মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী
আচার্য, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর
অফিসে
১৯৮৬ – বর্তমান
পূর্বসূরীহারুন বাবুনগরী
সহ-সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ
অফিসে
২০১০ – ২০১৮
সহ-সভাপতি, ইসলামী ঐক্যজোট
অফিসে
১৯৯০ – ২০১৮
ব্যক্তিগত
জন্ম১৯৩৫
বাবুনগর, দৌলতপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পিতামাতা
জাতিসত্তাবাঙালি
যুগআধুনিক
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
প্রধান আগ্রহসুফিবাদ চর্চা, কুরআন-সুন্নাহ, ইসলামি ইতিহাস, দেওবন্দিয়াত
যেখানের শিক্ষার্থী
ঊর্ধ্বতন পদ

আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী (জন্মঃ ১৯৩৫) একজন বাংলাদেশি ইসলামি পন্ডিত, রাজনীতিবিদ, হানাফি সুন্নি আলেম এবং বাংলাদেশে দেওবন্দি আদর্শ প্রচারকদের অন্যতম।[১][২][৩] তিনি আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের বর্তমান আচার্য।[৪] ২০১৮ সালে তিনি ইসলামী ঐক্যজোটহেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি হিসেবে পদত্যাগ করেন।[৫][৬][৭]

জন্ম[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৩৫ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আল্লামা হারুন বাবুনগরী[৮]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

তিনি নাজেরা খানা থেকে জামাতে চাহারুম (৮ম শ্রেণি) পর্যন্ত জামিয়া বাবুনগরে পড়াশােনা করেন। অতঃপর তিনি দারুল উলুম হাটাহজারীতে ভর্তি হয়ে তথায় ৯ম শ্রেণি (হেদায়া আওয়ালাইন) সম্পন্ন করেন। উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দ্যেশ্যে তিনি পাক-ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে গমন করেন এবং দেওবন্দে পুনরায় হেদায়া আওয়ালাইনের জামাতে ভর্তি হন এবং মধ্যবর্তী সময়ে ১ বৎসর ফুনুনাতের কিতাব পড়েন এবং হাদীস প্রভৃতির শিক্ষা অর্জনের পর ১৯৫৯ সালে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন।

দেওবন্দে তিনি হুসাইন আহমদ মাদানীর নিকট হেদায়া আখেরাইনের সর্বশেষ দরস গ্রহণ করেন এবং সৈয়দ মাওলানা ফখরুদ্দীনের কাছে বুখারী শরীফ, আল্লামা ইবরাহীম বালইয়াবীর নিকট মুসলিম শরীফতিরমিযী শরীফ এবং আল্লামা ফখরুল হাসানের নিকট আবু দাউদ শরীফ, মাওলানা জহির আহমদের নিকট ত্বহাবী শরীফ ও মাওলানা বশির আহমদের নিকট মুয়াত্তা মুহাম্মদ পড়েন।[৮]

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর আপন পিতা আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগরে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

পরবর্তীতে আল্লামা হারুন বাবুনগরী, মাওলানা মুছা , মাওলানা সুফী আব্দুল জব্বার ও আল্লামা আব্দুল হক প্রমুখের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শক্রমে জামিয়া বাবুনগরের  আচার্য পদে অধিষ্ঠিত হন।[৮]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

তিনি চরমোনাইর পীর ফজলুল করিমের জীবদ্দশায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। মুফতি আমিনীর জীবদ্দশায় তিনি ইসলামী ঐক্যজোট এবং ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। তিনি আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি ও ইসলামি ঐক্যজোটের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি ঘোষণা দিয়ে এই দুটি সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি সরাসরি কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত নেই।[৯]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এদেশে একদিন শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার হবে -আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  2. "আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সুস্থতা কামনায় বড়কাটারা মাদরাসায় দোয়া"Daily Nayadiganta। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  3. "দুর্নীতিবাজ ও নাস্তিক্যবাদীরাই কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে কথা বলে -মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  4. "মসজিদ খুলে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানলেন দেশের শীর্ষ আলেমরা | জাতীয়"ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  5. ব্যুরো, চট্টগ্রাম। "'ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আওয়ামী এজেন্টদের সাথে আমি নেই' -ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়লেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী"DailyInqilabOnline (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  6. "ইসলামী ঐক্যজোট থেকে বাবুনগরীর পদত্যাগ"Daily Nayadiganta। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  7. "আওয়ামী লীগের এজেন্টদের সাথে নেই -বাবুনগরী"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  8. QOWMIPEDIA (২০১৯-১০-৩১)। "মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী"QOWMIPEDIA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮ 
  9. "জামায়াতের ইন্ধনে হেফাজত থেকে বাবুনগরীর পদত্যাগ"সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