চেলসি ফুটবল ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চেলসি
চেলসি ফুটবল ক্লাবের লোগো.svg
পূর্ণ নামচেলসি ফুটবল ক্লাব
ডাকনামদ্য ব্লুজ, দ্য পেনশনার্স[১]
সংক্ষিপ্ত নামসিএফসি, সিএইচই
প্রতিষ্ঠিত১০ মার্চ ১৯০৫; ১১৫ বছর আগে (1905-03-10)[২]
মাঠস্ট্যামফোর্ড ব্রিজ
ধারণক্ষমতা৪০,৮৩৪[৩]
স্থানাঙ্ক৫১°২৮′৫৪″ উত্তর ০°১১′২৮″ পশ্চিম / ৫১.৪৮১৬৭° উত্তর ০.১৯১১১° পশ্চিম / 51.48167; -0.19111স্থানাঙ্ক: ৫১°২৮′৫৪″ উত্তর ০°১১′২৮″ পশ্চিম / ৫১.৪৮১৬৭° উত্তর ০.১৯১১১° পশ্চিম / 51.48167; -0.19111
মালিকসোভিয়েত ইউনিয়ন রামোন আব্রামোভিচ
সভাপতিমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রুস বাক
প্রধান কোচইংল্যান্ড ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড
লীগপ্রিমিয়ার লীগ
২০১৮–১৯৩য়
ওয়েবসাইটক্লাব ওয়েবসাইট

চেলসি ফুটবল ক্লাব (দ্য ব্লুজ অথবা পূর্বে দ্য পেনশনার্স নামেও পরিচিত) লন্ডনে অবস্থিত একটি ইংরেজ পেশাদার ফুটবল দল যারা প্রিমিয়ার লিগে খেলে থাকে।

১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ক্লাবটি এ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ে ইংল্যান্ডের ফুটবলে শীর্ষ দশে অবস্থান করেছে। তারা দুটি সময়ে সফলতা পেয়েছে, একটি হচ্ছে ১৯৬০ দশকের শেষভাগ ও ১৯৭০ দশকের শুরুতে এবং ১৯৯০ দশকের শেষভাগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। চেলসি প্রথম ইংলিশ লিগ শিরোপা অর্জন করে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ সাল সময়কালে আরো কিছু কাপ প্রতিযোগিতায় ক্লাবটি জয়লাভ করে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২৩টি শিরোপা জিতে দলটি গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে। সব মিলিয়ে চেলসি নিজেদের ইতিহাসে ২৯টি বড় শিরোপা জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি লীগ শিরোপা, আটটি এফ.এ. কাপ শিরোপা, পাঁচটি লীগ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ উইনার্স কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, দুটি উয়েফা ইউরোপা লীগ এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। চেলসি হলো ইতিহাসের প্রথম ক্লাব যারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পরের বছরই উয়েফা ইউরোপা লীগ জিতেছে।[৪]

চেলসির ৪১৬৩১ দর্শক ধারণক্ষমতার[৫] নিজস্ব মাঠ স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ পশ্চিম লন্ডনের ফুলহাম এলাকায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা এখানে খেলে আসছে। ২০০৩ সালে ক্লাবটি কিনে নেন রাশিয়ান তেল ব্যবসায়ী রোমান আব্রামোভিচ।[৬]

ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে রাজকীয় নীল রংয়ের জামা ও শর্টস এবং সাদা মোজা। নিজেদের ভাবমূর্তি আধুনিকায়নের জন্য নিজেদের ইতিহাসে বেশ কয়েকবার ক্লাবটি নিজেদের প্রতীক পরিবর্তন করেছে। বর্তমান প্রতীকে একটি রাজকীয় নীল সিংহকে একটি লাঠি ধরে থাকতে দেখা যায়, যা ক্লাবটির ১৯৫০ এর দশকের একটি প্রতীকের আধুনিক রূপ।[৭] ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের গড় উপস্থিতির তালিকায় ক্লাবটির অবস্থান ষষ্ঠ। চেলসি যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় দল। তাদের সমর্থক সংখ্যা আনুমানিক চার মিলিয়ন।[৮] এছাড়া জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও গানে চেলসি অংশ নিয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের একটি জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্লাবগুলোর তালিকায় চেলসির অবস্থান ৭ম এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৪ কোটি ২৮ লাখ পাউন্ড উপার্জন করে ক্লাবটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে অষ্টম স্থান অর্জন করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯০৪ সালে একটি ফুটবল মাঠ হিসেবে তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে গাস মিয়ার্স স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম কিনে নেন। নিকটবর্তী ফুলহাম ফুটবল ক্লাবের কাছে মাঠটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি মাঠটি ব্যবহার করার জন্য নিজের একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যেহেতু তখন উক্ত এলাকা ফুলহামের নিজের নামে একটি ক্লাব তখনই ছিলো, মিয়ার্স নিজের ক্লাবের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকা চেলসির নামটি বেছে নেন। কেন্সিংটন ফুটবল ক্লাব, স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ ফুটবল ক্লাব এবং লন্ডন ফুটবল ক্লাব এর মতো নামগুলোও বিবেচনা করা হয়েছিলো।[৯]

খেলোয়াড়গণ ও কোচ[সম্পাদনা]

বর্তমান কোচ[সম্পাদনা]

ক্লাবের বর্তমান কোচ ক্লাবটির কিংবদন্তি সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার ফ্র্যাংক ল্যাম্পার্ড। তিনি ৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে কোচ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বর্তমান দল[সম্পাদনা]

৩১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[১০]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
স্পেন গো কেপা আরিসাবালাগা
জার্মানি আন্টোনিও রুডিগার
স্পেন মার্কোস আলোন্সো মেন্দোজা
ডেনমার্ক আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন
ইতালি জর্জিনহো (সহ-অধিনায়ক)
ফ্রান্স এন'গোলো কান্তে
ইংল্যান্ড রস বার্কলি
ইংল্যান্ড ট্যামি আব্রাহাম
১০ ব্রাজিল উইলিয়ান (৩য় অধিনায়ক)
১১ স্পেন পেদ্রো
১২ ইংল্যান্ড রুবেন লফটাস-চিক
১৩ আর্জেন্টিনা গো উইলি কাবায়েরো
১৫ ফ্রান্স কার্ট জুমা
১৭ ক্রোয়েশিয়া মাতেও কোভাচিচ
১৮ ফ্রান্স অলিভিয়ে জিরু
নং অবস্থান খেলোয়াড়
১৯ ইংল্যান্ড মেসন মাউন্ট
২০ ইংল্যান্ড ক্যালাম হাডসন-ওডোই
২২ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক
২৩ বেলজিয়াম মিশি বাতশুয়ায়ি
২৪ ইংল্যান্ড রিস জেমস
২৮ স্পেন সেসার আজপিলিকুয়েতা (অধিনায়ক)
২৯ ইংল্যান্ড ফিকায়ো তোমোরি
৩১ ইংল্যান্ড গো জেমি কামিং
৩৩ ইতালি এমারসন পালমিয়েরি
৪৭ স্কটল্যান্ড বিলি গিলমোর
৫৫ ইংল্যান্ড টিনো আঞ্জোরিন
৫৭ আলবেনিয়া আর্মান্দো ব্রোহা
৬৩ নেদারল্যান্ডস ইয়ান মাতসেন
- মরক্কো হাকিম জিয়েখ
- জার্মানি টিমো ভার্নার

ধারে অন্য দলে[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
ইংল্যান্ড গো জামাল ব্ল্যাকম্যান
ইংল্যান্ড গো নাথান ব্যাক্সটার
নেদারল্যান্ডস হুয়ান কাস্তিলো
ইংল্যান্ড জর্জ ম্যাকইক্রান
ইংল্যান্ড লুইস বেকার
নং অবস্থান খেলোয়াড়
ফ্রান্স তিয়েমুই বাকায়োকো
নেদারল্যান্ডস মার্কো ফন গিংকেল
বেলজিয়াম চার্লি মুসোন্ডা জুনিয়র
ইংল্যান্ড চার্লি ব্রাউন
ইংল্যান্ড ইকে উগবো

ধারে অন্য দলে[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
ইংল্যান্ড জেক ক্লার্ক-সল্টার (বার্মিংহ্যাম সিটিতে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
ইংল্যান্ড ট্রেভোহ শালোবাহ (হাডার্সফিল্ডে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
ইংল্যান্ড মার্ক গুয়েহি (সোয়ানসিতে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
ওয়েল্‌স্‌ ইথান আম্পাদু (আরবি লাইপজিগে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
ইতালি ডাভিডে জাপাকস্তা (রোমায় ৩১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাট মিয়াজগা (রেডিংয়ে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
ঘানা বাবা আব্দুল রহমান (মায়োর্কায় ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
ইংল্যান্ড ড্যানিয়েল ড্রিংকওয়াটার (অ্যাস্টন ভিলায় ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
ইংল্যান্ড কনর গ্যালাঘার (সোয়ানসিতে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
ইংল্যান্ড দুজন স্টার্লিং (উইগানে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
ইংল্যান্ড ক্লিন্টন মোলা (স্টুটগার্টে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)
সার্বিয়া দানিলো পান্তিচ (ফেহের্ভারে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
ব্রাজিল লুকাস পিয়াজোঁ (রিও আভেতে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত)
ব্রাজিল কেনেডি (হেতাফেতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
ব্রাজিল নাথান (অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
নাইজেরিয়া ভিক্টর মোজেস (ইন্টার মিলানে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
ইংল্যান্ড ইজি ব্রাউন (লুটন টাউনে ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত)

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ঘরোয়া[সম্পাদনা]

লীগ[সম্পাদনা]

১৯৫৪-৫৫, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৯-২০১০, ২০১৪-১৫, ২০১৬-১৭
১৯৮৩-৮৪, ১৯৮৮-৮৯

কাপ[সম্পাদনা]

১৯৬৯-৭০, ১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৯-২০০০, ২০০৬-০৭, ২০০৮-০৯, ২০১৭-১৮
১৯৬৪-৬৫, ১৯৯৭-৯৮, ২০০৪-০৫, ২০০৬-০৭, ২০১৪-১৫
১৯৫৫, ২০০০, ২০০৫, ২০০৯
  • ফুল মেম্বার্স কাপ: ২
১৯৮৬, ১৯৯০

ইউরোপীয়ান[সম্পাদনা]

২০১১-১২
২০১২-১৩, ২০১৮-১৯
১৯৭০-৭১, ১৯৯৭-৯৮
১৯৯৮

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Chelsea's first cup final – a century ago"। Chelsea FC। ২৩ এপ্রিল ২০১৫। ২৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৬ 
  2. "Team History – Introduction"chelseafc.com। Chelsea FC। ২৭ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১১ 
  3. "Premier League Handbook 2019–20"। Premier League। ২ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৯ 
  4. "Trophy Cabinet"chelseafc.com। সংগ্রহের তারিখ 25 January  অজানা প্যারামিটার |accessyear= উপেক্ষা করা হয়েছে (|access-date= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; capacity নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  6. "Russian businessman buys Chelsea"। BBC। ২০০৩-০৭-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০২-১১ 
  7. "Chelsea centenary crest unveiled"। BBC। ২০০৪-১১-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০১-০২ 
  8. "Chelsea voted one of UK's top brands"chelseafc.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-২৮ 
  9. Glanvill, John (1664?–1735)। Oxford Dictionary of National Biography। Oxford University Press। ২০১৭-১১-২৮। 
  10. "First team"। Chelsea FC। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২০ 
  11. Until 1992, when the Premier League was formed, the top tier of English football was known as the First Division
  12. The trophy was known as the Charity Shield until 2002, and as the Community Shield ever since.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]