রাজ কাপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজ কাপুর
১৯৫৩ সালে রাজ কাপুর
জন্ম রণবীর রাজ কাপুর
(১৯২৪-১২-১৪)১৪ ডিসেম্বর ১৯২৪
পেশাওয়ার, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমানে খাইবার পাখতুনখাওয়া, পাকিস্তান)
মৃত্যু ২ জুন ১৯৮৮(১৯৮৮-০৬-০২) (৬৩ বছর)
নতুন দিল্লি, ভারত
অন্য নাম দ্য শো ম্যান
জাতিসত্তা পাঞ্জাবি[১]
পেশা অভিনেতা, নির্মাতা, পরিচালক
কার্যকাল ১৯৩৫-১৯৮২
দাম্পত্য সঙ্গী কৃষ্ণা কাপুর
সন্তান রণধীর কাপুর
ঋতু নন্দা
ঋষি কাপুর
রাজীব কাপুর
রিমা জৈন
পিতা-মাতা(গণ) পৃথ্বীরাজ কাপুর (বাবা)
রামস্বামী কাপুর (মা)
আত্মীয় প্রেমনাথ (শ্যালক)
রাজেন্দ্র নাথ (শ্যালক)
নরেন্দ্র নাথ (শ্যালক)
শাম্মী কাপুর (ভ্রাতা)
শশী কাপুর (ভ্রাতা)
দেখুন: কাপুর পরিবার
পুরস্কার পদ্মভূষণ (১৯৭১)
স্বাক্ষর
Raj Kapoor signature.svg

রণবীর রাজ কাপুর (পাঞ্জাবি: ਰਾਜ ਕਪੂਰ; জন্ম: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ - মৃত্যু: ২ জুন, ১৯৮৮) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন।[২] রাজ কাপুরকে 'ভারতীয় চলচ্চিত্রের সেরা পথপ্রদর্শকরূপে' আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।[৩][৪]

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারের কিস্সা খাওয়ানি বাজারের কাছে ঢাক্কি মুনাওয়ার শাহ এলাকায় রাজ কাপুর জন্মগ্রহণ করেন যা বর্তমান পাকিস্তানের পাখতুনখাওয়াপাঞ্জাবী হিন্দু পরিবারের সন্তান রাজ কাপুরের বাবা ছিলেন পৃথ্বীরাজ কাপুর ও মায়ের নাম ছিল রামস্বামী দেবী কাপুর।[৫] পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ ছিলেন।[৬][৭] বিখ্যাত কাপুর পরিবারের সদস্য দেওয়ান বশেশ্বরনাথ কাপুর ও দেওয়ান কেশবমল কাপুর যথাক্রমে তাঁর দাদা ও প্রপিতামহ হন। শশী কাপুর ও প্রয়াত শাম্মী কাপুর - এ ভ্রাতৃদ্বয়ও অভিনয়কর্মের সাথ জড়িয়ে ফেলেন। উর্মিলা সিয়াল নামে তাঁর এক বোন ছিল। শৈশবেই অন্য দুইজন মারা যায়। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার ভারতে বসবাসের লক্ষ্যে ও শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে পেশাওয়ার ছেড়ে চলে আসেন। ১৯৩০-এর দশকে[৮] দেরাদুনের কর্নেল ব্রাউন কেমব্রিজ স্কুলে ও পরবর্তীতে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন।[৯]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৩৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ইনকিলাব চলচ্চিত্রে মাত্র দশ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ ঘটে তাঁর। পরবর্তী ১২ বছরে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর ১৯৪৭ সালে বড় ধারণের সুযোগ পান নীল কমল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ঐ সময়ের শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী ছিলেন মধুবালা। ১৯৪৮ সালে চব্বিশ বছরের যুবক রাজকাপুর নিজস্ব স্টুডিও প্রতিষ্ঠিত করেন আর. কে. ফিল্মস নামে। ফলশ্রুতিতে ঐ সময়ের সর্বকনিষ্ঠ পরিচালক হিসেবে আবির্ভূত হন ও আগ চলচ্চিত্রে তিনিসহ নার্গিস, কামিনী কৌশলপ্রেমনাথ অভিনয় করেন। ১৯৪৯ সালে মেহবুব খানের আন্দাজ চলচ্চিত্রে নার্গিসদিলীপ কুমারের সাথে তিনিও অংশ নেন। ঐ চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িক সফলতা পায় যা অভিনেতা হিসেবে তাঁর প্রথম সাফল্য লাভ। ঐ বছরের শেষদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে বারসাত চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো সফল হন।

