ফেরদৌসী রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ফেরদৌসী রহমান
Ferdausi Rahman 2017.jpg
জন্ম
ফেরদৌসী রহমান

(1941-06-28) ২৮ জুন ১৯৪১ (বয়স ৭৯)
কুচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব১৯৪১-১৯৪৭ঃ  ব্রিটিশ ভারত

১৯৪৭-১৯৭১ঃ  পাকিস্তান

১৯৭১-বর্তমানঃ  বাংলাদেশ
মাতৃশিক্ষায়তনট্রিনিটি কলেজ অব মিউজিক, লন্ডন, যুক্তরাজ্য
পেশানজরুল ইন্সটিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য
পরিচিতির কারণগায়িকা, গবেষক, সঙ্গীত পরিচালক
পিতা-মাতা
আত্মীয়মুস্তাফা জামান আব্বাসী (ভাই)
মোস্তফা কামাল (বিচারপতি) (ভাই)

ফেরদৌসী রহমান (জন্ম ২৮ জুন ১৯৪১) একজন বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তার সঙ্গীত জগতে পদচারণা চলছে। পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, আধুনিক এবং প্লে ব্যাক সব ধরনের গানই তিনি করেছেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ফেরদৌসী রহমান ১৯৪১ সালের ২৮ জুন ব্রিটিশ ভারতের কোচবিহারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন পল্লীগীতি গায়ক আব্বাস উদ্দিন। ছোটবেলায় গানে হাতে খড়ি হয় তার পিতার কাছে। পরবর্তীতে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, ইউসুফ খান কোরেইশী, কাদের জামেরী, গুল মোহাম্মদ খান প্রমূখ সঙ্গীতজ্ঞের কাছে তালিম নিয়েছেন।[১] খুব অল্প বয়স থেকে তার স্টেজ পারফরম্যান্স শুরু হয়। মাত্র ৮ বছর বয়সে রেডিওতে খেলাঘর নামের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

১৯৬০ সালে ‘আসিয়া’ নামের চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম প্লে ব্যাক করেন। ৬০ ও ৭০-এর দশকের বহু চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তার প্লে ব্যাক করা চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৫০-এর কাছাকাছি। ১৯৪৮ সালে তিনি প্রথম রেডিওতে গান করেন। তখন তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন। ১৯৫৬ সালে তিনি প্রথম বড়দের অনুষ্ঠানে গান করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান করেন।১৯৫৭ সালে তিনি প্রথম গান রেকর্ড করেন এইচ এম ভি থেকে।[২]

চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

১৯৬০ সালে ফেরদৌসী রহমান ইউনেস্কো ফেলোশীপ পেয়ে লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজ অব মিউজিক থেকে ৬ মাসের সঙ্গীতের ওপর স্টাফ নোটেশন কোর্স সম্পন্ন করেন। ৩টি লং প্লেসহ প্রায় ৫০০টি ডিস্ক রেকর্ড এবং দেড় ডজনের বেশি গানের ক্যাসেট বের হয়েছে তার। তার মাত্র ১টি সিডি বের হয়েছে ‘এসো আমার দরদী’। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার গানের রেকর্ড হয়েছে তার। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা সংগীত পরিচালক। ১৯৬০ সালে রবীন ঘোষের সাথে ‘রাজধানীর বুকে’ নামক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে এসো গান শিখি অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।[২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

শাহবাগ হোটেলে তার বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বামীর সাথে ফেরদৌসী রহমান (১৯৬৬)

১৯৬৬ সালের ২৬শে অক্টোবর তিনি বিয়ে করেন রেজাউর রহমানকে। উনি একজন মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ২ জন ছেলে আছে যাদের নাম রুবাইয়াত ও রাজিন। তিনি ১৯৬৩ সাল ও ১৯৬৬ সালে রাশিয়া এবং চীনে বেড়াতে যান এবং গান করেন।[২]

সন্মাননা[সম্পাদনা]

ফেরদৌসী রহমান নজরুল ইন্সটিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। আমাদের সঙ্গীত ভুবনে অবদান রাখার জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে নানাভাবে সন্মানিত হয়েছেন। তার অর্জিত উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে লাহোর চলচ্চিত্র সাংবাদিক পুরস্কার (১৯৬৩), প্রেসিডেন্ট প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার (১৯৬৫), টেলিভিশন পুরস্কার (১৯৭৫), জাতীয় পুরস্কার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (১৯৭৭), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৭৭)। এছাড়াও তিনি নাসিরউদ্দিন গোল্ড মেডেল পুরস্কার, মাহবুবুল্লাহ গোল্ড মেডেল, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পুরস্কার লাভ করেন।[২] ২০১৩ সালে তিনি আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ডস আয়োজন হতে পরম্পরা পরিবার পদক লাভ করেন।[৩]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৩ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  2. রহমান, মোমিন; হোসেন, নবীন (১৯৯৯)। "গানের পাখি: ফেরদৌসী রহমান"। অন্যদিন, ঈদ সংখ্যা। মাজহারুল ইসলাম। (১): ৩৫২।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  3. শাওন, রাশেদ (২৭ জানুয়ারি ২০১৩)। "আরটিভির সেরা সজল ও মৌসুমী"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]