বুলবুল আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
বুলবুল আহমেদ
জন্ম (১৯৪১-০৯-১৫)১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪১
মৃত্যু ১৪ জুলাই ২০১০(২০১০-০৭-১৪) (৬৮ বছর)
ঢাকা
পেশা অভিনেতা
কার্যকাল ১৯৬৪ - ২০১০
দাম্পত্য সঙ্গী ডেইজি আহমেদ
সন্তান ৩ সন্তান: তিলোত্তমা (কন্যা)
ঐন্দ্রিলা (কন্যা)
ও শুভ (পুত্র)
পিতা-মাতা খলিল আহমেদ (বাবা)

বুলবুল আহমেদ (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৪১ - জুলাই ১৪, ২০১০) প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেতা, যিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সত্তর ও আশির দশকে আলমগীর কবিরের ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩), সূর্য কন্যা (১৯৭৫), সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), মোহনা (১৯৮২) ও মহানায়ক (১৯৮৪) ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সবার মনোযোগ কাড়েন বুলবুল আহমেদ। তবে, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত দেবদাস চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

শিক্ষা ও প্রাথমিক কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বুলবুল আহমেদের জন্ম ১৯৪১ সালে পুরান ঢাকার আগামসিহ লেনে। তার আসল নাম তাবারক আহমেদ, আদর করে তার বাবা-মা তাকে বুলবুল বলে ডাকতেন। পিতা অভিনেতা-নাট্যকার খলিল আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান আমলের অর্থ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি। বুলবুল আহমেদ পড়াশোনা করেছেন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটর ডেম কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে কিছুদিন সিলেট এমসি কলেজেও পড়াশোনা করেছেন। সিলেট এমসি কলেজে থাকাকালে মঞ্চনাটক চিরকুমার সভায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে উপস্থিত সবার নজর কাড়তে সক্ষম হন। পড়াশোনা শেষ করার পর তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন।

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

চাকরির পাশাপাশি বুলবুল আহমেদ টিভিতে অভিনয় করতে থাকেন। বুলবুল আহমেদ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘'বরফ গলা নদী’'। এটি ১৯৬৪ সালে প্রচারিত হয়। এরপর নিয়মিতভাবে টিভি নাটকে কাজ করতে থাকেন তিনি। ওই সময় টিভিতে বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হচ্ছে মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড়দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে। এর মধ্যে ইডিয়েট নাটকে বুলবুল আহমেদের অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়। তিনি ছিলেন একাধারে মঞ্চ, বেতার, টিভি, চলচ্চিত্র অভিনেতা, আবৃত্তিকার এবং অনুষ্ঠান ঘোষক। তবে কলেজজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ব্যাংকে ১০ বছর চাকরি করার পর তিনি রূপালি জগতে পর্দায় পা রাখেন। ১৯৭২ সালে আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের অনুপ্রেরণায় সিনেমায় কাজ শুরু করেন বুলবুল আহমেদ। ১৯৭৩ আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের (ইউসুফ জহির) মুক্তি পাওয়া ছবি ইয়ে করে বিয়ের মাধ্যমে প্রথম বড় পর্দার দর্শকদের সামনে নায়ক হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তাঁর। বছরখানেক বিরতির পর আবার বড় পর্দায় আসেন আব্দুল্লাহ আল মামুনের অঙ্গীকার ছবির মাধ্যমে। এর পর একে একে কাজ করেন ধীরে বহে মেঘনা, রূপালী সৈকতে, সীমানা পেরিয়ে, সূর্য কন্যা, জন্ম থেকে জ্বলছি সহ বেশ কিছু দর্শকনন্দিত ছবিতে। ১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলামের দেবদাস ছবির মাধ্যমে নিজেকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসেন বুলবল আহমেদ।

পরিচালনা ও প্রযোজনা[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি ছবিও পরিচালনা করেন তিনি। বুলবুল আহমেদ পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে ওয়াদা, মহানায়ক, ভালো মানুষ, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, আকর্ষণ, গরম হাওয়া, কত যে আপন প্রভৃতি। এর মধ্যে শেষের চারটি ছবি প্রযোজনার পাশাপাশি পরিচালনাও করেন বুলবুল আহমেদ। ৪৪ বছরের মিডিয়া জীবনে বুলবুল আহমেদ প্রায় ৩০০ নাটক এবং দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। বুলবুল আহমেদ অভিনীত সর্বশেষ চলচ্ছিত্র হচ্ছে দুই নয়নের আলো, আর সর্বশেষ টিভি নাটক হচ্ছে ২০০৯ সালে শুটিংকৃত বাবার বাড়ি। নাটকটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজও করেছেন তিনি।[১]

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ। এই দম্পতির তিন সন্তান হলেন মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভ।

চলচ্চিত্র তালিকা[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্র চরিত্র পরিচালক সহ-তারকা মন্তব্য
১৯৭৩ ইয়ে করে বিয়ে আলমগীর কবির প্রথম চলচ্চিত্র
১৯৭৩ ধিরে বহে মেঘনা আলমগীর কবির
১৯৭৫ সূর্য কন্যা আলমগীর কবির
-- জীবন নিয়ে জুয়া শাহরিয়ার আলমগীর কুমকুম
১৯৮২ মোহনা আলমগীর কবির
১৯৭৫ মহানায়ক
১৯৭৫ দিপু নাম্বার টূ
১৯৮৭ দেবদাস
১৯৮০ শেষ উত্তর আজিজুর রহমান বুলি
-- বধু বিদায়
১৯৮১ জন্ম থেকে জ্বলছি আমজাদ হোসেন
-- নবাব সিরাজ উদ্দিন দৌল্লা (রঙিন)
-- রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত বুলবুল আহমেদ
-- দা ফাদার
-- শুভদা চাষি নজরুল ইসলাম
-- ওয়াদা
-- ভাল মানুষ
-- আকর্ষণ
-- গরম হাওয়া
-- কত যে আপন
-- দুই নয়নের আলো
-- এই ঘর এই সংসার মালেক আফসারী
-- শশুর বাড়ি জিন্দাবাদ দেবাসিস বিশ্বাস

পুরস্কার[সম্পাদনা]

বুলবুল আহমেদ তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কার লাভ করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৪ই জুলাই, ২০১০ তারিখ বুধবার বুলবুল আহমেদ ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৬ জুলাই তাকে আজিমপুর গোরস্তানে পিতা-মাতার কবরের পাশে অন্তিম শয্যায় শায়িত করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. www.prothom-alo.com
  2. Kajalie Shehreen Islam (জুলাই ২৩, ২০১০)। "The Man Behind the Hero"The Daily Star। Dhaka, Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১২  line feed character in |title= at position 8 (সাহায্য)