আর.কে. ব্যানারের অধীনে ১৯৫১ সালে আওয়ারা, ১৯৫৫ সালে শ্রী ৪২০, ১৯৫৬ সালে চোরি চোরি ও জাগতে রাহো এবং ১৯৬০ সালে জিস দেশ মে গঙ্গা বেহতি হ্যায়ের ন্যায় বেশকিছুসংখ্যক ব্যবসায়িকভাবে সফল চলচ্চিত্র মুক্তিলাভ করে। তন্মধ্যে সর্বশেষ চলচ্চিত্রটি তাঁর দীর্ঘদিনের সিনেমাটোগ্রাফার রধু কর্মকারের নির্দেশনায় নির্মিত হয় ও ফিল্মফেয়ার সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।[১০] ঐ চলচ্চিত্রগুলোয় চার্লি চ্যাপলিনের বিখ্যাত পর্দার অভিব্যক্তি নিজের মাঝে ফুঁটিয়ে তোলেন।[১১]

১৯৬৪ সালে তাঁর নির্মিত, পরিচালিত ও অভিনীত আবেগঘন সঙ্গীতধর্মী চলচ্চিত্র সঙ্গম মুক্তিলাভ করে। এতে বৈজয়ন্তীমালারাজেন্দ্র কুমারের সাথে তিনিও ছিলেন। এটি তাঁর প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ছিল। এছাড়াও চলচ্চিত্রটি তাঁর সর্বশেষ ব্যবসায়িক সফলতা পায়। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে এরাউন্ড দি ওয়ার্ল্ড এবং ১৯৬৮ সালে স্বপ্ন কা সওদাগরে তরুণ অভিনেত্রী যথাক্রমে রাজশ্রীহেমা মালিনীকে নিয়ে অভিনয় করলেও বক্স অফিসে ব্যর্থতা তুলে ধরে।

১৯৭০ সালে তাঁর নির্মাণে, পরিচালনায় ও অভিনয়ে উচ্চাভিলাষী চলচ্চিত্র মেরা নাম জোকার মুক্তি পায়। এ চলচ্চিত্র নির্মাণে ছয় বছরের অধিক সময় ব্যয় হয়। এর মাধ্যমেই নিজ পুত্র ঋষি কাপুরের অভিষেক হয় যাতে পূর্বেকার চরিত্রে অভিনয় করেছিল। কিন্তু ঐ চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতা লাভ করে ও তাঁর পরিবারে চরম আর্থিক বিপর্যয় নিয়ে আসে।[১২] কিন্তু পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রটি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রের মর্যাদা পায়।[১৩] ১৯৭১ সালে পারিবারিক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র কাল আজ অউর কাল মুক্তি লাভ করে। এতে জ্যেষ্ঠ পুত্র রণধীর কাপুরের অভিষেক ঘটে। বাবা পৃথ্বীরাজ কাপুরসহ রণধীরের ভবিষ্যতের পত্নী ববিতার অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয় পুত্র ঋষি কাপুরকে উপস্থাপন করান ও ববি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রটি ব্যাপকভাবে ব্যবসা সফল করে ও পরবর্তীকালের সফল অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া'র স্মরণীয় অভিষেক হয়। চলচ্চিত্রে নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীর আবেগঘন ভালোবাসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও চলচ্চিত্রে ডিম্পল বিকিনি পরিধান করেন যা তৎকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্রে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। ১৯৭৫ সালে রণধীরের পরিচালিত চলচ্চিত্রে তার সাথে তিনিও অভিনয় করেছিলেন।

১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ্বে ও ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে স্বল্প কয়েকটি চলচ্চিত্রে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তন্মধ্যে, ১৯৭৮ সালে নকরি চলচ্চিত্রে রাজেশ খান্না'র সাথে সহায়ক চরিত্রে ও ১৯৮০ সালে নির্মিত আব্দুল্লাহ চলচ্চিত্রে সঞ্জয় খানের সাথে অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালে নরেশ কুমারের পরিচালনায় দো জাসুস ও ১৯৮২ সালে গোপীচাঁদ জাসুসে গোয়েন্দাধর্মী কমেডি চলচ্চিত্রে অংশ নেন। ১৯৮২ সালে সর্বশেষ বড় ধরণের চলচ্চিত্র হিসেবে উকিল বাবুতে অভিনয় করেন। ঐ চলচ্চিত্রে তাঁর ছোট ভাই শশী কাপুরেরও অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৮৪ সালে সর্বশেষবারের মতো অভিনয় করেন। কিম শিরোনামে ব্রিটিশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেলিভিশন চলচ্চিত্রে স্বল্পসময়ের জন্য তাঁকে দেখা যায়।

১৯৮৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ভারত-পাকিস্তানভিত্তিক ভালোবাসার নিটোল কাহিনী নির্ভর হেন্না পরিচালনায় অগ্রসর হন। এতে তাঁর পুত্র ঋষি ও পাকিস্তানী অভিনেত্রী জেবা বখতিয়ার অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি ১৯৯১ সালে রণধীরের পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী নার্গিসের সাথে দীর্ঘদিনের গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন বলে গুজব রয়েছে। বিবাহিত কাপুর অবশ্য এ বিষয়ে জনসমক্ষে কোন মন্তব্য করেননি।[১৪] এ যুগল অভিনয়কর্মী আওয়ারা ও শ্রী ৪২০-এর ন্যায় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ কাপুর তাঁর স্ত্রী ও পরিবার পরিত্যাগ করেননি। অন্যদিকে চোরি চোরি চলচ্চিত্রের পর নার্গিস তাঁর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন ও ১৯৫৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মাদার ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয়কালীন সুনীল দত্তের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়েন। এছাড়াও কাপুর স্বীকার করেছেন যে, সঙ্গম চলচ্চিত্রে অভিনয়কালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালা'র সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল তাঁর। বৈজয়ন্তীমালা অবশ্য তাঁর এ বক্তব্য অস্বীকার করেন ও তাঁর সাথে এ ধরণের কোন সম্পর্ক ছিল না বলে জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, তাঁর চলচ্চিত্রের স্বার্থে ও দর্শকমহলে সাড়া জাগানোর লক্ষ্যেই পুরো বিষয়টি চলে এসেছিল। এছাড়াও দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী পদ্মিনীর সাথেও সম্পর্ক ছিল তাঁর।[১৫][১৬]

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত তাঁর পরিচালনা ও নির্দেশনায় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নারী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। তন্মধ্যে ১৯৭৮ সালে জিনাত আমানের সত্যম শিবম সুন্দরম, ১৯৮২ সালে পদ্মিনী কোলাপুরের প্রেম রোগ ও ১৯৮৫ সালে অভিষিক্ত মন্দাকিনী'র রাম তেরি গঙ্গা মাইলি বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল।

মূল্যায়ণ[সম্পাদনা]

তাঁর অনেকগুলো চলচ্চিত্র দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত হয়ে নির্মিত হয়েছে। আগ, শ্রী ৪২০, জিস দেশ মে গঙ্গা বেহতি হ্যায় নব্য স্বাধীন ভারতকে ঘিরে রচিত হয়। এরফলে দর্শকেরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। তন্মধ্যে শ্রী ৪২০ চলচ্চিত্রের গানের সংলাপ মেরা জুতা হ্যায় জাপানী বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কাপুরকে অন্যতম সেরা ও সর্বাপেক্ষা প্রভাববিস্তারকারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।[১৭]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

তিনি বেশ কিছুসংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হন। তন্মধ্যে তিনবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও এগারোবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। রাজকাপুরের সম্মানার্থে ও তাঁর নামানুসারে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কারের নাম রাখা হয়। কাপুর অভিনীত ১৯৫১ সালের চলচ্চিত্র আওয়ারা ও ১৯৫৪ সালের বুট পলিশ কান চলচ্চিত্র উৎসবে পালমে দ’অর গ্র্যান্ড প্রাইজের জন্য দুইবার মনোনয়ন পায়। আওয়ারায় তাঁর অনবদ্য অভিনয়শৈলীর কারণে টাইম সাময়িকী সর্বকালের সেরা দশ অভিনয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত করে।[১৮]

১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জাগতে রাহো চলচ্চিত্রটি কার্লোভি ভ্যারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রিস্টাল গ্লোব পুরস্কার লাভ করে। তাঁর চলচ্চিত্রসমূহ বিশ্বের সর্বত্র বিশেষ করে এশিয়াইউরোপে ব্যাপক সফলতা লাভে সক্ষমতা দেখায়। ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁকে ক্লার্ক গেবল নামে আখ্যায়িত করা হয়।[১৯]

১৯৬৫ ও ১৯৭৯ সালে যথাক্রমে ৪র্থ ও ১১শ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[২০]

শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের প্রেক্ষিতে ১৯৭৯ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করা হয়।[২১] এছাড়াও ১৯৮৭ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান তিনি।

