জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ
জামিয়া ফরিদাবাদ | |
মসজিদুল বেলাল | |
| গঠিত | জানুয়ারি ১৯৫৬ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠাতা | শামসুল হক ফরিদপুরী (রঃ) |
| ধরন | কওমি মাদ্রাসা |
পেশাগত উপাধি | জামিয়া আরাবিয়া |
| অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ২৩°৪১′৫৪″ উত্তর ৯০°২৫′১৯″ পূর্ব / ২৩.৬৯৮২৭৪° উত্তর ৯০.৪২২০৬৬° পূর্ব |
দাপ্তরিক ভাষা | বাংলা, আরবি, ইংরেজি, উর্দু |
স্টাফ | ৭৫ |
স্বেচ্ছাকর্মী | ৩৫ |
| ওয়েবসাইট | faridabadmadrasa |
প্রাক্তন নাম | জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম মাদ্রাসা |
জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদ্রাসা (ইংরেজি: Jamia Arabia Imdadul Uloom Faridabad Madrasah) ঢাকা শহরের প্রাচীন ও বৃহৎ ইসলামি বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে অন্যতম।[১][২][৩][৪] মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম আব্দুল কুদ্দুস।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ধর্মীয় শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মানুষ গড়ার সর্বোত্তম হাতিয়ার এবং শিক্ষা সমাজ পরিবর্তনেরও বলিষ্ঠ হাতিয়ার। কেবল জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রণীত নৈতিকতাসমৃদ্ধ ধর্মভিত্তিক শিক্ষাই এই মেরুদণ্ড ও হাতিয়ারকে সুদৃঢ় করতে সক্ষম। শিক্ষা প্রয়োজনীয় হলেও আদর্শ বিবর্জিত নীতি-নৈতিকতাহীন শিক্ষা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ, শিক্ষা কখনো মানুষকে প্রকৃত মনুষ্যত্ব উপহার দিতে পারে না। [১]
ইউরোপ, আমেরিকার বর্তমান সামাজিক অবস্থা এর বাস্তব প্রমাণ। পাশ্চাত্য সমাজ আজ যে আদর্শ সঙ্কটে নিমজ্জিত, এর একমাত্র কারণ হচ্ছে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি উদাসীনতা। সুতরাং নীতিবহির্ভূত শিক্ষা কারও কাম্য হতে পারে না। [৫]
১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এ দেশে ইংরেজ বেনিয়াদের শাসন ক্ষমতা পাকাপোক্ত হয়। শুরু হয় এ দেশের মুসলমানদের ওপর চতুর্মুখী নির্যাতন। চলতে থাকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। ইংরেজদের আগ্রাসনের শিকার হয় এ দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। তাদের ষড়যন্ত্রে বিলুপ্ত হয় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ধর্মভিত্তিক একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা। মূলত বৃটিশ শাসন প্রবর্তিত হওয়ার পূর্বে এ দেশে একমাত্র ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাই চালু ছিল। বর্তমানের মতো মাদরাসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা বলতে পৃথক কোনো শিক্ষাব্যবস্থা ছিল না। [৫]
ইংরেজ সরকার ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৮৩৫ সালে বৃটিশদের হাতে সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে উক্ত ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত হয়। বৃটিশরা এ দেশে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল একটি সুনির্দিষ্ট নীতি, আদর্শ ও লক্ষকে সামনে রেখে। ১৮৩৫ সালের শিক্ষা পরিকল্পনার প্রধান দিক-নির্দেশনাকারী লর্ড মেকলে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের অবশ্যই যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে যাতে এমন একটি গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়, যারা আমাদের ও আমাদের শাসিতদের মধ্যে দূতের কাজ করবে। এরা এমন একধরনের মানুষ হবে যারা রক্তে ও গায়ের রঙে হবে ভারতীয় কিন্তু চিন্তা-ভাবনা, নৈতিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিতে হবে ইংরেজ।’ এভাবে বৃটিশদের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সমাজে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে। [৫]
১৮৫৭ সালের সিপাহী জনতার বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী আলেম সমাজ ছিলেন এই নির্যাতনের মূল শিকার। একপর্যায়ে এই উপমহাদেশ আলেমশূন্য হয়ে পড়ে। [৫]
