চেলসি ফুটবল ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চেলসি
চেলসি ফুটবল ক্লাবের লোগো.svg
পূর্ণ নামচেলসি ফুটবল ক্লাব
ডাকনামদ্যা পেনশনার্স (১৯৫২ পর্যন্ত)
দ্যা ব্লুজ (বর্তমান)
প্রতিষ্ঠিত১০ মার্চ ১৯০৫; ১১৪ বছর আগে (1905-03-10)[১]
মাঠস্টাম্ফোর্ড ব্রিজ
ফুলহাম, লন্ডন
ধারণক্ষমতা৪১৬৩১[২]
মালিকরোমান আব্রামোভিচ
চেয়ারম্যানব্রুস বাক
ম্যানেজারফ্র্যাংক ল্যাম্পার্ড
লীগপ্রিমিয়ার লীগ
২০১৮-১৯ প্রিমিয়ার লীগ৩য়
ওয়েবসাইটক্লাব ওয়েবসাইট
বর্তমান মৌসুম

চেলসি ফুটবল ক্লাব (দ্য ব্লুজ অথবা পূর্বে দ্য পেনশনার্স নামেও পরিচিত) লন্ডনে অবস্থিত একটি ইংরেজ পেশাদার ফুটবল দল যারা প্রিমিয়ার লিগে খেলে থাকে।

১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ক্লাবটি এ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ে ইংল্যান্ডের ফুটবলে শীর্ষ দশে অবস্থান করেছে। তারা দুটি সময়ে সফলতা পেয়েছে, একটি হচ্ছে ১৯৬০ দশকের শেষভাগ ও ১৯৭০ দশকের শুরুতে এবং ১৯৯০ দশকের শেষভাগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। চেলসি প্রথম ইংলিশ লিগ শিরোপা অর্জন করে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ সাল সময়কালে আরো কিছু কাপ প্রতিযোগিতায় ক্লাবটি জয়লাভ করে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২৩টি শিরোপা জিতে দলটি গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে। সব মিলিয়ে চেলসি নিজেদের ইতিহাসে ২৯টি বড় শিরোপা জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি লীগ শিরোপা, আটটি এফ.এ. কাপ শিরোপা, পাঁচটি লীগ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ উইনার্স কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, দুটি উয়েফা ইউরোপা লীগ এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। চেলসি হলো ইতিহাসের প্রথম ক্লাব যারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পরের বছরই উয়েফা ইউরোপা লীগ জিতেছে। [৩]

চেলসির ৪১৬৩১ দর্শক ধারণক্ষমতার[২] নিজস্ব মাঠ স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ পশ্চিম লন্ডনের ফুলহাম এলাকায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা এখানে খেলে আসছে। ২০০৩ সালে ক্লাবটি কিনে নেন রাশিয়ান তেল ব্যবসায়ী রোমান আব্রামোভিচ।[৪]

ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে রাজকীয় নীল রংয়ের জামা ও শর্টস এবং সাদা মোজা। নিজেদের ভাবমূর্তি আধুনিকায়নের জন্য নিজেদের ইতিহাসে বেশ কয়েকবার ক্লাবটি নিজেদের প্রতীক পরিবর্তন করেছে। বর্তমান প্রতীকে একটি রাজকীয় নীল সিংহকে একটি লাঠি ধরে থাকতে দেখা যায়, যা ক্লাবটির ১৯৫০ এর দশকের একটি প্রতীকের আধুনিক রূপ।[৫] ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের গড় উপস্থিতির তালিকায় ক্লাবটির অবস্থান ষষ্ঠ। চেলসি যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় দল। তাদের সমর্থক সংখ্যা আনুমানিক চার মিলিয়ন।[৬] এছাড়া জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও গানে চেলসি অংশ নিয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের একটি জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্লাবগুলোর তালিকায় চেলসির অবস্থান ৭ম এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৪ কোটি ২৮ লাখ পাউন্ড উপার্জন করে ক্লাবটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে অষ্টম স্থান অর্জন করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯০৪ সালে একটি ফুটবল মাঠ হিসেবে তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে গাস মিয়ার্স স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম কিনে নেন। নিকটবর্তী ফুলহাম ফুটবল ক্লাবের কাছে মাঠটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি মাঠটি ব্যবহার করার জন্য নিজের একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যেহেতু তখন উক্ত এলাকা ফুলহামের নিজের নামে একটি ক্লাব তখনই ছিলো, মিয়ার্স নিজের ক্লাবের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকা চেলসির নামটি বেছে নেন। কেন্সিংটন ফুটবল ক্লাব, স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ ফুটবল ক্লাব এবং লন্ডন ফুটবল ক্লাব এর মতো নামগুলোও বিবেচনা করা হয়েছিলো।[৭]

খেলোয়াড়গণ ও কোচ[সম্পাদনা]

বর্তমান কোচ[সম্পাদনা]

ক্লাবের বর্তমান কোচ ক্লাবটির কিংবদন্তি সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার ফ্র্যাংক ল্যাম্পার্ড। তিনি ৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে কোচ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বর্তমান দল[সম্পাদনা]

