কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর
দুর্গাপুর বিমানবন্দর
The front facade of Kazi Nazrul Islam Airport, Andal, Durgapur.jpg
কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনাল
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বিমানবন্দরের ধরনঅসামরিক ও বেসরকরি
মালিকবিএপিএল
চাঙ্গি বিমানবন্দর গ্রুপ
পরিচালকবিএপিএল
সেবা দেয়দুর্গাপুর, আসানসোল
অবস্থানঅন্ডাল, দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ
এএমএসএল উচ্চতা২৮৯ ফুট / ৮৮ মি
ওয়েবসাইটwww.sujalaamskycity.com
মানচিত্র
কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর ভারত বিমানবন্দর-এ অবস্থিত
কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর
কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর
ভারতে অবস্থান
রানওয়েসমূহ
দিকনির্দেশনা দৈর্ঘ্য পৃষ্ঠতল
মি ফুট
১৬/৩৪ ২,৮০০ ৯,১৮৬ আস্ফাল্ট
পরিসংখ্যান (এপ্রিল ২০১৮ - মার্চ ২০১৯)
যাত্রী সংখ্যা৪৫,৮৩১ (বৃদ্ধি৮৫২.৩৫%)
উড়ান সংখ্যা৪৪৯ (বৃদ্ধি১৬.৬%)

কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর শহরে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর দুর্গাপুর বিমানবন্দর নামেও পরিচিত। এই বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত দুর্গাপুর বিমাননগরী (দুর্গাপুর এয়াট্রোপোলিশ) হল ভারতের প্রথম বিমাননগরী। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টস ইন্টারন্যাশানাল (সিএআই)-এর সহযোগিতায় বেঙ্গল এয়াট্রোপোলিশ লিমিটেড (বিএপিএল)-এর মাধ্যমে এই বিমাননগরীটি নির্মিত হচ্ছে। বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে এই বিমানবন্দরটির নামকরণ করা হয়েছে।[৫] বিমানবন্দরটি আসানসোলদুর্গাপুরের শিল্প এলাকার শহরগুলোতে বিমান পরিষেবা প্রদান করে। বিমানবন্দরটি দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর আসানসোলের সিটি বাস টার্মিনাস থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিমানবন্দরের পরিষেবা প্রদানকারী এলাকা গুলি হল বর্ধমান, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া, সাঁইথিয়া, সিউরি, বোলপুর, রামপুরহাট এবং ঝাড়খন্ডের ধানবাদ ও বোকারোর শহরগুলি। এটি দেশের প্রথম বেসরকারী সেক্টর এরিয়া প্লাজার অংশ, যা বেঙ্গল এরিট্লোলোসিস প্রজেক্টস লিমিটেড (বিএপিএল) দ্বারা তৈরি হচ্ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে এয়ারপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। ২০১৮-২০১৯ সালের যাত্রী পরিবহনের হিসাবে দুর্গাপুর বিমানবন্দর হল পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় ও ভারতের ৭৭ তম ব্যস্ত বিমানবন্দর। [২] এপ্রিল ২০১৮-মার্চ ২০১৯ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটি দ্বারা ৪৫,৮৩১ জন যাত্রী চলাচল করেছেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বামফ্রন্ট সরকারের সময় ২০০৬-০৭ সালে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারেরও ১.২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল (সিএআই) এর ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিএপিএল- এর মধ্যে। এই প্রকল্পের অন্যান্য ভারতীয় প্রোমোটারগুলি হল আইএল ও এফএস, প্রগতি সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রগতি ৪৭, লন্ড লিজ কোম্পানি ইন্ডিয়া এবং সিটিস্টর ইনফ্রাস্ট্রাকচার। ৬০০ কোটি (US$৮৩.৪৯ মিলিয়ন) টাকার বিনিয়গে ৬৫০ একর জমিতে বিমানবন্দরটি নির্মিত হয়েছে। [৬]

