ভোসড়ি শাহের মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

একটি সিরিজের অংশ
মসজিদ

স্থাপত্য
স্থাপত্য স্টাইল
মসজিদের তালিকা
অন্যান্য

ভোসড়ি শাহের মসজিদ (মতান্তরে বসরি শাহের মসজিদ) কলকাতার কাশীপুর সংলগ্ন অঞ্চলের একটি অপূর্ব সুন্দর মসজিদ। বাগবাজার খালের উত্তরে ও চিৎপুর রোডের পশ্চিম পার্শ্বে ৮ নং শেঠপুকুর রোডস্থ এই মসজিদটিই সম্ভবত কলকাতার প্রাচীনতম মসজিদ। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত এই মসজিদটির পশ্চাতে রয়েছে ভোসড়ি শাহ পীরের মাজার। এই মাজারটি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের একটি মিলনক্ষেত্র। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই পীড়ামুক্তির প্রার্থনা নিয়ে এই মাজারে উপস্থিত হন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এই মসজিদের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাকাল জানা যায় না। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজদ্দৌলার পরাজয়ের পর ওয়ারেন হেস্টিংসের শাসনকালে নবাব দেওয়ান রেজা খাঁ ও তাঁর উত্তরসূরিদের কর্মকেন্দ্র কলকাতার চিৎপুর অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হয়। এই সময় থেকে তাঁরা চিৎপুরের নবাব বলে পরিচিত হন। জনশ্রুতি রেজা খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদের একটি অধুনালুপ্ত প্রাচীন প্রতিষ্ঠালিপি থেকে জানা যায় ১২১৯ হিজরা অর্থাৎ ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে জাফর আলী খাঁ এটির পুনর্নির্মাণ করেন।

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

একতলার উপর নির্মিত সুউচ্চ তিন গম্বুজ-বিশিষ্ট এই মসজিদটি মুর্শিদাবাদ ঘরানার মসজিদ স্থাপত্যে নির্মিত। গম্বুজগুলির দুই পাশে একসময় আটটি চারকোনা প্রধান মিনার সংস্থাপিত ছিল। এই মিনারগুলির কয়েকটি বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। মসজিদের প্রবেশপথটি ছিল তিনটি খিলানযুক্ত। বাইরের দেওয়ালের প্রত্যেক কোণে ও দেওয়াল মধ্যবর্তী স্থানগুলি ভিত থেকে ছাদ পর্যন্ত স্তম্ভসজ্জায় সজ্জিত। সমগ্র মসজিদটির ভিতর ও বাইরের দেওয়ালজুড়ে পঙ্খ পলেস্তারায় অপূর্ব সুন্দর ফুল ও পাতার নকশা উৎকীর্ণ আছে। বাইরের দেওয়ালগুলিতে সুন্দর করে তোলার জন্য খোদাই করা ইঁট বসিয়ে তার উপর পলেস্তারার লেপন করা হয়।

প্রতিষ্ঠা-সালের নিরিখে শহর কলকাতার আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রাচীন মসজিদ মহম্মদ রমজান আলি মসজিদ (১৭৮৪) নিমতলাঘাট, মতি খাঁ মসজিদ (১৮১০) শিয়ালদহ, বিবি জিতানের মসজিদ (১৮১৫) মানিকতলা, কিতাবুদ্দিন সরকার (১৮৩০) শিয়ালদহ, শেখ ফৌজুল্লার মসজিদ (১৮৩০) শিয়ালদহ, গোলাম মহম্মদ মসজিদ (১৮৩৫) টালিগঞ্জ, সাহানি বেগম (১৮৪০) টালিগঞ্জ, টিপু সুলতান (১৮৪২) ধর্মতলা স্ট্রিট, নাখোদা মসজিদ (১৮৪২) চিৎপুর, বু-আলী মসজিদ (১৮৪৪) শিয়ালদহ, লাল মসজিদ (১৮৫০) মানিকতলা, ওয়াজিদ আলি মসজিদ (১৮৫০) মেটিয়াবুরুজ, হাফিজ হাতিম মসজিদ (১৮৫০) কলুটোলা, মোল্লাপাড়ার মসজিদ (১৯৫০) দক্ষিণেশ্বর।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • কলকাতার মন্দির-মসজিদ : স্থাপত্য-অলংকরণ-রূপান্তর, তারাপদ সাঁতরা, আনন্দ পাবলিশার্শ প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ২০০২