৮ অগাস্ট ২০১৯ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[৮]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
স্পেন গো কেপা আরিসাবালাগা
জার্মানি আন্টোনিও রুডিগার
স্পেন মার্কোস আলোন্সো মেন্দোজা
ডেনমার্ক আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন
ইতালি জর্জিনহো
ফ্রান্স এন'গোলো কান্তে
ইংল্যান্ড রস বার্কলি
ইংল্যান্ড ট্যামি আব্রাহাম
১০ ব্রাজিল উইলিয়ান
১১ স্পেন পেদ্রো
১২ ইংল্যান্ড রুবেন লফটাস-চিক
১৩ আর্জেন্টিনা গো উইলি কাবায়েরো
১৪ ফ্রান্স তিয়েমুই বাকায়োকো
নং অবস্থান খেলোয়াড়
১৫ ফ্রান্স কার্ট জুমা
১৬ ব্রাজিল কেনেডি
১৭ ক্রোয়েশিয়া মাতেও কোভাচিচ
১৮ ফ্রান্স অলিভিয়ে জিরু
১৯ ইংল্যান্ড মেসন মাউন্ট
২০ ইংল্যান্ড ক্যালাম হাডসন-ওডোই
২২ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক
২৩ বেলজিয়াম মিশি বাতশুয়ায়ি
২৪ ইংল্যান্ড রিস জেমস
২৮ স্পেন সিজার আজপিলিকুয়েতা (অধিনায়ক)
২৯ ইংল্যান্ড ফিকায়ো তোমোরি
৩১ ইংল্যান্ড গো জেমি কামিং
৩৩ ইতালি এমারসন পালমিয়েরি

চুক্তিবদ্ধ অন্যান্য খেলোয়াড়গণ[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
- ইংল্যান্ড গো জামাল ব্ল্যাকম্যান
- জ্যামাইকা মাইকেল হেক্টর
- ঘানা বাবা আব্দুল রহমান
নং অবস্থান খেলোয়াড়
- নেদারল্যান্ডস মার্কো ভ্যান গিংকেল
- সার্বিয়া দানিলো পান্তিচ
- ব্রাজিল লুকাস পিয়াজোঁ

ধারে অন্য দলে[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
- ইংল্যান্ড গো নাথান ব্যাক্সটার (রস কাউন্টিতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড জেক ক্লার্ক-সল্টার (বার্মিংহ্যাম সিটিতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড জশ গ্রান্ট (প্লিমাউথ আর্গাইলে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড রিচার্ড নার্টলি (বার্টন আলবিয়নে ২৪ মে ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড ট্রেভোহ শালোবাহ (হাডার্সফিল্ডে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ওয়েল্‌স্‌ ইথান আম্পাদু (আরবি লাইপজিগে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইতালি ডাভিডে জাপাকস্তা (রোমায় ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাট মিয়াজগা (রেডিংয়ে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড ড্যানিয়েল ড্রিংকওয়াটার (বার্নলিতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড লুক ম্যাককর্মিক (শ্রুসবেরি টাউনে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড লুইস বেকার (ফর্চুনা ডুসেল্ডর্ফে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
- ইংল্যান্ড জ্যাকব ম্যাডক্স (ট্রানমিয়ার রোভার্সে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড দুজন স্টার্লিং (উইগানে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড কনর গ্যালাঘার (চার্ল্টন অ্যাথলেটিকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- বেলজিয়াম চার্লি মুসোন্ডা জুনিয়র (ভিতেসে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ক্রোয়েশিয়া মারিও পাসালিচ (আটালান্টাতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ব্রাজিল নাথান (অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত)
- নাইজেরিয়া ভিক্টর মোজেস (ফেনের্বাচেতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড ইজি ব্রাউন (লুটন টাউনে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- স্পেন আলভারো মোরাতা (অ্যাটলেটিকো ডি মাদ্রিদে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
- ইংল্যান্ড ইকে উগবো (রোডা জেসিতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ঘরোয়া[সম্পাদনা]

লীগ[সম্পাদনা]

১৯৫৪-৫৫, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৯-২০১০, ২০১৪-১৫, ২০১৬-১৭
১৯৮৩-৮৪, ১৯৮৮-৮৯

কাপ[সম্পাদনা]

১৯৬৯-৭০, ১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৯-২০০০, ২০০৬-০৭, ২০০৮-০৯, ২০১৭-১৮
১৯৬৪-৬৫, ১৯৯৭-৯৮, ২০০৪-০৫, ২০০৬-০৭, ২০১৪-১৫
১৯৫৫, ২০০০, ২০০৫, ২০০৯
  • ফুল মেম্বার্স কাপ: ২
১৯৮৬, ১৯৯০

ইউরোপীয়ান[সম্পাদনা]

২০১১-১২
২০১২-১৩, ২০১৮-১৯
১৯৭০-৭১, ১৯৯৭-৯৮
১৯৯৮

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Team History – Introduction"। Chelsea F.C. official website। ২৭ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১১ 
  2. "Club Information"। Chelsea F.C. official website। ২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. "Trophy Cabinet"chelseafc.com। সংগ্রহের তারিখ 25 January  অজানা প্যারামিটার |accessyear= উপেক্ষা করা হয়েছে (|access-date= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  4. "Russian businessman buys Chelsea"। BBC। 2003-07-02। সংগ্রহের তারিখ 2007-02-11  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. "Chelsea centenary crest unveiled"। BBC। 2004-11-12। সংগ্রহের তারিখ 2007-01-02  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  6. "Chelsea voted one of UK's top brands"chelseafc.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-২৮ 
  7. Glanvill, John (1664?–1735)। Oxford Dictionary of National Biography। Oxford University Press। ২০১৭-১১-২৮। 
  8. "First team"। Chelsea FC। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৯ 
  9. Until 1992, when the Premier League was formed, the top tier of English football was known as the First Division
  10. The trophy was known as the Charity Shield until 2002, and as the Community Shield ever since.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]