অরুণা আসফ আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
অরুণা আসফ আলী
200px
অরুণা আসফ আলী
জন্ম ১৬ জুলাই, ১৯০৯
কালকা, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা হরিয়ানা)
মৃত্যু ২৯ জুলাই ১৯৯৬(১৯৯৬-০৭-২৯) (৮৭ বছর)
জাতীয়তা ভারতীয়
নাগরিকত্ব  ভারত
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Sacred Heart Convent
পেশা ভারতের মুক্তি সংগ্ৰামী, শিক্ষক

অরুণা আসফ আলী (ইংরেজি: Aruna Asaf Ali) (১৯০৯-১৯৯৬) ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগ্রামী ও একজন সমাজকৰ্মী ছিলেন। অরুণা আসফ আলীকে আন্তঃরাষ্ট্ৰীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্ৰে ১৯৯১ সালে জওহরলাল নেহরু পুরস্কার প্ৰদান করা হয়[১]। ১৯৯৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের সৰ্ব্বোচ্চ সম্মান ভারত-রত্ন উপাধিতে সম্মানিত করে আর ১৯৬৪ সালে তাকে আন্তঃরাষ্ট্ৰীয় লেলিন শান্তি পুরস্কারে বিভূষিত করা হয়।[২] সমাজে প্ৰগতি আর শান্তির চেষ্টার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশে নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্ৰথম মহিলা মেয়র ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভানেত্ৰীও ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথে জড়িত থাকার কারণে দিল্লী কংগ্ৰেস কমিটীর সভানেত্ৰী হন।[৩]

জন্ম আর পরিবার[সম্পাদনা]

অরুণা আসফ আলীর জন্ম হয় ১৯০৯ সালের ১৬ জুলাই তারিখে তখনকার পঞ্জাব প্ৰদেশের কালকা নামক শিবালিক পর্বতের পাদদেশের এক ছোট শহরে। তাঁর পূৰ্ব নাম ছিল অরুণা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন এক বাঙালী ব্রাহ্ম পরিবারের মেয়ে। গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের আদি নিবাস পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) বরিশাল জেলায়। পিতা নাম উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, মাতা অম্বালিকা দেবী ব্রাহ্ম সমাজের নেতা ও ব্রহ্ম সঙ্গীত রচয়িতা ত্রৈলোক্যনাথ সান্যালের কন্যা। অরুণার এক কাকা নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠা কন্যা মীরা দেবীর বিবাহ হয়, আরেক কাকা ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় 'বম্বে টকিজে'র চলচিত্র পরিচালক। ১৯২৮ সালে তিনি অধিবক্তা, মুক্তি সংগ্ৰামী, দেশকৰ্মী আসফ আলীর সাথে বিবাহ পাশে আবদ্ধ হন।[৩]

সংগ্ৰামী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্ৰেস কমিটি ভারত ছাড়ো প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করলে অরুণা আসফ আলী দেশবাসীকে এই শেষ সংগ্ৰামটিতে অংশগ্ৰহণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু প্ৰমুখ দেশনেতাদের গ্ৰেপ্তার করার সাথে সাথে চারিদিকে বিদ্ৰোহ আরম্ভ হয়। দেশের জনতা রাজপথে বেরিয়ে এসে বন্দে মাতরম, মহাত্মা গান্ধী কী জয়, ব্রিটিশ ভারত ছাড়ো ধ্বনিতে আকাশ কাঁপিয়ে তোলে। তারপর বহু নেতা আত্মগোপন করেন। আত্ম গোপন করা সকলের ভিতরে ছিলেন- জয়প্ৰকাশ নারায়ণ, রাম মনোহর লোহিয়া, অচ্যুৎ পট্টবৰ্ধন, অরুণা আসফ আলী আদি।[৪] আত্মগোপনকারী সকলেই কিছু সংখ্যক সন্ত্ৰাসমূলক কাজে লিপ্ত হন। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৭০ টা রেল স্টেশন, ৫৫০ টা পোষ্ট অফিস, ৭০ টা পুলিশ স্টেশন, এবং ৮৫ টা অন্যান্য সরকারি আবাসগৃহের ক্ষতি সাধন করেন। অনেক জায়গায় রেল লাইন, টেলিফোন, টেলিগ্ৰাফ লাইন সংযোগহীন করে দেওয়া হয়। সেই সময় অসমের সড়কপথ আর জলপথে রেল বগির উপরে আর উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। সেই সময়ে অসমে আত্ম গোপন করা সকলের ভিতরে ছিলেন-শঙ্কর বরুয়া, জ্যোতিপ্ৰসাদ, ব্ৰজ শৰ্মা, লক্ষ্মীপ্ৰসাদ গোস্বামী, গহণ চন্দ্ৰ গোস্বামী আদি। অরুণা আসফ আলী আত্ম গোপন করেন সাতারা, বালিয়া, নাগপুর আদি জায়গায় ঘুরে সেইসব জায়গায় সমান্তরাল সরকার গঠন করার চেষ্টায় । অরুণা আসফ আলী অসমেও আসেন আর অসমে সন্ত্ৰাসবাদী কাৰ্য করার পরামৰ্শ দেন।

