আর্টি ডিক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আর্টি ডিক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআর্থার এডওয়ার্ড ডিক
জন্ম (1936-10-19) ১৯ অক্টোবর ১৯৩৬ (বয়স ৮৩)
মিডলমার্চ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯১)
৮ ডিসেম্বর ১৯৬১ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১৭ জুন ১৯৬৫ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৭ ৭৮
রানের সংখ্যা ৩৭০ ২,৩১৫
ব্যাটিং গড় ১৪.২৩ ২০.৩০
১০০/৫০ ০/১ ১/১০
সর্বোচ্চ রান ৫০* ১২৭
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪৭/৪ ১৪৮/২১
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আর্থার এডওয়ার্ড ডিক (ইংরেজি: Artie Dick; জন্ম: ১০ অক্টোবর, ১৯৩৬) মিডলমার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন আর্থার ডিক নামে পরিচিত আর্টি ডিক

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত আর্টি ডিকের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫৬ সালের বড়দিনে ওতাগোর সদস্যরূপে আর্টি ডিকের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করেন।

ব্যাটিংয়ে মাঝারীমানের সফলতা লাভ করা সত্ত্বেও ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। পাশাপাশি, ১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ডে গমনকারী অভিজ্ঞ উইকেট-রক্ষক জন ওয়ার্ডকে দলে রাখা হয়। তবে, জন ওয়ার্ডের ব্যাটিংয়ের মান দূর্বল থাকায় ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে এমসিসি’র বিপক্ষে ওতাগোর সদস্যরূপে একবারই উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালন করা আর্টি ডিককে গ্লাভস পরিধানের সুযোগ দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সতেরোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন আর্টি ডিক। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৭ জুন, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবার পথে পার্থে অবস্থানকালে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নেন। তবে, খেলায় তিনি ৩২টি বাই রান দেন।[১] আফ্রিকায় পৌঁছার পর তার খেলার উত্তরণ চোখে পড়ে। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটি খেলাতেই তিনি উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলেন। ২১ ক্যাচ ও ২টি স্ট্যাম্পিং করেন। তবে, এ সিরিজে সর্বমোট ৫২টি বাই রান দেন। তার তুলনায় প্রতিপক্ষীয় দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেট-রক্ষক জন ওয়েট মাত্র ৯টি বাই রান দিয়েছিলেন। কেপ টাউনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৫০ রান তুলে দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ড দলকে প্রথম টেস্ট জয়ে প্রভূতঃ সহায়তা করেন।[২] নিউজিল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনকালে অস্ট্রেলিয়ায় আবারও খেলেন। আর্টি ডিক তার খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র সেঞ্চুরির সন্ধান পান। নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ১২৭ রান তুলেন। ঐ সময়ে নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের সংগ্রহ ছিল ৩২/৫।[৩]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ওয়েলিংটন দলে চলে যান। পরবর্তী কয়েকটি টেস্ট সিরিজে স্বীয় স্থান বহাল রাখেন। ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে অংশ নেন। এরপর নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৯৬ রানে দূর্দান্ত ইনিংসটি ৮৭ মিনিটে করেন। ঐ ইনিংসে দুইটি ছক্কা ও ষোলটি চারের মার ছিল।[৪] এর অল্প কয়েকদিন পর তৃতীয় টেস্টে জন ওয়ার্ডকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরপর আর আর্টি ডিককে কোন টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি।

পরবর্তী চার বছর জন ওয়ার্ড, এরিক পেট্রি, রয় হারফোর্ডব্যারি মিলবার্নকে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে স্বল্প কয়েকটি টেস্টে উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলানো হয়। ১৯৬৯ সালে কেন ওয়াডসওয়ার্থ নিজেকে এ অবস্থানের জন্যে পাকাপোক্ত করে তুলেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলেন। এরপর, ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমের পূর্ব-পর্যন্ত কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেননি। ঐ মৌসুমে চারটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের শুরুতে ওয়েলিংটন ক্লাব ক্রিকেটে বার্ষিকাকারে প্রদেয় শীর্ষ রান সংগ্রহকারী হিসেবে আর্থি ডিক কাপ পুরস্কারের প্রচলন করা হয়।[৫][৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Western Australia v New Zealanders 1961–62
  2. Wisden 1963, p. 908.
  3. New South Wales v New Zealanders 1961–62
  4. Wisden 1966, p. 291.
  5. "Award and Trophies"। Yumpu। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৮ 
  6. "Club Awards Recognise Season's Best"। Cricket Wellington। ২৪ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৮ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]