দুর্গাবাঈ দেশমুখ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দুর্গাবাঈ দেশমুখ
জন্ম(১৯০৯-০৭-১৫)১৫ জুলাই ১৯০৯
মৃত্যু৯ মে ১৯৮১(1981-05-09) (বয়স ৭১)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, আইনজীবী, সামাজিক কর্মী এবং রাজনীতিজ্ঞ
যে জন্য পরিচিতনারী মুক্তির জন্য জনকর্মী
উল্লেখযোগ্য কর্ম
অন্ধ্র মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা (অন্ধ্র নারী সম্মেলন)
দাম্পত্য সঙ্গীসি.ডি. দেশমুখ
১৯৮২ সালে ভারতের একটি ডাকটিকিটে দুর্গাবাঈ দেশমুখ
রাজামুন্দ্রিতে দুর্গাবাই দেশমুখের আবক্ষ প্রতিমূর্তি

দুর্গাবাঈ দেশমুখ, লেডি দেশমুখ (১৫ জুলাই ১৯০৯ – ৯ মে ১৯৮১) ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, আইনজীবী, সামাজিক কর্মী এবং রাজনীতিজ্ঞ। তিনি ভারতের সংবিধান পরিষদ এবং ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন।

নারী মুক্তির জন্য জনকর্মী হিসাবে, তিনি ১৯৩৭ সালে অন্ধ্র মহিলা পরিষদের (অন্ধ্র নারী সম্মেলন) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন। ১৯৫৩ সালে, তিনি, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রথম ভারতীয় গভর্নর এবং ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের অর্থমন্ত্রী, সি.ডি. দেশমুখকে বিবাহ করেন।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম জীবন থেকেই, দুর্গাবাই ভারতীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১২ বছর বয়সে, তিনি ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাদানের প্রযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে স্কুল ছাড়েন। মেয়েদের জন্য হিন্দি শিক্ষা প্রচারের জন্য, তিনি রাজামুন্দ্রিতে বালিকা হিন্দি পাঠশালা শুরু করেছিলেন।[১]

যখন, ১৯২৩ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কাঁকিনাড়া শহরে তাদের সম্মেলন রাখে,[১] তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে সেখানে কাজ করেন এবং একই সঙ্গে চলা খাদি প্রদর্শনীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল, টিকেট ছাড়া কোন দর্শনার্থীকে যাতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা। তিনি সততার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এমনকি, জওহরলাল নেহ্‌রুকেও প্রবেশ করা থেকে বিরত করেছিলেন।[২][৩] প্রদর্শনীর উদ্যোক্তারা যখন দেখলেন তিনি কী করেছেন, এবং রাগ করে তাঁকে ভর্ৎসনা করলেন, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি শুধুমাত্র নির্দেশাবলী অনুসরণ করছেন। উদ্যোক্তারা নেহরুর জন্য একটি টিকিট কেনার পরেই তিনি তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেন। যে সাহসের সঙ্গে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, নেহরু সেই সাহসের জন্য মেয়েটির প্রশংসা করেন।

তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী ছিলেন। তিনি কখনোই গহনা বা প্রসাধনী ব্যবহার করেননি, এবং তিনি ছিলেন সত্যগ্রাহী।[৪] তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সময় গান্ধী নেতৃত্বাধীন লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী একজন বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ছিলেন। আন্দোলনের সময়ে মহিলা সত্যাগ্রহী সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন।[৫] এর ফলে, ব্রিটিশ রাজ, ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে তাঁকে তিনবার কারাদন্ডে দন্ডিত করে।[১]

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর, দুর্গাবাই তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি ১৯৩০ এর দশকে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তাঁর বি.এ. এবং এম.এ. ডিগ্রী প্রাপ্ত করেন।[৪] তিনি ১৯৪২ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর আইন ডিগ্রী লাভ করেন, এবং মাদ্রাজ উচ্চ আদালতে উকিল হিসাবে কাজ শুরু করেন।[১]

দুর্গাবাই ব্লাইন্ড রিলিফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। সেই ক্ষমতাবলে, তিনি দৃষ্টিহীনদের জন্য একটি আবাসিক বিদ্যালয় এবং একটি হালকা প্রকৌশল কর্মশালা তৈরী করেন।