অরুণা আসফ আলী ছিলেন মুক্তি সংগ্ৰামের পুরোধা। বিশেষ করে বিয়াল্লিশের আন্দোলনে তিনি সক্ৰিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। অরুণা আসফ আলী ৯ আগষ্ট বোম্বাই (মুম্বাই) গোয়ালিয়া টেংক ময়দানে ইউনিয়ন জেক নামিয়ে এনে তার জায়গায় ত্রিরঙা পতাকা উড়িয়ে সংগ্ৰামী সকলের মাঝে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলেন।[৪] তাঁকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামে কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছিল। পরে তিনি কংগ্ৰেসের প্ৰতি আস্থা হারিয়ে জাতীয় কংগ্ৰেস ত্যাগ করে সোসিয়ালিস্ট দলে যোগদান করেন। ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর, তিনি গরিব জনসাধারণের সাথে মিলে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করেন। সমাজে প্ৰগতি আর শান্তি আনতে তাঁর প্ৰচেষ্টার কারণে ১৯৫৫ সালে তাঁকে সোভিয়েট দেশ নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্ৰথম মহিলা মেয়র হন যদিও কিছুদিন পরে সেই পদবী ত্যাগ করেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভামন্ত্ৰীর দায়িত্বভার গ্ৰহণ করেছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথেও জড়িত হয়ে পড়েছিলেন।[৩]

পুরস্কার প্ৰাপ্তি[সম্পাদনা]

  1. ভারতরত্ন, (১৯৯৭)
  2. নেহরু পুরস্কার, (১৯৫৫)
  3. লেলিন শান্তি পুরস্কার, (১৯৭৫)
  4. জওহরলাল নেহরু পুরস্কার, (১৯৯১)

মৃত্যু[সম্পাদনা]

বিয়াল্লিশের যুগান্তকারী সংগ্ৰামী অরুণা আসফ আলীর মৃত্যু হয় ১৯৯৬ সালের ২৯ জুলাই।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Pratik Daga। "Short biography of Aruna Asaf Ali"। Preservearticles.com। সংগৃহীত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৩ 
  2. "Aruna Asaf Ali, Indian Freedom Fighter"। Indianetzone.com। জানুয়ারি ১৫, ২০০৯। সংগৃহীত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৩ 
  3. সমীন কলিতা। ভাৰত-ৰত্ন। অজয় কুমাৰ দত্ত, ষ্টুডেণ্টচ্ ষ্ট'ৰচ্। পৃ: ১২৩,১২৪। 
  4. "Aruna Asaf Ali Biography"। Iloveindia.com। সংগৃহীত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


বিষয়শ্ৰেণী:ভারতরত্ন পুরস্কার বিজয়ী বিষয়শ্ৰেণী:ভারতের প্ৰসিদ্ধ ব্যক্তি বিষয়শ্ৰেণী:ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামী