আসসালামু আলাইকুম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আসসালামু আলাইকুম (পূর্ণরূপ: আস-সালামু আলাইকুম ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতু; আরবি: ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ‎‎; আপনার/তোমার উপর শান্তি, আল্লাহর দয়া, আল্লাহর কৃপা বর্ষিত হোক) বা সংক্ষেপে সালাম হলো একটি আরবি অভিবাদনবাচক শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে শান্তি, প্রশান্তি কল্যাণ, দোয়া, আরাম, আনন্দ, তৃপ্তি।[১] সালাম একটি সম্মানজনক, অভ্যর্থনামূলক, অভিনন্দনজ্ঞাপক, শান্তিময় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামী অভিবাদন।

এটি উল্লেখ্য যে, ‘আস্‌-সালাম’ (ٱلسَّلَامُ) আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নাম[২] এবং জান্নাতের নাম সমূহের মধ্যে একটি জান্নাতের নাম।সালাম আমাদের জীবনে অনেক শান্তি ও সুখ আনে।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ সর্বপ্রথমে প্রথম মানব আদমকে সালামের শিক্ষা দেন।[৪]

হাদিসে আছে, আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিতঃ নবি মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করে বলেন, যাও ফেরেশতাদের দলকে সালাম দাও এবং তোমার সালামের কি উত্তর দেয় মন দিয়ে শুন। এটিই হবে তোমার আর তোমার সন্তানদের জন্য সালাম। সে অনুযায়ী আদম গিয়ে বলেন, "আস্‌সালামু আলাইকুম" (অৰ্থ: আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। ফেরেশতারা উত্তর দেন, "ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রহমাতুল্লাহি" (অৰ্থ: আপনাদের উপর শান্তি এবং আল্লাহর দয়া বর্ষিত হোক)। এক্ষেত্রে ফেরেশতারা রাহমাতুল্লাহ শব্দটি বৃদ্ধি করেন।[৫]

সালাম দেওয়া সুন্নাহ। উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।

অন্যান্য নবিদের জীবনে সালামের প্রচলন। ইব্রাহিম (আঃ) এর ক্ষেত্রে, কুরআনে পাওয়া যায়-

এবং অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের নিকট এসেছিল। তারা সালাম জানায়। তিনিও ‘সালাম’ দেন।[৬]

নির্দেশনা[সম্পাদনা]

সালাম দেয়া সুন্নাহ। কুরআনে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে,

হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। যাতে তোমরা স্মরণ রাখো।[৭]

হাদিসে অন্যের গৃহে গিয়ে তিনবার সালাম দিতে বলা হয়েছে এবং অনুমতি প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। অনুমতি নাদিলে চলে আসতে বলা হয়েছে।[৮]

কোনো গৃহে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া সুন্নাহ। আল্লাহ্ কুরআনে উল্লেখ করেন,

﴿فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ ٦١ ﴾ [النور: ٦١]

অনুবাদ: তবে তোমরা যখন কোনো গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজদের উপর সালাম করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কৃপাপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদনস্বরূপ।[৯]

আনাস হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ বলেন,

«يا بني إذا دخلت على أهلك فسلم يكن بركة عليك وعلى أهلك» رواه الترمذي، وقال حديث حسن.

অনুবাদ: হে বৎস! তুমি যখন গৃহে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও। তা তোমার জন্য ও তোমার পরিবার পরিজনের জন্য বরকত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।[১০]

আনাস হতে আরো বর্ণিত, মুহাম্মাদ বলেন,

«إذا خرج الرجل من بيته فقال بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله يقال له هديت وكفيت ووقيت وتنحى عنه الشيطان» رواه الترمذي، و حسنه والنسائي وابن حبان في صحيحه.

بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله

অনুবাদ: যখন কোনো ব্যক্তি গৃহ থেকে বের হওয়ার সময় এ দোআ পাঠ করে, তাকে বলা হয়, তোমাকে হেদায়েত দেয়া হয়েছে, তোমাকে বাঁচানো হয়েছে। আর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়।[১১]

আবু মালিক আল-আশআরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

«إذا ولج الرجل بيته فليقل: اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا ثم ليسلم على أهله» حديث حسن.

«اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا»

অনুবাদ: যখন কোনো ব্যক্তি গৃহে প্রবেশ করে, সে যেন এ দোআ পাঠ করে- হে আল্লাহ! তোমার নিকট উত্তম বাসস্থান চাই এবং উত্তম বের হওয়া চাই। হে আল্লাহ! আমরা আল্লাহর নামে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে বের হলাম। হে আমাদের রব আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। তারপর সে তার পরিবার-পরিজনকে সালাম দেবে।[১২]

আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

«لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أو لا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم» رواه مسلم.

অনুবাদ: তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ "ঈমানদার" হতে পারবে না। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ "ঈমানদার" হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমরা একে অপরকে ভালবাসবে না, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিস বাতলে দেব, যা করলে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভালো বাসবে? তোমারা বেশি বেশি করে সালামকে প্রসার কর।[১৩]

কোনো জমায়েতকে সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে সালাম শব্দটি "মারেফা" (السلام) বা "নাকিরা" (سلام) উভয় প্রকারে ব্যবহার করা যাবে। কারণ, হাদিসে উভয় প্রকারের ব্যবহার প্রমাণিত আছে। আল্লামা ইবনুল বান্না বলেন, সম্ভাষণের সালাম নাকিরা হবে, আর বিদায়ী সালাম মারেফা হবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সভা থেকে ফিরে যাওয়ার সময়, সালাম দেয়া মুস্তাহাব। কারণ আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ বলেন,

«إذا انتهى أحدكم إلى المجلس فليسلم فإذا أراد أن يقوم فليسلم فليست الأولى بأحق من الآخرة»

অনুবাদ: যখন তোমরা কোনো সভায় গিয়ে পৌছবে তখন তুমি সালাম দেবে। আর যখন তুমি সভা শেষ করে মজলিস থেকে উঠে দাঁড়াবে, তখনও সালাম দেবে। প্রথম সালাম শেষের সালাম থেকে অধিক গুরুত্ব বহন করে না।[১৪]

জমায়েতের মধ্য হতে যে কোনো একজনের সালাম দেয়া দ্বারা সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে। উত্তম হলো জামাতের সবাইকে সালাম দেয়া। কারণ, হাদিসে বলা হয়েছে

«أفشوا السلام بينكم»

অনুবাদ: তোমরা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে সালামকে প্রসার কর।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আর যে সব ক্ষেত্রে সালাম দেয়া মাকরু, সে সব ক্ষেত্রগুলোকে আল্লামা গাজ্জি উল্লেখ করেন-

যাদের সালাম দেয়া মাকরু নিম্নে তাদের আলোচনা করা হল, এরা ছাড়া বাকী যাদের সাথে তোমার দেখা হবে, তাদের সালাম দেয়া সুন্নাহ ও বৈধ। সালাতরত ব্যক্তি, কুরআন পাঠকারী, আল্লাহকে স্বরণকারী, হাদিস পাঠদানকারী, খুতবাদানকারী এবং যারা খুতবা শুনায় মগ্ন [তাদের সালাম দেয়া মাকরু]। ফিকহ (আইনশাস্ত্র) নিয়ে আলোচনাকারী, বিচারক যিনি বিচার কার্যে ব্যস্ত [তাকেও সালাম দেয়া মাকরু]। আর যারা ফিকহ নিয়ে গবেষণা করছে তাদেরও তোমরা সালাম দেয়া হতে বিরত থাক, যাতে তারা উপকৃত হয়। মুয়াজ্জিন, একামত দানকারি ও পাঠদানকারীদের সালাম দেয়া মাকরু। অনুরূপভাবে অপরিচিত যুবতী নারী, [যাদের সালাম দেয়াতে অশান্তির আশঙ্কা থাকে] তাদের সালাম দেয়া কোনো ক্রমেই উচিত নয়। যারা দাবা খেলায় মগ্ন তাদের ও তাদের মত লোকদের সালাম দেয়া মাকরু। আর যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে খেল-তামাশায় মগ্ন [তাদের সালাম দেয়া যাবে না]। অমুসলিম ও নগ্ন লোককে সালাম দেবে না, মল-মুত্র লিপ্তদের সালাম দেয়া হতে বিরত থাকবে। অনুরূপভাবে খাওয়ায় ব্যস্ত [লোককে সালাম দেবে না], তবে যদি তুমি ক্ষুধার্ত হও এবং জান যে লোকটি তোমাকে ফিরিয়ে দেবে না। অনুরূপভাবে শিক্ষক যিনি পাঠদানে দেয়ায় ব্যস্ত। মনে রাখবে এই হল, শেষ ব্যক্তি বাকীদের সালাম দেয়াতে তুমি উপকার লাভ করবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আগে সালাম দেয়া সুন্নাহ। কারণ, আবু উমামাহ হতে হাদিস বর্ণিত তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

«إن أولى الناس بالله من بدأهم بالسلام»

অনুবাদ: নিশ্চয় আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি সে যে মানুষকে আগে সালাম দেয়।[১৫]

বাচ্চাদের সালাম দেয়া মুস্তাহাব। আনাস হতে বর্ণিত,

عن أنس أنه مر على صبيان فسلم عليهم وقال: «كان رسول الله  يفعله» متفق عليه

অনুবাদ: আমি বাচ্চাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করি এবং তাদের সালাম দেই। মুহাম্মাদ (সাঃ)-ও অনুরূপ করতেন।[১৬]

যখন কোনো এক দল লোক কোনো বসা ব্যক্তি বা বসা লোকদের সভা উপস্হবে, তখন সে প্রথমে তাদের সালাম দেবে। কারণ মুহাম্মাদ বলেন,

«والمار على القاعد»

অনুবাদ: আর যখন কোনো ব্যক্তি দেয়ালের ওপাশ থেকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর, উত্তর দেয়া ওয়াজিব।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

নারীদের সালাম[সম্পাদনা]

নারীদের সালাম দেয়া পুরুষদের পরস্পরের সালামের মতই কোনো পার্থক্য নাই। একজন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে মুসাফাহা করা মুস্তাহাব, অনুরূপভাবে একজন নারী অপর নারীর সাথে মুসাফাহা করা মুস্তাহাব। আবু খাত্তাব বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন,

“قلت لأنس: أكانت المصافحة في أصحاب رسول الله  قال: نعم”

অনুবাদ: আমি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে মুসাফাহা করার প্রচলন ছিল কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, জ্বি, ছিল।[১৭]

বারা ইবনে আজিব হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

«ما من مسلمين يلتقيان فيتصافحان إلا غفر لهما قبل أن يفترقا» رواه أبو داود.

অনুবাদ: যখন দুইজন মুসলিম একত্র হবে এবং একে অপরের সাথে মুসাফাহা করে তখন তারা উভয় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে আল্লাহ্ তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেন।[১৮]

পদ্ধতি[সম্পাদনা]

যে ব্যক্তি আগে সালাম দেবে, তার জন্য মুস্তাহাব হলে, সে বলবে- «ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ» (আসসালামু আলাইকুম)। সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করবে। যদিও উপস্থিত ব্যক্তি একজন হয়। আর সালামের উত্তর দাতা এ বলে উত্তর দেবে: وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، (ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহ) সালামের উত্তরে واو العطف উল্লেখ করবে। আর মনে রাখবে, সালাম দেয়ার সময় কেউ যদি ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু আলাইকুম) এবং উত্তর দেয়ার সময় শুধু وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ. (ওয়া-আলাইকুমুস সালাম) বলে, তাতে সালাম আদায় হয়ে যাবে। যখন কোনো একজন মুসলিমকে সালাম দেয়া হল, তারপর তার সাথে যতবার দেখা হবে, ততবার সালাম দেবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কারণ, হাদিসে সালামকে প্রসার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

«أفشوا السلام بينكم»

অনুবাদ: তোমরা সালামকে প্রসার কর।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যখন দুই সাক্ষাতকারী পরস্পর সালাম দেয় এবং পরস্পরের সালাম শুনতে পায়, তখন উভয়ের উপরই সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। আবু হুরাইরা বলেন,

«إذا لقي أحدكم أخاه فليسلم عليه، فإن حالت بينهما شجرة أو جدار أو حجر ثم لقيه فليسلم عليه» رواه أبو داود، وحديث المسيء وتقدم.

অনুবাদ: যখন তোমরা তোমাদের কোন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত কর, তাকে সালাম দাও। যদি তোমাদের উভয়ের মাঝে কোন গাছ কিংবা পাথর বা দেয়াল বিচ্ছিন্নতা ঘটায়, তারপর আবার দেখা হয়, তাহলে আবারও সালাম দাও।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সালামের উত্তর[সম্পাদনা]

সালামের উত্তর দেয়া ফরযে কিফায়াহ। যদি উপস্থিত লোক একজন হয়, তবে তাকেই সালামের উত্তর দিতে হবে। কারণ, আল্লাহ্ বলেন,

﴿وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ ٨٦ ﴾ [النساء: ٨٦]

অনুবাদ: আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হবে, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে। অথবা জবাবে তাই দেবে।[১৯]

আলী ইবনে আবি তালিব বলেন,

«يجزي عن الجماعة: إذا مروا أن يسلم أحدهم ويجري عن الجلوس أن يرد أحدهم» رواه أبو داود.

অনুবাদ: যখন কোনো জমায়েত অতিক্রম করে, তখন তাদের থেকে যে কোন একজনের সালাম যথেষ্ট হবে এবং কোন সভা হতে যে কোন একজন সালামের উত্তর দিলে তা সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।[২০]

আর যখন কোনো ব্যক্তি দূর থেকে চিঠির মাধ্যমে অথবা দূতের মাধ্যমে কাউকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। তবে মুস্তাহাব হল, দূতকেও সালাম দেয়া এবং এ কথা বলা, وعليك وعليه السلام (তোমার উপর ও তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। কারণ, হাদিসে বর্ণিত, নবি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নিকট একজন ব্যক্তি এসে বলল,

أبي يقرؤك السلام فقال: «عليك وعلى أبيك السلام».

অনুবাদ: আমার পিতা আপনাকে "সালাম" দিয়েছে। এ কথা শোনে মুহাম্মাদ বললেন, আপনার এবং আপনার পিতার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলা হল, অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, তোমার উপর ও তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যদি কোনো ব্যক্তি বধিরকে সালাম দেয়, তখন মুখে বলবে এবং হাতে ইশারা করবে। আর বোবা ব্যক্তির সালাম দেয়া ও উত্তর দেয়া উভয়টি ইশারা দ্বারা হবে। কারণ, তার ইশারা কথার স্থলাভিষিক্ত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

অ-আরব বক্তাদের দ্বারা ব্যবহার[সম্পাদনা]

  • ইরান, আফগানিস্তান, আজারবাইজানতাজিকিস্তানে সালামো আলেইকোম (Salam-o aleykom) শব্দটির ব্যবহার অনিয়মিত, তবে শুধু সালাম (ফার্সি: سلام‎, প্রতিবর্ণী. Salâm‎) শব্দটি ঘন ঘন ব্যবহার করা হয়। খুদা হাফেজ (ফার্সি: خدا حافظ‎, প্রতিবর্ণী. Khudâ hâfez‎, অর্থ: সঙ্গে আল্লাহর সুরক্ষা) শব্দটি বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে বেহ্ সালামাৎ (ফার্সি: به سلامت‎, প্রতিবর্ণী. Beh salâmat‎, অর্থ: শান্তির সঙ্গে) শব্দটির ব্যবহার অনিয়মিত।
  • আলবেনিয়াকসোভোতে আলবেনীয় ভাষায় আসসালামু আলাইকুমের সংকুচিত রূপ সেলামুন আলেজকেম বা সেলামুন আলেজক্বুম এর ব্যবহার বিরল। এখানে "ক্ব" একটি অঘোষ তালব্য ধ্বনি, যা সাধারণত বলকান তুর্কি ও থ্রাকীয় তুর্কির ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য।[২১]
  • আমহারীয় ভাষায় তাদিয়া এর স্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয় আমহারীয় শব্দ সেলাম ব্যবহার করা হয়, যার অর্থ "কি খবর!" শব্দদ্বয়ের সমতুল্য।
  • তুরস্ক, কাজাখস্তানকিরগিস্তানে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ সাক্ষাৎকারে "আসসালামু আলাইকুম" কথাটি ব্যবহার করেন এবং একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন, যা সাধারণত বিদায় জানানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে কিছু ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মহীন মানুষ অভিবাদনকালে শুধু "সেলাম" শব্দটি ব্যবহার করেন। তবে অনেক তুর্কিরাই শব্দটি "সেলামুন আলেইকুম" বলে অনেকটা ভিন্নভাবে উচ্চারণ করেন।
  • পাকিস্তানে ডান হাতে করমর্দন এবং কখনো কখনো কোলাকুলির মাধ্যমেও অভিবাদন জানানো হয় (শুধু মাত্র একই লিঙ্গের মানুষের মাঝে)। কিছু স্থানে লোকেরা একহাত বুকের উপর রেখে অপর হাত দিয়ে করমর্দন করে অভিবাদন জানায়। এছাড়াও দীর্ঘ শুভেচ্ছা (আসসালামু আলাইকুম)'র পরিবর্তে সংক্ষেপে "সালাম" বলে অভিবাদনের রীতিও রয়েছে। বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে "খুদা হাফিজ" (নিরপেক্ষ/প্রথাগত; সাধারণত পরিচিতদের ক্ষেত্রে) অথবা "আল্লাহ হাফিজ" (সল্প নিরপেক্ষ/প্রথাগত; সাধারণত অপরিচিতদের ক্ষেত্রে) ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যার উভয়ের অর্থ "আল্লাহ আপনাকে/তোমাকে নিরাপদে রাখুক"।
  • ভারতে বেশিরভাগ মুসলমানদের মাঝে সাধারণ করমর্দন ও কোলাকুলির মাধ্যমে অথবা আসসালামু আলাইকুম বা অনানুষ্ঠানিকভাবে সংক্ষেপে "সালাম" বলে অভিবাদন জানানো হয়। বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে "খুদা হাফিজ" (নিরপেক্ষ/প্রথাগত; সাধারণত পরিচিতদের ক্ষেত্রে) অথবা "আল্লাহ হাফিজ" (সল্প নিরপেক্ষ/প্রথাগত; সাধারণত অপরিচিতদের ক্ষেত্রে) ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যার উভয়ের অর্থ "আল্লাহ আপনাকে/তোমাকে নিরাপদে রাখুক"।
  • বাংলাদেশের মুসলমানদের মাঝে "আসসালামু আলাইকুম" সবচেয়ে সাধারণ ও জনপ্রিয় অভিবাদন পদ্ধতি।[২২] কেউ কেউ ডান হাত কপালে তুলে "আসসালামু আলাইকুম" বলে প্রবীণ ব্যক্তিদের অভিবাদন জানান।[২৩]
  • উজবেকিস্তানতুর্কমেনিস্তানে আসসালোমু আলেইকুম একটি অনানুষ্ঠানিক অভিবাদন পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
  • In Indonesia, the greeting is usually[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] accompanied with a kind of two-handed "handshake", whereby the shaker's palms remain closed, and the fingers alone open to admit the other's proffered hand – which briefly touches the proffered's fingers or fingertips alone. In this way more adherent males and females may greet through touching – but remain true to the Islamic or cultural teachings forbidding physical contact between the genders. Occasionally, the right hand will touch the left breast or heart area after this.[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] In Indonesia's Javanese/Sasak culture, a remnant of feudalism is retained, where an elder's proffered right hand is taken and pressed briefly against the forehead. Some may instead briefly kiss the hand or the main ring. This is very common for young children to greet older relatives (of their parents' age, though, on occasion, if very polite children, younger). In slang words, this greeting is sometimes referred as "samlekom".
  • Shortening the greeting to acronyms, such as A.S., As'kum (in Malaysia), or AsA is becoming common amongst Internet users in chat rooms and by people using SMS. This trend is similar to writing (S) or SAWS in place of ṣallā llāhu ʿalayhi wa-sallam.
  • In Chechnya and other parts of the Caucasus, Salam Aleykum is used to say hi.
  • In Senegal which has a majority of Muslims with Sufi-orientation, it is a common greeting. Spelled and pronounced in Wolof: "(a)sala maaleykum", and the reply "maa lekum salaam."
  • In Xinjiang, China, "Essalam eleykum" is used as a greeting by Uyghurs, and the reply is "We'eleykum essalam".
  • In Portuguese, the expression "salamaleque" gained a totally distinct and curious meaning: because of the habit of Arabic cultures to bow down and wave the hand from the front ahead in greeting a person, the expression "salamaleque" is applied to exaggerated movements or acts in order to appear to be formal or entertaining or even fancy. "Os rapazes chegaram cheios de salamaleques". "Salamelecco" has the same meaning also in Italian.
  • In Israel or among Hebrew speakers, Shalom aleichem হিব্রু ভাষায়: שָׁלוֹם עֲלֵיכֶםshālôm ʻalêḵem)[২৪][২৫] is a greeting in meaning "peace be upon you." The response is aleichem shalom ("unto you peace") (হিব্রু ভাষায়: עֲלֵיכֶם שָׁלוֹם‎).[২৬][২৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.QuranerAlo.com
  2. 99namesofallah.name
  3. en.m.wikipedia.org/wiki/Jannah
  4. হাদিস গ্রন্থ-মিশকাত, হাদিস নং-৪৬২৮, অধ্যায়-শিষ্টাচার, অনুচ্ছেদ-সালাম।
  5. হাদিস গ্রন্থ- মিশকাত,হাদিস নং- ৪৬২৮, অধ্যায়- শিষ্টাচার, অনুচ্ছেদ- সালাম।
  6. সূরা হুদ (১১):৬৯
  7. [সূরা নূর: ২৭]
  8. [তিরমিযী]
  9. [সূরা নূর: ৬১]
  10. [তিরমিযী]
  11. [তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে হিব্বান]
  12. [আবু দাউদ]
  13. [মুসলিম]
  14. [আবু-দাউদ ও তিরমিযী]
  15. [আবু-দাউদ]
  16. [বুখারি ও মুসলিম]
  17. [বুখারি]
  18. [আবু-দাউদ]
  19. [সূরা নিসা: ৮৬]
  20. [আবু-দাউদ]
  21. Friedman, Victor A.। "Balkan Turkish in Macedonia and Adjacent Areas" (PDF)University of Chicago: 12। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  22. "Introduction to the bangla language" (PDF)Peace Corps: 6। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  23. ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  24. "shalom aleichem"মেরিয়াম-ওয়েবস্টের ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ মে ১৯, ২০১৮ 
  25. "shalom aleichem"Collins Dictionary। সংগ্রহের তারিখ মে ১৯, ২০১৮ 
  26. "shalom aleichem"ডিকশনারী.কম। র‍্যান্ডম হাউজ। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৮, ২০১৬ 
  27. Dovid Zaklikowski। "The Jewish Hello"Chabad.org। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৮, ২০১৬