রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(রিয়াল মাদ্রিদ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search
রিয়াল মাদ্রিদ
Real Madrid CF.svg
পূর্ণ নামরিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দে ফুতবল[১]
ডাকনামলস ব্ল্যাঙ্কোস (সাদা)
লস মেরেঙ্গুইস (মেরিনগুয়ে)
লস ভাইকিঙ্গস (ভাইকিং)[২]
সংক্ষিপ্ত নামReal, RM, RMA, RMD
প্রতিষ্ঠিত৬ মার্চ ১৯০২; ১১৬ বছর আগে (১৯০২-০৩-0৬)
(মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব হিসেবে)[৩]
মাঠসান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম
মাদ্রিদ, স্পেন
ধারণক্ষমতা৮১,০৪৪[৪]
প্রেসিডেন্টস্পেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ
প্রধান কোচআর্জেন্টিনা সান্তিয়াগো সোলারি[৫][৬][৭]
লীগলা লিগা
২০১৭–১৮৩য়
ওয়েবসাইটক্লাব ওয়েবসাইট
বর্তমান মৌসুম

রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দে ফুতবল (স্পেনীয় উচ্চারণ: [reˈal maˈðɾið ˈkluβ ðe ˈfuðβol]; "রয়্যাল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব") হচ্ছে একটি স্পেনীয় পেশাদার ফুটবল ক্লাব, যেটি রিয়াল মাদ্রিদ নামে অধিক পরিচিত এবং এটিকে সংক্ষিপ্তভাবে শুধুমাত্র রিয়াল বলা হয়। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে এই ক্লাবটির অবস্থান।[৮] এটি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সফল ক্লাব।[৯][১০] এই ক্লাবের একটি সফল বাস্কেটবল শাখা রয়েছে। সাদা টি-শার্ট ও শর্টস এবং নীল মোজা হচ্ছে এই ক্লাবের প্রধান পোশাক।

১৯০২ সালের ৬ই মার্চে, মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব হিসেবে এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার শুরু হতেই এই ক্লাবটি তাদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সাদা রঙের পোশাক পরিধান করছে। রিয়াল শব্দটি স্পেনীয় শব্দ রয়্যাল হতে আগত। ১৯২০ সালে আলফনসো ১৩-এর পরিহিত রাজকীয় মুকুট এই ক্লাবের প্রতীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্লাবটি ১৯৪৭ সাল হতে ৮১,০৪৪ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাদের সকল হোম ম্যাচ খেলছে। অধিকাংশ ইউরোপীয় ক্রীড়া ক্লাবের বিপরীতে, রিয়াল মাদ্রিদের সদস্যগণ (সসিওস) তাদের ইতিহাস জুড়ে এই ক্লাবটির মালিকানায় ছিল এবং এটি পরিচালনা করেছে।

২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ফোর্বস দ্বারা প্রকাশিত ফোর্বস সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাবের তালিকায় স্থান পায়, যেখানে প্রকাশ করা হয় যে এই ক্লাবটির মোট মূল্য আনুমানিক €৩.৪৭ বিলিয়ন ($৪.১ বিলিয়ন)। ২০১৬–১৭ মৌসুমে ক্লাবটি দালোয়েত দ্বারা প্রকাশিত সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাবের তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করে, যেখানে ক্লাবটির বার্ষিক আয় ছিল আনুমানিক €৬৭৪.৬ মিলিয়ন।[১১][১২][১৩] ক্লাবটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সমর্থিত দলগুলোর মধ্যে একটি।[১৪] রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার ৩ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মধ্যে একটি যারা ১৯২৯ সাল হতে শুরু হওয়া লা লিগার ইতিহাসে কখনোই শীর্ষ বিভাগ হতে অবনমিত হয়নি (বাকি দুই সদস্য হলো অ্যাথলেতিক বিলবাওবার্সেলোনা)। এই ক্লাবটি ফুটবলে চলমান সবচেয়ে দীর্ঘ দ্বন্দ্ব ধারণকারী ক্লাব, বিশেষ করে বার্সেলোনার সাথে এল ক্লাসিকো এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের সাথে মাদ্রিদ ডার্বি

১৯৫০-এর দশকে রিয়াল মাদ্রিদ স্পেনে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। উক্ত সময়ে তারা টানা ৫ বার ইউরোপিয়ান কাপ জয়লাভ করে এবং ৭ বার এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলে। এই সাফল্য তারা স্পেনীয় লীগেও ধরে রেখেছিল, যেখানে তারা ৭ বছরের মধ্যে ৫ বার ট্রফি ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। উক্ত সময়ের আলফ্রেদো দি স্তিফানো, ফেরেন্তস পুশকাস, ফ্রান্সিস্কো হেন্তো, রেমোঁ কোপার সমন্বিত দলটিকে অনেকে ফুটবলের সর্বকালের সেরা দল হিসেবে বিবেচনা করেন।[১৫][১৬][১৭] ঘরোয়া ফুটবলে, রিয়াল এপর্যন্ত ৬৪টি শিরোপা জয়লাভ করেছে; যার মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ৩৩টি লা লিগা শিরোপা, ১৯টি কোপা দেল রে শিরোপা, ১০টি স্পেনীয় সুপার কাপ শিরোপা, ১টি কোপা এভা দুয়ার্তে শিরোপা এবং ১টি কোপা দে লা লিগা শিরোপা রয়েছে।[১৮] ইউরোপীয় এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায়, রিয়াল সর্বমোট ২৫টি শিরোপা জয়লাভ করেছে; যার মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ১৩টি ইউরোপিয়ান কাপ/উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা, ২টি উয়েফা কাপ শিরোপা এবং ৪টি উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে, তারা রেকর্ড পরিমাণ ৬টি ক্লাব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়লাভ করেছে।[নোট ১]

২০০০ সালের ১১ই ডিসেম্বর তারিখে, রিয়াল মাদ্রিদ ফিফা শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ক্লাবের স্বীকৃতি অর্জন করে[২০] এবং ২০০৪ সালের ২০শে মে তারিখে, ফিফা শতবার্ষিক অর্ডার অফ মেরিট লাভ করে।[২১] ২০১০ সালের ১১ই মে তারিখে, ক্লাবটি ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন দ্বারা ২০শ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ক্লাবে ভূষিত হয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে, রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসে টানা ২ বার শিরোপা জয়লাভ করে এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মে মাসে, একমাত্র দল হিসেবে তারা টানা ৩ বার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে; যার মাধ্যমে তারা উয়েফা ক্লাব র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে বজায় থাকে।[২২][২৩]

রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে একে বেশ কয়েকটি ডাকনামে ডাকা হয়েছে। একটি ছিল লস মেরেঙ্গুয়েস, মেরিঙ্গু নামে একটি সাদা খাবার থেকে এই নামকরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আসে লস ব্লাঙ্কোস। এই দুটি নাম ক্লাবটির সাদা পোশাকের প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৭০-এর দশকে রিয়ালের আরেকটি ডাকনাম, লস ভাইকিংস জনপ্রিয়তা পায়, উত্তর ইউরোপের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে এই নামটি দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে দলটি লস গ্যালাক্টিকোস বা মহাতারকা নামে পরিচিত;[২৪] স্পেনীয় ব্যবসায়ী ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সভাপতিত্বে বিশ্বের বেশ কয়েকজন দামী তারকা এই ক্লাবটিতে খেলেছে বলে এই নামকরণ হয়েছে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক বছর[সম্পাদনা]

রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম সভাপতি হুলিয়ান পালাকিওস (১৯০২–১৯০৫)

আঠারো শতাব্দীতে ইন্সতিতুসিওন লিব্রে দে এন্সেনিয়াঞ্জার শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার্থী, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের দ্বারা মাদ্রিদে ফুটবল খেলা প্রচারের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে উঠে। ১৮৯৭ সালে, তারা (সোসিয়েদাদ) স্কাই ফুটবল নামে একটি সংঘ প্রতিষ্ঠিত করেন, যেটি লা সোসিয়েদাদ (সমাজ) নামেই অধিক পরিচিত। এটি সেসময়ের মাদ্রিদভিত্তিক খেলাধুলার একমাত্র সংঘ ছিল, যেটি প্রতি রবিবার সকালে মনক্লোয়ায় খেলত। ১৯০০ সালে, এই সংঘের কয়েকজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হওয়ার ফলে তারা স্কাই ফুটবল হতে বিভক্ত হয়ে গিয়ে নুয়েভা সোসিয়েদাদ দে ফুটবল (ফুটবলের নতুন সমাজ) নামে নতুন একটি ক্লাব গঠন করে। বিভক্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন হুলিয়ান পালাকিওস, যিনি রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বিভক্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দুই ভাই হুয়ান পাদ্রোস এবং কার্লোস পাদ্রোস, যারা পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯০১ সালে, এই নতুন ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব রাখা হয়। পরবর্তীতে, ১৯০২ সালে পুনর্গঠনের পর স্কাই ফুটবল সংঘটি নাম পরিবর্তন করে নিউ ফুট-বল ক্লাব রাখে।[২৫][২৬][২৭] ১৯০৬ সালের ৬ই মার্চ তারিখে, হুয়ান পাদ্রোসের সভাপতিত্বে একটি নতুন বোর্ড নির্বাচিত হওয়ার পর, মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।[৩]