দুর্গাবাই ভারতের সংবিধান পরিষদ এর সদস্য ছিলেন। তিনি সংবিধান পরিষদের চেয়ারম্যানের নামের তালিকায় একমাত্র মহিলা ছিলেন।[১] তিনি অনেক সামাজ কল্যাণ আইন প্রণয়নে সহায়তা করেছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে সংসদে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হন, এবং পরবর্তীকালে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মনোনীত হন।[১] এই ভূমিকায়, তিনি সামাজ কল্যাণে জাতীয় নীতির জন্য জোরদার সমর্থন সংগ্রহ করেন। এই নীতির ফলে ১৯৫৩ সালে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয়। বোর্ডের প্রথম সভাপতি হিসেবে, তিনি তাঁর কার্যক্রম চালানোর জন্য বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে সংহত করেন, যার লক্ষ্য ছিল শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, এবং অভাবগ্রস্ত মহিলা, শিশু, এবং প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন। তিনি ১৯৫৮ সালে, ভারত সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, নারী শিক্ষা জাতীয় কাউন্সিলের প্রথম সভাপতি ছিলেন।[৬] ১৯৫৯ সালে, কমিটি তার নিম্নরূপ সুপারিশ উপস্থাপন করে:

  1. "কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে মেয়েদের শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে.
  2. কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, স্ত্রীশিক্ষার জন্য একটি বিভাগ তৈরি করা উচিত।
  3. মেয়েদের সঠিক শিক্ষার জন্য, প্রতিটি রাজ্যে নারী শিক্ষার পরিচালক নিযুক্ত করা উচিত।
  4. উচ্চশিক্ষায় সহশিক্ষা যথাযথভাবে সংগঠিত হওয়া উচিত।
  5. বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশনে, মেয়েদের শিক্ষার জন্য আলাদাভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ করতে হবে।
  6. উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ে, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত
  7. ঐচ্ছিক বিষয়গুলির পছন্দের সুবিধা, মেয়েদের জন্যও উপলব্ধ করা উচিত।
  8. মেয়েদের একটি উদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের সুবিধা দিতে হবে।
  9. গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে উৎসাহ দেওয়া উচিত।
  10. তাদের জন্য বিভিন্ন পরিষেবায় বিপুল সংখ্যক আসন সংরক্ষিত রাখা উচিত।
  11. প্রাপ্তবয়স্ক নারীর শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কার্যক্রমগুলি যথাযথভাবে সগুরু করতে হবে এবং উৎসাহ দিতে হবে।"[৭]

তাঁর দানকে স্মরণীয় করে রাখতে, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁদের মহিলা অধ্যয়ন বিভাগের নামকরণ করেছেন ড. দুর্গাবাঈ দেশমুখ সেন্টার ফর উইমেন স্টাডিজ[৮] ১৯৬৩ সালে, বিশ্ব খাদ্য কংগ্রেসে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে তাঁকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হয়েছিল।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Smith, Bonnie G. (২০০৮-০১-০১)। The Oxford Encyclopedia of Women in World History: 4 Volume Set। Oxford University Press, USA। আইএসবিএন 9780195148909 
  2. Dedicated to cause of women, The Hindu. 4 November 2002
  3. Suguna, B. (২০০৯)। Women's Movement। Discovery Publishing House। পৃষ্ঠা 127। আইএসবিএন 9788183564250 
  4. Rao, P. Rajeswar (১৯৯১)। The Great Indian Patriots। Mittal Publications। পৃষ্ঠা 133। আইএসবিএন 9788170992806 
  5. Jayapalan, N. (২০০১)। History Of India (from National Movement To Present Day)। Atlantic Publishers & Dist। পৃষ্ঠা 73। আইএসবিএন 9788171569175 
  6. Government of India (১৯৫৯)। Report of the National Committee on Women's Education। New Delhi: Government of India। 
  7. Deka, B. (২০০০-০১-০১)। Higher Education in India: Development and Problems। Atlantic Publishers & Dist। পৃষ্ঠা 47। আইএসবিএন 9788171569243 
  8. "Durgabai Deshmukh centennial inaugurated"। The Hindu। ১৬ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ৩, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]