কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়
জন্ম
কমলাদেবী ধারেশ্বর

(১৯০৩-০৪-০৩)৩ এপ্রিল ১৯০৩
মৃত্যু২৯ অক্টোবর ১৯৮৮(1988-10-29) (বয়স ৮৫)
যেখানের শিক্ষার্থীবেদফোর্ড কলেজ, লন্ডন
দাম্পত্য সঙ্গীকৃষ্ণ রাও (বি. ১৯১৭১৯১৯)
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বি. ১৯১৯১৯৮৮)
সন্তানরামকৃষ্ণ চট্রোপাধ্যায়
পুরস্কাররামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৬৬)
পদ্মভূষণ (১৯৫৫)
পদ্মবিভূষণ (১৯৮৭)

কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় (কন্নড়: ಕಮಲಾ ದೇವಿ ) (এপ্রিল ৩, ১৯০৩ – অক্টোবর ২৯, ১৯৮৮) ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন উল্লেখযোগ্যা নেত্রী।[১] স্বাধীনতার পর ভারতীয় হস্ত শিল্প, নাট্যকলাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এনার নিরলস প্রয়াস অবিস্মরণীয়।

শৈশব[সম্পাদনা]

কমলাদেবী ৩ এপ্রিল ১৯০৩ সালে ম্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতামাতার চতুর্থ এবং ছোট কন্যা সন্তান।তার বাবার নাম আন্নানথায়া ধারেশ্বর ও মায়ের নাম গিরিজাবা। কামালদেবী একজন ব্যতিক্রমী ছাত্রী ছিলেন এবং অল্প বয়স থেকেই তিনি দৃঢ়সংকল্প এবং সাহসী ছিলেন।তার বাবা-মা মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, গোপাল কৃষ্ণ গোখলে এবং রামাবাই রানাডে এবং অ্যানি বেসন্তের মতো মহিলা নেতাসহ অনেক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের সাথে বন্ধুত্ব ছিল। সেইজন্যে তরুণ কমলাদেবীকে স্বদেশী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রারম্ভিক উৎসাহী করে তুলেছিল।

বৈবাহিক জীবন[সম্পাদনা]

কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়ের ১৯১৭ সালে ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়, কিন্তু বিয়ের দুই বছর পরে তিনি বিধবা হন।[২] তারপরে চেন্নাইয়ে রানী মেরি কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে সুহাসিনী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে কমলাদেবীর পরিচয় হয়, যিনি ভারতের কম্যুনিস্ট পার্টির নেত্রী ছিলেন ও সরোজিনী নাইডুর ছোট বোন। সুহাসিনী ছিল কমলাদেবীর সহপাঠি, পরবর্তীতে কমলাদেবীকে তার প্রতিভাবান ভাই হারিন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। হারিন্দ্রনাথ ছিলেন কবি-নাট্যকার-অভিনেতা। অবশেষে, যখন কমলাদেবীর বিশ বছর বয়স, তখন হরিন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে বিয়ে হয়। এর ফলে নানা সমসযার সম্মুখীন হতে হয়। পরের বছরে তাদের একমাত্র পুত্র রাম জন্মগ্রহণ করেন।[৩]

লন্ডন যাওয়া[সম্পাদনা]

বিবাহের অল্পসময় পরে, হারিন লন্ডন ভ্রমণে চলে যান এবং কয়েক মাস পরে কামালদেবীও তার সাথে যোগ দেন। সেখানে গিয়ে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেডফোর্ড কলেজে ভর্তি হন এবং পরে সমাজবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।[৪]

স্বাধীনতা আন্দোলনের আহ্বান[সম্পাদনা]

লন্ডনে থাকাকালীন কমলাদেবী ১৯২৩ সালে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তিনি অবিলম্বে দেশের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত গান্ধী সংগঠন সেবা দলে যোগদান করার জন্য ভারতে ফিরে আসেন।এই দলের মাধ্যমে নারীদের স্বাধীনতা আন্দোলনে একত্রিত করেন।

১৯২৬ সালে তিনি মাদ্রাসের প্রাদেশিক বিধানসভায় অংশ নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়ে অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কনফারেন্স (এআইডাব্লিউসি) এর প্রতিষ্ঠাতা মার্গারেট ই ক্যাসিন্সের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এভাবে তিনি ভারতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রথম মহিলা নেত্রী হয়েছিলেন। যদিও তিনি কয়েকদিনের জন্য প্রচারণা চালাতে পারেছিলেন এবং তিনি ৫৫টি ভোটের পার্থক্যে হেরেছিলেন।

অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কনফারেন্স[সম্পাদনা]

পরের বছর তিনি অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কনফারেন্স (এআইডাব্লিউসি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার প্রথম সংগঠনিক সচিব হন।পরবর্তী কয়েক বছরে, এআইডাব্লিউসি-এর শাখা এবং স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি সহ, সম্মানিত জাতীয় সংগঠন হয়ে উঠে এবং এর মাধেমে আইনী সংস্কারের জন্য দৃঢ়ভাবে কাজ করে।

বইসমুহ[সম্পাদনা]

  • ভারতীয় নারীর সচেতনতা (The Awakening of Indian women)
  • জাপান-এর দুর্বলতা ও শক্তি (Japan-its weakness and strength)
  • স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় নারী যুদ্ধ (Indian Women's Battle for Freedom)
  • ভারতীয় কার্পেট এবং মেঝে কভার (Indian Carpets and Floor Coverings)
  • ভারতীয় সূচিকর্ম (Indian embroidery)
  • ভারতীয় লোক নৃত্যের ঐতিহ্য (Traditions of Indian Folk Dance)

এছারাও আরও অনেক বই তিনি লিখেছেন।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

ভারত সরকার ১৯৫৫ সালে পদ্মভূষণ এবং ১৯৮৭ সালে পদ্মা ভুবনে সম্মানিত করে, যা ভারতের প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে শ্রদ্ধাশীল বেসামরিক পুরষ্কারের মধ্যে অন্যতম।[৫] তিনি ১৯৬৬ সালে কমিউনিটি লিডারশিপের জন্য রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে, তার জীবনকালের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ, তিনি সঙ্গীত নাটক একাডেমী ফেলোশিপ রত্ন সাদাস্যাকে ভূষিত করেন।[৬].

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kamala Devi Centenary Celebrated, Nehru Centre"। ১৫ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. "A Freedom Fighter With a Feminist Soul, This Woman's Contributions to Modern India Are Staggering!"The Better India। ৩ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. Bhargava, G.S. (১৬ অক্টোবর ২০০৭)। "Kamaladevi Chattopadhyay: The Many-splendoured Figure"Mainstream। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৮ 
  4. "Kamaladevi Chattopadhyaya | Making Britain"www.open.ac.uk। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৭ 
  5. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৫ 
  6. Ratna Sadsya ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে Sangeet Natak Akademi website.