১৯০৬ সালে মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবের একাদশ

প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পর, ১৯০৫ সালে, স্পেনীয় কাপের ফাইনালে অ্যাথলেতিক বিলবাওকে হারিয়ে মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব তাদের ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জয়লাভ করেছিল। ১৯০৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি, ক্লাবটির তৎকালীন সভাপতি আদোলফ মেলেন্দেজ স্পেনীয় এফএ-এর সাথে একটি ভিত্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ক্লাবটিকে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের একটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যে পরিণত করেন। বেশ কয়েকটি মাঠে খেলার পর ১৯১২ সালে ক্লাবটি "কাম্পো দে ও'দোনেল"-এ স্থানান্তরিত হয়েছিল।[২৮] ১৯২০ সালে, কিং আলফনসো ১৩ দ্বারা রিয়াল উপাধি লাভ করার পর, ক্লাবটির নাম পরিবর্তন করে রিয়াল মাদ্রিদ রাখা হয়।[২৯]

১৯২৯ সালে, সর্বপ্রথম স্পেনীয় ফুটবল লীগ আয়োজন করা হয়। উক্ত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ পুরো লীগ জুড়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করেছিল, কিন্তু সর্বশেষ ম্যাচটি অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের কাছে হেরে যায়; যার ফলে বার্সেলোনা উক্ত মৌসুমের শিরোপা জয়লাভ করে এবং রিয়াল মাদ্রিদ ২য় স্থান অর্জন করে।[৩০] রিয়াল মাদ্রিদ সর্বপ্রথম ১৯৩১–৩২ মৌসুমে লা লিগা শিরোপা জয়লাভ করে এবং পরের মৌসুমেও তারা শিরোপাটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল, এর ফলে তারা প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা ২ বারা লা লিগা শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে।[৩১]

১৯৩১ সালের ১৪ই এপ্রিল তারিখে, দ্বিতীয় স্পেনীয় গণতন্ত্রের আবির্ভাবের ফলে ক্লাবটি তার রিয়াল উপাধি হারিয়ে ফেলে এবং পুনরায় মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব নামে ফিরে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও ক্লাবটি ফুটবল খেলা চালিয়ে যায়। ১৯৪৩ সালের ১৩শে জুন তারিখে, কোপা দে জেনারেলিসিমোর (জেনারেল ফ্রাঙ্কোর সম্মানের কোপা দেল রে'র নাম এরূপ রাখা হয়েছিল) সেমি-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে ১১–১ গোলে হারিয়েছিল।[৩২] খেলা শেষে বার্সেলোনার খেলোয়াড়গণ অভিযোগ করেছিল যে তাদেরকে মাদ্রিদের পুলিশ ভয় দেখিয়েছিল,[৩৩] পুলিশের সাথে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিচালকও ছিলেন যিনি তাদেরকে বলেছিলেন যে "তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কেবলমাত্র তাদেরকে এই দেশে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার কারণে শাসকদের মহত্ত্বের মাধ্যমে খেলছে"।[৩৪] তারা আরও জানান যে, মাদ্রিদের ভক্তরা বার্সেলোনার তৎকালীন চেয়ারম্যান এনরিক পিনিয়েরোকে লাঞ্ছিত করেছে।[৩৫] যাহোক, ফিফা এবং উয়েফা এই অভিযোগগুলোর কোনটির সত্যতা খুঁজে পায়নি এবং তারা মনে করে যে উক্ত ম্যাচের ফলাফল বৈধ ছিল। স্পেনীয় সাংবাদিক ও লেখক হুয়ান কার্লোস পাসামন্তেস জানান যে, বার্সেলোনার খেলোয়াড় হোসেপ ভায়ে ম্যাচের পূর্বে স্পেনীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশের অভিযোগটি অস্বীকার করেন।[৩৬] এর পরিবর্তে, উক্ত ম্যাচের প্রথম অর্ধ সম্পন্ন হওয়ার পর, বার্সেলোনা তৎকালীন কোচ হুয়ান হোসে নোগুয়েস এবং বার্সেলোনার সকল খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদ কঠোর ফুটবল খেলার ধরন এবং রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তদের আগ্রাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।[৩৬] এর জন্য তারা দ্বিতীয় অর্ধের জন্য মাঠে যেতে চায়নি, এমতাবস্থায় মাদ্রিদের পুলিশ প্রধান এসে তার পরিচয় প্রদান করেন এবং বার্সেলোনা দলকে মাঠে যেতে নির্দেশ প্রদান করেন।[৩৬]

সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ইয়েস্তে ও ইউরোপীয় সাফল্য[সম্পাদনা]

১৯৫৬–১৯৬০ পর্যন্ত টানা ৫টি ইউরোপিয়ান কাপ জয়লাভ করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন আলফ্রেদো দি স্তিফানো

১৯৪৫ সালে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ইয়েস্তে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হন।[৩৭] বার্নাব্যুর সভাপতিত্বে, স্পেনের গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ক্লাবটি তাদের নিজস্ব মাঠ এস্তাদিও সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সিউদাদ দেপোর্তিভা সংস্কার করেন। উপরন্তু, ১৯৫০-এর দশকে সাবেক "রিয়াল মাদ্রিদ অপেশাদার" খেলোয়াড় মিগুয়েল মালবো রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমী কান্তেরা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যেটি বর্তমানে লা ফাব্রিকা নামে পরিচিত। ১৯৫৩ সালের শুরুর দিকে, তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবে স্পেনের বাহির হতে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করার একটি নতুন কৌশল শুরু করেন; সে সময় দলে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে আলফ্রেদো দি স্তিফানো ছিলেন অন্যতম।[৩৮]

১৯৬০-এর দশকের ইয়ে-ইয়ে দলের অধিনায়ক আমান্সিও আমারো

১৯৫৫ সালে, এল'একুইপে-এর একজন ক্রীড়া সাংবাদিক ও সম্পাদক, গাব্রিয়েল হানোত দ্বারা প্রস্তাবিত একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে বার্নাব্যু, বেদ্রিগনান এবং গুজতভ সেবেস ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা আরম্ভ করেছিল, যেখানে ক্লাবগুলো নিমন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেত; এই প্রতিযোগিতাটি বর্তমানে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ নামে পরিচিত।[৩৯] বার্নাব্যুর নেতৃত্বে, তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে স্পেনীয় এবং ইউরোপীয় ফুটবলে একটি শক্তিশালী ক্লাব হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছিলেন। ১৯৫৬ সাল হতে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপিয়ান কাপ জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল, যার মধ্যে ১৯৬০ সালে, হাম্পদেন পার্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালে এইন্ত্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিরুদ্ধে ৭–৩ গোলে জয়টি উল্লেখযোগ্য।[৩৮] টানা ৫ বছর যাবত সাফল্য অর্জনের পর, রিয়াল মাদ্রিদকে স্থায়ীভাবে ইউরোপিয়ান কাপের আসল শিরোপাটি প্রদান করা হয় এবং উয়েফা ব্যাজ অফ অনার পরিধান করার অধিকার দেওয়া হয়।[৪০]

১৯৬৬ সালে, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল্‌সের হেসল স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনালে সার্বীয় ক্লাব পার্তিজান বেলগ্রেডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জয়লাভ করেছিল। উক্ত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ স্পেনের খেলোয়াড়দের ঘিরে সম্পূর্ণ দল গঠন করেছিল, ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটেছিল।[৪১] উক্ত দলটি ইয়ে-ইয়ে নামে পরিচিত ছিল। দ্য বিটলসের ৪জন সদস্য মার্কার প্রচ্ছদে উপস্থিত হওয়ার পর, দ্য বিটলসের শি লাভস ইউ (সে তোমাকে ভালোবাসে) গানের একটি অংশ "ইয়াহ, ইয়াহ, ইয়াহ" হতে "ইয়ে-ইয়ে" নামকরণ করা হয়েছিল।[৪২] ইয়ে-ইয়ে প্রজন্মটি ১৯৬২ এবং ১৯৬৪ সালে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনাল খেলেছিল, যেখানে তারা রানার-আপ হয়েছিল।[৪১] ১৯৭০-এর দশকে, রিয়াল মাদ্রিদ ৫টি লীগ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ৩টি স্পেনীয় কাপ জ্যলাভ করেছিল।[৪৩] ১৯৭১ সালে, রিয়াল মাদ্রিদ প্রথমবারের মতো উয়েফা কাপ উইনার্স কাপের ফাইনাল খেলেছিল, যেখানে তারা ইংরেজ ক্লাব চেলসির কাছে ২–১ হেরেছিল।[৪৪] ১৯৭৮ সালের ২রা জুলাই, আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ১৯৭৮ ফিফা বিশ্বকাপের সময় ক্লাবটির সভাপতি সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ইয়েস্তে মৃত্যুবরণ করেন। এর ফলে উক্ত প্রতিযোগিতার সময় ফিফা তার সম্মানে ৩ দিনের শোক পালন করেছিল।[৪৫] পরের বছর, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের সাবেক সভাপতির সম্মানে ত্রফেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রথম সংস্করণ আয়োজন করেছিল।

কিন্তা দেল বুইত্রে ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা[সম্পাদনা]

