আতহার আলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আতাহার আলী (বীর প্রতীক) অথবা আতহার আলী খান নিবন্ধের সাথে বিভ্রান্ত হবেন না।
আতহার আলি
জন্ম ১৮৯১
ঘুঙ্গাদিয়া, বিয়ানীবাজার, সিলেট, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৬ অক্টোবর ১৯৭৬
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ
জাতিভুক্ত বাঙালি
অঞ্চল ব্রিটিশ ভারত, পূর্ব পাকিস্তান, বাংলাদেশ
পেশা শিক্ষকতা
শাখা সুন্নি
মূল আগ্রহ শিক্ষকতা, রাজনীতি
শিক্ষায়তন দারুল উলুম দেওবন্দ

মাওলানা আতহার আলি (১৮৯১ - ৬ অক্টোবর ১৯৭৬) ছিলেন একজন বাঙালি ইসলামি চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

আতহার আলি ১৮৯১ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত সিলেটের বিয়ানীবাজারের ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মৌলভি আজিম খান। আতহার আলি ঝিঙ্গাবাড়ি আলিয়া মাদ্রাসায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেছেন। এরপর তিনি মুরাদাবাদ কাসেমিয়া, রামপুর আলিয়া মাদ্রাসা, মাজাহেরে উলুম সাহারানপুর ও দারুল উলুম দেওববন্দে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি মাওলানা আশরাফ আলি থানভির ছাত্র ছিলেন।[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

শিক্ষাগ্রহণ শেষে আতহার আলি দেশে ফিরে শিক্ষকতায় যোগ দেন। তিনি সিলেট ঝিঙ্গাবাড়ি আলি মাদ্রাসা ও কুমিল্লার জামিয়া মিল্লিয়াসহ অন্যান্য মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। ১৯০৯ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হন।[১]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আতহার আলি অংশগ্রহণ করেছেন। নবগঠিত পাকিস্তানে যোগ দেয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত সিলেট গণভোটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।[১] এই ভোটের ফলে আসাম থেকে সিলেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ব বাংলায় যোগ দেয়।

১৯৫২ সালে তিনি নেজামে ইসলাম দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে নেজামে ইসলাম ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদে ৪টি ও জাতীয় পরিষদে ৩৬টি আসন লাভ করে। প্রাদেশিক পরিষদের উক্ত ৪টি আসনের একটিতে তিনি প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে আইয়ুব খানের সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পূর্বে তিনি মুক্তি পান। এরপর ওয়াজনসিহতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।[১]

শিক্ষাবিস্তার[সম্পাদনা]

আতহার আলি ১৯৪৫ সালে জামেয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।[১]

রচনাকর্ম[সম্পাদনা]

তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে পর্দা ও ইসলাম, আল-ওজরু ওয়ান নুযরু, ইসলামী শাসন কেন চাই?, বাস্তব ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্র, ইসলামে অর্থবন্টন ব্যবস্থা[১]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালের ৬ অক্টোবর ময়মনসিংহ দারুল উলূম মাদ্রাসায় আতহার আলি ইন্তেকাল করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]