যখন বৃটিশ বেনিয়াদের শাসন-শোষণে মুসলমানদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা সংস্কৃতিতে নেমে আসে মহাবিপর্যয় এবং মুসলিম সমাজ হয়ে যায় ধর্মীয় নেতৃত্বশূন্য, তখন নববী ইলমের আলোয় আলোকিত একদল মানুষ তৈরির লক্ষ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই জনসাধারণের সহযোগিতায় ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী সর্বজনীন বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম দেওবন্দ। সুনির্দিষ্ট ব্যাপক লক্ষ-উদ্দেশ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি সর্বজন সমাদৃত হয়ে ওঠে এবং একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দারুল উলূমের শিক্ষাধারা অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে অসংখ্য দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও স্বাধীনতার আগে ও পরে এই ধারায় গড়ে ওঠে অনেক প্রতিষ্ঠান। যেগুলো শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে আদর্শ জাতি গঠনসহ মানুষের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণে বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। [৫]
জামিয়া আরাবিয়া ইমাদাদুল উলূম ফরিদাবাদ দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষা ধারায় পরিচালিত একটি বৃহত্তম দীনি প্রতিষ্ঠান। যা অর্ধশতাব্দী কালেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণে বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের প্রয়োজনেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য জরুরি : [৫]
১৩৭৫ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৬ সালে শামসুল হক ফরিদপুরী মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। নামকরণ করেন হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীর নামে। এ প্রতিষ্ঠানটির প্রথম মুরুব্বী ও মুতাওয়াল্লী ছিলেন নিজেই এবং মুহতামিম ছিলেন সহপাঠী মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠালাভ করে এ মাদ্রাসায় এবং প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রায় একযুগ বেফাকের প্রধান কার্যালয়ও ছিল এ মাদরাসাতে।
নাম ও অবস্থান :
[সম্পাদনা]পুরো নাম : জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ।
কুতুবে আলম, শায়খুল মাশায়েখ হযরত মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি রহ.-এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বপ্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে ফরিদাবাদ মহল্লায় প্রায় সাড়ে পাঁচবিঘা জমির ওপর এ প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান।[৫]
প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা :
[সম্পাদনা]১৩৭৫ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে মুজাহিদে আযম হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই উক্ত প্রতিষ্ঠানের মুতাওয়াল্লী ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর অসুস্থতার কারণে তাঁরই পরামর্শক্রমে বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. এই জামিয়া পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন পরিচালনা করেন।
জমিদাতা :
[সম্পাদনা]বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর মরহুম কবির উদ্দিন মোল্লা কর্তৃক ওয়াকফকৃত সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর এই খালেস দীনি প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ক্ষুদ্রাকার থাকলেও অতি অল্প সময়ের মধ্যে জামিয়ার রূপ বৃহদাকার ধারণ করে এবং সারাদেশে এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষ ও উদ্দেশ্য :
[সম্পাদনা]জ্ঞানপিপাসু মুসলিম সন্তানদেরকে কোরআন ও হাদীসের বিশুদ্ধ শিক্ষায় শিক্ষিত করে পৃথিবীতে একদল যোগ্য, সংশয়হীন, বলিষ্ঠ ঈমানদার, আবেদ ও নিষ্ঠাবান আল্লাহর প্রতিনিধি তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি যুগ ও সমাজের চাহিদা মোতাবেক বহুমুখী সেবা আঞ্জাম দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার হুকুমকে সমুন্নত রাখা ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য।
বৈশিষ্ট্য :
