কাশীপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কাশীপুর
কলকাতার অঞ্চল
Map Kolkata Cossipore.jpg
স্থানাঙ্ক: ২২°৩৭′২৩″ উত্তর ৮৮°২২′৩০″ পূর্ব / ২২.৬২৩° উত্তর ৮৮.৩৭৫° পূর্ব / 22.623; 88.375স্থানাঙ্ক: ২২°৩৭′২৩″ উত্তর ৮৮°২২′৩০″ পূর্ব / ২২.৬২৩° উত্তর ৮৮.৩৭৫° পূর্ব / 22.623; 88.375
দেশ  ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
শহর কলকাতা
কলকাতা পৌরসংস্থার ওয়ার্ড
কলকাতা মেট্রো স্টেশন দমদম
লোকসভা কেন্দ্র কলকাতা উত্তর
বিধানসভা কেন্দ্র কাশীপুর-বেলগাছিয়া
উচ্চতা ৩৬ ফুট (১১ মিটার)
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট ৯৬,০৪৩
সময় অঞ্চল ভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+৫:৩০)
এলাকা কোড +৯১ ৩৩

কাশীপুর হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি এলাকা। এটি কলকাতার একটি প্রাচীন জনবসতি। অঞ্চলটি কাশীপুর থানার অধীনস্থ।[১] কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র এই অঞ্চলের বিধানসভা কেন্দ্র।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭১৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ৫৫টি গ্রাম কিনে সেগুলিকে তাদের কলকাতার সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত করে। "পঞ্চান্নগ্রাম" নামে পরিচিত এই ৫৫টি গ্রাম বা মৌজার একটি ছিল কাশীপুর। এইচ. ই. এ. কটন লিখেছেন, "কাশীপুর অঞ্চলটি নদীর ধারে সবচেয়ে সুন্দর এলাকাগুলির একটি। এখানে অনেকগুলি বাগানবাড়ি রয়েছে।" সেই সময় থেকেই কাশীপুর একটি শিল্পাঞ্চল। এখানে গভর্নমেন্ট গান ফাউন্ডারি, সিন্ডার অ্যান্ড রাইফেল শেল ফ্যাক্টরি (কর্নেল হাচিনসন যার মূল প্রতিষ্ঠাতা) এবং একাধিক চিনি ও পাটকল গড়ে ওঠে।[২]

এন্টালি, মানিকতলা, বেলেঘাটা, উল্টোডাঙা, চিৎপুর, কাশীপুর, বেনিয়াপুকুরের কিছু অংশ, বালিগঞ্জ, ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর এবং গার্ডেনরিচ ও টালিগঞ্জের কিছু অংশ ১৮৮৮ সালে কলকাতা পৌরসংস্থার অন্তর্গত হয়েছিল।[৩]

ভূগোল[সম্পাদনা]

কলকাতা পৌরসংস্থার ১ নং ওয়ার্ড কাশীপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এই অঞ্চলে হুগলি নদীর ছয়টি বিখ্যাত ঘাট আছে। এগুলি হল: কাশীপুর ঘাট, সাধুর ঘাট, রানির ঘাট, প্রামাণিক ঘাট, রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান ও রতনবাবু ঘাট।[৪]

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

কলকাতা পৌরসংস্থার ১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাশীপুর এবং ২ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সিঁথি অঞ্চল কাশীপুর থানার অন্তর্গত। ২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে, এই অঞ্চলের জনসংখ্যা ৯৬,০৪৩। এর মধ্যে ৫১,৪০১ জন পুরুষ ও ৪৪,৬৪২ জন মহিলা। এই অঞ্চলের দশকীয় বৃদ্ধির হার নেতিবাচক। ৬ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত চিৎপুর অঞ্চলের কিছু অংশ কাশীপুর থানার অন্তর্গত।[৫]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি[সম্পাদনা]

কাশীপুরের গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরিটি দুই শতাব্দী-প্রাচীন। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম বিদ্যমান কারখানা। ১৮০২ সালে স্থাপিত এই কারখানাটি অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত। প্রযুক্তিগত বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই কারখানা বড়ো আকারের আধুনিকীকরণের মধ্যে রয়েছে। এখানে বড়ো ব্যারেল গান থেকে ছোটো ব্যারেল পিস্তল, বিভিন্ন ধরনের শেল, ফিউজ ও সিভিল ট্রেড দ্রব্যাদি তৈরি হয়।[৬][৭]