১৯৮০ সালের শুরুর দিকে, স্থানীয় এক দল তারকা খেলোয়াড়ের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় তাদের লড়াই হারিয়ে ফেলেছিল, তাদের আগমনের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ পুনরায় সাফল্যের দেখা পায়।[৪৬][৪৭] এই প্রজন্মকে স্পেনীয় ক্রীড়া সাংবাদিক হুলিও সেসার ইগলেসিয়াস লা কিন্তা দেল বুইত্রে (শকুনির দল) নামকরণ করেন, এই নামটি উক্ত দলের একজন সদস্য এমিলিও বুত্রাগেনিয়োর ডাকনাম থেকে নেওয়া হয়েছিল। বুত্রাগেনিয়ো ছাড়া উক্ত দলের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন: মানুয়েল সানচিস, মার্তিন ভাজকেজ, মিচেল এবং মিগেল পারদেজা। এই দলের পাঁচজনই রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমী হতে ফুটবল শিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন।[৪৬][৪৭] "লা কিন্তা দেল বুইত্রে" (১৯৮৬ সালে পারদেজা রিয়াল জারাগোজায় যোগদান করার ফলে এই দলটিতে ৪জন সদস্য অবশিষ্ট ছিল) এবং বেশ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় যেমন: গোলরক্ষক ফ্রাঞ্চিস্কো বুয়ো, রাইট-ব্যাক মিগেল পোরলান নোগেরা ও মেক্সিকান স্ট্রাইকার উগো সানচেজের সাথে, ১৯৮০-এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধে, রিয়াল মাদ্রিদ স্পেনে এবং ইউরোপে নিজেদের অন্যতম সেরা দল হিসেবে গড়ে তুলেছিল। উক্ত সময়ে তারা ২টি উয়েফা কাপ শিরোপা, টানা ৫টি স্পেনীয় চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা, ১টি স্পেনীয় কাপ এবং ৩টি স্পেনীয় সুপার কাপ শিরোপা জয়লাভ করেছিল।[৪৬][৪৭] ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে, মার্তিন ভাজকেজ, এমিলিও বুত্রাগেনিয়ো এবং মিচেলের ক্লাব ছাড়ার মাধ্যমে "লা কিন্তা দেল বুইত্রে" দলটি ভেঙ্গে যায়।

১৯৯৬ সালে, তৎকালীন সভাপতি লরেঞ্জ সাঞ্জ সাবেক ইতালীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় ফাবিও কাপেলোকে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেন। যদিও তিনি মাত্র ১ মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন, কিন্তু উক্ত মৌসুমে তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগা শিরোপা জয়লাভ করতে সাহায্য করেন। তার অধীনে রোবের্তো কার্লোস, প্রেদ্রা মিয়াতোভিচ, দাভোর শুকার এবং ক্লেরান্স সেদর্ফের মতো খেলোয়াড় পূর্বে রিয়াল মাদ্রিদে বিদ্যমান রাউল, ফার্নান্দো হিয়েরো, ইবান সামরানো এবং ফের্নান্দো রেদোন্দোর সাথে অন্তর্ভুক্ত হন; এর মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের দলকে আরো শক্তিশালী করতে তুলেছিল। এর ফলস্বরূপ, রিয়াল মাদ্রিদ প্রায় ৩২ বছর পর তাদের ৭ম ইউরোপিয়ান কাপ শিরোপা জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল; ১৯৯৮ সালে, জার্মান ম্যানেজার ইয়ুপ হাইঙ্কেসের অধীনে ফাইনালে প্রেদাগ মিয়াতোভিচের করা একমাত্র গোলের বিনিময়ে তারা ইয়ুভেন্তুসের বিরুদ্ধে ১–০ জয়লাভ করেছিল।[৪৮]

১৯৯৯ সালে, রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয়তার অভাব এবং লরেঞ্জ সাঞ্জের সাথে কলহ সৃষ্টি হওয়ার ফলে কাপেলোকে পদচু্যত করা হয়।[৪৯] এর ফলে একই বছরের নভেম্বর মাসে, রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় ভিসেন্তে দেল বস্ককে কোচের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দেল বস্কের দলটি কাপেলোর দল হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। উক্ত দলে রাউল, ইকার ক্যাসিয়াস, ফের্নান্দো মোরিয়েন্তেস এবং গুতির মতো তরুণ প্রতিভা, প্রিমিয়ার লীগ হতে আগত স্টিভ ম্যাকম্যানাম্যাননিকোলা আনেলকা এবং স্থানীয় প্রতিভা মিচেল সালগাদোইবান এলগেরার মতো নতুন প্রতিভা এবং ফার্নান্দো হিয়েরো ও রোবের্তো কার্লোসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দেল বস্কের প্রথম মৌসুমেই, রিয়াল মাদ্রিদ ৮ম বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়লাভ করেছিল; উক্ত ম্যাচে মোরিয়েন্তেস, ম্যাকম্যানাম্যান এবং রাউলের করা গোলের মাধ্যমে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল।[৫০] এই জয়টিকে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের আরেকটি সফলতম অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৫১]

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ যুগ[সম্পাদনা]

২০০০ সালের জুলাই মাসে, ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদের ১৫তম সভাপতি নির্বাচিত হন।[৫২] তিনি ক্লাবটির €২৭০ মিলিয়নের ঋণ পরিশোধ করার এবং ক্লাবটিকে সকল প্রকারের আধুনিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করার অঙ্গীকার করেন।[৫৩] যাহোক, পেরেজের নির্বাচনী প্রচারণার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তিনি রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার খেলোয়াড় লুইশ ফিগোকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করিয়েছিলেন।[৫৪] পরবর্তী বছর, ক্লাবটি তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছিল এবং গ্রীষ্মে প্রচুর অর্থ খরচ করে বিশ্বের সেরা তারকাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে গালাক্তিকোস গঠন করেছিল; যেখানে জিনেদিন জিদান, রোনালদো, লুইশ ফিগো, ডেভিড বেকহ্যাম এবং ফাবিও কান্নাভারোর মতো তারকা খেলোয়াড় ছিল।[৫৫] এটি একটি বিতর্কের বিষয় যে, উক্ত সময়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে দল গঠন করা সফল হয়েছিল কি-না; কেননা উক্ত দল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ শুধুমাত্র ২০০২ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা, আন্তর্মহাদেশীয় কাপ ও ২০০৩ সালে লা লিগা শিরোপা জয়লাভ করেছিল এবং পরবর্তী তিন মৌসুম তারা কোন প্রধান শিরোপা জয়লাভ করতে সক্ষম হয়নি।[৫৬]

ডেভিড বেকহ্যাম এবং জিনেদিন জিদান গালাক্তিকোসের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন।

২০০৩ সালে, লা লিগা শিরোপা জয়ের কয়েকদিন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দ্বারা তৎকালীন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ককে পদচ্যুত করার মাধ্যমে সর্বপ্রথম বিতর্কের সৃষ্টি হয়।[৫৭] অতঃপর এক ডজনের মতো খেলোয়াড় ক্লাব ছেড়ে চলে যায়, যাদের মধ্যে রিয়ালের অধিনায়ক ফার্নান্দো হিয়েরো অন্যতম। একই সময় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় ক্লদ্‌ মাকেলেলে ক্লাবের সর্বনিম্ন বেতনপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হওয়ার প্রতিবাদে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদান করতে অস্বীকৃতি যান, পরবর্তীতে তিনি চেলসিতে যোগদান করেছিলেন।[৫৮] এই বিষয় নিয়ে জিদান বলেছিলেন, "ফুটবলের একটি সাধারণ নিয়ম রয়েছে: কখনোই জয়ী দলে পরিবর্তন করতে নেই"।[৫৯] অতঃপর রিয়াল মাদ্রিদ কার্লোস কুইরোজকে তাদের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল, যার অধীনে রিয়াল বেতিসের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়ের মাধ্যমে ঘরোয়া লীগ শুরু করেছিল।[৫৯]

২০০৫–০৬ মৌসুমটি বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতিমূলক নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল; তাদের মধ্যে হুলিও বাপতিস্তা (€২৪ মিলিয়ন), রবিনিয়ো (€৩০ মিলিয়ন) এবং সার্জিও রামোস (€২৭ মিলিয়ন) অন্যতম।[৬০] যাইহোক, রিয়াল মাদ্রিদ উক্ত মৌসুমটি ভালোভাবে শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছিল; তার মধ্যে ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বার্সেলোনার কাছে ০–৩ গোলে হার উল্লেখযোগ্য।[৬১] পরের মাসে, রিয়ালের তৎকালীন কোচ ভান্দেরলেই লুক্সেমবুর্গো পদচ্যুত হয়েছিল এবং তার পরিবর্তে হুয়ান রামোন লোপেজ কারো রিয়ালের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।[৬২] অতঃপর রিয়াল মাদ্রিদ অল্প সময়ের জন্য জয়ের গতি পেয়েছিল যেটি কোপা দেল রে-র কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ রিয়াল জারাগোজার কাছে ৬–১ গোলে হারার মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল।[৬৩] এর পরপরই, আর্সেনালের কাছে সামগ্রিকভাবে ১–০ গোলে হারার মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ টানা চতুর্থবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ হতে বাদ পরে গিয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ পদত্যাগ করেছিলেন।[৬৪]

র‍ামোন কালদেরন যুগ[সম্পাদনা]