[সম্পাদনা]এটি একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আল্লাহর ওপর ভরসা এবং মুসলিম জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা এর যাবতীয় খরচ নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। এতদসত্ত্বেও জামিয়ার গোরাবা ফান্ড থেকে গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের সারা বছর ফ্রি খোরাকী দেওয়া হয়। প্রয়োজনে অন্যান্য আর্থিক সাহায্যও করা হয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে জামিয়ার পক্ষ থেকে পড়াশুনার সুবিধার্থে প্রতি এক-শিক্ষাবর্ষের জন্য কিতাবপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছাত্রাবাসে সকল ছাত্রের জন্য ফ্রি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্রদের আমল-আখলাক ও পড়া-শোনার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখার জন্য বিচক্ষণ ও সুযোগ্য আসাতিযায়ে কেরাম সার্বক্ষণিক নেগরানিতে নিয়োজিত রয়েছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]১। মক্তব বিভাগ : প্রাইমারী স্তর। উক্ত বিভাগে সর্বমোট পাঁচ বছরে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অংক, বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস ইত্যাদিসহ নাজেরা কোরআন শরীফ, মাসনুন দুআ ও প্রাথমিক পর্যায়ে উর্দু, ফার্সি ও জরুরি মাসায়েল শিক্ষা দেওয়া হয়।
২। হিফয বিভাগ : এ বিভাগে সযত্নে ছাত্রদের কোরআনে কারীম হিফয করানো হয়।
৩। মারহালা ইবতিদাইয়্যাহ : আরবী বিভাগের ২য় স্তর, নিম্ন মাধ্যমিক মানের। দুবছরে এ কোর্স সম্পন্ন হয়। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে ইলমে সরফ (আরবী ব্যাকরণের ক্রিয়াসংশ্লিষ্ট অধ্যায়) আরবী সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য ও সাধারণ জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয়।
৪। মারহালা মুতাওয়াসসিতা : আরবী বিভাগের ৩য় স্তর, উচ্চ মাধ্যমিক মানের। উক্ত মারহালায় মোট চার বছরে এ মানের উচ্চতর আরবী ব্যাকরণ, ফিকহ ও ফিকহের মূলনীতি, আরবী সাহিত্য, কুরআনে কারীমের অনুবাদসহ ইলমে মানতেক (যুক্তিবিদ্যা) শিক্ষা দেওয়া হয়।
৫। মারহালা সানাবিয়া উলইয়া : আরবী বিভাগের চতুর্থ স্তর, উচ্চ মাধ্যমিক মানের। এই মারাহালায় দুই বছরে কোরআনে কারীমের অনুবাদ, ফিকহ, উসূলে ফিকহ, প্রাচীন আরবী সাহিত্য, সমকালীন আরবী সাহিত্য, ফারায়েজ ও অংলঙ্কারশাস্ত্র শিক্ষা দেওয়া হয়।
৬। মারহালা ফজিলত : আরবী বিভাগের পঞ্চম স্তর, স্নাতক মানের। এই মারহালায় দুই বছরে তাফসীর, উসূলে তাফসীর, হাদীস, উলূমে হাদীস, ফিকহ, ইতিহাস ও ইসলামী আকাইদ শিক্ষা দেওয়া হয়।
৭। মারহালা তাকমিল : (আরবী বিভাগের ষষ্ঠ স্তর, ইসলামী সাধারণ শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর মাস্টার্স মানের) উক্ত মারহালায় এক বছরে কুতুবে সিত্তা তথা বুখারি, মুসলিম, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাব যথা মুয়াত্তা মুহাম্মদ, মুয়াত্তা মালেক, শরহু মাআনিল আসার (ত্বহাবি), শামায়েলে তিরমিযী ইত্যাদি কিতাব পড়ানো হয়।
৮। ইফতা বিভাগ : এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করা মেধাবী ছাত্রদের দুবছরে বিশেষভাবে ফিকহ্শাস্ত্র অনুশীলন ও গবেষণার মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়।
জামিয়ার প্রাক্তন বিশিষ্ট কয়েকজন উস্তাদ :
[সম্পাদনা]প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জামিয়ার ইলমে নববীর জ্যোতি বিকিরণ করে গেছেন প্রখ্যাত বুযুর্গানে দীন। যাঁরা ইলম-আমলে আকাবীরে দেওবন্দের বাস্তব নমুনা ছিলেন। যাঁদের সুনামের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছিল দিক-বিদিক। যাঁদের মূল্যবান মেধা, শ্রম, সময় ব্যয়ে অত্র জামিয়া হয়ে উঠেছে দীনি ইলম শিক্ষাদানের এক মহীরুহে। তাঁদের নান্দনিক বলিষ্ঠ দরস প্রদানে জামিয়ার ছাত্রগণও গড়ে উঠছে তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরিরূপে। তাঁদের সবার তালিকা বক্ষমাণ প্রবন্ধে সঙ্কুলান সম্ভব নয়। তবে বিশিষ্ট কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলো :
হযরত মাওলানা উবাইদুল হক রহ., প্রাক্তন খতীব জাতীয় মসজিদ, বাইতুল মুকাররম, ঢাকা।
হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ চাঁদপুরী রহ.
হযরত মাওলানা হেদায়েত হুসাইন রহ.
