আজিজুল হক (পণ্ডিত)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(আজিজুল হক (মুহাদ্দিস) থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আজিজুল হক
Shaykh Ul Hadith Allamah.png
উপাধিশাইখুল হাদীস, আল্লামা
জন্ম১৯১৯
ভিরিচ খাঁ, লৌহজং থানা, মুন্সীগঞ্জ জেলা
মৃত্যু৮ আগস্ট ২০১২[১]
আজিমপুর, ঢাকা
জাতিভুক্তবাংলাদেশী
মাজহাবহানাফি
শাখাসুন্নি
মূল আগ্রহহাদীস, বুখারী শরীফ, রাজনীতি, ইসলামী আন্দোলন
লক্ষণীয় কাজবুখারী শরীফের সর্বপ্রথম বাংলা অনুবাদ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া প্রতিষ্ঠা

আল্লামা আজিজুল হক (১৯১৯ - ৮ আগস্ট ২০১২) হলেন মুহাদ্দিস, ইসলামী ঐক্য জোটের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব। হাদিসগ্রন্থ বুখারি শরীফ পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম তিনি অনুবাদ করেন।[১] হাদিসশাস্ত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্যের জন্য তাকে ‘শায়খুল হাদিস’ উপাধি দেওয়া হয়।

জন্ম ও শৈশব[সম্পাদনা]

আজিজুল হক আনুমানিক ১৯১৯ সালে বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ) জেলার ভিরিচ খা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম হাজী এরশাদ আলী। মাত্র ৪/৫ বছর বয়সে তিনি মাকে হারান। এরপর একই জেলার কলমা অঞ্চলে অবস্থিত মাতুলালয়ে নানীর কাছে লালিত পালিত হন। এরপর ৭/৮ বছর বয়সে নিজ জেলা ছেড়ে পিতার কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চলে আসেন; সেখানে তিনি ব্যবসার করতেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তখন তিনজন আলেম ছিলেন - শামসুল হক ফরিদপুরী, হাফেজ্জী হুজুর আবদুল ওয়াহহাব যাদের সাথে এরশাদ আলীর গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি তার পুত্রকে শামসুল হক ফরিদপুরী-এর নিকট প্রেণ করেন।[১][২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

নানাবাড়ি কলমা এলাকার স্থানীয় মসজিদেই হযরত শায়খুল হাদীস রাহ.-এর লেখাপড়ার সূচনা হয়। সেখানে তিনি কুরআন মজীদের নাজেরা সমাপ্ত করেন। এরপর আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রাহ.-এর বিশেষ নেগরানিতে জামিআ ইউনুসিয়ায় আরবী শিক্ষা শুরু হয়।

জামিআ ইউনুসিয়ায় ছাত্র থাকাকালে

বিভিন্ন কারণে হযরত ফরিদপুরী রাহ. জামিআ ইউনুসিয়া থেকে পৃথক হয়ে যান এবং তাঁর দুই সহকর্মী হযরত হাফেজ্জী হুজুর ও হযরত আবদুল ওয়াহহাব পীরজী হুজুর রাহ.কে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এখানে তিনি বড় কাটারায় আশরাফুল উলূম নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

শায়খুল হাদীস রাহ. যেহেতু মূলত হযরত আল্লামা ফরিদপুরী রাহ.-এর শাগরিদ ছিলেন এজন্য তিনিও আশরাফুল উলূম মাদরাসায় চলে আসেন এবং এখানেই দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন। হযরত ফরিদপুরী রাহ. ছাড়াও তিনি এখানে আল্লামা রফীক আহমদ কাশ্মিরী রাহ.-এর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন।

শায়খুল ইসলাম যফর আহমদ উসমানী রাহ. তখন ঢাকায় থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ছাড়াও তিনি আশরাফুল উলূম মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদাররিসীন ছিলেন। এর সুবাদে ১৯৪০-৪১ ঈসায়ী সালে শায়খুল হাদীস রাহ. তাঁর নিকট তাফসীরে বায়যাবী, জামে তিরমিযী ও সহীহ বুখারী পড়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

জামিআ ইসলামিয়া তালীমুদ্দীন ডাভেল

আশরাফুল উলূম মাদরাসা বড় কাটারায় দাওরায়ে হাদীসের বছর শায়খুল হাদীস রাহ. যেসব কিতাব ও শরাহ মুতালাআ করেছেন তার মধ্যে ‘ফাতহুল মুলহিম’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ কিতাব অধ্যয়নের সময়ই তিনি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাববীর আহমদ উসমানী রাহ.-এর ভক্ত হয়ে যান। তাঁর নিকট দ্বিতীয়বারের মতো সহীহ বুখারী পড়ার ইচ্ছা তীব্র হয়ে ওঠে। আল্লামা উসমানী রাহ. তখন জামিআ ইসলামিয়া ডাভেলে ছিলেন এবং সেখানেই তাঁর দরসে বুখারী হত। তাই শায়খুল হাদীস রাহ. দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ডাভেল গেলেন এবং ১৩৬২-৬৩ হিজরীতে আল্লামা উসমানী রাহ.-এর নিকট বুখারী পড়ার গৌরব অর্জন করেন।