২০০৬ সালের ২রা জুলাই, র‍ামোন কালদেরন রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর পরপরই, তিনি ফাবিও কাপেলোকে নতুন কোচ হিসেবে এবং প্রেদ্রা মিয়াতোভিচকে নতুন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। উক্ত মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদ চার বছর পর লা লিগা শিরোপা জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল; এই সফল মৌসুমের পরও ফাবিও কাপেলোকে পদচ্যুত করা হয়েছিল।[৬৫] রিয়াল মাদ্রিদ ১৭ই জুন তারিখে মায়োর্কাকে হারিয়ে শিরোপা জয়লাভ করেছিল; উক্ত দিনে অপর দুই শিরোপা প্রত্যাশী বার্সেলোনা এবং সেভিয়া যথাক্রমে তারাগোনা এবং ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে খেলেছিল। প্রথমার্ধ শেষে, রিয়াল মাদ্রিদ ০–১ গোলে পিছিয়ে ছিল, অন্যদিকে ন্যু এস্তাদি দে তারাগোনায় অনুষ্ঠিত খেলায় বার্সেলোনা ০–৩ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাহামাদু দিয়ারা একটি এবং হোসে আন্তোনিও রেয়েসের জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদ ৩–১ গোলে ম্যাচ এবং শিরোপা জয়লাভ করেছিল।[৬৬]

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে এই ক্লাবে যোগদান করার সময় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ক্লাবের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড় ছিলেন, যাকে প্রায় €৯৪ মিলিয়নের বিনিময়ে দলে ভেড়ানো হয়েছিল।

২০০৯ সালের ১লা জুন তারিখে, ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হিসেবে পুনরায় ফিরে আসেন।[৬৭] পেরেজ দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পরপরই তার গালাক্তিকোস নীতি অনুসরণ করতে থাকেন। তিনি ২০০৯ সালে ব্রাজিলীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় কাকাকে এসি মিলান হতে প্রায় £৫৬ মিলিয়নের বিনিময়ে দলে ভিড়িয়েছিলেন; যেটি উক্ত সময়ের রেকর্ড ভাঙ্গা স্থানান্তর ফী ছিল।[৬৮] একই সাথে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হতে পর্তুগিজ ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে £৮০ মিলিয়নের বিনিময়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় রেকর্ড ভেঙেছিলেন।[৬৯]

২০১০ সালের মে মাসে, পর্তুগিজ ম্যানেজার জোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেছিলেন।[৭০][৭১] ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র ১৮দিনের মধ্যে চারটি এল ক্লাসিকো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যার প্রথম ম্যাচটি ছিল ১৭ই এপ্রিলে লীগ ম্যাচ (যেটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছিল যেখানে উভয় ক্লাব পেনাল্টিতে গোল করেছিল), দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল কোপা দেল রে-এর ফাইনাল (যেটি ১–০ গোলে মাদ্রিদ জয়লাভ করেছিল) এবং ২৭শে এপ্রিল ও ২রা মে আয়োজিত বিতর্কিত দুই-লেগ বিতর্কিত চ্যাম্পিয়নস লীগ সেমিফাইনালে বার্সেলোনা ৩–১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল।[৭২]

২০১১–১২ লা লিগা মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ ৩২তম শিরোপা জয়লাভ করেছিল, যেখানে তারা বেশ কয়েকটি ক্লাব রেকর্ড গড়েছিল। উক্ত মৌসুমের ৩৮ ম্যাচের ৩২টিতে জয়লাভ করে রিয়াল মাদ্রিদ সর্বমোট ১০০ পয়েন্ট অর্জন করেছিল; উক্ত মৌসুমে তাদের গোল ব্যবধান ছিল +৮৯, যেখানে তারা ১২১টি গোল করেছিল।[৭৩] একই মৌসুমে, স্পেনীয় লীগের ইতিহাসে দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তিনি মাত্র ৯২টি ম্যাচে ১০১ গোল করে ক্লাবের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ফেরেন্তস পুশকাসকে পেছনে ফেলেছিলেন, যিনি ১০৫ ম্যাচে ১০০টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রোনালদো এক মৌসুমে ৬০টি গোল করার মাধ্যমে নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়েছিলেন এবং প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে লা লিগার অন্যান্য ১৯টি দলের সব দলের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন।[৭৪][৭৫]

রিয়াল মাদ্রিদ ২০১২–১৩ মৌসুমে স্পেনীয় সুপার কাপ জয়লাভ করেছিল, যেখানে তারা বার্সেলোনাকে অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে হারিয়েছিল, তবে লীগে তারা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল। উক্ত মৌসুমের গ্রীষ্মে স্থানান্তরের মূল আকর্ষণ ছিল প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার হতে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় লুকা মদরিচের আগমন; তিনি £৩৩ মিলিয়নের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করেছিলেন। ২০১৩ কোপা দেল রে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর, পেরেজ ঘোষণা করেন যে, "পারস্পরিক চুক্তি"র ভিত্তিতে উক্ত মৌসুম শেষে মরিনহো ম্যানেজারের দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাবেন।[৭৬][৭৭]

লা দেসিমা ও ইউরোপীয় ত্রিগুণ[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ২৫শে জুন তারিখে, মরিনহোর প্রস্থানের পর কার্লো আনচেলত্তিকে তিন বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন ম্যানেজার পদে এবং জিনেদিন জিদানকে তার সহকারী ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।[৭৯] ২০১৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তারিখে, টটেনহ্যাম হটস্পার হতে ওয়েলসের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় গ্যারেথ বেলকে প্রায় €১০০ মিলিয়নের বিনিময়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল; এটি রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে একটি বহু-প্রতীক্ষিত স্থানান্তর ছিল।[৮০] এই ক্লাবে আনচেলত্তির প্রথম মৌসুমেই, রিয়াল মাদ্রিদ কোপা দেল রে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল; ফাইনালে দি মারিয়া এবং বেলের করা গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনাকে ২–১ গোলে হারিয়ে শিরোপাটি জয়লাভ করেছিল।[৮১] ২০১৪ সালের ২৪শে মে তারিখে, রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৪ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে তাদের শহরের অন্য আরেক দল আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা[৮২] এবং প্রথম দল হিসেবে দশটি ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ী দলে পরিণত হয়েছিল; এই অর্জনটি "লা দেসিমা" নামে পরিচিত।[৮৩]

২০১৪ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ের পর, রিয়াল মাদ্রিদ কোস্টা রিকান গোলরক্ষক কেইলর নাভাস, জার্মান মধ্যমাঠের খেলোয়াড় টনি ক্রুসকলম্বীয় আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হামেস রদ্রিগেজকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।[৮৪] ক্লাবটি ২০১৪ উয়েফা সুপার কাপে সেভিয়াকে হারিয়ে তাদের ৭৯তম শিরোপা জয়লাভ করেছিল।[৮৫] ২০১৪ গ্রীষ্মকালীন স্থানান্তরের শেষ সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জাবি আলোনসোকে বায়ার্ন মিউনিখেআনহেল দি মারিয়াকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে বিক্রি করে দিয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তটি অনেক সমালোচিত ভয়েছিল, দলের তারকা খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বলেছিলেন,"আমি দায়িত্বে থাকলে হয়তো কাজগুলো ভিন্নভাবে হতো"। দলের তৎকালীন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি স্বীকার করেন, "আমাদেরকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে"।[৮৬][৮৭]

২০১৪–১৫ লা লিগা মৌসুমের শুরুতে খারাপ প্রদর্শনের পর, রিয়াল মাদ্রিদ টানা ২২ ম্যাচ জয়লাভ করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল, যেখানে বার্সেলোনা এবং লিভারপুলের বিরুদ্ধে জয় ছিল। পূর্বের রেকর্ডটির অধিকারী ছিল ২০০৫–০৬ মৌসুমে ফ্রাংক রাইকার্ডের "বার্সা", যেখানে তারা টানা ১৮টি ম্যাচ জয়লাভ করেছিল।[৮৮] ২০১৫ সালের উদ্বোধনী ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার কাছ ২–১ গোলে হারের মাধ্যমে টানা ২২ ম্যাচ জয়ের ধারাটি সমাপ্ত হয়েছিল, রিয়াল মাদ্রিদ টানা ২৪ জয়ের বিশ্ব রেকর্ডের সমান হতে মাত্র ২ ম্যাচ জয় কম ছিল।[৮৯] উক্ত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ পুনরায় চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা (ইয়ুভেন্তুসের কাছে হেরে) এবং কোপা দেল রে জয়লাভ করতে ব্যর্থ হয়; একই সাথে লীগ শিরোপা জয়লাভ করতেও ব্যর্থ হয়, যেখানে তারা বার্সেলোনার নিচে ২য় স্থান অর্জন করেছিলেন। এই অসফল মৌসুম শেষের কিছুদিন পর, ২০১৫ সালের ২৫শে মে তারিখে, আনচেলত্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।[৯০]

২০১৫ সালের ৩রা জুন তারিখে, রাফায়েল বেনিতেজ রিয়াল মাদ্রিদের সাথে তিন বছরের এক চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে নতুন ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।[৯১] ম্যাচদিন ১১-এ সেভিয়ার কাছে ৩–২ গোলে পরাজিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ লীগে অপরাজিত ছিল। এরপর বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম "ক্লাসিকো"য় ০–৪ গোলে হেরেছিল। কোপা দেল রে ৩২ দলের পর্বের প্রথম লেগে কাদিজের বিরুদ্ধে অযোগ্য খেলোয়াড় দেনিস চেরিশেভকে খেলিয়েছিল, যেখানে ৩–১ গোলে জয়লাভ করেছিল, কিন্তু অযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে চেরিশেভকে খেলানোর ফাইল দ্বিতীয় লেগ বাতিল হয়ে গিয়েছিল এবং প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।[৯২] সমর্থকদের সাথে অ-জনপ্রিয়তা, খেলোয়াড়দের সাথে অসন্তোষ এবং শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে ভালো ফলাফল না পাওয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারিতে, বেনিতেজকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।[৯৩]