এই কারখানাটি গান ক্যারেজ এজেন্সি হিসেবে কাজ শুরু করে। পরে এই এজেন্সি ১৮১৪ সালে এলাহাবাদে ও পরে ১৮১৬ সালে ফতেহগড়ে চলে যাওয়ায় এর গুরুত্ব কমে যায়। শেষে ১৮২৯ সালে সব যন্ত্রপাতি ফতেহগড়ে চলে যায়। যদিও পরে কারখানাটি আবার চালু হয়। এই কারখানার ফাঁকা অংশ ফোর্ট উইলিয়ামের গান ফ্যাক্টরি হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এখানে ব্রাস গান কাস্টিং-এর পাশাপাশি আয়রন শট ও শেল তৈরি হতে থাকে।[৬][৭]

১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ব্রিচ-লোডিং স্টিল রাইফেলড বন্দুকের ব্যবহার শুরু হলেও, কাশীপুরে এই ধরনের বন্দুক নির্মাণের যথাযথ প্রযুক্তি ছিল না। মিনি-বুলেট ফ্যাক্টরিটি দমদমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে অল্পই কাজ হত। কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব এলেও এটিকে বন্ধ করা হয়নি। রাইফেলড বন্দুক ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা হত। এর জন্য নতুন এলঙ্গেটেড শেলের দরকার ছিল। স্থির হয় কাশীপুরের কারখানাটিকে এই ধরনের নতুন শেল তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। তখন কারখানার সম্প্রসারণ হয়। ১৮৭২ সালে "গান ফাউন্ডারি"র নাম বদলে "ফাউন্ডারি অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি" রাখা হয়। নতুন শেল তৈরি ছাড়াও নতুন ব্রিচ-লোডিং বন্দুকের জন্য আধুনিক ফিউজ ও কার্তুজ তৈরি শুরু হয়। ১৮৮৭ ও ১৮৯০ সালে কারখানাটি নতুন করে সম্প্রসারিত করা হয়।[৬][৭]

১৮৯২ সালে ভারতে প্রথম স্টিল কাস্ট করা হয় কাশীপুরে। করেছিল সিমেন'স মার্টিন ওপেন হার্থ প্ল্যান্ট। ১৮৯৬ সালে রোলিং মিল তৈরি হয়। যদিও মেটালুর্জিক্যাল ইউনিটগুলিগুলিকে ১৯০৩ সালে ইছাপুরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ কাশীপুরে আর সম্প্রসারণের জায়গা ছিল না। ১৮৯০ সালেই ব্রিচ-লোডিং বন্দুক তৈরি বা আমদানিকৃত বন্দুক মেরামতির শপ তৈরি হয়। ১৯০৫ সালে কুইক-ফায়ারিং বন্দুক তৈরি শুরু হয়। এই বছরই বন্দুক তৈরি শুরু হলে কারখানার নাম বদলে "গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি" রাখা হয়।[৬][৭]

কাশীপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র[সম্পাদনা]

১৯৪৯ সালে সিইএসই কাশীপুরে বিদ্যুৎ জেনারেটিং কেন্দ্রটি স্থাপন করে। এটির বর্তমান ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট। এখানে দূষণ সৃষ্টি করে না এমন জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

রামকৃষ্ণ মঠের কাশীপুর শাখাটি কাশীপুর উদ্যানবাটী নামে পরিচিত।[৮] এই বাগানবাড়িতে রামকৃষ্ণ পরমহংস তাঁর জীবনের শেষ কয়েক মাস কাটিয়েছিলেন। এখানেই তাঁর মহাসমাধি হয়। ১৯৪৬ সালে এটি রামকৃষ্ণ মঠের শাখাকেন্দ্রে পরিণত হয়।[৯] প্রতিবছর ১ জানুয়ারি এখানে মহাসমারোহে কল্পতরু উৎসব আয়োজিত হয়।[১০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "Cossipore Police Station"। Kolkata Police। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১৬ 
  2. Cotton, H.E.A., Calcutta Old and New, 1909/1980, p. 221, General Printers and Publishers Pvt. Ltd.
  3. Bagchi, Amiya Kumar, Wealth and Work in Calcutta, 1860-1921, in Calcutta, the Living City, Vol. I, edited by Sukanta Chaudhuri, p. 213, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩৬৯৬-৩.
  4. Detail Maps of 141 Wards of Kolkata, D.R.Publication and Sales Concern, 66 College Street, Kolkata – 700073
  5. "Provisional Population Totals, Table 4"Population, Decadal Growth Rate, Density and General Sex Ratio by Residence and Sex, West Bengal/ District/ Sub District, 1991 and 2001। Census Commission of India। সংগৃহীত ২০০৭-১০-১০ 
  6. "Cossipore Gun and Shell Factory"। globalsecurity.org। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১৬ 
  7. "Two Centuries of Guns and Shells"। Sainik Samachar। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১৬ 
  8. Udyanbati
  9. "Ramakrishna Math and Mission"। belurmath.org। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১৬ 
  10. "Kalpataru Utsab at Udyanbati, Cossipore"। The Telegraph, 2 January 2007। সংগৃহীত ২০০৮-০১-১৬