মৃত্যু পরবর্তীকালে ২০০১ সালে স্টারডাস্টের মিলেনিয়ামের সেরা পরিচালক মনোনীত হন। ২০০২ সালে স্টার স্ক্রিন কর্তৃক মিলেনিয়ামের শোম্যানরূপে বিবেচিত হন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে ভারতীয় ডাকবিভাগ তাঁর সম্মানার্থে মুখমণ্ডলকে ঘিরে ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়। ২০১৪ সালে গুগল তাঁর ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্মারক তুলে ধরে।[২২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৬ সালে কৃষ্ণা মালহোত্রা'র সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। জুন, ১৯৪৬ সালে চলচ্চিত্র সাময়িকী ফিল্মইন্ডিয়া প্রকাশ করে যে, পৃথ্বীরাজ কাপুরের প্রতিভাবান ও সুযোগ্য সন্তান রাজ কাপুর রেওয়ায় মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মিস কৃষ্ণা মালহোত্রা'র সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন।[২৩] কৃষ্ণা'র বাবা রাজ কাপুরের বাবার মাতৃসম্পর্কীয় কাকা ছিলেন। পারিবারিক সম্মতিক্রমে তাঁদের এ বিবাহ সম্পন্ন হয় ও স্ত্রী এবং মা হিসেবে কৃষ্ণা তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন সর্বান্তকরণে। কৃষ্ণার তিন ভাই রাজেন্দ্র নাথ, প্রেম নাথ এবং নরেন্দ্রনাথও অভিনয়কর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর বোন উমা খলনায়ক প্রেম চোপড়াকে বিয়ে করেন।[২৪]

জীবনের শেষদিকে হাঁপানি রোগে ভুগছিলেন রাজ কাপুর। ১৯৮৮ সালে ৬৩ বছর বয়সে হাঁপানী সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁর দেহাবসান ঘটে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশ্যে মঞ্চে যাবার সময় তিনি ভূপতিত হন ও দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার্থে অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তিনি প্রায় একমাস অবস্থান করেছিলেন।[২৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jain, Madhu (২০০৯)। The Kapoors: The First Family of Indian Cinema (Revised সংস্করণ)। Penguin Group India। আইএসবিএন 000-0-00000-000-0 
  2. "Raj Kapoor and the Golden Age of Indian Cinema"। hcl.harvard.edu। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। 
  3. "14th December 1924: Raj Kapoor, Indian actors and directors, was born"। mapsofindia.com। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। 
  4. "Raj Kapoor: The Greatest Showman"। sulekha.com। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। 
  5. Gooptu 2010, পৃ. 124।
  6. "Prithviraj Kapoor: A centenary tribute"। Daily Times / University of Stockholm। সংগৃহীত ৩ নভেম্বর ২০০৭ 
  7. "Prithviraj Kapoor:"। Kapoor Family Page। সংগৃহীত ৩ নভেম্বর ২০০৭ 
  8. Jain 2009, পৃ. 78।
  9. Ultra, Nihil (২২ জানুয়ারি ২০০৯)। "Xaviers 150"The Telegraph (Calcutta)। সংগৃহীত ১ মে ২০১৬ 
  10. "Memories through a lens"। The Hindu। জুন ৬, ২০০৮। সংগৃহীত ২০১৪-০৪-২৭ 
  11. http://www.nytimes.com/1988/06/03/obituaries/raj-kapoor-top-indian-film-star-is-dead-at-64.html
  12. http://entertainment.in.msn.com/bollywood/article.aspx?cp-documentid=5105272
  13. http://sureshkohli.net/mera-naam-joker-the-complete-story/
  14. http://www.outlookindia.com/article.aspx?236030
  15. http://www.tribuneindia.com/2003/20030615/spectrum/book3.htm
  16. http://www.hindustantimes.com/News-Feed/Entertainment/vyjayanthimala-s-autobiography-leaves-kapoor-clan-fuming/Article1-247817.aspx
  17. Allmusic biography
  18. "All-Time 100 Movies"Time। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৫। আসল থেকে ১২ অক্টোবর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। 
  19. Film World। T.M. Ramachandran। ১৯৬৫। 
  20. "11th Moscow International Film Festival (1979)"MIFF। সংগৃহীত ২০১৩-০১-১৪ 
  21. "Padma Awards"। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। সংগৃহীত জুলাই ২১, ২০১৫ 
  22. Google celebrates 90th birth anniversary of Bollywood's original showman Raj Kapoor with a doodle
  23. Patel, Baburao (জুন ১৯৪৬)। "At Last!"Filmindia 12 (6): 47। সংগৃহীত ১২ আগস্ট ২০১৫ 
  24. Pradhan, Bharathi S. (১৩ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Bye bye, Bina"The Telegraph (Kolkata) (Calcutta, India)। 
  25. "Remembering Indian cinema's greatest showman."। movies.rediff.com। সংগৃহীত ২২ Oct ২০১০ 

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • Rajadhyaksha, Ashish; Willemen, Paul. Encyclopedia of Indian Cinema. London: British Film Institute; New Delhi: Oxford University Press, 1994
  • Kishore, Valicha. The Moving Image. Hyderabad: Orient Longman, 1988

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]