শশী কাপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শশী কাপুর
জন্ম বলবীর রাজ পৃথ্বীরাজ কাপুর
(১৯৩৮-০৩-১৮) ১৮ মার্চ ১৯৩৮ (বয়স ৭৯)[১]
কলকাতা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমানে - কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
বাসস্থান মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত
অন্য নাম বলবীর
শশী
বলবীর রাজ
শশা (তাঁর ভাই শাম্মী কাপুর ব্যবহার করতেন)
শশী বাবা
জাতিসত্তা পাঞ্জাবি[২]
পেশা অভিনেতা, পরিচালক, নির্মাতা
কার্যকাল ১৯৪১-১৯৯৯ (অবসর)
দাম্পত্য সঙ্গী জেনিফার ক্যান্ডল (১৯৫৮-১৯৮৪; মৃত্যু)
সন্তান কুণাল কাপুর
করণ কাপুর
সঞ্জনা কাপুর
পিতা-মাতা পৃথ্বীরাজ কাপুর (বাবা)
রামস্বামী কাপুর (মা)
আত্মীয় রাজ কাপুর (ভাই)
শাম্মী কাপুর (ভাই)
দেখুন - কাপুর পরিবার
পুরস্কার পদ্মভূষণ (২০১১)

বলবীর রাজ পৃথ্বীরাজ কাপুর (জন্ম: ১৮ মার্চ, ১৯৩৮) বিখ্যাত ভারতীয় অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। এছাড়াও, হিন্দি চলচ্চিত্র অঙ্গনে চলচ্চিত্র পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন শশী কাপুর[৩]

ভারতের বলিউডের চলচ্চিত্রে মূখ্য ভূমিকা পালনকারী বিখ্যাত কাপুর পরিবারের অন্যতম সদস্য তিনি। ব্যাপকসংখ্যক হিন্দিভাষী চলচ্চিত্রের পাশাপাশি স্বল্পসংখ্যক ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রেও তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে।

২০১১ সালে চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদান রাখার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত হন।[৪] ২০১৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেন। পৃথ্বীরাজ কাপুররাজ কাপুরের পর কাপুর পরিবারের তৃতীয় সদস্যরূপে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা পান।[৫]

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় শশী কাপুরের জন্ম।[৬] বিখ্যাত অভিনেতা রাজ কাপুর ও শাম্মী কাপুরের ছোট ভাই তিনি। পৃথ্বীরাজ কাপুর তাঁর বাবা। মুম্বইয়ের মাতুঙ্গার ডন বস্কো হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন।

চার বছর বয়সেই অভিনয়কর্মে সংশ্লিষ্ট হন। পৃথ্বী থিয়েটারে গমনকালে বাবা পৃথ্বীরাজ কাপুরের পরিচালনায় ও নির্দেশনায় নাটকসমূহে অভিনয় করেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষদিকে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। বাণিজ্যিকধর্মী চলচ্চিত্র সংগ্রাম, দানা পানিতে 'শশীরাজ' নামে আবির্ভূত হন। পৌরাণিক চলচ্চিত্রে ঐসময়ে একই নামে আরও একজন শিশু শিল্পী অভিনয় করতো। আগ ও আওয়ারায় শিশুশিল্পী হিসেবে স্মরণীয় অভিনয় করেন। ঐ চলচ্চিত্রসমূহে তাঁর বড়ভাই রাজ কাপুরের ছোটকালের চরিত্রে এবং ১৯৫০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সংগ্রাম চলচ্চিত্রে অশোক কুমারের ছেলেবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সময়কালে সর্বমোট চারটি হিন্দি চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী ছিলেন তিনি।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পোস্ট বক্স ৯৯৯-এ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। উল্লেখ্য যে, এ চলচ্চিত্রটি সুনীল দত্তের অভিষেক চলচ্চিত্র ছিল। ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ধর্মপুত্র চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এরপর থেকে ১১৬টি হিন্দি চলচ্চিত্রে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, ৬১টিতে একক নায়ক, ৫৫টিতে বহুনায়কের অংশগ্রহণ এবং ২১টিতে পার্শ্ব অভিনেতা ও ৭টি চলচ্চিত্রে বিশেয দৃশ্যে হাজির হন।

১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে দ্য হাউজহোল্ডারশেক্সপিয়ার-ওয়াল্লার ন্যায় ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রসমূহে অংশ নেন। ভারতের অন্যতম প্রথম অভিনেতাদের একজনরূপে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে অংশ নিয়েছেন তিনি।[৭] অভিনেত্রী নাদিরার সাথে আবেগময় চলচ্চিত্র চার দিওয়ারি এবং মেহেন্দি লাগি মেরে হাতের ন্যায় সামাজিক চলচ্চিত্রে অংশ নিয়ে সাড়া জাগান। ১৯৬০-এর দশকে অভিনেত্রী নন্দা'র সাথেও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে জুটি গড়েন।[৮] ১৯৯০-এর দশকে এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নন্দা তাঁর প্রিয় নায়িকা এবং অন্যতম পরামর্শদাত্রী ছিলেন।[৯] অন্যদিকে, নন্দাও শশী কাপুরকে তাঁর প্রিয় নায়করূপে স্বীকার করেছেন।

১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ থেকে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রাখী, শর্মিলা ঠাকুর, জিনাত আমানের সাথে জুটি গড়েন। এছাড়াও, হেমা মালিনী, পারভিন ববিমৌসুমি চট্টোপাধ্যায়ের সাথেও নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। তন্মধ্যে, হেমা মালিনীর বিপরীতে ১০টি চলচ্চিত্রে ছিলেন। বহুনায়ক নিয়ে গড়া প্রেম কাহানীতে রাজেশ খান্নার সাথেও কাজ করেছেন।

