আমজাদ আলি খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আমজাদ আলি খান
Amjad Ali Khan.jpg
কোচিতে একটি সংগীতানুষ্ঠানে আমজাদ আলি খান, ২০০৮
প্রাথমিক তথ্যাদি
জন্ম নাম মাসুম আলি খান
ধরন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত
বাদ্যযন্ত্র সরোদ
সহযোগী শিল্পী হাফিজ আলি খান, আমান আলি খান, আয়ান আলি খান
ওয়েবসাইট সরোদ ডট কম

আমজাদ আলি খান (হিন্দি: अमजद अली खान) (জন্ম: ৯ অক্টোবর, ১৯৪৫ - ) একজন স্বনামধন্য ভারতীয় সরোদবাদক তথা শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ। আমজাদ আলি খানের জন্মও এক স্বনামধন্য সংগীতজ্ঞ পরিবারে। ১৯৬০-এর দশক থেকে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। ২০০১ সালে তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হয়।

প্রথম জীবন ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৫ সালের ৯ অক্টোবর গোয়ালিয়রে আমজাদ আলি খানের জন্ম হয়। তাঁর জন্মগত নাম ছিল মাসুম আলি খান। তিনি ছিলেন গোয়ালিয়র রাজসভার সভাগায়ক হাফিজ আলি খান ও রাহাৎ জাহানের ছয় সন্তানের কনিষ্ঠতম।[১][২] তাঁর পরিবার বঙ্গাশ ঘরানার উত্তরপুরুষ যাঁরা নিজেদের সরোদের আবিষ্কর্তা বলে দাবি করেন।[২][৩][৪] এক সাধু তাঁর নাম পরিবর্তন করে আমজাদ রাখেন।[১] পিতার নিকট আমজাদ সংগীতে তালিম নেন।[১] তিনি অত্যন্ত অল্পবয়স থেকেই নানা স্থানে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুরু করেন।[১]

১৯৬৩ সালে আমজাদ আলি খান প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরোদ বাজান। ২০০০-এর দশক পর্যন্ত এদেশে একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁকে সপুত্র সরোদ বাজাতে দেখা গেছে।[১][৫] সারা জীবন ধরে তিনি তাঁর বাদ্যযন্ত্রের উন্নতিতে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছেন।[৩] আমজাদ আলি খান হংকং ফিলহার্মোনিক অর্কেস্ট্রায় সরোদ বাজিয়েছেন এবং নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন।[২]

স্বীকৃতি ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৮৯ সালে আমজাদ আলি খান সঙ্গীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭৫ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৯১ সালে পদ্মভূষণ ও ২০০১ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করে।[৬][৭] ২০০৪ সালে তিনি লাভ করেন ফুকুওকা এশীয় সংস্কৃতি পুরস্কার[৮] ১৯৮৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেট্‌স ২০ এপ্রিল তারিখটিকে আমজাদ আলি খান দিবস ঘোষণা করেছিল।[৯] ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হস্টন, টেক্সাস, ন্যাশভিলে, টেনেসি তাঁকে সাম্মানিক নাগরিকত্ব প্রদান করে। ২০০৭ সালে টুলসা, ওকলাহামাও তাঁকে সাম্মানিক নাগরিকত্ব দেয়।[৯]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আমজাদ আলি খান ১৯৭২ সালে ডায়াবেটিস আক্রান্ত পিতার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁর সেবা করেছেন।[১] এই সময় তাঁর পরিবার তাঁর বিবাহ দিলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে ১৯৭৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আমজাদ দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন ভরতনট্যম শিল্পী শুভলক্ষ্মী বড়ুয়াকে।[১] শুভলক্ষ্মী ছিলেন অসমের বাসিন্দা। বিবাহের পর তিনি নাচ ছেড়ে দেন।[১০] তাঁদের দুই পুত্রের জন্ম হয় – জ্যেষ্ঠ পুত আমান ও কনিষ্ঠ পুত্র আয়ান। দুজনেই পিতার নিকট সংগীতে তালিম নেন।[১] আমজাদ আলি খান মুসলমান হলেও তাঁর স্ত্রী হিন্দু[২] গোয়ালিয়ারে তাঁর পৈত্রিক ভবনটি এখন একটিসঙ্গীত চর্চা কেন্দ্র। বর্তমানে তিনি সপরিবারে নতুন দিল্লিতে বাস করেন।[১১][১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ ১.৭ Sawhney, Anubha (২৩ নভেম্বর ২০০৩)। "Amjad Ali Khan, unplugged"Times News Network (The Times of India)। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ Bhatia, Shyam (১ অক্টোবর ২০০২)। "The sound of sarod music"Rediff.com। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  3. ৩.০ ৩.১ Weisman, Steven R. (৭ জুন ১৯৮৮)। "Traditionalist Reshapes India's Ancient Sarod"The New York Times। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  4. Rockwell, John (২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)। "Review/Music; Another Indian Master, This Time of the Sarod"The New York Times। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  5. Ratliff, Ben (৩০ অক্টোবর ২০০৬)। "From India, a Sarod Dynasty Represented by Father and Sons"The New York Times। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  6. "SNA: List of Akademi Awardees – Instrumental – Sarod"Sangeet Natak Akademi। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  7. "Padma Awards"Ministry of Communications and Information Technology। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  8. "Amjad Ali Khan – The 15th Fukuoka Asian Culture Prizes 2004"। Asian Month। ২০০৯। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  9. ৯.০ ৯.১ "Amjad Ali Khan honoured in the US"Press Trust of India (The Times of India)। ১১ এপ্রিল ২০০৭। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  10. "Zakir Hussain and Bangash brothers' ode to heritage"The Tribune। ১৩ ডিসেম্বর ২০০৩। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  11. Ramnarayan, Gowri (৮ জানুয়ারি ২০০৬)। "Commitment to tradition"The Hindu। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 
  12. Steinberg, David (১১ এপ্রিল ২০০৪)। "Sarod player preaches music"Albuquerque Journal। সংগৃহীত ২১ নভেম্বর ২০০৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]