সিডনি বার্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সিডনি বার্ক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসিডনি ফ্রাঙ্ক বার্ক
জন্ম (1934-03-11) ১১ মার্চ ১৯৩৪ (বয়স ৮৫)
প্রিটোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাত ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২১২)
১ জানুয়ারি ১৯৬২ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট৬ জানুয়ারি ১৯৬৫ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৪/৫৫-১৯৬৭/৬৮নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল
১৯৫৭/৫৮-১৯৬০/৬১অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৮
রানের সংখ্যা ৪২ ২৩৩৪
ব্যাটিং গড় ১৪.০০ ২৬.৫২
১০০/৫০ –/– ১/১১
সর্বোচ্চ রান ২০ ১১১
বল করেছে ৬৬০ ১২৮১৫
উইকেট ১১ ২৪১
বোলিং গড় ২৩.৩৬ ২১.৩৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/১২৮ ৭/১১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ২৪/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ১০ নভেম্বর ২০১৭

সিডনি ফ্রাঙ্ক বার্ক (ইংরেজি: Sydney Burke; জন্ম: ১১ মার্চ, ১৯৩৪) ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে দলের পক্ষে দুই টেস্টে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।[১] ঘরোয়া ক্রিকেটে নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটে খেলেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন সিডনি বার্ক

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বার্ক মাঝারি কিংবা নিচের সারিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ছিলেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভালঅরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের সদস্য ছিলেন। উভয় দলই জাতীয় পর্যায়ের কারি কাপ প্রতিযোগিতায় দূর্বল অবস্থানে ছিল। বার্কের ব্যাটিং কিংবা বোলিং তেমন প্রভাববিস্তার করেনি। কিন্তু, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে বেশ কয়েকজন বোলারের আঘাতের কারণে ও দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদিচ্ছায় নতুন খেলোয়াড়দেরকে জাতীয় দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তার অভিষেক ঘটে।[২] অভিষেক টেস্টে ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জিত হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা পরাজয়বরণ করে। প্রথম ইনিংসে ৬/১২৮ পান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৬৮ লাভ করেন। ঐ টেস্টে তিনি ১১/১৯৬ পেয়েছিলেন।[৩] তার এ সাফল্যটি ১৯২২-২৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আল্ফ হলের ১১/১১২-এর পর দক্ষিণ আফ্রিকানদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা ছিল।[৪] মার্চ, ২০১৭ সাল পর্যন্ত সিডনি বার্ক ও আল্ফ হল অভিষেকে ১০ বা ততোধিক উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান।[৫] এছাড়াও সতীর্থ ফাস্ট বোলার গডফ্রে লরেন্সের আঘাতের কারণে বার্ককে ৮১ ওভার বোলিং করতে হয়েছিল। উইজডেন এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে যে, প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ৩৮৫ রান তুলে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সম্মুখসারির ব্যাটসম্যানেরা বার্কের ইন-সুইঙ্গারে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। দৃশ্যতঃ তিনি বোলিং করে স্থির মূর্তিমান ছিলেন।[৬] তার এই অবিস্মরণীয় বোলিং করা স্বত্ত্বেও তাকে পরের টেস্টে বাদ দেয়া হয় ও তিন বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা পিটার হেইনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু সাফল্য না পাওয়ায় নির্বাচকমণ্ডলী নিল এডককপিটার পোলককে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে অন্তর্ভূক্ত করান।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য মনোনীত হননি। কিন্তু, নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমে মাত্র ৮.৪৫ গড়ে ৩৫ উইকেট নেন ও নিজস্ব সেরা বোলিং মৌসুম অতিবাহিত করেন।[৭] এ প্রসঙ্গে উইজডেন মন্তব্য করেন যে, অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়লেও তারা তাদের অন্তর্ভূক্তির জন্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যয়ী ছিল। ফলশ্রুতিতে দল নির্বাচকমণ্ডলী ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে টেস্ট প্রস্তুতিমূলক খেলায় তাকে মনোনীত করেন। সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একপেশে খেলায় তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন।[৮]

অবসর[সম্পাদনা]

টেস্টে প্রথম অংশগ্রহণের ঠিক তিন বছর পর বার্ককে একই দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে নেয়া হয়। এবার তিনি কোন উইকেট না পেলেও ড্র হওয়া ঐ টেস্টে ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখান।[৯] এরপর তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয় ও যার আর কোন পুণরাবৃত্তি ঘটেনি।

১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকান ইউনিভার্সিটিজ দলকে নিয়ে সফলভাবে ইংল্যান্ড সফর করেন। উইজডেনের প্রতিবেদনে তাকে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনসহ কোচের দায়িত্ব নেয়ার কথা উল্লেখ করে।[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sydney Burke" (ইংরেজি ভাষায়)। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  2. "New Zealand in South Africa, 1961–62"। Wisden Cricketers' Almanack (1963 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 899। 
  3. "Scorecard: South Africa v New Zealand"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯৬২। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  4. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯২৩। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  5. "Statistics / Statsguru / Test matches / Bowling records / South Africa / Debut / wickets taken (descending)"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৭ 
  6. "New Zealand in South Africa, 1961–62"। Wisden Cricketers' Almanack (1963 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 908। 
  7. "First-class bowling in each Season by Sydney Burke"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  8. "Scorecard: South Africa v The Rest"। www.cricketarchive.com। ২ অক্টোবর ১৯৬৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  9. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯৬৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  10. Wisden 1968, p. 711.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]