২০১৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারি তারিখে, বেনিতেজের প্রস্থান ঘোষনা করার পাশাপাশি সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়, ফরাসি ফুটবলার এবং রিয়াল মাদ্রিদের তৎকালীন সহকারী ম্যানেজার জিনেদিন জিদানকে প্রধান ম্যানেজারের পদে উন্নীত করা হয়েছিল।[৯৪] জিদানের অধীনে, ২০১৫–১৬ লা লিগায় বার্সেলোনা হতে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে ২য় স্থান অধিকার করেছিল।[৯৫] ২০১৬ সালের ২৮শে মে তারিখে, রিয়াল মাদ্রিদ ১১তম উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা জয়লাভ করেছিল, এর ফলে তারা এই প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক শিরোপা জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ করেছিল; রিয়াল মাদ্রিদের এই সাফল্যকে "লা উনোদেসিমা" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।[৯৬]

২০১৭ সালের মে মাসে, ৩৩তম লা লিগা শিরোপা জয়ের পর, মাদ্রিদ মেয়র মানুয়েল কারমেনার সাথে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় এবং জিদান।

২০১৬–১৭ মৌসুমে, জিদানের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ সর্বপ্রথম পূর্ণ মৌসুম শুরু করেছিল; তারা ২০১৬ উয়েফা সুপার কাপ জয়লাভের মধ্য দিয় তাদের এই মৌসুম শুরু করেছিল।[৯৭] ২০১৬ সালের ১০ই ডিসেম্বর তারিখে, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত ছিল, যেটি ক্লাবের একটি নতুন রেকর্ড ছিল।[৯৮] ২০১৬ সালের ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে, রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৬ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে জাপানি ক্লাব কাশিমা এন্টলারকে ৪–২ গোলে পরাজিত করে।[৯৯] ২০১৭ সালের ১২ই জানুয়ারি তারিখে, সেভিয়ার সাথে ৩–৩ গোলে ড্র করার মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছিল, এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী মৌসুমে বার্সেলোনার তৈরি সকল প্রতিযোগিতায় টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি ভেঙ্গে দিয়েছিল।[১০০] এর তিনদিন পর, লা লিগার এক ম্যাচে সেভিয়ার কাছে ১–২ গোলে হেরে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাটি থেমে গিয়েছিল।[১০১] একই বছরের মে মাসে, রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৬–১৭ লা লিগা জয়লাভ করেছিল, যেটি তাদের ইতিহাসে ৩৩তম লা লিগা এবং ২০১২ সালের পর প্রথম শিরোপা ছিল।[১০২] ৩রা জুন তারিখে, রিয়াল ২০১৬–১৭ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে ইয়ুভেন্তুসকে ৪–১ গোলে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লীগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে ইন্টার মিলানের জয়ের পর প্রথম দল হিসেবে টানা ২ বার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে।[১০৩][১০৪] এই শিরোপাটি রিয়াল মাদ্রিদের ১২তম এবং গত ৪ বছর ২য় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা ছিল; এই সাফল্যকে "লা দুওদেসিমা" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।[১০৫] ট্রফি জয়ের দিক থেকে ২০১৬–১৭ মৌসুমটি রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ মৌসুম ছিল।[১০৬]

রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ২০১৭ উয়েফা সুপার কাপ জয়লাভ করেছিল।[১০৭] এর পাঁচ দিন পর, রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৭ স্পেনীয় সুপার কাপের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ২–০ গোলে হারিয়েছিল; এর ফলে বার্সেলোনার টানা ২৪ এল ক্লাসিকোয় গোল করার রেকর্ড ভেঙ্গে গিয়েছিল। অতঃপর দ্বিতীয় লেগে ৩–১ গোলে জয়লাভ করে সামগ্রিকভাবে ৫–১ গোলে জয়ী হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৭ সালের স্পেনীয় সুপার কাপ জয়লাভ করেছিল।[১০৮] ২০১৮ সালে, রিয়াল মাদ্রিদ টানা তৃতীয়বার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়লাভ করেছিল, এর ফলে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা তিনবার এবং ১৯৭০-এর দশকে বায়ার্ন মিউনিখের পর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা তিনবার শিরোপা জয়লাভ করেছিল। ৩১শে মে তারিখে, ফাইনাল জয়ের মাত্র ৫ দিন পর, জিদান রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার হিসেবে তার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে জানান যে, এই ক্লাবে "পরিবর্তনের প্রয়োজন" রয়েছে।[১০৯][১১০]

২০১৮ সালের ১২ই জুন তারিখে, রিয়াল মাদ্রিদ তৎকালীন স্পেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হুলেন লোপেতেগিকে তাদের পরবর্তী ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একই সাথে ঘোষণা করা হয়েছিল যে তিনি ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের পর আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তবে স্পেন জাতীয় দল বিশ্বকাপের একদিন পূর্বে লোপেতেগিকে বরখাস্ত করে দিয়েছিল এবং জানায় যে লোপেতেগি তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না করেই রিয়াল মাদ্রিদের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তিনি ক্লাবের সাথে তাদের তথ্য না জানিয়ে চুক্তির সাথে আলোচনা করেছেন।[১১১][১১২][১১৩] প্রায় €১০০ মিলিয়নের বিনিময়ে ইতালীয় ক্লাব ইয়ুভেন্তুসের কাছে রোনালদোকে বিক্রয়ের পর, রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৮ সালের গ্রীষ্মে আগ্রাসীভাবে তাদের দলকে সাজানোর কাজ শুরু করেছিল।[১১৪]

রিয়াল মাদ্রিদের খারাপ খেলার ধরন এবং ক্রমাগত হারের ফলে, লোপেতেগিকে পদচ্যুত করা করেছিল। তার পরিবর্তে দলের অস্থায়ী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক কাস্তিয়া ম্যানেজার সান্তিয়াগো সোলারি[১১৫]

কুলচিহ্ন ও রঙ[সম্পাদনা]

কুলচিহ্ন[সম্পাদনা]

সর্বপ্রথম কুলচিহ্নটি একটি সাদামাদা নকশা ছিল, যেখানে ক্লাবের তৎকালীন নাম মাদ্রিদ ক্লাব দে ফুতবল হতে তিনটি বর্ণ এমএসএফ (MCF) ছিল; এই কুলচিহ্নটির রঙ ছিল গাঢ় নীল। ১৯০৮ সালে, এই কুলচিহ্নের প্রথম পরিবর্তন করা হয়েছিল। সে সময় বর্ণগুলো একটি বৃত্তের ভিতরে আরও সুস্পষ্ট আকার ধারণ করে।[১১৬] ১৯২০ সালে পর্যন্ত পেদ্রো পারাগেসের আমলে কুলচিহ্নের আকৃতিতে পরবর্তী কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। অতঃপর, আলফনসো ১৩ এই ক্লাবকে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিলেন যার ফলে ক্লাবটি "রিয়াল মাদ্রিদ" নাম পায়, যার অর্থ "রাজকীয়।[১১৭] এর ফলে, আলফনসো ১৩-এর পরিহিত রাজকীয় মুকুট এই ক্লাবের প্রতীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ক্লাবটি রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দে ফুতবল হিসেবে নিজেদের শৈলীকৃত করেছিল।[১১৬]

কিটস ও রঙ[সম্পাদনা]

১৯০২-১৯১১
১৯১১-১৯২৫
১৯২৫-১৯২৬
১৯২৬-১৯৩১
১৯৩১-১৯৫৪
১৯৫৪-১৯৫৫
১৯৫৫–বর্তমান
১৯৬৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ,ডাক নাম লস ব্লাঙ্কোস (সাদারা)

রিয়াল মাদ্রিদ এই পর্যন্ত মাত্র এক মৌসুম বাদে সব মৌসুমেই তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সি হোম কিট হিসেবে পড়ে আসছে।সবসময়েই তাদের এওয়ে জার্সি নীল বা বেগুনী বর্ণের ছিলো।১৯৪৭ সালে তারা প্রথম স্প্যানীয় ক্লাব হয় যারা নম্বর সম্পন্ন জার্সি পরিধান করে।[১১৮]

জার্সি স্পন্সর[সম্পাদনা]

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমানে উৎপাদক সহায়ক ও জার্সি স্পন্সর যাথাক্রমে এডিডাস ও ফ্লাই এমিরেটস।

সময় উৎপাদন সহায়ক শার্ট পার্টনার
১৯৮০-১৯৮২ অ্যাডিডাস প্রযোজ্য নয়
১৯৮২-১৯৮৫ জানুসি
১৯৮৫-১৯৮৯ হামেল পারমালেট
১৯৮৯–১৯৯১ রেনি পিকট
১৯৯১–১৯৯২ ওতায়সা
১৯৯২–১৯৯৪ টেকা
১৯৯৪–১৯৯৮ কেলমে
১৯৯৮–২০০১ অ্যাডিডাস
২০০১–২০০২ প্রযোজ্য নয়
২০০২–২০০৫ সিমেন্স মোবাইল
২০০৫–২০০৬ সিমেন্স
২০০৬–২০০৭ বেনকিউ-সিমেন্স
২০০৭–২০১৩ বিউইন
২০১৩– এমিরেট্‌স