ডাভেল যাওয়ার পথে মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুরে কয়েকদিন অবস্থান করেন। এ সময় হযরত থানভী রাহ.-এর খলীফা হযরত মাওলানা আসআদুল্লাহ রামপুরী রাহ.-এর সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং হযরত তাকে মুসালসালাতের ইজাযতও প্রদান করেন।

দারুল উলূম দেওবন্দে দাওরায়ে তাফসীরে অংশগ্রহণ

আল্লামা শাববীর আহমদ উসমানী রাহ.-এর নিকট বুখারী শরীফ পড়ার সময় শায়খুল হাদীস রাহ. তাঁর বুখারীর তাকরীরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লিপিবদ্ধ করতেন। বছর শেষ হওয়ার পর লিখিত তাকরীরগুলো পরিষ্কার করে লেখা, উদ্ধৃতিসমূহের নিরীক্ষা ও সম্পাদনার জন্য উসমানী রাহ. আরো এক বছরের জন্য তাঁকে দেওবন্দে নিজের কাছে রেখে দেন।

অবস্থানের সুবিধার্থে শায়খুল হাদীস রাহ. দারুল উলূম দেওবন্দের দাওরায়ে তাফসীরে ভর্তি হন। সেখানে তিনি শায়খুত তাফসীর আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী রাহ.-এর নিকট পড়ার সৌভাগ্যও লাভ করেন ।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ভারতের ডাভেলস্থ জামেয়া ইসলামিয়ায় উচ্চ শিক্ষা শেষ করার পর তাকে সেখানে অধ্যাপনার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু প্রিয় শিক্ষক মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরীর আদেশে তিনি স্বদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তাঁর কর্মজীবন শুরু ঢাকার বড় কাটরা কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে। ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সেখানেই তিনি সফলতার সাথে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫২ সালে তিনি সেসময় মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী এবং মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের হাতে সদ্য প্রতিষ্ঠিত লালবাগ কওমি মাদরাসায় বুখারী শরীফের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এখানে ইসলামি আইন, হাদিস ও তাফসীরসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। এখানে সফলভাবে দীর্যদিন বুখারী শরীফেরপাঠ দানের কারণে তিনি শাইখুল হাদিস (হাদিস বিশেষজ্ঞ) উপাধি পান। এসময়েই তাঁর রচিত বুখারী শরীফের বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়। লালবাগ কওমি মাদরাসায় অধ্যাপনার ফাঁকে ১৯৭১ সাল থেকে ২ বছর বরিশাল জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৮ সালের ৩ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে নিয়ে ৩ বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও বুখারী শরীফের অধ্যাপনা করেন।[৪] তিনি লালবাগ কেল্লা জামে মসজিদ, মালিবাগ শাহী মসজিদ ও আজিমপুর স্টেট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। তিনি জাতীয় ঈদগাহেও ঈদের ইমাম হিসেবে কয়েক বছরদায়িত্ব পালন করেন। । আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে সাতমসজিদের পাশে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া গড়ে তোলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবং শাইখুল হাদীস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি মালিবাগ জামিয়া শারইয়্যাতেও প্রিন্সিপাল হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। [১]

পদবি ও দায়িত্ব[সম্পাদনা]

১। শায়খুল হাদীস : জামিআ কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ ঢাকা, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মদপুর ঢাকা, জামিআ শরইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা, জামেউল উলূম মিরপুর-১৪ ঢাকা। এছাড়াও আরো কয়েকটি মাদরাসা।

২। মুহতামিম ও সভাপতি : জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকা, জামিআ শরইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা, জামিআতুল আজিজ মুহাম্মদপুর ঢাকা।

৩। খতীব : জাতীয় ঈদগাহ, ঢাকা; লালবাগ কেল্লা জামে মসজিদ, ঢাকা ও আজিমপুর জামে মসজিদ, ঢাকা।

৪। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য : নেজামে ইসলাম পার্টি পাকিস্তান।

৫। সহ-সভাপতি : তাহরীকে খেলাফত বাংলাদেশ।

৬। সভাপতি ও চেয়ারম্যান : জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস বাংলাদেশ ও বেফাকুল জামাআ-তিল ইসলামিয়াহ বাংলাদেশ।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

ইলমী খেদমতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনগুলোতেও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন।

পাকিস্তান গঠন-আন্দোলনে তিনি নিজ শায়খ ও মুরশিদ হযরত ফরিদপুরী রাহ.-এর নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন। আর পাকিস্তান গঠনের পর হযরত মাওলানা আতহার আলী রাহ. ও শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন আলেম ইসলামী বিধান বাস্তবায়নের জন্য ‘নেজামে ইসলাম পার্টি’ গঠন করলে শায়খুল হাদীস রাহ. তার নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং দলের পক্ষে গণমত আদায়ের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করেন।

পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান কুরআন-সুন্নাহবিরোধী পারিবারিক আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করলে গোটা পাকিস্তানে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পূর্ব পাকিস্তানে শামসুল হক ফরিদপুরী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়। বাংলাদেশে ওলামায়ে কেরামের প্রথম রাজনৈতিক দল ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’ গঠিত হলে তিনি এর সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮১ সালে তাঁর শায়খ হযরত মাওলানা হাফেজ্জী হুজুর রাহ. যখন দেশজুড়ে খেলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াহর আন্দোলন পরিচালনা করলেন এবং ‘তাহরীকে খেলাফত বাংলাদেশ’ নামে দল গঠন করলেন তখনও শায়খুল হাদীস রাহ. ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর ডানহাত ও মুখপাত্র।

১৯৮২ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে এবং দুই দেশের মাঝে সমঝোতা করার উদ্দেশ্যে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. এক ঐতিহাসিক সফরে ইরাক ও ইরান যান। এ সফরে তিনি সাদ্দাম হোসেন ও আয়াতুল্লাহ খোমেনীর সঙ্গে সাক্ষাত করে যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং সমঝোতার চেষ্টা করেন। এই সফরেও হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর মুখপাত্র হিসেবে শায়খুল হাদীস রাহ. গুরুত্বপূর্ণ খেদমত

আঞ্জাম দেন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর হিন্দুস্তানে ‘বাবরী মসজিদ’ ধ্বংস করা হয়। এর সাথে মুসলমানদের উপরও শুরু হয় গণহত্যা। ঐ ঘটনার বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিবাদের একপর্যায়ে শায়খুল হাদীস রাহ. ‘অযোধ্যা’ অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দেন। ২ জানুয়ারি ১৯৯৩ ঢাকা থেকে শায়খুল হাদীস রাহ.-এর নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক লংমার্চ শুরু হয়। এতে প্রায় এক লক্ষ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন। লাখ মুসলিমের এই মিছিল খুলনা পৌঁছার পর সীমান্ত অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছামাত্র তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে দুজন শহীদ হন।

রচনাবলী[সম্পাদনা]

তার রচনাবলীর মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো দশ খন্ডে প্রকাশিত বুখারি শরিফের অনুবাদ। তার করা অনুবাদটিই বাংলা ভাষায় বুখারি শরীফের সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ। অনুবাদের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন হাদীসের ব্যাখ্যাও পেশ করেছেন। বুখারী শরীফের এই অনুবাদটি রচনা শুরু করেন ১৯৫২ সালে হজ্জের সফরে এবং দীর্ঘ ষোল বছরে এই অনুবাদ তিনি সম্পন্ন করেন। এই অনুবাদের একটি বড় অংশ রচিত হয়েছে মদিনায় অবস্থিত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমাধির কাছে। তার আরেকটি গ্রন্থ হলো উর্দু ভাষায় রচিত বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফজলুল বারী শরহে বুখারী। এটি তিনি ছাত্রজীবনেই রচনা করেন। ১৮০০ পৃষ্ঠা সংবলিত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রথম দুই খন্ড পাকিস্তানে প্রকাশিত হয়েছে। তৃতীয় খন্ডসহ পুরো বইটি বাংলাদেশে প্রকাশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।[৫] এছাড়া তিনি বঙ্গানুবাদসহ হাদীসের বিষয়ভিত্তিক একটি সংকলন রচনা করেন, যার নাম মুসলিম শরীফ ও অন্যান্য হাদীসের ছয় কিতাব। এছাড়াও তার বেশকিছু রচনা রয়েছে; সেগুলো হলোঃ[৪]

  1. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমির কাব্যগ্রন্থ মসনবি-এর বঙ্গানুবাদ;
  2. পুঁজিবাদ, সমাজবাদ ও ইসলাম;
  3. কাদিয়ানি মতবাদের খণ্ডন;
  4. মুনাজাতে মাকবূল (অনুবাদ);
  5. সত্যের পথে সংগ্রাম (বয়ান সংকলন)

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আল্লামা আজিজুল হক ৯৩ বছর বয়সে ২০১২ সালের ৮ আগস্ট (১৯ রমযান ১৪৩৩ হিজরী) বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার আজিমপুরস্থ নিজ বাসগৃহে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, আট মেয়ে, পাঁচ ছেলে রেখে যান।[৬] পরেরদিন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় যাতে তার পুত্র মাহফুযুল হক ইমামতি করেন। জানাযা শেষে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার সংলগ্ন ঘাটারচর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক আর নেই ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে দৈনিক আমার দেশ (ওয়েব সংস্করণ) ৯ আগস্ট ২০১২। ৩০ ডিসম্বর ২০১২ তারিখে সংগৃহীত
  2. শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক আর নেই দৈনিক মানবজমিন ওয়েব সংস্করণ : ৯ আগস্ট ২০১২। ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে সংগৃহীত
  3. জামিয়া রাহমানিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
  4. জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
  5. খোশখবর : আলহামদুলিল্লাহ, ফযলুল বারী’র তৃতীয় খন্ড প্রকাশিত হয়েছে মাসিক আলকাউসার অনলাইন সংস্করণ (নভেম্বর- ২০১২)। ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে সংগৃহীত
  6. দৈনিক প্রথম আলো (ওয়েব সংস্করণ) আগস্ট ৮, ২০১২

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]