আর্সেনাল ফুটবল ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আর্সেনাল
আর্সেনাল ক্রেস্ট
পূর্ণ নাম আর্সেনাল ফুটবল ক্লাব
ডাকনাম দ্য গানার্স
প্রতিষ্ঠা ১৮৮৬ "দিয়াল স্কয়ার" নামে
মাঠ এমিরেটস্‌ স্টেডিয়াম, হলোওয়ে
লন্ডন, ইংল্যান্ড
(ধারণক্ষমতা: ৬০,৩৬১[১])
চেয়ারম্যান ইংল্যান্ড স্যার চিপস্ কেসউইক
ম্যানেজার ফ্রান্স আর্সেন ওয়েঙ্গার
লীগ প্রিমিয়ার লীগ
২০১৪-২০১৫ প্রিমিয়ার লীগ, ৩য়
ওয়েবসাইট ক্লাবের প্রধান পাতা
হোম রং
এওয়ে রং
তৃতীয় রং

আর্সেনাল ফুটবল ক্লাব (আর্সেনাল, গানার্স নামে পরিচিত) একটি ইংরেজ পেশাদার ফুটবল ক্লাব। ইংরেজ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল ক্লাব। আর্সেনাল মোট তের বার প্রথম বিভাগ এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা, বার বার এফএ কাপ এবং ২০০৫-০৬ মৌসুমে লন্ডনের প্রথম ক্লাব হিসাবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এছাড়াও ইউরোপীয় ফুটবলের সেরা ক্লাবদের সংঘ জি-১৪-এর গুরুত্বপুর্ণ সদস্য। আর্সেনালের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ওউলিচে১৯১৩ সালে হাইবারিতে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে স্থাপিত হয় আর্সেনাল স্টেডিয়াম। এরপর ২০০৬ সালের মে মাসে লন্ডনের হলোওয়েতে, এমিরেট্‌স স্টেডিয়াম তাদের প্রধান কার্যালয় হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

যদিও ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা ১৮৮৬ সালে, আর্সেনালের সাফল্যের সূচনা ১৯৩০ সালে প্রথমবারের মতো লীগ চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭০- ৭১ মৌসুমে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দল হিসাবে আর্সেনাল যুগ্ম শিরোপা জয় করে। শেষের বিশটি বছর ছিল ক্লাবটির স্বর্ণ যুগ। এসময় তারা দ্বিতীয়বারের মতো আবার ২০০৩- ০৪ মৌসুমে যুগ্ম শিরোপা জয় করে। এই মৌসুমেই তারা অপরাজিত থেকে লীগ শিরোপা জয় করে। ২০০৫- ০৬ সালে তারা লন্ডনের প্রথম ক্লাব হিসাবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়।

প্রথাগতভাবে আর্সেনালের রঙ লাল, সাদা। তবে ইতিহাসে বেশ কয়েকবার তারা তা পরিবর্তন করেছে। একইসাথে পরিবর্তিত হয়েছে ক্লাবটির অবস্থান। বর্তমানে তারা আছে লন্ডনের হলোওয়ের এমিরেট্‌স স্টেডিয়ামে

আর্সেনালের রয়েছে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দী টটেনহ্যাম হটস্পার। ইংরেজ ফুটবলে অন্যতম ধনী ক্লাব আর্সেনাল(২০০৭ সালে ৬০০মিলিয়ন পাউন্ড)। ক্লাবটির মহিলা দল আর্সেনাল এলএফসি ইংরেজ মহিলা ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ক্লাব।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আর্সেনালের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৬ সালে রয়েল আর্সেনালে কর্মরত কিছু শ্রমিকের মাধ্যমে। শুরুতে ক্লাবটির নাম ছিল ডায়াল স্কয়ার। কিছুদিন পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রয়েল আর্সেনাল১৮৯১ সালে পেশাদার দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার পর এর নাম রাখা হয় ওউলিচ আর্সেনাল১৮৮৩ সালে প্রথমবারের মত ফুটবল লীগে যোগ দেয় এবং প্রায় ২১ বছর পর ১৯০৪ সালে প্রথম বিভাগ দলের মর্যাদা লাভ করে। ভৌগোলিক কারণে শুরু থেকেই তাদের দর্শক সংখ্যা ছিল অনেক কম। যার কারণে ১৯১০ সালের মধ্যেই তারা অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ে।[২] ১৯১৩ সালে রেলিগেশনের কারণে আর্সেনাল দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যায় এবং ঠিক এই সময়ে তারা হাইবারিতে আর্সেনাল স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা করে সেখানে চলে আসে।[৩] একই বছরে দলটি তাদের নাম থেকে রয়েল শব্দটি বাদ দিয়ে দেয়। ১৯১৯ সালে পঞ্চম স্থানে থেকে বছর শেষ করার পর তারা টটেনহ্যাম হটস্পারের পরিবর্তে প্রথম বিভাগে ফিরে আসে।

১৯৮৮ সালের আর্সেনাল দল

১৯২৫ সালে আর্সেনালের ম্যানেজার হিসাবে যোগ দেন হার্বার্ট চ্যাপম্যান। তার হাত ধরেই আর্সেনাল প্রথমবারের মতো ১৯২৩-২৪ এবং ১৯২৪-২৫ সালে লীগ শিরোপা জিতে। তিনি দলে টেনে আনেন অ্যালেক্স জেম্‌স এবং ক্লিফ ব্যাস্টিন সহ আরো নামী দামী খেলোয়াড়। ১৯৩০-১৯৩৮ পর্যন্ত আর্সেনাল পাঁচবার প্রথম বিভাগে শিরোপা, দুইবার এফএ কাপ শিরোপা জিতে নেয়। যদিও চ্যপম্যান দলের এই স্বর্ণযুগ পুরোটা উপভোগ করে যেতে পারেননি। ১৯৩৪ সালে এই কিংবদন্তি ম্যানেজার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। চ্যপম্যান ১৯৩২ সালে লন্ডনের একটি স্থানীয় পাতাল স্টেশনের নাম "গিলেস্পি রোড" পরিবর্তন করে "আর্সেনাল" রাখার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কোন ফুটবল ক্লাবের নামে রাস্তার নাম রাখার ইতিহাস সেখান থেকেই শুরু।[৪]

পরবর্তীতে নতুন ম্যানেজার টম হুইটেকারের সময়ে আর্সেনাল ১৯৪৭-৪৮১৯৫২-৫৩ সালে লীগ শিরোপা এবং ১৯৪৯-৫০ সালে এফএ কাপ শিরোপা জিতে। এই সময় ক্লাবটি তারকাশূন্য হতে শুরু করে। সাথে সাথে তারা নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় দলে টেনে আনতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে ১৯৫০-১৯৬০ সাল পর্যন্ত ক্লাবটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা ঘরে তুলতে পানেনি। স্বয়ং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক বিলি রাইট আর্সেনালের ম্যানেজারের (১৯৬২-১৯৬৬) দায়িত্ব পালনের সময়ও আর্সেনাল গুরুত্বপুর্ণ কোন সাফল্য পায়নি।

আর্সেনালের দ্বিতীয় সাফল্যের অধ্যায় শুরু হয় যখন ক্লাব কর্তৃপক্ষ ১৯৬৬ সালে বারটাই মিকে ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়। ১৯৭০ সালে তারা প্রথমবারের মত ইউরোপীয় শিরোপা জয় করে। ১৯৭০-৭১ সালে তারা একই সাথে জিতে নেয় লীগ এবং এফএ কাপ শিরোপা। কিন্তু এই সময় অনেক খেলোয়াড় দল ত্যাগ করে। যার কারণে আর্সেনাল ১৯৭২-৭৩ সালে লীগে রানার আপ হয়। (১৯৭২-৭৩), (১৯৭৭-৭৮), (১৯৭৯-৮০) সালে এফএ কাপ ফাইনালে হেরে যায়। এই সময়টাতে ক্লাবটির একমাত্র সাফল্য ছিল ১৯৭৭-৭৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-২ গোল ব্যবধানে পরাজিত করে এফএ কাপ জেতা।

ক্লাবটির তৃতীয় সাফল্যের অধ্যায় শুরু হয় যখন ১৯৮৬ সালে ক্লাবটি সাবেক খেলোয়াড় জর্জ গ্রাহাম ক্লাবের দায়িত্ব নেন। তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বছরেই আর্সেনাল লীগ কাপ শিরোপা জিতে নেয়। সাথে সাথে ১৯৮৮-৮৯ সালে শেষ মিনিটের গোলে লিভারপুলকে পরাজিত করে লীগ শিরোপা, ১৯৯০-৯১ সালে লীগ শিরোপা, ১৯৯২-৯৩ সালে একত্রে লীগ ও এফএ কাপ শিরোপা ও দ্বিতীয় ইউরোপীয় শিরোপা জিতে নেয়।[৫] ১৯৯৩-৯৪ সালে একজন খেলোয়াড়কে দলে নেয়ার জন্য তিনি একজন দালালের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন যা পরবর্তীতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। ১৯৯৫ সালে তিনি চাকুরিচ্যুত হন। তার বদলী হিসাবে আসেন ব্রুস রায়চ।[৬] ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে মন কষাকষির কারণে এক মৌসুম পরেই তিনি আর্সেনাল ত্যাগ করেন।

২০০৪ সালে লীগ শিরোপা পাবার পর আর্সেনাল ক্লাব ও সমর্থকদের বাস প্যারেড

এরপর ১৯৯৬ সালে আর্সেনালের দায়িত্ব নেন ফরাসি আর্সেন উইঙ্গার। উইঙ্গার এসেই দলের কৌশল এবং প্রশিক্ষণে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। সাথে সাথে তিনি দলে আনেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় যারা দলের আন্যান্য ইংরেজ খেলোয়াড়দের সাথে পাল্লা দিতে সমর্থ হয়। আর্সেনাল ১৯৯৭-৯৮২০০১-০২ সালে আবারো যুগল শিরোপা ঘরে তুলে আনে। ১৯৯৯-০০ সালে তারা উয়েফা কাপের ফাইনালে পরাজিত হয়। এবং সেই প্রতিক্ষীত শিরোপা তারা অর্জন করে ২০০২-০৩ সালে। ২০০৩-০৪ সালে তারা অপরাজিত থেকে লীগ শিরোপা অর্জন করে। এই কারণে ক্লাবটির নতুন ডাক নাম হয় দ্য ইনভিন্সিব্‌ল।[৭] টানা ৪৯ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ক্লাবটি জাতীয় রেকর্ড স্থাপন করে।

উইঙ্গারের দশ বছরে আর্সেনাল আটটি লীগ শেষ করে প্রথম অথবা দ্বিতীয় হয়ে। ১৯৯৩ সালে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হবার পর শিরোপা জয়ী ৪টি দলের মধ্যে আর্সেনাল একটি। বাকি দলগুলো হল (চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স)[৮]২০০৫-০৬ সালে আর্সেনাল লন্ডনের প্রথম ক্লাব হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের ফাইনালের উঠে। যদিও বার্সেলোনার কাছে ৩-২ এ পরাজিত হয়।[৯]

রং[সম্পাদনা]

মূল দলের জার্সি মূল দলের জার্সি মূল দলের জার্সি
মূল দলের জার্সি
মূল দলের জার্সি
আর্সেনালের আসল হোম রঙের পোষাক।

আর্সেনালের পোশাক ইতিহাসের বেশীর ভাগ সময় ধরেই সাদা হাতা যুক্ত লাল শার্ট এবং সাদা হাফপ্যান্ট ছিল। যদিও শুরুটা ছিলো অন্যরকম। আর্সেনালের সাথে লাল রং যুক্ত হয়েছে নটিংহ্যাম ফরেস্ট ফুটবল ক্লাবের অনুদানের কারণে। আর্সেনালের প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর অর্থাৎ ১৮৮৬ সালে নটিংহ্যাম ফরেস্ট ফুটবল ক্লাবের দুই খেলোয়াড় (ফ্রেড ব্রেডসলি এবং মরিস ব্যাতেস) কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণে ওউলিচে আসেন। ফুটবলকে ভালোবাসার কারণে এখানে এসে তারা যোগ দেন সদ্য প্রতিষ্ঠিত আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবে। সেই সময় আর্সেনালের নিজস্ব কোন পোশাক না থাকায় তারা আগের জায়গায় এক সেট পোশাকের জন্য চিঠি লিখে পাঠান। আর্সেনালের জন্য তখন চলে আসে এক সেট পোশাক এবং একটি বল। পোশাকের রং ছিল ঐ ক্লাবের মতো লাল রঙের। [১০]

১৯৩৩ সালে হারবার্ট চ্যপম্যান ভাবলেন ক্লাবের পোশাকটিতে পরিবর্তন আনা দরকার। সেই উদ্দেশ্যে তিনি লাল রংটা আরো গাঢ় করে পোশাকের সাথে সাদা হাতা যুক্ত করে দিলেন। এই সাদা হাতা যুক্ত করার পিছনে মোটামুটি দুটি কাহিনী প্রচলিত আছে। প্রথমটি হল একবার হার্বার্ট চ্যাপম্যান আর্সেনালের একজন সমর্থককে দেখেছিলেন সাদা ফুলহাতা শার্টের সাথে লাল রঙের সোয়েটার পরা অবস্থায়। তখনই তার মাথায় এসেছিলো মূল পোশাকের সাথে সাদা হাতা যুক্ত করে দেবার বিষয়টি। আবার কেউ বলে থাকেন, না, তিনি এই পোশাক পরা অবস্থায় একজনকে দেখেছিলেন তবে সে কোন সমর্থক নয় বরঞ্চ তার বিখ্যাত বন্ধু কার্টুনিস্ট টম ওয়েবস্টার[১১]

কাহিনী যাই হোক না কেন এই লাল সাদা পোশাক আর্সেনালের সমর্থক এখন। মাঝখানে দুইবার তারা সাদা হাতা বাদ দিয়েছিল। প্রথমবার ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে।[১০] যদিও জনপ্রিয়তার অভাবে পরের বছরেই আগের পোশাকে ফিরে আসে তারা। দ্বিতীয়বার ২০০৫-০৬ যখন তারা ১৯১৩ সাল থেকে তাদের জায়গা হাইবারিতে তাদের সর্বশেষ মৌসুমটি খেলে। পুরনো পোশাকের মত পোশাক পরে তারা শেষ করে তাদের হাইবারি ইতিহাস। পরের বছর থেকেই তারা আগের পোশাকে ফিরে আসে। আর্সেনালের অ্যাওয়ে পোষাকের রং বেশির ভাগ সময় হলুদ। মাঝে মাঝে নীল।

আর্সেনাল তাদের পোশাকের জন্য প্রথম স্পন্সরশিপ পায় ১৯৮২ সালে। জেভিসির সাথে তাদের চুক্তি বহাল থাকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। তারপর ১৯৯৯-০২ সাল পর্যন্ত সেগা ড্রিমক্যাস্ট এবং ২০০২-০৬ পর্যন্ত বর্তমান স্পন্সর এমিরেট্‌স এয়ারলাইন। এমিরেট্‌স এর সাথে আর্সেনালের চুক্তি ২০১৪ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ সাল থেকে আর্সেনালের পোশাক প্রস্তুত করে আসছে নাইকি। তার আগে ১৮৮৬-৯৪ পর্যন্ত আডিডাস এবং ১৯৮৬ সালের আগ পর্যন্ত আমব্রো

শার্টের স্পন্সর এবং প্রস্তুতকারী
মেয়াদ পোশাক প্রস্তুতকারী শার্ট স্পন্সর
১৯৩০-৭০ বুকটা নেই
১৯৭৫-৮২ আমব্রো
১৯৮২-৮৬ জেভিসি
১৯৮৬-৯৪ আডিডাস
১৯৯৪-৯৯ নাইকি
১৯৯৯-২০০২ সেগা ড্রিমক্যাস্ট/সেগা
২০০২-০৬ ও টু
২০০৬–২০১৪ ফ্লাই এমিরেট্‌স
২০১৪– পুমা

ক্রেস্ট[সম্পাদনা]

১৮৮৮ সালে রয়েল আর্সেনাল প্রথমবারের মতো তাদের ক্রেস্ট উন্মোচন করে। ক্রেস্টটি উপর থেকে দেখলে তিনটি উত্তরমুখী কামান চোখে পড়ে। কামানগুলোকে কখনো কখনো চিমনি বলে ভুল হতে পারে। কিন্তু সিংহের ভাস্কর্য কামানের নিশ্চয়তা প্রদান করে।[১২] ১৯১৩ সালে হাইবারিতে চলে আসার পর ক্লাবটি এই ক্রেস্ট বাদ দিয়ে দেয়। ১৯২২ সালে তারা প্রথমবারের মতো একটি কামান সমৃদ্ধ ক্রেস্ট গ্রহণ করে। পূর্বমুখী এই কামানের নিচে লেখা ছিল ক্লাবটির ডাক নাম দ্য গানার্স। ১৯২৫ সালেই এটিকে পরিবর্তন করা হয়। তখন কামানের দিক পশ্চিমমুখী করে কামানের নলটিকে নিচের দিকে তাক করা হয়।[১২] ১৯৪৯ সালে কামানের আগের ভঙ্গিমা অপরিবর্তিত রেখে ক্রেস্টটির আধুনিকায়ন করা হয়। সাথে যুক্ত হয় উপরের দিকে কালো হরফে লেখা ক্লাবের নাম এবং কয়েকদিন আগে গৃহীত লাতিন মূলমন্ত্র Victoria Concordia Crescit (অর্থ: অনূভুতি থেকেই জয় আসে)[১২] এবং এবারেই প্রথমবারের মতো ক্রেস্টে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা হয়।

ক্রেস্টের অসংখ্য পরিবর্তনের কারণে ফুটবল ক্লাবটি তাদের ক্রেস্টের স্বত্ব ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। যদিও তারা পাশ্ববর্তী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে পর ক্রেস্টটিকে ট্রেডমার্ক হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি পায়। [১৩] ২০০২ সালে ক্লাবটি সরল ভঙ্গিমায় আরও আধুনিক করে নতুন একটি ক্রেস্ট গ্রহণ করে যার স্বত্ব ধরে রাখতে তারা সমর্থ হয়।[১৪] আগের মতো এবারেও কামান পূর্বদিকে তাক করা এবং ক্লাবের নাম কামানের উপর লেখা। নতুন ক্রেস্টটি সমর্থকদের কাছে সমালোচিত হয়। তারা দাবি জানায় অতি আধুনিক এই ক্রেস্টটিতে ক্লাবটির ইতিহাস সঠিকভাবে ফুটে উঠেনি।

স্টেডিয়াম[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনে ৩ বছর বাদে আর্সেনালের বাকি সময় কেটেছে ম্যানর গ্রাউন্ডে। ৩ বছর তারা ছিল ইনভিক্টা গ্রাউন্ডেম্যানর গ্রাউন্ড শুরুতে ছিল একটি সাধারণ খেলার মাঠ। পরবর্তীতে ১৮৯৩-এর সেপ্টেম্বরে নিজের প্রথম লীগ ম্যাচ খেলার আগে কর্তৃপক্ষ মাঠে দর্শক-গ্যালারি স্থাপন করে। এই মাঠেই কাটে তাদের পরবর্তী ২০ বছর। তারপর ১৯১৩ সালে তারা দক্ষিণ লন্ডনে নতুন আস্তানা গড়ে।

এরপর ১৯১৩ সাল থেকে মে, ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবটি ছিলআর্সেনাল স্টেডিয়ামে যা সাধারণত হাইবারি নামে পরিচিত। স্টেডিয়ামটির নকশা করেছেন তৎকালীন বিখ্যাত ফুটবল স্থপতি আর্কিবাল্ড লেইচ। নকশা ছিল সেই সময়কার ইংল্যান্ডের অন্য সকল মাঠের অনুরূপ। তিনদিকে খোলা গ্যালারি এবং একদিকে আশ্রয় শিবির। ১৯৩০ সালে মাঠে বিশাল আকারের পরিবর্তন আনা হয়। পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে নতুন আর্ট ডেকো, নর্থ ব্যাংক এবং ক্লক এন্ড গ্যালারির ছাদ তৈরি করা হয়। তখন মাঠটি ৬০,০০০ দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ছিল। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মাঠটিতে সর্বোচ্চ ৫৭,০০০ দর্শক খেলা দেখতে পারত। পরে টেইলর রিপোর্ট এবং প্রিমিয়ার লীগের নিয়ম অনুসারে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ গ্যালারিতে আসন স্থাপন করতে বাধ্য হয়। ধারণ ক্ষমতা তখন নেমে আসে ৩৮,৪১৯ জনে।[১৫] ধারণ ক্ষমতা আরও কমে যায় যখন চ্যাম্পিয়ন্‌‌স লীগের ম্যাচ আয়োজন করার জন্য অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন মঞ্চ তৈরি করা হয়। ১৯৯৮-১৯৯৯, ১৯৯৯-২০০০ এই দুই মরশুমে আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের ম্যাচগুলোর জন্য ৭০,০০০ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম ব্যবহার করেছিল। হাইবারি স্টেডিয়ামের সম্প্রসারণ এর আশেপাশের জায়গার মালিকদের বিরোধিতার ফলে সম্ভব ছিলনা যা ছিল ক্লাবটির সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের পথে একটি বিরাট বাধা। এতসব সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে আর্সেনাল ১৯৯৯ সালে ৬০,০০০ আসন সংখ্যাবিশিষ্ট অ্যাশবুর্টন (পরবর্তীতে এমিরেট্‌স স্টেডিয়াম) তৈরি করার পরিকল্পনা হাতে নেয়। আর্থিক কারণে শুরুতে নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে এগোলেও ২০০৬ সালে স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয় তাদের স্পন্সর এমিরেট্‌সের নামে যাদের সাথে ক্লাবটি ইংরেজ ক্লাব ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ড ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি করে।[১৬] এই চুক্তির ফলে ২০১২ সাল পর্যন্ত অফিসিয়ালি স্টেডিয়ামটির নাম থাকবে এমিরেট্‌স স্টেডিয়াম এবং ২০১৩-১৪ ফুটবল মৌসুম পর্যন্ত ক্লাবটির শার্টে লেখা থাকবে ফ্লাই এমিরেট্‌স।[১৬]

২০০০ সাল থেকে আর্সেনালের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হার্টফোর্ডশায়ারের সেনলিতে। এর আগে ব্যবহৃত হত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ছাত্র ইউনিয়নের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তারও আগে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত হাইবারি[১৭] আন্ডারহিল নামের সেই স্টেডিয়ামটি এখনও আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবের অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার জন্য ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামটি বার্নেট ফুটবল ক্লাবের মালিকানাধীন।

সমর্থক[সম্পাদনা]

আর্সেনালের রয়েছে অসংখ্য অনুরাগী ভক্ত। ২০০৬-০৭ সালে নিজেদের মাঠে গড় উপস্থিত দর্শক সংখ্যা প্রতি খেলায় প্রায় ৬০,০৪৫ জন, স্টেডিয়ামের ধারনক্ষমতার ৯৯.৮%। ওই সময়ে অন্যান্য সকল ইংরেজ ক্লাবের মধ্যে যা দ্বিতীয়[১৮] এবং সবসময়ের জন্য চতুর্থ সর্বোচ্চ।[১৯] আর্সেনালের সমর্থকরা নিজেদের গুনার্স নামে ডাকে যা এসেছে ক্লাবটির ডাকনাম দ্য গানার্স থেকে। আর্সেনালের বড় বিশেষত্ব হচ্ছে ক্লাবটির এলাকা। যার কাছাকাছি রয়েছে ধনী এলাকা ক্যানোনবারি, বার্ন্সবারি, মিশ্র এলাকা হলোওয়ে, হাইবারি, ইলিংটন, সাধারণ কর্মজীবি লোকের এলাকা ফিন্সবারি পার্ক। এর ফলে সকল শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে দলটি। এছাড়াও ২০০২ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ক্লাবটির রয়েছে সর্বোচ্চ অ-শ্বেতাঙ্গ সমর্থক যা শতকরা প্রায় ৭.৭ ভাগ। [২০]

অন্যান্য সকল ইংরেজ ফুটবল ক্লাবের মতো আর্সেনালের রয়েছে বিভিন্ন ঘরোয়া সমর্থক ক্লাব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে "অফিসিয়াল আর্সেনাল সাপোর্টাস ক্লাব"। এছাড়াও রয়েছে "আর্সেনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাপোর্টার্স অঅাসোসিয়েশন" যা স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এছাড়াও সমর্থকরা নিয়মিত দ্য গুনার্স, হাইবারি হাই, গানফ্ল্যাশ নামক ফ্যানজাইন প্রকাশ করে থাকে। ইংরেজ ফুটবল প্রথা অনুযায়ী আর্সেনাল সমর্থকরা ওয়ান-নিল টু আর্সেনাল গানটি বিখ্যাত গো ওয়েস্ট গানের সুরে এবং বোরিং, বোরিং আর্সেনাল" গেয়ে থাকে। বোরিং, বোরিং আর্সেনাল গানটি আসলে বিপক্ষ শিবিরের গান। কিন্তু যখন আর্সেনাল ভালো খেলতে থাকে তখন সমর্থকরা যান্ত্রিক সুরে এই গানটি গায়। [২১]

বর্তমানকালে ফুটবল ক্লাবগুলোর জনপ্রিয়তা আর ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আটকে নেই। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে খেলা সরাসরি সম্প্রচারিত হবার সুবাদে পৃথিবী জুড়ে বেড়েছে ভক্তের সংখ্যা। ২০০৫ সালে গ্রানাডা ভেনচারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় আর্সেনালের সারা বিশ্বে ভক্তের সংখ্যা প্রায় ২৭ মিলিয়ন যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। [২২] অবশ্য সে সময় গ্রানাডা ভেনচার ক্লাবের ৯.৯% শেয়ারের অংশীদার ছিল।

আর্সেনালের দীর্ঘ এবং গভীরতম প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী দল টটেনহাম হটস্পার। ক্লাব দুটির মধ্যকার খেলা তাই অভিহিত হয় দক্ষিণ লন্ডন ডার্বি নামে। এছাড়াও চেলসি এবং ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের মধ্যকার খেলাও ডার্বি ম্যাচ। কিন্তু আর্সেনালের ডার্বি ম্যাচের প্রচণ্ড উত্তেজনার সাথে আর কিছুরই তুলনা হয় না। ১৯৮০ সাল থেকে আর্সেনালের আরেক প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুই দলের লীগ শিরোপা পাবার কঠিন প্রতিযোগীতাই এর কারণ।[২৩]

মালিকানা এবং আর্থিক অবস্থা[সম্পাদনা]

মালিকানার দিক থেকে অন্যান্য ক্লাব থেকে আর্সেনাল অনেকটা আলাদা। কোন ব্যক্তি মালিকানায় না থেকে এটি আর্সেনাল হোল্ডিংস পাবলিক লিমিটেড নামে এর কার্যক্রম পরিচালিত করে। এ পর্যন্ত তাদের ৬২,২১৭ টি শেয়ার বাজারে বিতরণ করা হয়েছে। সরাসরি এফটিওএসই অথবা অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটের মতো পাবলিক শেয়ার বাজারের পরিবর্তে আর্সেনাল তাদের শেয়ার ছাড়ার জন্য ব্যবহার করে প্লাস (PLUS) নামক বিশেষ শেয়ার বাজার। সর্বশেষ ডিসেম্বর ৬, ২০০৭ তারিখের হিসাব আনুসারে আর্সেনালের বর্তমান বাজার মুনাফা ৫৩২ মিলিয়ন পাউন্ড[২৪] এবং ২০০৭ অর্থ বছরে ক্লাবটি (খেলোয়াড় বদলি ছাড়া) ৫১.২ মিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা লাভ করে। ২০০৭ এর মার্চে ব্যবসা বিষয়ক পত্রিকা ফোর্বস আর্সেনালকে পৃথিবীর তৃতীয় মূল্যবান ক্লাব হিসাবে ঘোষণা করে। প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান দখল করে যথাক্রমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব এবং রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব[২৫] একই বছর বিখ্যাত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ডেলোইট রাজস্বের উপর ভিত্তি করে ফুটবল ক্লাবগুলোর নতুন আরেকটি ক্রমস্থান প্রকাশ করে। ২০০৫ মৌসুমে ১৩৩মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্বের জন্য আর্সেনাল এই ক্রমস্থানে নবম স্থান অধিকার করে।[২৬]

আর্সেনালের মোট শেয়ারের ৪৫% পরিচালনা পরিষদের হাতে। ক্লাবটির সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার লন্ডনের হীরা ব্যবসায়ী ড্যানি ফিজম্যান এবং প্রাক্তন সভাপতি স্যার ব্রেসওয়েল স্মিথের দৌহিত্রের স্ত্রী নিনা ব্রেসওয়েল স্মিথ যথাক্রমে ২৪.১% এবং ১৫.৯%।[২৭] এছাড়াও ফেলো পরিচালক রিচার্ড কার ৪.৪% এবং ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি ০.৮% শেয়ারের মালিক।[২৭]

চলতি বছরগুলোতে চেলসি ফুটবল ক্লাব, লিভারপুল ফুটবল ক্লাব, এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবগুলোর মত আর্সেনালও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নজরে আসে। বর্তমানে আমেরিকার ক্রীড়া শিল্পপতি স্টান ক্রোয়েনকে ক্লাবটির ১২.২% শেয়ারের মালিক। পরিচালনা পরিষদের সদস্য ব্যতিত আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার রেড অ্যান্ড হোয়াইট সিকিউরিটি যার মালিক রুশ বিলিয়নিয়ার আলিসার উসমানভ এবং লন্ডনের ফরহাদ মসিরি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে প্রাক্তন আর্সেনাল সভাপতি ডেভিড ডেইনের কাছ থেকে ১৪.৬% শেয়ার কিনে নেয়। ডেভিড ডেইন বর্তমানে রেড হোয়াইট সিকিউরিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।[২৮] বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি আর্সেনালের প্রায় ২৩% শেয়ারের মালিক।[২৯]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে আর্সেনাল[সম্পাদনা]

দেশের অন্যতম সফল ফুটবল ক্লাব হওয়ার কারণে ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে যখনই ফুটবল প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে তখনই আনর্সেনালের নাম এসেছে। প্রথম সারির বেশ কিছু মিডিয়াভিত্তিক অনুষ্ঠানে আর্সেনালের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯২৭ সালের ২২ জানুয়ারি শেফিল্ড ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এটিই ছিল আর্সেনালের কোন খেলার প্রথম সরাসরি সম্প্রচার।[৩০] এর এক দশক পরে ১৯৩৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আর্সেনালের মূল দল এবং অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দলের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ হয়। এটিই ছিল ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম ফুটবল ম্যাচ যা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।[৩১] এছাড়া বিবিসি'র "ম্যাচ অফ দ্য ডে" নামক অনুষ্ঠানে আর্সেনালকে বিশেষভাবে দেখানো হয়েছে। এতে ১৯৬৪ সালের ২২ আগস্ট অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে আর্সেনালের খেলাটির হাইলাইট্‌স দেখানো হয়েছে।[৩২]

উপরন্তু ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ফুটবল বিষয়ক চলচ্চিত্র দ্য আর্সেনাল স্টেডিয়াম মিস্টারি (১৯৩৯) নির্মিত হয়েছিল আর্সেনালকে কেন্দ্র করেই।[৩৩] চলচ্চিত্রটিতে আর্সেনালের সাথে একটি শৌখিন ফুটবল দলের ম্যাচ দেখানো হয়েছে। খেলার সময় শৌখিন দলের একটি খেলোয়াড় বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এতে আর্সেনালের অনেক খেলোয়াড়ই সরাসরি উপস্থিত ছিল, কিন্তু একটি বক্তৃতা দেয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রের কথোপকথনে অংশ নিয়েছিলেন একমাত্র ম্যানেজার "জর্জ অ্যালিসন"।

সাম্প্রতিককালে আর্সেনালের প্রাক্তন খেলোয়াড় নিক হর্নবাই "ফিভার পিচ" নামক একটি বইটি লিখেছেন। এতে তার আত্মজীবনী এবং আর্সেনালের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত এই বইটি ব্রিটিশ সমাজে ফুটবলের পুনর্জাগরণ এবং পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০-এর দশক জুড়ে এই পুনর্জাগরণ পরিলক্ষিত হয়। এই বইয়ের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় যার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলিন ফার্থ। ক্লাবটির ১৯৮৮-১৯৮৯ মৌসুমের বিজয়ের কাহিনী নিয়েই এই চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। এই বইটি দ্বারা উৎসাহিত হয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে "ফিভার পিচ" নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এর বিষয় অবশ্য ছিল বোস্টন রেড সক্স-এর "মেজর লীগ বেসবলের" এক ফ্যানকে নিয়ে।

১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে বেশ কিছু কমেডিধর্মী চলচ্চিত্র ও অনুষ্ঠানে আর্সেনালকে প্রতিরক্ষামূলক এবং বিরক্তিকর প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দলের এই বিষয়গুলো নিয়ে বেশ কিছু কমেডি অভিনেতা ব্যাঙ্গ করেছেন যাদের মধ্যে আছেন এরিক মোরক্যাম্ব। এই একই বিষয় ১৯৯৭ সালের চলচ্চিত্র "দ্য ফুল মন্টি"-তে উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্যে প্রধান অভিনেতারা সারিবদ্ধ হয়ে যেতে থাকে এবং তাদের হাত তুলে দেখায়। আর্সেনালের প্রতিরক্ষা কৌশলের অফসাইড ফাঁদকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে এখানে নকল করা হয়েছে। চলচ্চিত্রে অবশ্য অন্য একটি ফুটবল নয়, অন্য একটি দৃশ্যের জন্য এমনটি করা হয়েছে।[৩৪] ক্লাবের প্রতিরক্ষাকে ভিত্তি করে নির্মিত আরেকটি চলচ্চিত্রের নাম "প্লাংকেট অ্যান্ড ম্যাকলিন"। এতে ডিক্সন এবং উইন্টারবার্ন নামে দুটি চরিত্র রয়েছে যাদের নাম রাখা হয়েছে বহুকাল আর্সেনালের প্রতিরক্ষা ব্যুহ নির্মাণকারী খেলোয়াড় লি ডিক্সন এবং নাইজেল উইন্টারবার্নের নাম অনুসারে। ডিক্সন থাকতো প্রতিরক্ষা ব্যুহের ডানদিকে আর উইন্টারবার্ন বামদিকে।[৩৪]

"মন্টি পাইথন্‌স ফ্লাইং সার্কাস" নামে প্রকাশিত স্কেচ চিত্র এবং ডগলাস অ্যাডাম্‌স রচিত "দ্য হিচহাইকার্‌স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি"-তে আর্সেনালের নাম বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। ডগলাস অ্যাডাম্‌সের কাহিনীতে একজন বারম্যান উল্লেখ করে যে, পৃথিবীর আসন্ন সমাপ্তিতেই আর্সেনালের "সৌভাগ্যমূলক পলায়ন" নিশ্চিত হবে। এছাড়া ২০০৪ সালে নির্মিত ওসিয়ান্‌স ইলেভেনের প্রধান চরিত্রগুলো এক পর্যায়ে ইউরোপে বড় ধরণের একটি চুরি শেষে পালানোর সুবিধার জন্য ছদ্মবেশ হিসেবে আর্সেনালের ট্র্যাকসুট পরিধান করে।

জনপ্রিয় সংগীতেও আর্সেনালের উল্লেখ রয়েছে। জো স্ট্রামার "টনি অ্যাডাম্‌স" নামে একটি গান লিখেন যা আর্সেনালের তৎকালীন অধিনায়ককে উৎসর্গ করেই রচিত হয়েছিল। এই গানটি ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত তার "রক আর্ট অ্যান্ড দ্য এক্স-রে স্টাইল" নামক অ্যলবামে স্থান পায়। নিজে চেলসির ফ্যান হওয়া সত্ত্বেও স্ট্রামারকে গিগের সময় আর্সেনালের স্কার্ফ পরতে দেখা গেছে। দ্য পোগ্‌স ব্যান্ড দলের দ্বিতীয় অ্যালবাম "রাম, সোডোমি অ্যান্ড দ্য ল্যাশ"-এ "বিলি বোন্‌স" নামে একটি গান রয়েছে যাতে আর্সেনাল এবং তাদের চিরশত্রু টটনাম হটস্পারের নাম রয়েছে।

আর্সেনাল মহিলা দল[সম্পাদনা]

আর্সেনাল এলএফসি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে। ২০০২ সালে ক্লাবটি সেমি-পেশাদার দলে পরিণত হয়। ক্লাবের ম্যানেজার ভিক আকার্স যিনি একই সাথে মূল ক্লাবের পোশাক ম্যানেজার। ইংল্যান্ড মহিলা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্লাব আর্সেনাল এলএফসি। ক্লাবটি বর্তমানে এফএ ওমেন্‌স প্রিমিয়ার লীগ, উয়েফা ওমেন্‌স কাপ শিরোপাধারী। অফিসিয়ালি মূল ক্লাবের থেকে মহিলা ক্লাব আলাদা হলেও মূল ক্লাবের বর্তমান পরিচালক একই সাথে মহিলা ক্লাবটিও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। আর্সেনাল এলএফসি বছরে একদিন এমিরেট্‌স স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পায়। বছরের বাকি সময়ে তারা নিজেদের খেলার জন্য বোরহ্যাম উড ফুটবল ক্লাবের মাঠ ব্যবহার করে থাকে।

পরিসংখ্যান এবং রেকর্ড[সম্পাদনা]

সর্বোচ্চ উপস্থিতি 
ডেভিড ও'লিয়ারি প্রথম একাদশের হয়ে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত মোট ৭২২টি খেলায় অংশ নিয়েছেন যা ক্লাব সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে আছেন সাবেক অধিনায়ক টনি অ্যডামস। তার উপস্থিতির সংখ্যা ৬৬৯। যেকোন গোলরক্ষকের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড ৫৬৩ টি ম্যাচ খেলা ডেভিড সিম্যানের[৩৫]
গোল সংখ্যা 
১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ২২৬টি গোল করে থিয়েরি অঁরি আর্সেনালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী। তিনি ২০০৫-এর অক্টোবরে পূর্ববর্তী রেকর্ডধারী ইয়ান রাইট্‌স (১৮৫টি গোল)-কে অতিক্রম করেন।[৩৬] রাইট্‌সের আগ পর্যন্ত এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্লিফ ব্যাস্টিন (১৭৮টি গোল)। ১৯৯৭-এর সেপ্টেম্বরে তিনি ক্লিফ ব্যাস্টিনের ১৯৩৯ থেকে ধরে রাখা রের্কড ভাঙতে সমর্থ হন। [৩৭] এছাড়া শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লীগে সর্বোচ্চ গোলের মালিক থিয়েরি অঁরি- ১৭৪টি গোল। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্লিফ ব্যাস্টিন
দর্শক উপস্থিতি 
নিজেদের মাঠে আর্সেনালের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৮ সালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। আরসি লেন্সের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগের এ খেলায় মোট ৭৩,৭০৭ জন দর্শক উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, সেই সময় হাইবারিতে আসন স্বল্পতার কারণে আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের খেলাগুলোর জন্য ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামটি ব্যবহার করত। এছাড়া হাইবারিতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ মার্চ, ১৯৩৫ সালে। (০-০) গোলের এই খেলায় মোট দর্শক সংখ্যা ছিল ৭৩,২৯৫ জন। এছাড়া বর্তমান এমিরেট্‌স স্টেডিয়ামের রেকর্ড ৬০,১৬১ জন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩ নভেম্বর, ২০০৭ সালে।[৩৮]
অপরাজিত 
২০০৩ সালের মে মাস থেকে ২০০৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪৯ বার অপরাজিত থাকার রের্কড; যা প্রিমিয়ার লীগের সর্বোচ্চ। ৪৯ টি খেলার মধ্যে ছিল ২০০৩-০৪ সালের লীগের ৩৮টি খেলা। অপরাজিত থেকে প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জেতার এই রেকর্ডের আরেক অংশীদার প্রেস্টন নর্থ এন্ড এফসি। যদিও ১৯৮৮-৮৯ সালে তারা মাত্র ২২ টি খেলার মাধ্যমে এই রেকর্ড করে। এছাড়াও ২০০৫-০৬ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে মোট ১০ ম্যাচ গোল না খেয়ে আর্সেনাল আরেকটি রেকর্ড স্থাপন করে। প্রতিযোগিতায় আর্সেনাল মোট ৯৯৫ মিনিট প্রতিপক্ষকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছিল। এই রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটে বার্সেলোনার সাথে ফাইনালে ৭৬তম মিনিটে ইতোর করা সমতাসূচক গোলের মাধ্যমে।[৯]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

জয়ী (১৩): ১৯৩০-৩১, ১৯৩২-৩৩, ১৯৩৩-৩৪, ১৯৩৪-৩৫, ১৯৩৭-৩৮, ১৯৪৭-৪৮, ১৯৫২-৫৩, ১৯৭০-৭১, ১৯৮৮-৮৯, ১৯৯০-৯১, ১৯৯৭-৯৮, ২০০১-০২, ২০০৩-০৪
রানার্স-আপ (৮): " ১৯২৫-২৬, ১৯৩১-৩২, ১৯৭২-৭৩, ১৯৯৮-৯৯, ১৯৯৯-২০০০, ২০০০-০১, ২০০২-০৩
রানার্স-আপ (১): ১৯০৩-০৪
জয়ী (১০): ১৯৩৫-৩৬, ১৯৪৯-৫০, ১৯৭০-৭১, ১৯৭৮-৭৯, ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৭-৯৮, ২০০১-০২, ২০০২-০৩, ২০০৪-০৫, ২০১৩-১৪
রানার্স-আপ (৭): ১৯২৬-২৭, ১৯৩১-৩২, ১৯৫১-৫২, ১৯৭১-৭২, ১৯৭৭-৭৮, ১৯৭৯-৮০, ২০০০-০১
জয়ী (২): ১৯৮৬-৮৭, ১৯৯২-৯৩
রানার্স-আপ (৪): ১৯৬৭-৬৮, ১৯৬৮-৬৯, ১৯৮৭-৮৮, ২০০৬-০৭
জয়ী (১২): ১৯৩০-৩১, ১৯৩৩-৩৪, ১৯৩৪-৩৫, ১৯৩৮-৩৯, ১৯৪৮-৪৯, ১৯৫৩-৫৪, ১৯৯১-৯২, ১৯৯৮-৯৯, ১৯৯৯-০০, ২০০২-০৩, ২০০৪-০৫, ২০১৩-১৪
রানার্স-আপ (৭): ১৯৩৫-৩৬, ১৯৩৬-৩৭, ১৯৭৯-৮০, ১৯৮৯-৯০, ১৯৯৩-৯৪, ২০০৩-০৪, ২০০৫-০৬
রানার্স-আপ (১): ২০০৫-০৬
জয়ী (১): ১৯৯৩-৯৪
রানার্স-আপ (২): ১৯৭৯-৮০, ১৯৯৪-৯৫
জয়ী (১): ১৯৬৯-৭০
রানার্স-আপ (১): ১৯৯৯-০০
রানার্স-আপ (১): ১৯৯৪
  • ইংরেজ লীগে আর্সেনাল সর্বোমোট ১৩বার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেছে; যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তাদের পরে আছে লিভারপুল এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড[৪১]
  • লন্ডনের প্রথম ক্লাব যারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের ফাইনালে খেলেছে।[৪২] তাদের দশবার এফএ কাপ বিজয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের আগে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড[৪৩]
  • ১৯৯৩-এ এফএ কাপ এবং লীগ কাপ জয়। এই দ্বৈত সাফল্যের হাত ধরা প্রথম ক্লাব আর্সেনাল।[৪৪]
  • ইতিহাসের অন্যতম ধারাবাহিক দল আর্সেনাল। চৌদ্দতম স্থানের বাইরে থেকে তারা লীগ শেষ করেছে মাত্র ৭বার। ১৯৯০-১৯৯৯ পর্যন্ত গড়ে তাদের স্থান ছিল ৮.৫। যা ওই সময়ে সর্বোচ্চ।[৪৫] ইতিহাসে তারাই একমাত্র দল যারা পরপর দুইবার এফএ কাপ শিরোপা অর্জন করেছে।[৪৬]

খেলোয়াড়[সম্পাদনা]

বর্তমান দল[সম্পাদনা]

সর্বশেষ অগাস্ট ১৬, ২০১৪.[৪৭]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
পোল্যান্ড গো ভোজিস সেজনি
ফ্রান্স ম্যাথিউ দেবুশি
ইংল্যান্ড কিয়েরান গিবস
জার্মানি পার মারতেসেকার (সহ-অধিনায়ক)
ফ্রান্স লরেন্ত কোচিয়েনি
চেক প্রজাতন্ত্র টমাস রজিস্কি
স্পেন মিকেল আরতেতা (অধিনায়ক)
জার্মানি লুকাস পোডলস্কি
১০ ইংল্যান্ড জ্যাক উইলশেয়ার
১১ জার্মানি মেসুত ওজিল
১২ ফ্রান্স অলিভার জিরাউদ
১৩ কলম্বিয়া গো দাবিদ অসপিনা
১৪ ইংল্যান্ড থিও ওয়ালকোট
১৫ ইংল্যান্ড অ্যালেক্স অক্সালেড চেম্বারলেইন
নং অবস্থান খেলোয়াড়
১৬ ওয়েল্‌স্‌ অ্যারন রামসে
১৭ চিলি অ্যালেকসিস সানচেজ
১৮ স্পেন ন্যাচো মনরিয়াল
১৯ স্পেন সান্তি কাজরলা
২০ ফ্রান্স ম্যাথিউ ফ্লামিনি
২১ ইংল্যান্ড কালাম চ্যাম্বারস
২২ ফ্রান্স ইয়ায়া সনোগো
২৪ ফ্রান্স আবু দিয়াবি
২৬ আর্জেন্টিনা গো দামিয়ান মার্তিনেজ
২৭ জার্মানি সারহে নাব্রে
২৮ কোস্টা রিকা হোয়েল কাম্পবেল
৩১ জাপান রিও মিয়াইচি
৩৪ ফ্রান্স ফ্রান্সিস ককলিন
৩৫ জার্মানি গেদিওন জেলালিম

ধারে অন্য দলে[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
ইংল্যান্ড কার্ল জেঙ্কিন্সন
স্পেন জন তোরাল

স্মরণীয় খেলোয়াড়[সম্পাদনা]

ম্যানেজার[সম্পাদনা]

আর্সেন ওয়েঙ্গার, ১৯৯৬ থেকে আর্সেনালের ম্যানেজার

৩১ মার্চ ২০০৭ পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রতিযোগিতামূলক খেলাগুলো ধরা হয়েছে

নাম দেশ থেকে কার্যদিবস শুরুর তারিখ রেকর্ড
খে ড্র হা এফ
সেম হলিস ইংল্যান্ড আগস্ট ১৮৯৪ জুলাই ১৮৯৭ ৯৫ ৪৩ ১৪ ৩৮ ২১৩ ১৮১
টমাস মিশেল স্কটল্যান্ড আগস্ট ১৮৯৭ মার্চ ১৮৯৮ ২৬ ১৪ ৬৬ ৪৬
জর্জ এলকট ইংল্যান্ড মার্চ ১৮৯৮ মে ১৮৯৯ ৪৩ ২৩ ১৪ ৯২ ৫৫
হ্যারি ব্র্যাডশ ইংল্যান্ড আগস্ট ১৮৯৯ মে ১৯০৪ ১৮৯ ৯৬ ৩৯ ৫৪ ৩২৯ ১৭৩
ফিল কেলসো স্কটল্যান্ড জুলাই ১৯০৪ ফেব্রুয়ারি ১৯০৮ ১৫১ ৬৩ ৩১ ৫৭ ২২৫ ২২৮
জর্জ মোরেল স্কটল্যান্ড ফেব্রুয়ারি ১৯০৮ মে ১৯১৫ ২৯৪ ১০৪ ৭৩ ১১৭ ৩৬৫ ৪১২
লেজলি নাইটন ইংল্যান্ড মে ১৯১৯ জুন ১৯২৫ ২৬৭ ৯২ ৬২ ১১৪ ৩৩০ ৩৮০
হার্বার্ট চ্যাপম্যান ইংল্যান্ড জুন ১৯২৫ ৬ জানুয়ারি ১৯৩৪ ৪০৩ ২০১ ৯৭ ১০৫ ৮৬৪ ৫৯৮
জো শ*[৪৮] ইংল্যান্ড ৬ জানুয়ারি ১৯৩৪ জুন ১৯৩৪ ২৩ ১৪ ৪৪ ২৯
জর্জ অ্যালিসন ইংল্যান্ড জুন ১৯৩৪ জুন ১৯৪৭ ২৮৩ ১৩১ ৭৫ ৭৭ ৫৪৩ ৩৩৩
টম হুইটেকার ইংল্যান্ড জুন ১৯৪৭ ২৪ অক্টোবর ১৯৫৬ ৪২৮ ২০২ ১০৬ ১২০ ৭৯৭ ৫৬৬
জ্যাক ক্রেস্টন ইংল্যান্ড ২৪ অক্টোবর ১৯৫৬ মে ১৯৫৬ ৭৭ ৩৩ ১৬ ২৮ ১৪২ ১৪২
জর্জ সুইনডিন ইংল্যান্ড ২১ জুন ১৯৫৮ মে ১৯৬২ ১৭৯ ৭০ ৪৩ ৬৬ ৩২০ ৩২০
বিলি রাইট ইংল্যান্ড মে ১৯৬২ জুন ১৯৬৬ ১৮২ ৭০ ৪৩ ৬৯ ৩৩৬ ৩৩০
বার্টি মি ইংল্যান্ড জুন ১৯৬৬ ৪ মে ১৯৭৬ ৫৩৯ ২৪১ ১৪৮ ১৫০ ৭৩৯ ৫৪২
টেরি নিল উত্তর আয়ারল্যান্ড ৯ জুলাই ১৯৭৬ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৩ ৪১৪ ১৮৭ ১১৭ ১১২ ৬০১ ৪৪৬
ডন হাউয়ে ইংল্যান্ড ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৩ ২২ মার্চ ১৯৮৬ ১১৬ ৫৬ ৩২ ৩১ ১৮৭ ১৪২
স্টিভ বার্টেন'শ*[৪৮] ইংল্যান্ড ২৩ মার্চ ১৯৮৬ ১৪ মে ১৯৮৬ ১১ ১৫
জর্জ গ্রাহাম স্কটল্যান্ড ১৪ মে ১৯৮৬ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ ৪৬০ ২২৫ ১৩৩ ১০২ ৭১১ ৪০৩
স্টুয়ার্ট হস্টন*[৪৮] স্কটল্যান্ড ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ ১৫ জুন ১৯৯৫ ১৯ ২৯ ২৫
ব্রুস রায়োক স্কটল্যান্ড ১৫ জুন ১৯৯৫ ১২ আগস্ট ১৯৯৬ ৪৭ ২২ ১৫ ১০ ৩৭
স্টুয়ার্ট হস্টন*[৪৮] স্কটল্যান্ড ১২ আগস্ট ১৯৯৬ ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ১১ ১০
পেট রাইস*[৪৮] উত্তর আয়ারল্যান্ড ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ১০
আর্সেন ওয়েঙ্গার ফ্রান্স ১ অক্টোবর ১৯৯৬[৪৯] বর্তমান ১০০৯ ৫৭৭ ২৩৮ ১৯৪ ১৮৬৪ ৯৭৭

(*) চিহ্নিতরা খন্ডকালীন ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাসঙ্গিক অধ্যয়ন[সম্পাদনা]

  • নিক হর্নবাই (১৯৯২)। ফিভার পিচ। ইন্ডিগো। আইএসবিএন ১-৮৪০১৮-৯০০-২। 
  • জেম মেইডমেন্ট (২০০৬)। দ্য অফিসিয়াল আর্সেনাল এনসাইক্লোপিডিয়া। হ্যামলিন। আইএসবিএন ০-৬০০-৬১৫৪৯-১। 
  • ফিল সোর এবং মার্টিন টাইলার (২০০০)। দ্য অফিসিয়াল ইলাস্ট্রেটেড হিস্টরি অফ আর্সেনাল। হ্যামলিন। আইএসবিএন ০-৬০০-৬০১৭৫-৭। 
  • জন স্পাউরলিং (২০০৪)। রিবেল্‌স ফর দ্য কজ: দ্য অল্টারনেটিভ হিস্টরি অফ আর্সেনাল ফুটবল ক্লাব। মেইনস্ট্রিম। আইএসবিএন ০-৫৭৫-৪০০১৫-৩। 

তথ্যসূত্র এবং পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "UEFA Champions League Press Release (2011–12)" (PDF). Union of European Football Associations. Retrieved 27 February 2012
  2. Soar, Phil & Tyler, Martin (২০০৫)। The Official Illustrated History of Arsenal। Hamlyn। পৃ: pp.32–33। আইএসবিএন 0-600-61344-5। 
  3. Soar & Tyler (২০০৫)। The Official Illustrated History of Arsenal। পৃ: p.40। 
  4. "London Underground and Arsenal present The Final Salute to Highbury"। Transport for London। ২০০৬-০১-১২। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৮ 
  5. Graham was banned for a year by the Football Association for his involvement in the scandal after he admitted he had received an "unsolicited gift" from Hauge. Reference: Collins, Roy (২০০০-০৩-১৮)। "Rune Hauge, international man of mystery"The Guardian। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮  The case is given a detailed treatment in Bower, Tom (২০০৩)। Broken Dreams। Simon & Schuster। আইএসবিএন 0-7434-4033-1। 
  6. "Arsenal - summary of the 1995/96 season"Arseweb। সংগৃহীত ২০০৭-০১-৩০ 
  7. Hughes, Ian (২০০৪-০৫-১৫)। "Arsenal the Invincibles"BBC Sport। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  8. "FA Premier League Champions 1993-2007"RSSSF। সংগৃহীত ২০০৭-০৯-২১ 
  9. ৯.০ ৯.১ "Ronaldinho delivers for Barça"UEFA.com। সংগৃহীত ২০০৭-০১-৩০ 
  10. ১০.০ ১০.১ "Squad Photos Gallery"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  11. "Arsenal Kit Design"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  12. ১২.০ ১২.১ ১২.২ [http://www.arsenal.com/article.asp?thisNav= The+Club&article=344298&Title=Arsenal+Crest "The Crest"]। Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৭-০২-১৩ 
  13. Free, Dominic (২০০৩)। [http://www.simkins.co.uk/ebulletins/ DAFArsenalReed.aspx "Arsenal v. Reed in the Court of Appeal"]। Michael Simkins LLP। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  14. [http://news.bbc.co.uk/sport1/hi/football/teams /a/arsenal/1795444.stm "Arsenal go for a makeover"]। BBC Sport। ২০০৪-০২-০১। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৯ 
  15. "Highbury"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৯ 
  16. ১৬.০ ১৬.১ "Arsenal name new ground"BBC Sport। ২০০৪-১০-০৫। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  17. "The Training Centre"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৭-১২-০১ 
  18. Kempster, Tony (২০০৭)। "Premiership 2006–07 Attendances"। সংগৃহীত ২০০৭-০৬-১৮ 
  19. "All Time League Attendance Records"Nufc.com। সংগৃহীত ২০০৭-০২-০২  Please note that some pre-war attendance figures used by this source were estimates and may not be entirely accurate.
  20. "Soccer violence declining say fans"BBC News। ২০০২-০২-২৭। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  21. Noble, Kate (২০০২-০৯-২২)। "Boring, Boring Arsenal"Time। সংগৃহীত ২০০৭-০১-৩০ 
  22. "Arsenal FC - the Premiership’s fastest growing football brand"। Granada Ventures। ২০০৫-০৮-০৫। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৮ 
  23. Lappin, Tom (২০০৪-১০-২৩)। "Red-hot rivalry, but United and Arsenal won't rely on brute force"The Scotsman। সংগৃহীত ২০০৭-১০-৩১ 
  24. "Arsenal Holdings plc"। PLUS Markets Group। সংগৃহীত ২০০৭-১২-০৬ 
  25. "Soccer Team Valuations - #3 Arsenal"Forbes। ২০০৭-০৩-২৯। সংগৃহীত ২০০৭-০৬-১৮ 
  26. "Real Madrid stays at the top"। Deloitte & Touche LLP। ২০০৭-০২-০৮। সংগৃহীত ২০০৭-০৬-১৮ 
  27. ২৭.০ ২৭.১ "Statement of Accounts and Annual Report 2006/2007"। Arsenal Holdings plc। মে ২০০৭। সংগৃহীত ২০০৭-১২-১৯ 
  28. "Russian buys Dein's Arsenal stake"BBC News। ২০০৭-০৮-৩০। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-৩০ 
  29. "Usmanov buys more Arsenal shares"BBC News। ২০০৭-০৯-২৮। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-২৮ 
  30. "It Happened at Highbury: First live radio broadcast"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  31. "Happened on this day - 16 September"BBC Sport। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  32. "History of Match of the Day"BBC Sport। সংগৃহীত ২০০৭-০১-১৬ 
  33. "The Arsenal Stadium Mystery"IMDb। সংগৃহীত ২০০৭-০২-০২ 
  34. ৩৪.০ ৩৪.১ "Arsenal at the movies"Arseweb। সংগৃহীত ২০০৭-০২-০২ 
  35. "Club Records"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৭-০১-৩০ 
  36. "Squad profiles: Thierry Henry"BBC Sport। সংগৃহীত ২০০৭-০৭-০৪ 
  37. "Arsenal vs Bolton. 13/09/97"Arseweb। সংগৃহীত ২০০৭-০৯-২৪ 
  38. "Man Utd game attracts record attendance"Arsenal.com। ২০০৭-১১-০৫। সংগৃহীত ২০০৭-১২-২৪ 
  39. ৩৯.০ ৩৯.১ ১৯৯২-এর আগ পর্যন্ত ইংরেজ ফুটবলের সর্বোচ্চ ধাপ ছিল ফুটবল লীগ ফার্স্ট ডিভিশন; এরপর থেকে এর নামকরণ করা হয় প্রিমিয়ার লীগ। একইভাবে-১৯৯২ এর আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ ছিল সেকেন্ড ডিভিশন বর্তমানে যা দ্য চ্যাম্পিয়নশিপ নামে পরিচিত।
  40. The trophy was known as the Charity Shield until 2002, and as the Community Shield since then.
  41. "England - List of Champions"RSSSF। সংগৃহীত ২০০৭-১২-২৭ 
  42. "Arsenal Facts"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৭-১২-২৭ 
  43. "England FA Challenge Cup Finals"RSSSF। সংগৃহীত ২০০৭-১২-২৭ 
  44. "Football : Multiple Trophy Winners"KryssTal। সংগৃহীত ২০০৭-১২-২৭ 
  45. Hodgson, Guy (জানুয়ারি ২০০০)। "Arsenal: Team of the Century 1900–1999"। The Independent  Archive copy available at: "Arsenal: Team of the Century 1900–1999"Arseweb। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 
  46. "English FA Cup Trivia"phespirit.info। সংগৃহীত ২০০৮-০১-০১ 
  47. "Arsenal Squad 2006/07"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৭-০৩-০৬ 
  48. ৪৮.০ ৪৮.১ ৪৮.২ ৪৮.৩ ৪৮.৪ Served as caretaker manager.
  49. Although Wenger's appointment was announced before Arsenal's match against Sunderland on September 28 1996, Pat Rice remained in charge of the first team for that game and Wenger did not officially take over until October 1. Reference: Clarke, Richard (২০০৬)। "Wenger 1996 to 2006: the French evolutionary"Arsenal.com। সংগৃহীত ২০০৬-১২-০৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
ফ্যানদের সাইট
সংবাদ সাইট
ফ্যানজাইন