ডিক মোৎজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডিক মোৎজ
ডিক মোৎজ.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরিচার্ড চার্লস মোৎজ
জন্ম(১৯৪০-০১-১২)১২ জানুয়ারি ১৯৪০
ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু২৯ এপ্রিল ২০০৭(2007-04-29) (বয়স ৬৭)
ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯২)
৮ ডিসেম্বর ১৯৬১ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২১ আগস্ট ১৯৬৯ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩২ ১৪২
রানের সংখ্যা ৬১২ ৩,৪৯৪
ব্যাটিং গড় ১১.৫৪ ১৭.১২
১০০/৫০ ০/৩ ১/১৩
সর্বোচ্চ রান ৬০ ১০৩*
বল করেছে ৭,০৩৪ ২৯,৭৭৩
উইকেট ১০০ ৫১৮
বোলিং গড় ৩১.৪৮ ২২.৭১
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৬৩ ৮/৬১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯/– ৪১/–

রিচার্ড চার্লস মোৎজ (ইংরেজি: Dick Motz; জন্ম: ১২ জানুয়ারি, ১৯৪০ - মৃত্যু: ২৯ এপ্রিল, ২০০৭) ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন ডিক মোৎজ। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ টেস্ট উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি।[১]

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ডিক মোৎজ নর্থে নিউ ব্রাইটন প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এরপর লিনউড হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। উভয় প্রতিষ্ঠানেই চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। এছাড়াও রাগবি, টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও গল্ফে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। বিদ্যালয় থেকে চলে আসার পর দুই বছর নিউ ব্রাইটন রাগবি দলের পক্ষে ফুল ব্যাক অবস্থানে খেলেছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ক্যান্টারবারির পক্ষে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন। ১৯৫৭ সালে প্লাঙ্কেট শীল্ডে অভিষেক ঘটে তার। বিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ঐ অভিষেক খেলায় ৪/৪০ পান।[২][৩] ফাস্ট বোলার হিসেবে সুনাম কুড়ান ও নিচেরসারিতে মারমুখী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ডিক মোৎজ।

নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সুন্দর খেলেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ৮/৬১ পান।[৪] একই মৌসুমে ওতাগোর বিপক্ষে অপরাজিত ১০৩ রান তুলেন।[৫] এক ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন করা এটিই একমাত্র শতরানের ইনিংসে ছিল তার।[৬] ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৪ রান তুলেছিলেন।[৭] তন্মধ্যে ৬ ছক্কা ও ১০ চারের মারেই সংগ্রহ করেছিলেন ৭৬ রান।[৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৩২ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন তিনি। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ডিসেম্বর, ১৯৬১ সালে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের পাঁচজন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাতজন ক্রিকেটারের একযোগে অভিষেক ঘটে। এতে তিনিও অন্যতম ছিলেন।[৮] এ সফরে ১৯ গড়ে ৮১ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। তন্মধ্যে, পাঁচ টেস্টে ১৯ উইকেট পেয়েছিলেন।[৬]

টেস্টে তিনি পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একবার ও স্বদেশে সফরকারী ভারতওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুইবার করে পান। এছাড়াও নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে নিয়েও বেশ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনবার সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে তিনবার অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেছিলেন ডিক মোৎজ।

১৯৬৮ সালে প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট খেলা চলাকালে উইকেটের মাঝখানে দৌড়ানোর অপরাধে বোলিং করা থেকে আম্পায়ার কর্তৃক বিরত রাখা হয়।[৬][৯] আগস্ট, ১৯৬৯ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ওভালে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।[১০] ফিল শার্পকে এলবিডব্লিউতে বিদেয় করে প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় বোলার হিসেবে একশত টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় এটিই তার একমাত্র উইকেট ছিল।[২]

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৬১ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক, ১৯৬২ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল ও ১৯৬৬ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।[১১][১২] ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ড স্পোর্টস হল অব ফেমে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

মাত্র ২৯ বছর বয়সে ডিক মোৎজের খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। কশেরুকার সমস্যায় আক্রান্ত হবার পরও আরও এক বছর পিঠের ব্যথা নিয়ে খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।[২][৬] ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও ক্রীড়াসরঞ্জামাদি ব্যবসায় পরিচালনায় অগ্রসর হন তিনি। এরপর তিমারু এলাকায় পানশালা খুলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে দুইবার বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন তিনি। প্রমিলা ক্রিকেটার লরেটা টডের সাথে প্রথম পাণিগ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে তাদের সম্পর্ক বিবাহ-বিচ্ছেদে পরিণত হয়। এ দম্পতির এক পুত্র ও দুই কন্যা ছিল। তন্মধ্যে, ১৯৮৯ সালে তার সন্তান ওয়েন খুন হয়।[২] এরপর তিনি যোসেফিন কোলকে বিয়ে করেন।

জীবনের শেষদিকে ৩০ স্টোনেরও অধিক ওজনের অধিকারী হন।[২] ২৯ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে ৬৭ বছর বয়সে ক্রাইস্টচার্চে ডিক মোৎজের দেহাবসান ঘটে।[৬][১৩] নিউজিল্যান্ডীয় সাবেক টেস্ট অধিনায়ক গ্রাহাম ডাউলিং তার মৃতদেহ দেখতে আসেন। প্রথম স্ত্রীর দুই কন্যাকে রেখে যান তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Captain calypso"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. Obituary, The Daily Telegraph, 7 May 2007
  3. Scorecard, Canterbury v Northern Districts, Plunket Shield 1957/58, from CricketArchive.
  4. Scorecard, Canterbury v Wellington, Plunket Shield 1966/67, from CricketArchive.
  5. Scorecard, Canterbury v Otago, Plunket Shield 1967-68, from CricketArchive.
  6. Obituary ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে, The Independent, 11 May 2007
  7. Scorecard, South Australia v New Zealanders, November 1967, from CricketArchive.
  8. Scorecard, South Africa v New Zealand, 1st Test, 1961-62, from Cricinfo.
  9. Former fast bowler Dick Motz dies, Cricinfo, 29 April 2007.
  10. Scorecard, England v New Zealand, 3rd Test, 1969, from Cricinfo.
  11. R. T. Brittenden"1966 Wisden Cricketers of the Year - Dick Motz"Wisden। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২২, ২০১৭ 
  12. Profile from CricketArchive.
  13. AAP (৩০ এপ্রিল ২০০৭)। "NZ cricketer Dick Motz dead at 67"The Sydney Morning Herald। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-২৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]