হযরত মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমী রহ., সাবেক মুহতামিম, আরজাবাদ মাদরাসা, মিরপুর, ঢাকা।
হযরত মাওলানা হাসসান রহ., প্রাক্তন শায়খে সানী ও নাযেমে তালীমাত।
হযরত মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান দা. বা., লন্ডন।
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী দা.বা., শায়খুল হাদীস, কাসেমুল উলূম মাদরাসা, কুমিল্লা।
হযরত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ দা.বা., সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা।
হযরত মাওলানা সুলাইমান নোমানী দা.বা., শায়খুল হাদীস, জামিয়া নূরিয়া আশরাফাবাদ, ঢাকা।
হযরত মাওলানা রেজাউল করীম ইসলামাবাদী রহ., প্রাক্তন মুহাদ্দিস, আরজাবাদ মাদরাসা, মিরপুর, ঢাকা।
হযরত মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী দা.বা., শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম, বারিধারা মাদরাসা, ঢাকা।
হযরত মাওলানা মাযহারুল ইসলাম রহ., বিশিষ্ট বক্তা, চট্টগ্রাম।
হযরত মাওলানা আবদুল মান্নান দা.বা., মুহতামিম, রাজফুলবাড়িয়া মাদরাসা সাভার, ঢাকা।
হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ দা.বা., মুহতামিম, জামিয়া দীনিয়া পীরজঙ্গি মাদরাসা, মতিঝিল, ঢাকা।
হযরত মাওলানা রুহুল আমীন দা.বা., মুহতামিম, জামিয়াতুস সাহাবা, টঙ্গী।
হযরত মাওলানা মুফতী গোলাম মুস্তফা রহ., মুহতামিম, জামিয়া নেযামিয়া দারুস সুন্নাহ, ইসলামাবাদ, টাঙ্গাইল।
হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ রহ., প্রতিষ্ঠাতা আজিমপুর মাদরাসা, ঢাকা।
হযরত মাওলানা আব্দুল জাব্বার রহ., মহাসচিব, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।
হযরত মাওলানা মুফতী উবায়দুল্লাহ দা. বা., ইমাম ও খতীব, সিদ্দীক বাজার জামে মসজিদ।
হযরত মাওলানা মুফতী মুহসিনুল করীম দা.বা., প্রধান মুফতী ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইউনুসিয়া বি.বাড়িয়া।
হযরত মাওলানা কবীর আহমদ রহ., মাস্টার মোহাম্মদ আলী রহ.।
জামিয়ার ভবনসমূহ :
[সম্পাদনা]অন্যান্য কওমি মাদরাসার ন্যায় ফরিদাবাদ জামিয়ার সূচনা হয় ক্ষুদ্র পরিসরেই। এরপর চলতে থাকে শিক্ষার উন্নতি ও স্থাপনার অগ্রগতি, চলতে চলতে এ জামিয়া যেমন একটি ঐতিহ্যবাহী ইলমে দীনের ফোয়ারা ও আত্মশুদ্ধির কেন্দ্রে পরিগ্রহ হয়, তেমনি শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুপাতে জামিয়ার স্থাপনা এবং ভবনও বাড়তে থাকে। বর্তমানে জামিয়ার ভবন সংখ্যা নয়টি। ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দিত রূপে। স্থাপিত হয়েছে পরস্পর সংযুক্ত করে মাদরাসার চারপাশে ঘিরে এমনভাবে, যে কেউ এক ভবনে প্রবেশ করলে সাত ভবন ঘুরে বের হতে পারে। ভবনগুলোর নামকরণ করা হয়েছে সাত জন বিশিষ্ট সাহাবীর নামে। প্রত্যেক ভবনের রুম স্বতন্ত্র নম্বরযুক্ত। উস্তাদগণের রুমের সামনে সংক্ষিপ্ত পরিচিতসহ নেমপ্লেট লাগানো আছে।
১। দারে আবূ বকর রাযি. : এটি জামিয়ার উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত।
এ ভবন দিয়েই মাদরাসার ভবন নির্মাণের সূচনা। প্রথমে টিনসেড স্থাপিত হয় ১৯৫৬ সালে। বিল্ডিং নির্মিত হয় ১৯৬৮ সালে, বর্তমানে এটি পাঁচতলা।
২। দারে উমর রাযি. : এটি উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত। টিনসেড স্থাপিত হয় ১৯৫৬ সালে। পাকাভবন তৈরি হয় ১৯৮৭ সালে। বর্তমানে এটি পাঁচ তলা ভবন।
৩। দারে উসমান রাযি. : এটি মাদরাসার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। টিনসেড স্থাপিত হয় ১৯৫৬ সালে। পাকাভবন তৈরি করা হয় ১৯৯৯ সালে। বর্তমানে এটি ছয় তলা ভবন।
৪। দারে আলী রাযি. : এটি জামিয়ার দক্ষিণ দিকের প্রথম বিল্ডিং। টিনসেড নির্মিত হয় ১৯৫৭ সালে। ১৯৯৯ সালে পাকাভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি ছয়তলা ভবন।
