ৬/৬০ পান।[২৩]

খেলায় তিনি নিজস্ব সেরা টেস্ট পরিসংখ্যান ১০/১৪৪ লাভ করেন যা তার খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র দশ উইকেট লাভ ছিল। তাস্বত্ত্বেও ইংল্যান্ড কোনক্রমে পরাজয়বরণ থেকে রক্ষা পায়। শেষদিনে তারা ২০৯/৯ তুলে খেলা শেষ করে। গ্যারি সোবার্স ৩/৫৩ ও ল্যান্স গিবস ৬/৬০ পেয়েছিলেন। স্নো ৪৫ মিনিটে ৬০ বল মোকাবেলা করে সন্ধ্যার পূর্ব-মুহুর্তে ১ রানে আউট হন। ১৯৬৬ সালে রোহন কানহাই তাকে বারংবার বলেছিলেন যে, ক্যারিবীয় উইকেটে তোমায় দেখে নেব।[২৪] তবে, স্নো চার টেস্টে ১৮.৬৬ গড়ে ২৭ উইকেট নিয়ে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। অদ্যাবধি ওয়েস্ট ইন্ডিজে যে-কোন ইংরেজ বোলারের সর্বাধিক উইকেট লাভের কৃতিত্ব বহন করে আসছে। পরবর্তীতে অবশ্য ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার ছয় টেস্টে অংশ নিয়ে ১৮.২২ গড়ে ২৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সিরিজ বিজয়ে জন স্নো স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। এরপর পরবর্তী সিরিজ বিজয়ের জন্য ৩৬ বছর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় ইংল্যান্ডকে; যা ২০০৩-০৪ মৌসুমে মাইকেল ভন এ সফলতা পেয়েছিলেন।

অ্যাশেজ সিরিজ[সম্পাদনা]

১৯৬৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দল ইংল্যান্ড সফরে আসে। বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলে সফরকারী দল অ্যাশেজ নিজেদের করায়ত্ত্ব রাখে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টে দলটি ১৫৯ রানে স্বাগতিক দলকে পরাজিত করেছিল।[২৫] স্নো তার অভিষেক অ্যাশেজ সিরিজে ৪/৯৪ পেয়েছিলেন। খেলায় ইংল্যান্ড কেবলমাত্র একজন স্পিনারকে খেলায় যা পিচের উপযুক্ত ছিল। লর্ডসে পরের টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ৭৮ রানে অল-আউট হয়। স্নো ১/১৪ পান। ফলো-অনের কবলে পড়লেও বৃষ্টির কারণে ড্রয়ে পরিণত হয়। ২৭টি ধারাবাহিক টেস্টে ইংল্যান্ড কোন খেলায় পরাজিত হয়নি। তন্মধ্যে, স্নো ২২ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।[২৬]

হেডিংলিতে[২৭] কিথ ফ্লেচারের টেস্ট অভিষেক হয়। স্নো’র বলে স্লিপে দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ফ্লেচার। একটি ডানদিকে ও অপরটি বামদিকে ছিল। স্নো ৩/৯৮ পেয়েছিলেন।[২৮] চূড়ান্ত টেস্টটি ওভালে অনুষ্ঠিত হয়।[২৯] মূলতঃ ডেরেক আন্ডারউডের কারণে বৃষ্টি নামার মাত্র তিন মিনিট পূর্বে ইংল্যান্ড জয় পায়। স্নো ও কাছাকাছি থাকা অপর আটজন ফিল্ডার তখন দূর্ভাগা অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানের পাশে ‘‘রিং এ রিং ও’ রোজেস’’ গান গাইতে থাকেন।[৭] প্রথম ইনিংসে ৩/৬৭ পেলে সিরিজে ২৯.০৮ গড়ে ১৭ উইকেট পান। কেবলমাত্র আন্ডারউড ১৫.১০ গড়ে ২০ উইকেট নিয়ে তার সম্মুখে ছিলেন।

পাকিস্তান গমন[সম্পাদনা]

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো সিলন যান। এরপর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান গমন করেন। দেশটি তখন অস্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। ছাত্ররা সশস্ত্র অবস্থায় ঢাকাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল ও সফর চালিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ব্রিটিশ হাই কমিশন থেকে এমসিসিকে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করে।[৩০]

কাউড্রে প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কয়েক ওভার অনুশীলনীর কথা স্নোকে জানান। কিন্তু, স্নো তা প্রত্যাখান করে জানান যে, আগামী দুই দিন তিনি অনুশীলনী করতে পারবেন না; কেবলমাত্র মিডিয়াম পেস বোলিং করতে সক্ষম হবেন। ফলশ্রুতিতে, তার দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রাধান্য দিয়ে দলের বাইরে রাখেন।[৩১] কিন্তু, ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে খেলার জন্য তাকে দলে রাখা হয়।[৩২] প্রথম ইনিংসে ৪/৭০ পান। সিরিজের সবকটি টেস্টই ড্রয়ে পরিণত হয়। লাহোরের টেস্টের তৃতীয় দিনে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে সফর শেষ হয়ে যায়।[৩৩] স্টেডিয়ামে আগুন জ্বালানো হয়। স্নো কোন উইকেট পাননি। ডিসেন্ট্রিতে আক্রান্ত হন যা পুরো এক বছর লেগে যায় তার সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে।[৩৪]

ক্রিকেট বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর অনুষ্ঠিত হয়।[৩৫]

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিপর্যকর ফলাফলের পর জন স্নো পুণরায় ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্য মনোনীত হন। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ১২ ওভারে মাত্র চব্বিশ রান দিলেও কোন উইকেট পাননি।[৩৬] তবে ঐ খেলায় তার দল ২০২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এজবাস্টনে পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে ৪/১১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। [৩৭] তার এই বোলিং পরিসংখ্যানটি একদিনের আন্তর্জাতিকে নিজস্ব সেরা বোলিং ছিল। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় তার দল। হেরে যাওয়া ঐ খেলায় তিনি নির্দিষ্ট ১২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট লাভ করেছিলেন।[৩৮]

ঐ প্রতিযোগিতায় ১০.৮৩ গড়ে ৬ উইকেট নিয়ে বোলিং গড়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ বোলার ও ইংল্যান্ডের সেরা বোলার হন।[৩৯]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সালে কেরি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় চলমান বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন জন স্নো।[৪০] বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ শেষে সানডে লীগ ক্রিকেটের সাত খেলায় ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলেন। ২৯.৬২ গড়ে ৮ উইকেট, ৫৭.০০ গড়ে ৫৭ রান এবং কয়েকটি খেলায় ব্যাটিং উদ্বোধন করেছেন জন স্নো।[৪১]

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্যাকারের কাছ থেকে অর্জিত অর্থে ট্রাভেল এজেন্সী খোলেন।[৪২] এক পর্যায়ে সাসেক্স ক্রিকেট ক্লাবের পরিচালক মনোনীত হন। তবে, ২০০৯ সালে এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।[৪৩] এরপর থেকে দাতব্য খেলায় অংশগ্রহণ করে আসছেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

জন স্নো তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও টেস্ট খেলাগুলোয় ফাস্ট-মিডিয়াম সিম বোলার হিসেবে খেলতেন। কিন্তু, ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা না হলে দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট খেলতে চলে যান। সেখানে তার বোলিং ভঙ্গীমার পরিবর্তন ঘটান। বুক বরাবর বোলিং করতেন। ফলশ্রুতিতে তার বেশ সীমাবদ্ধরূপ ধারন করে ও বলের গতিধারায় সক্ষমতা পান। তবে, কাউন্টি ও সফরকারী দলের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় সচরাচর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। কিন্তু টেস্ট খেলায় ফাস্ট বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। হোভের পেস উপযোগী উইকেটে তার প্রাণবন্ত খেলা লক্ষ্য করা যায়।[৪৪][৪৫]

১৯৭০-৭১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে ছয় টেস্টে অংশ নিয়ে ২২.৮৩ গড়ে ৩১ উইকেট পেলেও সফরের অন্য ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ৭১.৫৭ গড়ে মাত্র ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। টেস্টে তিনি চতুরতার সাথে বোলিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে চার্লি গ্রিফিথের ন্যায় কিছুটা খাঁটোমানের বোলিং করতেন। ফলে, কিছুটা লাফিয়ে ব্যাটসম্যানের শরীরে স্পর্শ করতো।[৪৫] এরফলে, তিনি বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যানের মাথায় আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ান। ১৯৬৮ সালে হোভে সমারসেটের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী গ্রেগ চ্যাপেল এবং ১৯৭০-৭১ মৌসুমে সিডনি টেস্টে নিচেরসারির ব্যাটসম্যান গার্থ ম্যাকেঞ্জিটেরি জেনার তার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। ইয়ান চ্যাপেলের মতে, তিনি সর্বদাই নতুন সিরিজে বহুধরনের বোলিংয়ের কবলে পড়েছিলেন।[৪৬]

আক্রমণধর্মী ও খাঁটো প্রকৃতির বোলিং করে মাঠে বেশ কিছু ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি করে গেছেন। ব্যাটসম্যানেরা তার বোলিং মোকাবেলায় বেশ অস্বস্তিতে ভুগতো। কেমনভাবে ও কিভাবে বোলিং করবেন তা ভেবেই ব্যাটসম্যানেরা বিব্রতবোধ করতো। তবে, সাসেক্স ও ইংল্যান্ডে তিনি বেশ নিয়মানুবর্তীতা মেনে চলতেন। কিন্তু, দর্শকদের কাছে সঠিকমানের ভীতিপ্রদ ফাস্ট বোলারের প্রতিমূর্তি হিসেবে রয়ে যান।[৪৭]

ট্রুম্যান ও স্ট্যাদাম বাদে নিয়মিতভাবে আর কোন নতুন বলের জুটি গড়তে পারেননি। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত উইলিস খেললেও আঘাত কিংবা দলে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ের সমস্যা থাকায় তারা দুজন জুটি গড়তে পারেননি। ১৯৬৭ সালে এজবাস্টনে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে খেলাকালীন পিঠের পেশীতে টান পড়ে। এক্স-রে পরীক্ষায় তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্রামের জন্য বলা হয়। এরফলে স্নোয়ের খেলায় ছন্দপতন দেখা দেয়। অধিকসংখ্যক ওভার বোলিং করতে পারতেন না ও আঘাত গুরুতর হলে মাঠে ফিল্ডিংয়েও এর প্রভাব পড়ে।[৪৮]

ফ্রেড ট্রুম্যানবব উইলিসের সাথে তিনিও ইংল্যান্ডের সর্বাপেক্ষা অবিস্মরণীয় ফাস্ট বোলারের মর্যাদা লাভ করেছেন।[৪৪] উভয়ের সাথেই খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে একত্রে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯৭০-৭১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় বোলিং করে দলে বিজয়ে সবিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৭৩ সালে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে নামাঙ্কিত হন।

প্রকাশনা জগৎ[সম্পাদনা]

‘ক্রিকেট রেবেল’ শীর্ষক আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন। এতে সাসেক্স ও লর্ডস কর্তৃপক্ষের সাথে তার মতানৈক্যের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।[৪৯]

দুইটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে ফুলার ডি’আর্ক স্মিথ লিমিটেড থেকে ‘কন্ট্রাস্টস’ ও ১৯৭৩ সালে কে এন্ড ওয়ার্ড লিমিটেড থেকে ‘মোমেন্টস অ্যান্ড থটস’ শীর্ষক দুই খণ্ডের কাব্যগ্রন্থ জন স্নো প্রকাশ করেন। উভয় গ্রন্থটিই নিজ আত্মজীবনী ‘ক্রিকেট রেবেল’ থেকে সঙ্কলিত। ‘লর্ডস টেস্ট’ শীর্ষক একটি কবিতায় বিশ্ব ক্রিকেটের সদর দফতরে খেলার উপযুক্ততা[৫০] ও তার অনুভূতির কথা তুলে ধরা হয়।

১৯৬৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫/১১৪ লাভ করেন। এক টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান কবিতাটির কথা জানতে পারে ও লর্ডসের পরবর্তী গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে চলচ্চিত্র আকারে ধারনের আয়োজন করে। জন বেজেম্যানের সাথে তার কবিতা নিয়ে পনেরো মিনিটের অনুষ্ঠান প্রচার করে। কিন্তু, অমনোযোগিতার কারণে দল থেকে বাদ পড়ার প্রেক্ষিতে এ বিষয়টি বাতিল করে দেয়া হয়।[৫০][৫১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. p4, Snow
  2. p21, Snow
  3. p17, Snow
  4. Glamorgan vs Sussex
  5. "The Home of CricketArchive"www.cricketarchive.co.uk 
  6. "The Home of CricketArchive"www.cricketarchive.co.uk 
  7. p61, Snow
  8. p39-42, Snow
  9. p62, Snow
  10. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  11. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  12. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  13. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  14. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  15. p303-313 Arnold
  16. Frindall, Bill (২০০৯)। Ask BeardersBBC Books। পৃষ্ঠা 182–183। আইএসবিএন 978-1-84607-880-4 
  17. p46, Snow
  18. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; ReferenceC নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  19. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  20. p51-54, Snow
  21. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  22. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  23. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  24. p50, Snow
  25. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  26. p?, Snow
  27. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  28. p11, Freddi
  29. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  30. p66-74, Snow
  31. p70-71, Snow
  32. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  33. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com 
  34. p135, Snow
  35. "(Photo) Sunil Gavaskar watches John Snow send down a delivery" 
  36. "The Home of CricketArchive" 
  37. "The Home of CricketArchive" 
  38. "The Home of CricketArchive" 
  39. https://cricketarchive.com/Archive/Events/ENG/Prudential_World_Cup_1975/Bowling_by_Average.html.
  40. "Cricket Archive: Players"। ২৪ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  41. p280, Arnold
  42. http://www.cricinfo.com/magazine/content/story/372655.html.
  43. http://www.sussexcricket.co.uk/news-events/news-archive/Sussex+CCC+elect+Bob+Warren+to+the+Board/ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে.
  44. p231, Swanton, 1986.
  45. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; ReferenceB নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  46. Ian Chappell, Test Match Special in the First Test England vs Australia, British Broadcasting Corporation, 10 July 2009.
  47. "(Photo) John Snow bowls" 
  48. p. 116-121, Snow
  49. Snow, John (১৯৭৬)। Cricket Rebel। Hamlyn। আইএসবিএন 0-6003-1932-6এএসআইএন 0600319326 
  50. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; p77 Snow নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  51. Snow, John (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬)। "Cricket Rebel: An Autobiography"। Hamlyn Publishing – Amazon-এর মাধ্যমে। 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Peter Arnold, The Illustrated Encyclopaedia of World of Cricket, W.H. Smith, 1985
  • Dickie Bird with Keuth Lodge, My Autobiography, Hodder & Stoughton, 1997
  • Geoffrey Boycott, Boycott: The Autobiography, Pan Books, 2006
  • Ashley Brown, A Pictorial History of Cricket, Bison Books Ltd, 1988
  • Greg Chappell, Old Hands Showed The Way, Test Series Official Book 1986–87, The Clashes for the Ashes, Australia vs England, Playbill Sport Publication, 1986
  • Ian Chappell and Ashley Mallett, Hitting Out: The Ian Chappell Story, Orion, 2006
  • Bill Frindall, The Wisden Book of Test Cricket 1877–1978, Wisden, 1979
  • Colin Firth, Pageant of Cricket, The MacMillian Company of Australia,1987
  • Criss Freddi, The Guinness Book of Cricket Blunders, Guinness Publishing, 1996
  • Tony Greig, My Story, Stanley Paul, 1980
  • Ken Kelly and David Lemmon, Cricket Reflections: Five Decades of Cricket Photographs, Heinemann, 1985
  • Dennis Lillee, Lillee, My Life in Cricket, Methuen Australia, 1982
  • Dennis Lillee, Menace: the Autobiography, Headline Book Publishing, 2003
  • Brian Luckhurst and Mike Baldwin, Boot Boy to president, KOS Media, 2004
  • Adrian McGregor, Greg Chappell, Collins, 1985
  • Mansoor Ali Khan Pataudi, Tiger's Tail, Stanley Paul, 1969
  • Ray Robinson, On Top Down Under, Cassell, 1975
  • Lou Rowan, The Umpires Story with an Analysis of the laws of cricket, Jack Pollard, 1972
  • John Snow, Cricket Rebel: An Autobiography, Hamlyn Publishing Ltd, 1976
  • Mike Stevenson, Illy: A Biography of Ray Illingworth, Midas Books, 1978
  • E.W. Swanton, Swanton in Australia with MCC 1946–1975, Fontana, 1977
  • E.W. Swanton (ed), The Barclays World of Cricket, Collins, 1986
  • Derek Underwood, Beating the Bat: An Autobiography, Stanley Paul, 1975
  • Richard Whitington, Captains Outrageous? Cricket in the seventies, Stanley Paul, 1972
  • Bob Willis, Lasting the Pace, Collins, 1985

ডিভিডি[সম্পাদনা]

  • David Steele, England Cricket Six of the Best: The Seventies, A Sharpe Focus Production for Green Umbrella, 2009 (showing Snow's 7/40 in the Fourth Test at Sydney in 1970–71, his 48 in the Fourth Test at Headingley in 1972 and his 3/22 in the Second Test at Headlingley in 1975)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]