উইলিয়াম ব্রুস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
উইলিয়াম ব্রুস
William Bruce cricketer c1895.jpg
আনুমানিক ১৮৯৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে উইলিয়াম ব্রুস
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৮৬৪-০৫-২৪)২৪ মে ১৮৬৪
দক্ষিণ ইয়ারা, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু৩ আগস্ট ১৯২৫(1925-08-03) (বয়স ৬১)
এলউড, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩২)
১ জানুয়ারি ১৮৮৫ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১ মার্চ ১৮৯৫ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৪ ১৪৫
রানের সংখ্যা ৭০২ ৫৭৩১
ব্যাটিং গড় ২৯.২৫ ২৩.৯৭
১০০/৫০ ০/৫ ৪/২৮
সর্বোচ্চ রান ৮০ ১৯১
বল করেছে ৯৮৮ ৯৬৪২
উইকেট ১২ ১৪৩
বোলিং গড় ৩৬.৬৬ ২৯.৬৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৮৮ ৭/৭২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১২/০ ১০২/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ জুন ২০১৯

উইলিয়াম ব্রুস (ইংরেজি: William Bruce; জন্ম: ২৪ মে, ১৮৬৪ - মৃত্যু: ৩ আগস্ট, ১৯২৫) ভিক্টোরিয়ার দক্ষিণ ইয়ারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৮৫ থেকে ১৮৯৫ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকরী মিডিয়াম বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৮৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত উইলিয়াম ব্রুসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চৌদ্দটি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন উইলিয়াম ব্রুস। ১ জানুয়ারি, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে একই মাঠে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম খেলতে নামেন।[২] এ টেস্টের পূর্বে ১০জন অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় ধর্মঘট করেন। ফলশ্রুতিতে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি। ১ জানুয়ারি, ১৮৮৫ তারিখে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে উইলিয়াম ব্রুস, জন ট্রাম্বল, এফি জার্ভিস, রোল্যান্ড পোপ, আলফ্রেড মার, হ্যারি মাসগ্রোভ, জ্যাক ওর‍েল, স্যাম মরিসডিগার রবার্টসনের একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল।[৩] ঐ খেলায় তার দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। খেলায় তিনি অপরাজিত ৩ ও ৪৫ এবং বল হাতে নিয়ে ৩/৮৮ ও ০/৪ পান।

স্বভাবজাত বামহাতি খেলোয়াড় হিসেবে উইলিয়াম ব্রুসের সুনাম ছিল। তবে, ভিক্টোরিয়া থেকে আসা ব্রুস ১৪ টেস্টে অংশ নিলেও কোন সেঞ্চুরির সন্ধান পাননি। ২৯ গড়ে রান তুলেন যা ঐ সময়ের ক্রিকেটে দূর্দান্ত গড় ছিল। এছাড়াও, ব্যাটসম্যান হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৮৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে উইলিয়াম ব্রুস ইংল্যান্ড গমন করেন। জ্যাক ব্ল্যাকহামের অধিনায়কত্বে ঐ দলে তিনিসহ আম্পায়ার থমস ও কার্পেন্টার, ম্যানেজার হিসেবে ভি কোহেন; অ্যাফি জার্ভিস, ওয়াল্টার গিফেন, অ্যালেক ব্যানারম্যান, হ্যারি ট্রট, হিউ ট্রাম্বল, জর্জ গিফেন, জেজে লায়ন্স, বব ম্যাকলিওড, চার্লস টার্নার, হ্যারি গ্রাহাম, আর্থার কনিংহামসিড গ্রিগরি ছিলেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে কিংবা মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন তিনি। চমৎকার খেলা প্রদর্শন করতেন। কিন্তু, অনিশ্চিত রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমার কারণে তাকে মাশুল গুণতে হতো। বেশ কয়েকটি সুন্দর ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তন্মধ্যে, অ্যাডিলেডে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ৮০ রানের ইনিংসটি বেশ দর্শনীয় ছিল। এছাড়াও, বল হাতে কার্যকরী মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে আবির্ভূত হতেন। টেস্টে প্রাপ্ত ১২ উইকেটের মধ্যে, সাতটিই ছিল বোল্ড।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর উকিল হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। ১৯২৫ সালের কোন এক সকালে স্বীয় স্ত্রীকে চুম্বন করে বিদায় নেন। স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে তিনি নৈশকালীন খাবার বাড়ীতে গ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। ঐ সময়ে তিনি আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন ও আর্থিক দূরাবস্থায় পতিত ছিলেন। অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। মানসিক রোগে জর্জড়িত থাকা উইলিয়াম ব্রুস নিজ বাড়ী থেকে অল্প দূরে থাকা সাগরে ডুবে মারা যান।[৪]

৩ আগস্ট, ১৯২৫ তারিখে ৬১ বছর বয়সে ভিক্টোরিয়ার সেন্ট কিল্ডার এলউড এলাকায় দেহাবসান ঘটে উইলিয়াম ব্রুসের।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Australia – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৯ 
  2. Result 2nd Test, England tour of Australia at Melbourne, Jan 1-5 1885. Cricinfo
  3. "England in Australia (1884 – 1885): Scorecard of second Test"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৯, ২০১৯ 
  4. Hit wicket: Why do cricketers commit suicide?. DNA India

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]