চম্পা (অভিনেত্রী)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
চম্পা
Champa Cox's Bazar in 2014.jpg
চম্পা কক্সবাজারে ২০১৪
জন্ম গুলশান আরা আক্তার চম্পা
৫ জানুয়ারী ১৯৬৫ [১]
যশোর, খুলনা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশ
পেশা অভিনেত্রী, মডেল
কার্যকাল ১৯৮১–বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কাজ পদ্মা নদীর মাঝি, শাস্তি, "মনের মানুষ",চন্দ্রগ্রহণ
উচ্চতা ৫ ফু ৭ ইঞ্চি (১.৭০ মি)
ধর্ম ইসলাম
দাম্পত্য সঙ্গী শহিদুল ইসলাম খান (১৯৮২–বর্তমান)
সন্তান এশা (মেয়ে)
আত্মীয়
পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

চম্পা একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী। তিনি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতাসুচন্দার বোন।[২] তিনি প্রথমে মডেলিং-এর মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। তারপর টিভি নাটকে অভিনয় করতে থাকেন এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।[৩]

চলচ্চিত্রে আগমন[সম্পাদনা]

শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিনকন্যা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চম্পা চলচ্চিত্রের জগতে আগমন করেন।চম্পার অভিনয় দক্ষতা ও ছবির ব্যবসায়িক সাফল্য তাঁকে চলচ্চিত্রে সাফল্য এনে দেয়। সামাজিক ও অ্যাকশন উভয় প্রকার সিনেমাতে তিনি অভিনয় করেছেন। কোন নির্দিষ্ট গন্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। তিনি সত্যজিত রায়ের ছেলে সন্দ্বীপ রায়ের ‘টার্গেট’ সিনেমাতে এবং বুদ্ধদেব দাশ গুপ্তের ‘লালদরজা’ সিনেমাতে অভিনয় করার সুযোগ পান। এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। চম্পার মূল বৈশিষ্ট্য গ্ল্যামার, ফ্যাশন সচেতনতা এবং পোষাকে বৈচিত্র্য। গৌতম ঘোষ পরিচালিত পদ্মা নদীর মাঝি চলচ্চিত্র ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় মাপের কাজ। ১২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় ১০০-এর বেশি সিনেমাতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পর্দায় অনুপস্থিত।[৩] কাজের অনুকূল পরিবেশ আর বৈচিত্র্যময় চরিত্র না পাওয়ায় তিনি সিনেমাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাছাড়া চম্পার মেয়ে কানাডায় থাকে যাকে সময় দেয়ার জন্য প্রায়ই তিনি দেশের বাইরে থাকেন। যে কারণে কাজ করা হয়ে উঠছে না। চম্পা ইদানিং টেলিভিশনের বাংলা নাটকেও কাজ করছেন।[৪]

ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবন[সম্পাদনা]

প্রয়াত শিবলী সাদিক পরিচালিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তিনকন্যা’। ওই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা চম্পার অভিষেক। আরও বড় চমক ছিল এক চলচ্চিত্রে তিন বোন সুচন্দা, ববিতাচম্পা একত্রে অভিনয়। সে চলচ্চিত্রে একটি গানও ছিল ‘তিন কন্যা এক ছবি’।বাচসাস ৩৮তম আসরের পুরস্কার বিজয়ী ছিলেন ববিতা (২০১২) ও চম্পা (২০১৩)। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সুচন্দা। আগে তাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের পিকনিক বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও এই প্রথম এত বড় অনুষ্ঠানে এক ফ্রেমে বন্দি হলেন। যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত।২০১১ ও ২০১২ সালে সেরা পাশ্বচরিত্র হিসেবে নির্বাচিত হন ববিতাচম্পা। তাদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান করা হয় তাদেরই বড় বোন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুচন্দাকে। তাদেরকে মঞ্চে নিয়ে আসেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী পপিমাহিয়া মাহি। ববিতা ও চম্পা তাদের অনুভূতিতে জানান, এর আগেও অনেক পুরস্কার তারা পেয়েছেন কিন্তু আজকের এই পুরস্কার তাদের জীবনে অনন্য কারণ পুরষ্কারটি তারা গ্রহন করছেন তাদেরই বড় বোন অভিভাবক তুল্য সুচন্দার হাত দিয়ে। সুচন্দা তার অনুভূতিতে বলেন, আজ তিনি অনেক খুশি। যেই হাত দিয়ে একদিন ছোট বোনদের খাওয়াতেন, মা মারা যাওয়া পরে যে হাত দিয়ে অভিভাবক হয়ে ছোট বোনদের ধরেছিলেন, যেই হাত ধরে এতদিন ববিতা ও চম্পা ঢাকার চলচ্চিত্রে এসেছিলেন, সেই হাত দিয়েই আজ ছোট বোনদের পুরস্কৃত করছেন।এই সময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেদে পেলেন সুচন্দা, তখন বড় বোন কে ধরে ববিতা ও চম্পাকেও কাদতে দেখা যায়। পুরু অনুষ্ঠানের অতিথি ও দর্শকরা যেন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত তখন দেখে এবং সমগ্র পরিবেশ তখন কিছুটা সময়ের জন্য নিরব হয়ে যায়। এই তিন বোনকে তখন সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শকরা উঠে দাড়িয়ে করতালির মধ্য দিয়ে সন্মানিত করেন। তাদের বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন ও মা বি. জে. আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক। [৫]

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

রিয়াজ, সুচন্দা, ববিতা, তিনা ও চম্পা কক্সবাজারে ২০১৪ সালে

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "হরতাল নির্বাচনে চম্পার জন্মদিন!"। Banglanews24.com। ২০১৪-০১-০৪। সংগৃহীত ২০১৪-০২-২৬ 
  2. "তিন বোনের ঈদ"দৈনিক প্রথম আলো। ১৬ই সেপ্টেম্বর,২০১০। সংগৃহীত ৮ই ফ্রেব্রুয়ারি,২০১১ 
  3. রহমান, মোমিন; হোসেন, নবীন (১৯৯৮)। "বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তারকা নায়িকাঃ পপি থেকে পপি"। অন্যদিন ,ঈদ সংখ্যা (মাজহারুল ইসলাম) (২৫): ৩৫৩। 
  4. হোসেন, আনিকা (১৩ অক্টোবর ,২০১০)। "ফিরলেন চম্পা"দৈনিক আমার দেশ। সংগৃহীত ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারি,২০১১ 
  5. http://www.bmdb.com.bd/news/তিনকন্যা-এক-ছবি/#more-10465
  6. মজুমদার, সমরেশ। "মাইল ফলক হতে হতেও হল না"দৈনিক আনন্দবাজার। সংগৃহীত ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারি,২০১১