৫। দারে হামযা রাযি. : এটি জামিয়ার দক্ষিণ দিকের দ্বিতীয় বিল্ডিং। ১৯৯৯ সালে এটি নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি ছয় তলা ভবন।
৬। দারে যুবায়ের রাযি. : এটি মাঠের পূর্বদিকে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালে টিনসেড স্থাপিত হয়। বর্তমানে এটি সাত তলা ভবন।
৭। দারে তালহা রাযি. : এটি জামিয়ার সম্মুখের সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত। ১৯৫৮ সালে প্রাথমিকভাবে টিনসেড নির্মিত হয়। ১৯৯১ সালে পাকা ভবন স্থাপিত হয়। বর্তমানে এটি পাঁচ তলা ভবন।
৮। দারে আবু হুরায়রা রাযি. : এটি জামিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে দারে উসমানের পেছনে অবস্থিত। ২০১০ সালে নির্মাণ কাজ শুরু, বর্তমানে ছয় তলা ভবন।
মসজিদে বেলাল রাযি. :
[সম্পাদনা]১৯৫৭ সালে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জায়গা ও আর্থিক জটিলতায় নির্মাণকাজ বিলম্বিত হয়। ১৯৬১ সালে দ্বিতলবিশিষ্ট পাকা মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৬৬ সালে প্রথম তলা , ১৯৯১ সালে দ্বীতিয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। মাদরাসার ছাত্রসংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার মসজিদ অপ্রতুল হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলার দরবারে বহু ফরিয়াদ, অশ্রুর নজরানা পেশ ও অক্লান্ত শ্রম, চেষ্টা ও তদবীরের পরে ২০০৮ সালে মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বের বেদখল জমি উদ্ধার হয়। সে বছরেই বারো হাজার বর্গ ফুটের বহুতলবিশিষ্ট নতুন মসজিদ নির্মাণ শুরু হয়। বর্তমানে এর ৯ তলা।
প্রকাশনা
[সম্পাদনা]
- মাসিক নেয়ামত
মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. ১৯৩৭ সালে মাসিক নেয়ামত প্রতিষ্ঠা করেন। এটা বাংলা ভাষার সর্বপ্রাচীন জীবন্ত ধর্মীয় মাসিক। পত্রিকাটি মূলত তাঁর শায়খ ও মুর্শিদ হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. এর রচনা ও বয়ান বাংলাভাষাভাষীদের কাছে পৌঁছানোর জন্যই প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে মাসিক নেয়ামত সম্মুখীন হয়েছে নানান প্রতিকূলতার। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর ফরিদাবাদ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জুন ২০১৩ থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে, যা ইতোমধ্যে সচেতন লেখক ও পাঠক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মুতিউর রহমান।[৬]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- উত্তুর পশ্চিম পুরনো ফতোয়া বিভাগ।
- মাদ্রাসার দক্ষিণ পূর্ব পাশ থেকে তোলা ছবি।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Tamim, Saifullah (১৬ মে ২০১৯)। "পুরনো ঢাকার সকল কওমী মাদরাসা (ঢাকা জেলা, পর্ব-৩)"। qawmimadrasah.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "কওমি শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য, শীর্ষে হাটহাজারী মাদ্রাসা | banglatribune.com"। Bangla Tribune। ২২ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ৫৮ আলেম"। দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ newsdesk (১৬ নভেম্বর ২০১৯)। "আগামী ১৭ জানুয়ারী ফরিদাবাদ মাদ্রাসা ও এতিমখানার ইসলামী মহা সম্মেলন ॥"। Voice Of Faridpur (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০২০।
- 1 2 3 4 5 6 7 মাসিক নেয়ামত
- ↑ হুসাইন, বেলায়েত (২৪ জুন ২০২১)। "মনীষীদের স্মৃতিধন্য দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান"। কালের কণ্ঠ।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| ধর্ম বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |