লিভারপুল ফুটবল ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
লিভারপুল এফ সি
লিভারপুল এর লোগো
পূর্ণ নাম লিভারপুল ফুটবল ক্লাব
ডাকনাম অল রেড,দ্যা রেডস
প্রতিষ্ঠা ৩ জুন ১৮৯২; ১২৫ বছর আগে (১৮৯২-০৬-0৩)[১]
মাঠ এনফিল্ড স্টেডিয়াম
লিভারপুল
(ধারণক্ষমতা: ৪৫,২৭৬[২])
মালিক ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ
চেয়ারম্যান টম ওয়ানার
ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপ
লীগ এফ.এ. প্রিমিয়ার লীগ
২০১৬-১৭ প্রিমিয়ার লীগ, চতুর্থ
ওয়েবসাইট ক্লাবের প্রধান পাতা
নিজস্ব মাঠে রং
অন্যের মাঠে রং
তৃতীয় রং

লিভারপুল ফুটবল ক্লাব (লিভারপুল নামেই বেশি পরিচিত) লিভারপুল, ইংল্যান্ড এ অবস্থিত একটি ফুটবল দল। এরা এফ.এ. প্রিমিয়ার লীগ খেলে থাকে। ইংরেজ ফুটবল ইতিহাসের সফলতম দল লিভারপুল ১৮ টি প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ, ৭ টি এফ.এ. কাপ, ৮ টি লীগ কাপ, ৫ টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ও ৩ টি উয়েফা কাপ জিতেছে।

১৫ মার্চ ১৮৯২ সালে জন হোল্ডিং, এনফিল্ড এর মালিক, ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভাড়া নিয়ে বিতর্ক উঠার পর এভারটন এনফিল্ড ছেড়ে যাওয়ায় হোল্ডিং নিজেই একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এর আসল নাম ছিল এভারটন এফ.সি. এন্ড এথলেটিক গ্রাউন্ডস, লিমিটেড, সংক্ষেপে এভারটন এথলেটিক। কিন্তু ফুটবল এসোসিয়েশন দলকে এভারটন হিসেবে গ্রহণ করতে অসম্মতি জানালে নাম পরিবর্তন করে লিভারপুল এফ.সি. রাখা হয়। দু'বছর পর লিভারপুল ফুটবল লীগে অংশ নেয়। লিভারপুলের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে একই শহরের এভারটন এফ সি ও ম্যানচেস্টারের ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড এফ সি। লিভারপুল-এভারটন ম্যাচ মার্সেসাইড ডার্বি নামে পরিচিত।

ক্লাবটি ইউরোপীয়ান ফুটবল ইতিহাসে দুটি মারাত্নক ট্রাজেডীর মুখোমুখি হয়েছে — ১৯৮৫ সালে লিভারপুল-জুভেন্টাস খেলার সময় হেইসেলে যখন ৩৯ জন জুভ সমর্থক মারা যায়[৩], এবং ১৯৮৯ সালে হিলসবোরোতে যেখানে ৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক মারা যায়[৪]

ক্লাব রেকর্ড ও পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ইয়ান ক্যালাহান লিভারপুলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪৮ টি ম্যাচ খেলেছেন ১৯৫৮-৭৮ পর্যন্ত ১৯টি মৌসুমে। ৬৪০ টি লীগ খেলার রেকর্ডও তার দখলে। বর্তমান একাদশে ৪১৯ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আছে জেমি ক্যারেঘার এর (১৯ আগস্ট, ২০০৬ পর্যন্ত)। ক্যারেঘারের ২৯০ টি প্রিমিয়ার লীগ খেলাও একটি ক্লাব রেকর্ড।

লিভারপুলের হলে সব সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন ইয়ান রাশ, যিনি ৩৪৬ টি গোল করেছেন ১৯৮০-১৯৮৭ ও ১৯৮৮-১৯৯৬ মৌসুমগুলোতে। ১৯৮৩-৮৪ তে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৭ গোল দেয়ার রেকর্ডও তার। যদিও রাশ সর্বোচ্চ লীগ গোল দেয়ার রেকর্ড গড়তে পারেননি। এ রেকর্ড গড়েছেন রজার হান্ট ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ২৪৫ গোল দিয়ে। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ৪১ গোল দিয়ে হান্ট এক মৌসুমে সর্বোচ্চ লীগ গোল দেন। গর্ডন হজ্‌সন ক্লাবের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ১৭ টি হ্যাট্রিক করে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের রেকর্ডধারী। এক খেলায় সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছেন এন্ডি ম্যাকগিগান, জন ইভানস, ইয়ান রাশ ও রবি ফাউলার। রবি ফাউলার ক্লাব ও প্রিমিয়ার লীগের রেকর্ড করেছেন দ্রুততম ৪ মিনিট, ৩২ সেকেন্ডে হ্যাট্রিক করে (আর্সেনাল এর বিপক্ষে)।

লিভারপুলের সবচেয়ে বড় জয় ১১-০ ব্যাবধানে ১৯৭৪ সালে। গোলকীপার ছাড়া দশজনের মধ্যে নয়জনই এতে গোল করেন - একটি লিভারপুল রেকর্ড। ১৯৮৯ সালে ক্রিস্টাল প্যালেসের সাথে লিভারপুল সবচেয়ে বড় ব্যাবধানে লীগ খেলা জিতে ৯-০ তে।

বর্তমান দল[সম্পাদনা]

৯ জানুয়ারি, ২০১৭ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[৫]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
জার্মানি গো লরিস কারিয়ুস
ইংল্যান্ড নাথানিয়েল ক্লাইন
ফ্রান্স মামাদু সাখো
নেদারল্যান্ডস জর্জিনিও উইন্যালদাম
ক্রোয়েশিয়া ডেজান লভ্রেন
ইংল্যান্ড জেমস মিলনার (সহ-অধিনায়ক)
ব্রাজিল রবার্তো ফিরমিনো
১০ ব্রাজিল ফিলিপে কুটিনহো
১১ মিশর মোহামেদ সালাহ
১২ ইংল্যান্ড জো গোমেজ
১৪ ইংল্যান্ড জর্ডান হেণ্ডারসন (অধিনায়ক)
১৫ ইংল্যান্ড ড্যানিয়েল স্টারিজ
১৬ সার্বিয়া মার্কো গ্রুয়িচ
১৭ এস্তোনিয়া র‍্যাগনার ক্লাভান
১৮ স্পেন আলবার্তো মোরেনো
১৯ সেনেগাল সাদিও মানে
২০ ইংল্যান্ড অ্যাডাম লালানা
২১ ব্রাজিল লুকাস লেইভা (৩য় অধিনায়ক)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
২২ বেলজিয়াম গো সিমন মিগনোলেট
২৩ জার্মানি এমাইর কান
২৫ ইংল্যান্ড ক্যামেরুন বারনাগান
২৭ বেলজিয়াম ডিভক অরিগি
২৮ ইংল্যান্ড ড্যানি ইংস
৩২ ক্যামেরুন জোয়েল মাটিপ
৩৪ হাঙ্গেরি গো অ্যাডাম বোগদান
৩৫ ইংল্যান্ড কেভিন স্টুয়ার্ট
৩৮ ইংল্যান্ড জন ফ্লানাগান
৪৭ ইংল্যান্ড আঁন্দ্রে উইসডম
৫০ সার্বিয়া লাযার ম্যাক্রোভিচ
৫২ ওয়েল্‌স্‌ গো ড্যানি ওয়ার্ডস
৫৩ ইংল্যান্ড ওভি ইজারিয়া
৫৪ ইংল্যান্ড শি ওজো
৫৬ ইংল্যান্ড কন্নর র‍ানডাল
৫৮ ওয়েল্‌স্‌ বেন উডবার্ন
৬৬ ইংল্যান্ড ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড

স্মরণীয় সাবেক খেলোয়াড়[সম্পাদনা]

বর্তমান স্টাফ[সম্পাদনা]

হেড অফ পারফরম্যান্স|| গ্লেন ড্রিসকলপ্রথম দলের ডক্টরস|| জাফ ইকবাল

ম্যানেজার ব্রেন্ডান রজারস্
সহকারী ম্যানেজার কলিন পাসকো
প্রথম দলের কোচ মাইক মারশ্
প্রথম দলের গোলরক্ষক কোচ জন আখটারবার্গ
প্রথম দলের হেড ফিজিও ক্রিস মরগান

ম্যানেজার[সম্পাদনা]

২১ মে, ২০১৭ এর আগ পর্যন্ত।

নাম জাতীয়তা দায়িত্ব শুরু দায়িত্ব শেষ রেকর্ড
খেলা জয় ড্র পরাজয়
ডব্লিউ. ই. বার্কলেজন ম্যাককেনা [৬] ইংল্যান্ড আগস্ট ১৮৯২ জুলাই ১৮৯৬ ১০১ ৫৮ ১৭ ২৬
টম ওয়াটসন ইংল্যান্ড আগস্ট ১৮৯৬ মে ১৯১৫ ৭৪০ ৩২৭ ১৪১ ২৭২
ডেভিড এশওর্থ ইংল্যান্ড ডিসেম্বর ১৯২০ ফেব্রুয়ারী ১৯২৩ ৫৮ ২৫ ২৪
ম্যাট ম্যাককুইন স্কটল্যান্ড ফেব্রুয়ারী ১৯২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯২৮ ২২৯ ৯৪ ৬১ ৭৪
জর্জ প্যাটারসন ইংল্যান্ড ফেব্রুয়ারী ১৯২৮ মে ১৯৩৬ ৩৭০ ১৩৯ ৮৬ ১৪৫
জর্জ কে ইংল্যান্ড মে ১৯৩৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫১ ৩৫৯ ১৪৩ ৯৩ ১২৩
ডন ওয়েলস ইংল্যান্ড মার্চ ১৯৫১ মে ১৯৫৬ ২৩৪ ৮২ ৬০ ৯২
ফিল টেইলর ইংল্যান্ড মে ১৯৫৬ নভেম্বর ১৯৫৯ ১৫৩ ৭৭ ৩২ ৪৪
বিল শ্যাঙ্কলি স্কটল্যান্ড ডিসেম্বর ১৯৫৯ ১৯৭৪ ৭৫৩ ৩৯৩ ১৮৫ ১৭৫
বব পেইসলি ইংল্যান্ড জুলাই ১৯৭৪ মে ১৯৮৩ ৪৯০ ২৭৫ ১২৪ ৯১
জো ফ্যাগান ইংল্যান্ড মে ১৯৮৩ মে ১৯৮৫ ১২২ ৬৫ ৩৪ ২৩
কেনি ড্যালগ্লিশ স্কটল্যান্ড মে ১৯৮৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ ২৯৭ ১৮০ ৭৬ ৪১
রনি মোরান [৭] ইংল্যান্ড ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ এপ্রিল ১৯৯১ ১০
গ্রায়েম সাউনেস স্কটল্যান্ড এপ্রিল ১৯৯১ জানুয়ারী ১৯৯৪ ১৫৭ ৬৫ ৪৭ ৪৫
রয় ইভানস ইংল্যান্ড জানুয়ারী ১৯৯৪ জুলাই ১৯৯৮ ২২৬ ১১৬ ৫৭ ৫৩
রয় ইভানসজেরার্ড হাউলির [৬] ইংল্যান্ড / ফ্রান্স জুলাই ১৯৯৮ নভেম্বর ১৯৯৮ ১৮
জেরার্ড হাউলির [৮] ফ্রান্স নভেম্বর ১৯৯৮ মে ২০০৪ ৩০৭ ১৬০ ৭৩ ৭৪
রাফায়েল বেনিটেজ স্পেন জুন ২০০৪ জুন ২০১০ ৩৫০ ১৯৭ ৭৪ ৭৯
রয় হজসন ইংল্যান্ড জুলাই ২০১০ জানুয়ারি ২০১১ ৩১ ১৩ ১০
কেনি ডালগ্লিস স্কটল্যান্ড জানুয়ারি ২০১১ মে ২০১২ ৭৪ ৩৫ ১৭ ২২
ব্রেন্ডান রজারস্ উত্তর আয়ারল্যান্ড মে ২০১২ অক্টোবর ২০১৫ ১৬৬ ৮৫ ৩৯ ৪২
ইয়ুর্গেন ক্লপ জার্মানি অক্টোবর ২০১৫ বর্তমান ৯৯ ৫০ ২৮ ২১

সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • ফূটবল লীগ খেতাবঃ ১৮
    • ১৯০১, ১৯০৬, ১৯২২, ১৯২৩, ১৯৪৭, ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৭৩, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯০
  • ফূটবল লীগ দ্বিতীয় বিভাগ খেতাবঃ ৪
    • ১৮৯৪, ১৮৯৬, ১৯০৫, ১৯৬২
  • ল্যাঙ্কাশায়ার লীগ খেতাবঃ
    • ১৮৯৩
  • ইউরোপীয়ান কাপ (বর্তমানে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ) খেতাবঃ ৫
    • ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮১, ১৯৮৪, ২০০৫
  • উয়েফা কাপঃ ৩
    • ১৯৭৩, ১৯৭৬, ২০০১
  • এফএ কাপঃ ৭
    • ১৯৬৫, ১৯৭৪, ১৯৮৬, ১৯৮৯, ১৯৯২, ২০০১, ২০০৬
  • এফএ যুব কাপঃ ২
    • ১৯৯৬, ২০০৬
  • লীগ কাপঃ ৮
    • ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৯৫, ২০০১, ২০০৩, ২০১২
  • কমিউনিটি শিল্ডঃ ১৫
    • ১৯৬৪ (যৌথ), ১৯৬৫ (যৌথ), ১৯৬৬, ১৯৭৪, ১৯৭৬, ১৯৭৭ (যৌথ), ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৬ (যৌথ), ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০ (যৌথ), ২০০১, ২০০৬
  • ইউরোপীয়ান সুপার কাপঃ ৩
    • ১৯৭৭, ২০০১, ২০০৫
  • সুপার কাপঃ ১
    • ১৯৮৬

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Happy birthday LFC? Not quite yet..."। Liverpool F.C। সংগৃহীত ১৫ মার্চ ২০১৪। "Liverpool F.C. was born on 3 June 1892. It was at John Houlding's house in Anfield Road that he and his closest friends left from Everton FC, formed a new club." 
  2. "Premier League Handbook Season 2013/14" (PDF)। Premier League। সংগৃহীত ১৭ আগস্ট ২০১৩ 
  3. এই দিনে - ২৯ মে ১৯৮৫ বিবিসি অনলাইন - news.bbc.co.uk
  4. এই দিনে - ১৫ এপ্রিল ১৯৮৯ বিবিসি অনলাইন - news.bbc.co.uk
  5. "First Team"। Liverpool F.C.। সংগৃহীত ৯ জানুয়ারি ২০১৭ 
  6. যুগ্ম ম্যানেজার
  7. তত্ত্বাবধায়ক ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত
  8. হাউলির অক্টোবর ২০০১ থেকে ফেব্রুয়ারী ২০০২ পর্যন্ত অসুস্থতাজনিত কারনে অনুপস্থিত ছিলেন। এসময় ফিল থম্পসন অস্থায়ী ম্যানেজার (খে৩৩ জ১৬ ড্র১২ প৫) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পরিসংখ্যান হাউলির রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]