২৪ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রক ডিজিসিএ থেকে বিমানবন্দরটি চূড়ান্ত কার্যকরী অনুমোদন পায়। [৭] ১০ ই জুন ২০১৫ তারিখে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমানবন্দর থেকে তাদের বাণিজ্যিক সেবা শুরু করার আগেই ভারতীয় বিমান বাহিনী বোয়িং ৭৩৭ ভিআইপি বিমানের উপর দিল্লিতে পৌঁছানোর পর নতুন বিমানবন্দরটি ব্যবহার করার জন্য প্রথম যাত্রী হন। [৮] ১৮ মে ২০১৫ তারিখে নির্ধারিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। [৯] অন্য একটি বিমান সংস্থা জুম এয়ার দিল্লি কলকাতা-দুর্গাপুর রুটে উড়ান শুরু করে, তবে যাত্রী অভাবের কারণে তিন মাস পর যাত্রা বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর ২০১৮ সালে দিল্লি ও ২০১৯ সালে হায়দ্রাবাদ সংযোগ দ্বারা জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সুযোগ-সুবিধা[সম্পাদনা]

দুর্গাপুরের অন্ডালে অবস্থিত কেএনআই বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্টোলার অফিস।

বিমানবন্দরের ৫,৭৫০ বর্গমিটার যাত্রী টার্মিনাল ভবনে প্রতি বছরে ১ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহনের দক্ষতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ২.৫ মিলিয়ন প্রতি বছর একটি ক্ষমতা প্রসারিত করা যেতে পারে। প্রস্থান লাউঞ্জে এবং অপেক্ষার ঘর, দুটি ব্যাগ পরিবাহক বেল্ট মধ্যে প্রচলিত ব্যবহারীর টার্মিনাল সরঞ্জাম (সিইউটিই) সঙ্গে ছয় চেক-ইন কাউন্টার আছে। টার্মিনালটি খুচরা এবং এফ এবং বি আউটলেট, এটিএম, একটি ক্লিনিক এবং ফার্মেসি, একটি শিশুর যত্নক্ষেত্র, ওয়াই-ফাই সেবা, হোটেল বুকিং কাউন্টার, সুবিধা স্টোর এবং স্পা ব্র্যান্ড প্রভৃতির ব্যবস্থা রয়েছে। [১০]

বিমানবন্দরের ২৮০০-মিটার রানওয়েটি একটি ক্যাট ১ যন্ত্রের ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) দিয়ে সজ্জিত এবং এয়ারবাস এ৩২০ এবং বোয়িং ৭৩৭-এর মতো বৃহত্তর বিমান পরিচালনা করতে পারে। এয়ারপোর্ট এপ্রনের চারটি পার্কিং বে এবং একটি হেলিপ্যাড রয়েছে। এয়ারপোর্টটি বিভাগের ছয়টি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকে। [১০]

বিমান এবং গন্তব্যস্থান[সম্পাদনা]

বিমান সংস্থাগন্তব্যস্থলতথ্যসূত্র
এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি, হায়দ্রাবাদ[১১]
স্পাইসজেট মুম্বই, চেন্নাই (শুরু জুলাই ২০১৯), বাগডোগরা, কলকাতা, শিলং (সবগুলি শুরু হবে আগস্ট ২০১৯)[১২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://knowindia.net/aviation3.html
  2. "Traffic News for the month of Feb 2019: Annexure-III" (PDF)Airports Authority of India। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। পৃষ্ঠা 3। ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 
  3. "Traffic News for the month of Feb 2019: Annexure-II" (PDF)Airports Authority of India। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। পৃষ্ঠা 3। ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 
  4. "Traffic News for the month of March 2019: Annexure-IV" (PDF)Airports Authority of Indiaসংগ্রহের-তারিখ=29 April 2018। পৃষ্ঠা 3। ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৯ 
  5. "Mamata proposes to name new airport as Kazi Nazrul Islam international airport - Times Of India"। Articles.timesofindia.indiatimes.com। ২০১৩-০৫-২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-২০ 
  6. "Rechristened Bengal aerotropolis unveiled"Business Standard। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৪ 
  7. "Bengal Aerotropolis Projects gets DGCA nod for airport"Business Standard। ২৭ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৫ 
  8. "Narendra Modi first passenger to use Andal airport"The Economic Times। ১১ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৫ 
  9. Mishra, Mihir (১৮ মে ২০১৫)। "Air India operates inaugural flight between Durgapur & Kolkata"। Economic Times। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৫ 
  10. "Aerotropolis to bank on service, not size"The Times of India। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৪ 
  11. "Air India to link Andal with Hyderabad"। timesofindia.indiatimes.com। ২২ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  12. "অন্ডাল-মুম্বই রুটে চালু উড়ান, ভালো সাড়া মিলল প্রথম দিন"। এই সময়। ২৬ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]