রাজ্জাক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আব্দুর রাজ্জাক
জন্ম (১৯৪২-০১-২৩) ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২ (বয়স ৭৪)
টালিগঞ্জ, কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত (এখন ভারত)
বাসস্থান ঢাকা, বাংলাদেশ
পেশা অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক
কার্যকাল ১৯৬৪–বর্তমান
সন্তান বাপ্পারাজ (রেজাউল করিম)
নাসরিন পাশা শম্পা
রওশন হোসাইন বাপ্পি
আফরিন আলম ময়না
সম্রাট (খালিদ হোসাইন)[১]
ওয়েবসাইট
www.nayakrajrazzak.com

আব্দুর রাজ্জাক (জন্ম ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪২[২]), যিনি নায়করাজ রাজ্জাক নামে সুপরিচিত, একজন বিখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেতা। ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

রাজ্জাক পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।[৩]

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে "ঘরোয়া" নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ ক'টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে।[৩] তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।

জন্মদিন পালন[সম্পাদনা]

প্রতি বছরই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে রাজ্জাক গুলশানের নিজ বাসভবন 'লক্ষ্মীকুঞ্জে' ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করে থাকেন।[৩]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

নির্বাচিত চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্র চরিত্র পরিচালক সহশিল্পী টীকা
১৯৬৬ আখেরি স্টেশন সুরুর বারা বাঙ্কভি প্রথম চলচ্চিত্র
বেহুলা জহির রায়হান সুচন্দা
১৯৬৭ আগুন নিয়ে খেলা আমজাদ হোসেন ও নূরুল হক
১৯৬৮ এতটুকু আশা নারায়ণ ঘোষ মিতা
১৯৬৯ নীল আকাশের নীচে মামুন নারায়ণ ঘোষ মিতা
১৯৭০ ক, খ, গ, ঘ, ঙ মন্টু নারায়ণ ঘোষ মিতা
জীবন থেকে নেয়া ফারুক জহির রায়হান আনোয়ার হোসেন, খান আতা, শওকত আকবর, সুচন্দা, রোজী সামাদ
১৯৭১ নাচের পুতুল ফিরোজ অশোক ঘোষ শবনম, খান জয়নুল
১৯৭২ অশ্রু দিয়ে লেখা কামাল আহমেদ
ওরা ১১ জন পারভেজ চাষী নজরুল ইসলাম
অবুঝ মন মাসুম কাজী জহির শাবানা, সুজাতা
১৯৭৩ রংবাজ রাজা জহিরুল হক
১৯৭৪ আলোর মিছিল রানা নারায়ণ ঘোষ মিতা
১৯৭৬ কি যে করি বাদশাহ ববিতা বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
গুন্ডা বাহাদুর আলমগীর কুমকুম
১৯৭৭ অনন্ত প্রেম রাজ্জাক ববিতা রাজ্জাক পরিচালিত
১৯৭৮ অশিক্ষিত রহমত আজিজুর রহমান অঞ্জনা রহমান, সুমন বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
অগ্নিশিখা আজিজুর রহমান ববিতা, উজ্জ্বল
১৯৮০ ছুটির ঘন্টা আব্বাস মিয়া আজিজুর রহমান শাবানা, সুমন
১৯৮১ মহানগর হীরা
১৯৮২ বড় ভাল লোক ছিল ইয়াসিন মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অঞ্জু ঘোষ, প্রবীর মিত্র বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
১৯৮৩ নাজমা নাদিম রহমান শাবানা, জসিম
১৯৮৪ চন্দ্রনাথ চন্দ্রনাথ চাষী নজরুল ইসলাম দোয়েল বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
অভিযান রাজু রাজ্জাক ইলিয়াস কাঞ্চন, জসিম রাজ্জাক পরিচালিত
১৯৮৬ শুভদা সদানন্দ চাষী নজরুল ইসলাম আনোয়ারা, জিনাত
১৯৮৭ রাজলক্ষী শ্রীকান্ত কুমার বাহাদুর বুলবুল আহমেদ বুলবুল আহমেদ, শাবানা
১৯৮৮ যোগাযোগ শাহেদ চৌধুরী রাজ্জাক ইলিয়াস কাঞ্চন, জসিম বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
১৯৯২ অন্ধ বিশ্বাস রাজা মতিন রহমান শাবানা, আলমগীর
১৯৯৭ বাবা কেন চাকর রাজ্জাক বাপ্পারাজ, মিঠুন রাজ্জাক পরিচালিত

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সাথেই ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন রাজ্জাক। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক খেতাব। অর্জন করেন একাধিক সম্মাননা।[৩] এছাড়াও, রাজ্জাক জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন।[৪]

বছর পুরস্কার বিভাগ চলচ্চিত্র ফলাফল
১৯৭৬ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কি যে করি বিজয়ী
১৯৭৮ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা অশিক্ষিত বিজয়ী
১৯৮২ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বড় ভালো লোক ছিল বিজয়ী
১৯৮৪ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা চন্দ্রনাথ বিজয়ী
১৯৮৮ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা যোগাযোগ বিজয়ী
২০০৩ ইন্দো-বাংলা কলা মিউজিক পুরস্কার খান আতাউর রহমান আজীবন সম্মাননা বিজয়ী[৫]
২০০৯ বাচসাস পুরস্কার আজীবন সম্মাননা (চলচ্চিত্র) বিজয়ী[৬]
২০১২ ইফাদ ফিল্ম ক্লাব পুরস্কার আজীবন সম্মাননা বিজয়ী
২০১২ ব্যাবিসাস পুরস্কার আজীবন সম্মাননা বিজয়ী[৭]
২০১৩ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার বিজয়ী[৮]
২০১৪ মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার আজীবন সম্মাননা বিজয়ী[৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জীবনবৃত্তান্ত"। Official Website। ২৬ জানুয়ারি ২০১৬। সংগৃহীত ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ 
  2. "'হ্যালো, রাজ্জাক ভাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৩। সংগৃহীত ৭ অক্টোবর, ২০১৫ }}
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ দৈনিক ইত্তেফাক, বিনোদন প্রতিদিন, মুদ্রিত সংস্করণ, ২৩ জানুয়ারি, ২০১২ইং, পৃষ্ঠা-১৩
  4. UNFPA Goodwill Ambassadors: Abdur Razzak, from UNFPA website
  5. শিল্পী মালনবিশ (২৩ এপ্রিল, ২০০৪)। "Bridging the cultural divide: Indo-Bangla Kala Music Award 2003 held in New York"দ্য ডেইলি স্টার। সংগৃহীত ৭ অক্টোবর, ২০১৫ 
  6. "বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন রাজ্জাক-কবরী জুটি"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৪। সংগৃহীত ৭ অক্টোবর, ২০১৫ 
  7. "যুগপূর্তি ও বাবিসাস এ্যাওয়ার্ড ২০১২–আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন নায়করাজ রাজ্জাক"নিউজ বিডি। সংগৃহীত ৭ অক্টোবর, ২০১৫ 
  8. "অভিনন্দন ‘নায়করাজ’"দৈনিক প্রথম আলো। ১৪ মার্চ, ২০১৩। সংগৃহীত ৭ অক্টোবর, ২০১৫ }}
  9. "এক নজরে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৩"দৈনিক প্রথম আলো। সংগৃহীত ৭ অক্টোবর, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]