গ্রেস কটেজ, কৃষ্ণনগর

স্থানাঙ্ক: ২৩°২৪′১০.৭৫″ উত্তর ৮৮°২৯′২৬.১৫″ পূর্ব / ২৩.৪০২৯৮৬১° উত্তর ৮৮.৪৯০৫৯৭২° পূর্ব / 23.4029861; 88.4905972
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্রেস কটেজ
Grace Cottage in Krishnagar 10.jpg
কৃষ্ণনগরে গ্রেস কটেজ
সাধারণ তথ্য
ধরনপাকা দালান
অবস্থানকৃষ্ণনগর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
দেশভারত
স্থানাঙ্ক২৩°২৪′১০.৭৫″ উত্তর ৮৮°২৯′২৬.১৫″ পূর্ব / ২৩.৪০২৯৮৬১° উত্তর ৮৮.৪৯০৫৯৭২° পূর্ব / 23.4029861; 88.4905972
বর্তমান দায়িত্বসুজন বাসর
উদ্বোধন১৯২৪
স্বত্বাধিকারীপশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি
অন্যান্য তথ্য
পার্কিংহ্যাঁ

গ্রেস কটেজ একটি সরকারি ভবন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান।[১] এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়কের পাশে বৌবাজার এলাকার অবস্থিত। ভবনটি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত। এই ভবন হতে নজরুল বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের জন্য বেশকিছু উল্লেখযোগ্য সৃষ্ঠি করেছিলেন। স্থাপনাটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কমপ্লেক্সের অন্তর্গত।[২][৩] ২০১২ হতে গ্রেস কটেজ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য হেরিটেজ কমিশন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কাজী নজরুল ইসলাম তার বন্ধু হেমন্ত সরকারের আমন্ত্রণে কৃষ্ণনগরে আগমনের পর ১৯২৬ সালের ৩ জানুয়ারি হতে শহরের গোলাপট্টিতে হেমন্তের বাড়িতে অবস্থান করেন। একই বছর নজরুল গ্রেস কটেজ ভাড়া নেন। এখানে তিনি ১৯২৬ সালের জুন হতে ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবারসহ অবস্থান করেন।[৪][৫] এবাড়িতে তার সন্তান বুলবুলের জন্ম হয় এবং তার মা জাহেদা খাতুন মৃত্যুবরণ করেন।[৬][৭]

ব্রিটিশ আমল হতে গ্রেস কটেজ কৃষ্ণনগরের একটি বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের অংশ। একতলা ভবনটি কমপ্লেক্সের ভিতরে শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রের এক কোনায় অবস্থিত।[৩] সংস্কারের পর, ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ওয়েস্ট বেঙ্গল হেরিটেজ কমিশন ভবনটিকে রাজ্যের ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।[৩] এখানে একটি পাঠাগার আছে। 'সুজন বাসর' নামক একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা বর্তমানে কটেজটির দেখভাল করে।[৫]

বাংলা সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

গ্রেস কটেজ বাংলা সংস্কৃতির জন্য উল্লেখযোগ্য এবং কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য ভবন।[৫] নজরুল দারিদ্র, ফণী-মনসা, সাম্যবাদী, পূবের হাওয়া'র মত বিখ্যাত কবিতাসমূহ, কাব্যগ্রন্থ এবং মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস এখানে থাকাকালীন রচনা করেন।[২][৫] ‘মৃত্যুক্ষুধা’য় এই বাড়ি এবং কৃষ্ণনগরের পরিচয় আছে। এই বাড়িতে নজরুলের হাতে[৮] বাংলা ভাষায় প্রথম গজল সৃষ্টি হয়।[৯][১০]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নিয়োগি, শুভ্র (আগস্ট ২৪, ২০১২)। "Crumbling cradle of Bengal renaissance may get new lease of life"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। জুন ১১, ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৪ 
  2. "Plan for Nazrul archive at home"দ্য টেলিগ্রাফ (কলকাতা) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১২-০২-১৬। ২০২২-০৬-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৪ 
  3. "Grace Cottage located within the power-house premises of WBSEDCL"West Bengal Heritage Commission (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০৬-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৪ 
  4. "About Us – Krishnanagar Municipality" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-১০-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৪ 
  5. "গ্রেস কটেজেই তাঁর 'মৃত্যুক্ষুধা'"আনন্দবাজার পত্রিকা। ২০১৬-০৫-২৬। ২০১৯-০৭-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৫ 
  6. Sen, Sumanta (২০০৩)। Kazi Nazrul Islam: Freedom's Poet (ইংরেজি ভাষায়)। Rupa & Company। আইএসবিএন 978-81-291-0115-0। ১৮ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০২২ 
  7. Kaji Najrual Islam। অনুভব প্রকাশন। ১৪ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০২২ 
  8. খান, মোবারক হোসেন (২০১৬-০৬-০৪)। "বিচিত্র ধারার গানের স্রষ্টা নজরুল"দৈনিক ইনকিলাব। ২০২২-০৬-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-১৬ 
  9. "ছায়ানট (কলকাতা) ও সুজন বাসরের যৌথ উদ্যোগে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য হেরিটেজ ভবন কৃষ্ণনগর গ্রেসকটেজে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন"West Bengal News 24। ২০২২-০৪-১৯। ২০২২-০৫-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-১৬ 
  10. "নজরুলের স্মৃতিধন্য কৃষ্ণনগর গ্রেস কটেজে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদ্‌যাপন"প্রথম আলো। ২০২২-০৪-২০। ২০২২-০৬-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-১৬