১৯৭৮ সালে নিজস্ব চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফিল্ম ভালাস প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জুনুন, কলিযুগ, ৩৬ চৌরঙ্গী লেন, বিজেতা ও উৎসব নির্মাণ করেন।[১০] ১৯৯১ সালে তাঁর নির্দেশনায় ও পরিচালনায় আজুবা মুক্তি পায়। এতে তিনি সহনায়ক হিসেবে অমিতাভ বচ্চন ও ভাইপো ঋষি কাপুরের সাথে অংশ নেন।

চলচ্চিত্র জীবনের শুরু থেকে নন্দা, প্রাণ, ধর্মেন্দ্র, দেব আনন্দ, ইসমাইল মার্চেন্ট, রাজেশ খান্না, সঞ্জীব কুমার তাঁর নিকটতম বন্ধু ছিলেন। এছাড়াও, অমিতাভ বচ্চন, যশ চোপড়া, এমজিআর, কিশোর কুমার, মোহাম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকরসহ অনেকের সাথেই জানাশোনা ছিল তাঁর।

১৯৮৭ সাল থেকে খুব কমই অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে পিয়ার্স ব্রসনানের সাথে দ্য ডিসিভার্স চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।[১১] ১৯৯৪ সালে মুহাফিজ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার বিশেষ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে গালিভার্স ট্রাভেলসের টেলিভিশন সংস্করণে রাজা চরিত্রে ছিলেন। চলচ্চিত্রে তাঁর সর্বশেষ ও সাম্প্রতিক অংশগ্রহণ ছিল ১৯৯৮ সালের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ'র আত্মজীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র জিন্নাহ। ঐ চলচ্চিত্রে তিনি অনুবাদক ছিলেন। এছাড়াও, মার্চেন্ট আইভরি প্রোডাকশন্স থেকে একই সালের মুক্তিপ্রাপ্ত সাইড স্ট্রিটসেও একই ভূমিকায় ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে চলচ্চিত্র জগৎ থেকে পুরোপুরিভাবে অবসর নেন। এরপর থেকে তাঁকে আর কোন চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সালে কলকাতায় নিজ নিজ থিয়েটারে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালীন ইংরেজ অভিনেত্রী জেনিফার ক্যান্ডলের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সহকারী মঞ্চ ব্যবস্থাপক ও অভিনেতা হিসেবে বাবার থিয়েটার গ্রুপ পৃথ্বী থিয়েটারে কাজ করতেন। জিওফ্রে ক্যান্ডলের শেক্সপিয়ারীয় গ্রুপ ঐ সময়ে কলকাতায় আসে ও তাঁর কন্যাই জেনিফার। বেশ কয়েকবার স্বাক্ষাৎকারের পর তাঁরা একে-অপরের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। শুরুতে ক্যান্ডলের বাবা এতে বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ান ও বৌদি গীতা বালির সমর্থনে জুলাই, ১৯৫৮ সালে তাঁদের সম্পর্কে পরিণয়ে গড়ায়।[১২] তাঁরা একত্রে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। ৫ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে মুম্বইয়ে তাঁরা পৃথ্বী থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।[১৩] এ দম্পতির কুণাল কাপুর, করণ কাপুর ও সঞ্জনা কাপুর - তিন সন্তান রয়েছে।[১৪] ১৯৮৪ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জেনিফারের দেহাবসান ঘটে।

২০ জুলাই, ২০১২ তারিখে আন্ধেরির কোকিলাবেন হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। একইদিন তিনি হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান।[১৫]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত শশী কাপুর চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্যমণি ছিলেন তিনি। ৫৫তম বার্ষিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অনুষ্ঠানে তাঁকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০১১ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত হন।[৪] একই সালে মোহাম্মদ রফি পুরস্কার পান।[১৬] মে, ২০১৫ সালে ইউনিয়ন মন্ত্রী অরুণ জেটলির কাছ থেকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।[১৭]

রচিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Film Beat http://www.filmibeat.com/celebs/shashi-kapoor/biography.html/
  2. Jain, Madhu (২০০৯)। The Kapoors: The First Family of Indian Cinema (Revised সংস্করণ)। Penguin Group India। আইএসবিএন 000-0-00000-000-0 
  3. "Shashi Kapoor Biography – Bollywood Actor"। সংগৃহীত ২৮ জুলাই ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Brajesh Mishra, Azim Premji, Montek in list of 128 Padma awardees"The Times Of India (India)। 
  5. "Actor Shashi Kapoor chosen for Dadasaheb Phalke Award for 2014"NetIndian। সংগৃহীত ২৩ মার্চ ২০১৫ 
  6. http://www.tellychakkar.com/tv/tv-news/surjit-saha-re-enter-sab-tv-s-badi-dooooor-se-151224
  7. Retiring Room: Shashi Kapoor – 5
  8. http://m.indianexpress.com/picture-gallery/2326/9
  9. "A quiet half century"The Hindu (Chennai, India)। ১৬ জুলাই ২০১১। 
  10. Retiring Room: Shashi Kapoor – 7
  11. "James Bond wishes Shashi Kapoor"The Times Of India। ১৭ মার্চ ২০১১। 
  12. rediff.com, Movies: Profiling Shashi Kapoor: the icon of suave
  13. Shashi Kapoor-2
  14. "Biography for Shashi Kapoor" 
  15. "Shashi Kapoor undergoes catract surgery"The Times Of India। ২০ জুলাই ২০১২। সংগৃহীত ২০১২-০৭-২০ 
  16. "2011 Mohammed Rafi Awards"The Indian Express। India। 
  17. "Shashi Kapoor chosen for the prestigious Dada Saheb Phalke Award"IBNLive। সংগৃহীত ২৩ মার্চ ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]