  • ^১ : ক্লাবটির নতুন ওয়েবসাইটকে উন্নীত করার জন্য Realmadrid.com-কে শার্ট স্পন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

মাঠ[সম্পাদনা]

সান্তিয়াগো বার্নাব্যু
Estadio Santiago Bernabéu 12.jpg
ধারণক্ষমতা৮১,০৪৪
মাঠের আয়তন১০৭ মি × ৭২ মি (৩৫১ ফু × ২৩৬ ফু)[১১৯]
নির্মাণ
কপর্দকহীন ভূমি২৭ অক্টোবর ১৯৪৪
উন্মোচন১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৭
স্থপতিম্যানুয়েল মুনোজ,লুইজ আলেমানি,আন্তোনিও লামেলা

প্রাথমিক অবস্থায় অর্থাৎ ১৯১২ সাল নাগাদ ক্যাম্পো দে ও'ডনেল রিয়াল মাদ্রিদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে প্রায় ১১ বৎসর ব্যবহার হয়ে আসছিলো,কিন্তু এরপরে ক্লাবটি ১ বৎসরের জন্য ক্যাম্পো দে সিউদাদ লিনিয়াল নামক স্টেডিয়ামে চলে আসে যার ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ৮০০০ ফলে ক্লাবটি পরে আবার এস্তাদিও কামার্টিন নামক স্টেডিয়ামে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে হোম ম্যাচ গুলো আয়োজন করে আসছিলো। স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ২২৫০০ জন।উল্লেখ্য ক্লাবটি এই স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম স্প্যানিশ লীগ জিতেছিল। পরে ১৯৪৩ সালে ক্লাবটির চেয়ারম্যান নির্ধারণ করেন যে Estadio Chamartín ক্লাবটির হোম ম্যাচ গুলো আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত নয় যার ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর ক্লাবটি একটি নতুন মাঠের নির্মাণ কাজ শুরু করে যা ১৯৫৫ সাল থেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু নামে পরিচিত হয়।ক্লাবটি এই স্টেডিয়ামে পর্তুগিজ ক্লাব বেলেনেন্সেস এর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে এবং ৩-১ এ জেতে।

১৯৫৩ সালে স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা ১,২০,০০০তে উন্নীত করা হয় ।এ সময় ক্লাবটি উয়েফা এর যথেষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় কিছুটা প্রতিরোধ করে।২০১১ সাল নাগাদ স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা কমিয়ে ৮৫,৪৫৪ জন করা হয় এবং একটি সঙ্কোচনীয় ছাদ যোগ করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় । বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, এফসি বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরে রিয়াল মাদ্রিদই ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব যার গড় ধারণ ক্ষমতা চতুর্থ সর্বোচ্চ।[১২০][১২১][১২২]

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ১৯৬৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, ১৯৮২ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল, ১৯৫৭, ১৯৬৯ এবং ১৯৮০ ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল এবং ২০১০ চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।[১২৩]স্টেডিয়ামটির ১০ম লাইন বরাবর নিজস্ব মাদ্রিদ মেট্রো স্টেশন আছে যা দর্শকদের বারতি সুবিধা যোগাচ্ছে।২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর স্টেডিয়ামটি উয়েফা কর্তৃক এলিট ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[১২৪]

২০০৬ সালের ৯ মে থেকে Ciudad Real Madrid এর একটি অংশ আলফেড্র ডি স্টিফানো স্টেডিয়ামটি রিয়াল মাদ্রিদের যুবদল রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া এর জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে যার ধারণ ক্ষমতা ৫০০০।এর নামকরণ করা হয় রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক খেলোয়াড় ডি স্টিফানো এর নামানুসারে।[১২৫]

রেকর্ড ও পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় রাউল গোনসালেস

রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব বিংশ শতাব্দীর সফলতম ক্লাব। যুগে যুগে অনেক মহাতারকা এখানে খেলেছেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদের যুব প্রকল্প থেকে উঠে আসা খেলোয়াড় রাউল গোনসালেস আর সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি সর্বোচ্চ ৭৪১ টি ম্যাচ খেলেন এবং ২য় সর্বোচ্চ ৩২৩ টি গোল করেন।দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গোলকিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৭২৫ টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রিয়াল মাদ্রিদের যুব প্রকল্প লা ফ্যাব্রিকার খেলোয়াড় ইকার ক্যাসিয়াস।৭১০ টি ম্যাচ খেলে তৃতীয় স্থানে আছেন ম্যানুয়েল সানচিজ জুনিয়র[১২৬]১২৭ টি ম্যাচ খেলে রিয়ালের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় হলেন ইকার ক্যাসিয়াস।

রিয়ালের গোলকিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ইকার ক্যাসিয়াস


রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর।২০০-র অধিক গোল করেছেন আরো পাঁচজন।তারা হলেন আলফ্রেদো দি স্তিফানো (১৯৫৩-৬৪), সান্তিলানা (১৯৭১-৮৮),ফেরেন্তস পুশকাস (১৯৫৮-৬৪), হুগো সানচেজ (১৯৮৫-৯২) এবং আগের রেকর্ডধারী রাউল গোনসালেস (১৯৯৪-২০১০)। লা লিগায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোল রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ ৩১১ টি গোল এবং লা লিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও তার(২০১৪-১৫ মৌসুমে ৪৮ টি)।ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়ালে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০৫ গোল করার রেকর্ড বর্তমানে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর।[১২৭]মাদ্রিদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুত গোল(১২ সেকেন্ড) করার রেকর্ড ব্রাজিলীয় রোনালদোর।২০০৩ সালে গোলটি করেছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে[১২৮] সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অফিসিয়াল ধারণক্ষমতা ৮১,০৪৪ হলে ২০০৬ কোপা দেল রের একটি ম্যাচে দর্শক সংখ্যা হয় ৮৩,৩২৯ জন।

লা লিগার এক আসরের সবগুলো দলের সাথে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০০৯ সালে £৯৪ মিলিয়ন দিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে কেনে যা তৎকালীন সর্বোচ্চ দাম ছিলো।[১২৯]এটি ৭৭ ইউরোতে জুভেন্তাস থেকে জিনেদিন জিদান কে স্থানান্তর করার আগের রেকর্ডকে ভেঙ্গে দেয়।২০১৩ সালে আবার গ্যারেথ বেলকে তৎকালীন সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি €১০০,৭৫৯,৪১৮ দিয়ে কেনে।[১৩০][১৩১]আর ক্লাবটির সবচেয়ে দামে বিক্রি করা প্লেয়ার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।যাকে ১০ জুলাই ২০১৮ তারিখে জুভেন্টাসে £১০০ মিলিয়ন দিয়ে বিক্রি করা হয়।[১৩২]

গ্যারেথ বেল ক্লাবের সবচেয়ে দামী সাইনিং,২০১৩ সালে যাকে দলে নিতে খরচ হয় প্রায় €১০০ মিলিয়ন

দল হিসেবে অনুষ্ঠিত আসর গুলোর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ রেকর্ড ১৩ বার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ (ইউরোপের ক্লাব পর্যায়ের শীর্ষ দলগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা) শিরোপা জিতেছে।ক্লাবটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে সবচেয়ে বেশি সেমিফাইনাল(২৮টি) এছাড়া ও স্প্যানিশ লা লিগা জিতেছে রেকর্ডসংখ্যক ৩৩ বার।ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চ্যাম্পিয়নস লীগে সবচেয়ে বেশি গোলদাতা।একটানা সবচেয়ে বেশি লীগ(৫বার) এবং জেতা স্প্যানীয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ।[১৩৩]লা লিগায় ঘরের মাঠে একটানা সবচেয়ে বেশি ১২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটির অধিকারী ক্লাব এটি।[১৩৪]২০১৪-১৫ মৌসুমে একটানা ২২ টি জয় লাভ করে যা স্পেনে সর্বোচ্চ ও বৈশ্বিকভাবে চতুর্থ।[১৩৫]একই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে একটানা সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড করে।[১৩৬]সেপ্টেম্বর ২০১৭ তে একটানা সবচেয়ে বেশি ৭৩ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড করে এই ক্লাব ।[১৩৭]

সমর্থন[সম্পাদনা]

ঘরের মাঠের খেলাগুলোতে বার্নাব্যুয়ের ৬৫,০০০ আসন মৌসুমি টিকেট অধিকারীরা পায়।[১৩৮]যা মোট আসনের ৭০ ভাগেরও বেশি।এই অধিকার পাওয়ার জন্য প্রথমে সোশিও বা ক্লাব মেম্বার হতে হবে।ক্লাব মেম্বার ছাড়াও স্পেন ও পুরো পৃথিবীতে ক্লাবটির ১৮০০ এর অধিক পেনাস(ক্লাবের সাথে সংযুক্ত সমর্থক গোষ্ঠী)।ক্লাবটি বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি সমর্থিত দলের মধ্যে একটি।ঘরের মাঠে প্রতিম্যাচে গড়ে প্রায় ৭৪০০০+ দর্শক উপস্থিতি হয়,যা স্পেনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রিয়াল মাদ্রিদ ফেসবুকে ১০০ মিলিয়ন লাইক পাওয়া প্রথম ফুটবল ক্লাব। [১৩৯][১৪০]

"সেমিফাইনালে আমাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখেছি,মনে হচ্ছিল আমরা ঘরেই খেলছি।এটাই এই দলের মহত্ত্ব বর্ণনা করে।মাদ্রিদ ইশ্বরের দল এবং বিশ্বের সেরা ক্লাব।"

সার্জিও রামোস ২০১৪ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রিয়াল মাদ্রিদকে ইশ্বরের দল হিসেবে উল্লেখ করে।

ক্লাবের আল্ট্রাসার সমর্থক গোষ্ঠী আছে।যারা ডানপন্থী রাজনীতির সাথে সরাসরিভাবেযুক্ত। বিপক্ষ দলের প্লেয়ারদের জাতিগতভাবে লাঞ্চিত করার কারণে উয়েফা কর্তৃক কয়েকবার তদন্ত হয়।যার ফলে ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও মাদ্রিদ কতৃপক্ষ মাঠে প্রবেশে আল্ট্রাসারদের নিষেধাজ্ঞার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়।[১৪১]এর ফলে মাঠের প্রাণবন্ত অবস্থা কিছুটা মলিন হয়ে যায়।তারপর থেকে প্রায় সময় আল্ট্রাসাররা বার্নাব্যুয়ের বাইরে এর প্রতিবাদ করে থাকে।[১৪২]

দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা[সম্পাদনা]

এল ক্ল্যাসিকো[সম্পাদনা]

২০১১ তে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত একটি এল ক্ল্যাসিকো ম্যাচের দৃশ্য

একটি জাতীয় লীগে দুইটি সবচেয়ে শক্তিশালী দলের মধ্যে প্রচন্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারনত থাকেই। লা লিগায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে, যা এল ক্ল্যাসিকো নামে পরিচিত। জাতীয় প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দল দুইটি স্পেনের প্রতিদ্বন্দ্বি দুই রাজ্য কাতালুনিয়া এবং কাস্তিলের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই রাজ্যের মধ্যকার রাজনৈতিক এবং সংস্কৃতিক উত্তেজনাকেও প্রতিফলিত করে।

প্রিমো দে রিভেরা এবং ফ্রান্সিস্কো ফ্রাংকোর একনায়কতন্ত্রের সময় (১৯৩৯–১৯৭৫), স্পেনে সবধরণের আঞ্চলিক সংস্কৃতি দমিয়ে রাখা হয়েছিল। স্পেনীয় ভাষা ব্যতীত অন্য সকল ভাষা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ছিল।[১৪৩][১৪৪] কাতালান জনগনের স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছার প্রতীক বহন করার মাধ্যমে বার্সেলোনা কাতালানদের কাছে হয়ে ওঠে, ‘‘একটি ক্লাবের চেয়েও বেশি কিছু (Més que un club)’’। লেখক ম্যানুয়েল ভাজকুয়েজ মনতালবানের তথ্য অনুসারে, কাতালানদের পরিচয় প্রদর্শনের সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া। ফ্রাংকো বিরোধী গোপন কোন আন্দোলনের চেয়ে এটি ছিল কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি তাদেরকে তাদের মতপার্থক্য প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি করে দিত।[১৪৫]

খেলা শুরু হওয়ার আগে ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সি পরিহিত রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা[১৪৬]

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদকে দেখা যায়, সার্বভৌমত্ব কেন্দ্রীকরণ এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রনয়নের প্রতিমূর্তিরূপে।[১৪৭][১৪৮] যদিও স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের সময় রিয়াল মাদ্রিদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রাফায়েল স্যানচেজ গুয়েরার মত কিছু সদস্যকে ফ্রাংকো সমর্থকদের কারণে পালিয়ে যেতে হয়েছিলো।

১৯৫০ এর দশকে, আলফ্রেডো ডি স্তিফানোর ট্রান্সফার নিয়ে ওঠা বিতর্ক দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যিনি শেষপর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠেন।[১৪৯] ১৯৬০ এর দশকে, তাদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইউরোপীয় পর্যায়ে পৌছায়, যখন তারা ইউরোপীয় কাপের নক-আউট পর্বে দুইবার মুখোমুখি হয়।[১৫০]

২০০২ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের একটি ম্যাচকে স্পেনীয় প্রচারমাধ্যম শতাব্দীর সেরা ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করে।সেই ম্যাচে মাদ্রিদের জয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ দেখেছিলো।[১৫১]দুই দলের খেলায় প্রায় সময় অনেক বিদ্রুপকারী স্মরণীয় গোল উদযাপন করা হয়।[১৫২]যার মধ্যে ১৯৯৯ সালে রাউলের একটি উল্লেখযোগ্য।সেই ম্যাচে রাউল গোল করে মুখে আঙ্গুল দিয়ে প্রায় ১ লাখ বার্সেলোনা সমর্থককে চুপ করিয়ে দেয়।[১৫৩]

এল ডার্বি মাদ্রিলেনো[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত একটি মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা

ক্লাবের নিকটতম প্রতিবেশী হল এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, উভয় ফুটবল দল ও ভক্তদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যায় । ১৯০৩ সালে তিন বাস্ক শিক্ষার্থীদের দ্বারা আতলেতিকো প্রতিষ্ঠিত হলেও,১৯০৪ মাদ্রিদ এফসি-এর ভিন্নমতাবলম্বী সদস্যদেরা এতে যোগদান করে।এই দলটি স্প্যানিশ বিমান বাহিনীর ফুটবল দল (নাম পরিবর্তন করে এল আতলেতিকো অ্যাভিসিওনন করা হয়) ফুটবল দলের সাথে একত্রিত যাওয়ার পরে আরও উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং রিয়ালের ইউরোপীয় সাফল্যের আগে ১৯৪০-এর দশকে আতলেতিকো ফ্রাঙ্কোর শাসনের পছন্দের দল হিসেবে বিবেচিত হয়।[১৫৪][১৫৫]উপরন্তু,রিয়াল সমর্থকরা প্রাথমিকভাবে মাঝারি ও উচ্চতর শ্রেণি থেকে এসেছিল,আর আতলেতিকোর সমর্থকরা শ্রমিক শ্রেণী থেকে এসেছিলো।বর্তমানে যদিও এই পার্থক্যগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্পষ্ট।১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সাবেক মাঠ চেম্বারিনে তারা প্রথমবারের মতো একে অপরের সাথে মুখোমুখি হয়। এটি প্রথম অফিসিয়াল ডার্বি এবং রিয়াল ২-১ গোলে জিতেছিলো।

দ্যা ওল্ড ক্লাসিক[সম্পাদনা]

২০১০ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত দ্যা ওল্ড ক্লাসিক ম্যাচের দৃশ্য

রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাথলেতিক বিলবাও এর মধ্যে একটি ক্ষুদ্রতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান।যা এল ভিয়েজো ক্লাসিক নামে পরিচিত।[১৫৬]বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাথলেতিক বিলবাও প্রভাবশালী দল ছিলো।এই দুই দল ১৯০৩ সালের প্রথম কোপা দেল রে এর ফাইনাল খেলেছে।[১৫৭][১৫৮]১০ ডিসেম্বর ২০১১ সালে এল ক্লাসিকো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পিছনে ফেলার আগে,এটাই স্পেনে সবচেয়ে বেশি খেলা ম্যাচ ছিলো।[১৫৯]

অ্যাথলেটিক বিলবাও শুধুমাত্র স্থানীয় খেলোয়াড়দের ব্যবহার করার নীতিটি মেনে চলে।[১৬০] তারপরও তারা রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী,যারা দীর্ঘকাল ধরেই সেরা প্রতিভা অর্জনের জন্য বিশ্বকে পরিভ্রমণ করে। ১৯৮৪ সাল থেকে সিংহরা কোনও বড় ট্রফি সংগ্রহ করেনি এবং ২০০৫-০৬ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত দলগুলির মধ্যে ২৬ টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি জিতেছে।[১৬১][১৬২][১৫৬] তবে, তাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের কারণে এই ম্যাচগুলি অত্যন্ত জোরালোভাবে লড়াই হয়ে থাকে।এই ম্যাচগুলোতে বার্সেলোনা / কাতালোনিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কিছু সাদৃশ্য রয়েছে,যেহেতু অ্যাথলেটিক বাস্ক অঞ্চলের বৃহত্তম ক্লাব।[১৬৩]

ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা[সম্পাদনা]

২০০৬–০৭ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ররা বায়ার্ন মিউনিখ এর বিপক্ষে গোল উদযাপন করছে।

রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের সবচেয়ে সফল দুইটি ক্লাব।রিয়াল মাদ্রিদ ১৩ বার চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতেছে,অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ জিতেছে ৫ বার।যদিও এই দুই দল কখনো ফাইনালে একে অপরের সাথে খেল নি,তারপরও এটি চ্যাম্পিয়নস লীগের সবচেয়ে খেলে থাকা ম্যাচের মধ্যে অন্যতম।এই দুই দল ইউরোপীয় কাপ/চ্যাম্পিয়নস লীগে মুখোমুখি হয়েছে মোট ২৬ বার(১২ বার রিয়াল মাদ্রিদ জয়ী, ১১ বার বায়ার্ন মিউনিখ জয়ী ও বাকি ৩ বার ড্র হয়েছে)।[১৬৪] চ্যাম্পিয়নস লীগে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠে সবচেয়ে বড় হার বায়ার্ন মিউনিখের কাছেই।২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ২-৪ গোলে হারে।[১৬৫] রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা প্রায় বায়ার্নকে বেস্তুিয়া নেগ্রা (কালো দানব) বলে উল্লেখ করে থাকে।

আর্থিক অবস্থা ও মালিকানা[সম্পাদনা]

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রথম সভাপতিত্ব কালে(২০০০-২০০৬) রিয়াল মাদ্রিদ পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী পেশাদার ক্লাব হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।[১৬৬]২০০১ সালে ক্লাবটি অনুশীলন স্থানের কিছু পরিমাণ জায়গা সিটি অফ মাদ্রিদের কাছে পরিত্যাগ করে এবং বাকিটুকু চারটি কর্পোরেশনের কাছে বিক্রি করে দেয়।যার ফলে ক্লাবের ঋণ শোধ হয়ে যায় এবং জিনেদিন জিদান,লুইস ফিগো,ডেভিড বেকহাম,রোনালদোর মতো সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়দের কেনার মতো সুযোগ তৈরি হয়।

জনপ্রিয় সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

ইংরেজ পরিচালক ড্যানি ক্যানন দ্বারা পরিচালিত গোল নামের চলচিত্র সিরিজের ২য় কিস্তি গোল! ২: লিভিং দ্য ড্রিম...-এ (২০০৭) রিয়াল মাদ্রিদ প্রধান চরিত্রে উপস্থিত হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড় সান্তিয়াগো মুনিয়োজকে প্রদর্শন করা হয়েছে, কারণ তিনি প্রথমত রিয়াল মাদ্রিদ দ্বারা প্রশিক্ষিত হয়েছিলেন এবং ২০০৫–০৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে স্বাক্ষর করে। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের পর মুনিয়োজের জীবনে যেসকল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা জোর দিয়ে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। এই চলচ্চিত্রের নির্মাণ উয়েফার পূর্ণ সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়, যেখানে উয়েফা প্রকৃত খেলোয়াড়দের এই চলচ্চিত্রের বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের অনুমোদন দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের যেসকল খেলোয়াড় উক্ত চলচ্চিত্রে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা হলেন: ইকার ক্যাসিয়াস, জিনেদিন জিদান, ডেভিড বেকহ্যাম, রোনালদো, রোবের্তো কার্লোস, রাউল গোনসালেস, সার্জিও রামোস, রবিনিয়ো, মাইকেল ওয়েন, মিচেল সালগাদো, হুলিও বাপতিস্তা, স্টিভ ম্যাকম্যানাম্যান এবং ইবান এল্গুয়েরা। রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় ছাড়াও অন্য যেসকল খেলোয়াড় উক্ত চলচ্চিত্রে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা হলেন: রোনালদিনহো, থিয়েরি অঁরি, লিওনেল মেসি, স্যামুয়েল ইতো, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, পাবলো আইমার, ফ্রেড্রিক লুক্সুমবার্গ, সেস্‌ ফাব্রিগাস এবং সান্তিয়াগো কানিয়িসারেস। উক্ত চলচ্চিত্রে, মুনিয়োজের স্বাক্ষরের পর ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং আলফ্রেদো দি স্তিফানো দুইজন কল্পিত খেলোয়াড় হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন।[১৬৭]

রিয়াল, দ্য মুভি হলো ২০০৫ সালের একটি আংশিক বৈশিষ্ট্যমূলক, আংশিক তথ্যমূলক চলচ্চিত্র যেটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বিশ্বব্যাপী দর্শকের আবেগ প্রদর্শন করেছে। এই চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং পরিচালনা করেছে স্পেনীয় পরিচালক বোরহা মানসো। এই চলচ্চিত্রে বিশ্ব জুড়ে ৫টি ভক্তের খন্ডগল্প এবং ক্লাবের জন্য তাদের ভালোবাসা উপস্থাপন করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রে কাল্পনিক অংশের সাথে রিয়াল মাদ্রিদ দলের সিউদাদ রিয়াল মাদ্রিদে অনুশীলন, খেলা এবং সাক্ষাৎকারের বাস্তব ভিডিও-ও পরিবেশন করা হয়েছে। যদিও এই চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণ দলকে উল্লেখ করেছে, কিন্তু ডেভিড বেকহ্যাম, জিনেদিন জিদান, রাউল গোনসালেস, লুইশ ফিগো, রোনালদো, ইকার ক্যাসিয়াস এবং রোবের্তো কার্লোসের মতো গ্যালাক্তিকোদের ওপরই অধিক গুরুত্বারোপ করেছে। এই চলচ্চিত্রটি মূলত স্পেনীয় ভাষায় নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে।

২০০২ সালে, রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের ওপর ফিল বল রচিত ওয়াইট স্টর্ম: ১০০ ইয়ার্স অফ রিয়াল মাদ্রিদ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটি সর্বপ্রথম ইংরেজি ভাষায় রচিত হলেও পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। এই বইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম শতবার্ষিকতে ঘটিত সবচেয়ে সফল মুহূর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালে শেষার্ধে, রিয়াল মাদ্রিদ লেজেন্ডস শীর্ষক একটি ডিজিটাল সঙ্গীত অ্যালবাম প্রকাশ করে এবং "ইমনো দেল রিয়াল মাদ্রিদ" নামে ক্লাবের সঙ্গীতের একটি আধুনিক সংস্করণ প্রকাশ করে, যেটি অ্যালবামটির প্রথম গান হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল।[১৬৮]

রিয়াল মাদ্রিদ টিভি[সম্পাদনা]

রিয়াল মাদ্রিদ টিভি হচ্ছে একটি এনক্রিপ্ট করা ডিজিটাল টেলিভিশন চ্যানেল, যেটি রিয়াল মাদ্রিদ এবং ক্লাবের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই চ্যানেলটি স্পেনীয় এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় সহজলভ্য রয়েছে। এই চ্যানেলটির সদর দপ্তর রিয়াল মাদ্রিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভালদেবেবাসের (মাদ্রিদ) সিউদাদ রিয়াল মাদ্রিদে অবস্থিত।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবের অর্জনসমূহ
ধরন প্রতিযোগিতা শিরোপা মৌসুম(সমূহ)
ঘরোয়া লা লিগা[১৬৯] ৩৩ ১৯৩১–৩২, ১৯৩২–৩৩, ১৯৫৩–৫৪, ১৯৫৪–৫৫, ১৯৫৬–৫৭, ১৯৫৭–৫৮, ১৯৬০–৬১, ১৯৬১–৬২, ১৯৬২–৬৩, ১৯৬৩–৬৪, ১৯৬৪–৬৫, ১৯৬৬–৬৭, ১৯৬৭–৬৮, ১৯৬৮–৬৯, ১৯৭১–৭২, ১৯৭৪–৭৫, ১৯৭৫–৭৬, ১৯৭৭–৭৮, ১৯৭৮–৭৯, ১৯৭৯–৮০, ১৯৮৫–৮৬, ১৯৮৬–৮৭, ১৯৮৭–৮৮, ১৯৮৮–৮৯, ১৯৮৯–৯০, ১৯৯৪–৯৫, ১৯৯৬–৯৭, ২০০০–০১, ২০০২–০৩, ২০০৬–০৭, ২০০৭–০৮, ২০১১–১২, ২০১৬–১৭
কোপা দেল রে[১৬৯][১৭০] ১৯ ১৯০৫, ১৯০৬, ১৯০৭, ১৯০৮, ১৯১৭, ১৯৩৪, ১৯৩৬, ১৯৪৬, ১৯৪৭, ১৯৬১–৬২, ১৯৬৯–৭০, ১৯৭৩–৭৪, ১৯৭৪–৭৫, ১৯৭৯–৮০, ১৯৮১–৮২, ১৯৮৮–৮৯, ১৯৯২–৯৩, ২০১০–১১, ২০১৩–১৪
স্পেনীয় সুপার কাপ[১৬৯][১৭১] ১০ ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯৩, ১৯৯৭, ২০০১, ২০০৩, ২০০৮, ২০১২, ২০১৭
কোপা এভা দুয়ার্তে ১৯৪৭
কোপা দে লা লিগা[১৬৯] ১৯৮৫
মহাদেশীয় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ[১৬৯] ১৩ ১৯৫৫–৫৬, ১৯৫৬–৫৭, ১৯৫৭–৫৮, ১৯৫৮–৫৯, ১৯৫৯–৬০, ১৯৬৫–৬৬, ১৯৯৭–৯৮, ১৯৯৯–২০০০, ২০০১–০২, ২০১৩–১৪, ২০১৫–১৬, ২০১৬–১৭, ২০১৭–১৮
উয়েফা ইউরোপা লীগ[১৬৯][১৭২] ১৯৮৪–৮৫, ১৯৮৫–৮৬
উয়েফা সুপার কাপ[১৬৯] ২০০২, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭
বিশ্বব্যাপী আন্তর্মহাদেশীয় কাপ[১৬৯][১৭৩] ১৯৬০, ১৯৯৮, ২০০২
ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ[১৬৯] ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭
  •       সর্বাধিক
  • যুগ্ম সর্বাধিক

খেলোয়াড়[সম্পাদনা]

স্পেনীয় দলে ইইউ-এর নাগরিকত্ব ছাড়া সর্বোচ্চ ৩টি খেলোয়াড় দলে রাখার নিয়ম রয়েছে। নিম্নে উল্লিখিত দলের তালিকায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের প্রধান জাতীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে; এই দলে থাকা বেশ কয়েকজন অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী, যার মধ্যে একটি ইউরোপীয় নাগরিকত্ব বিদ্যমান। সেই সাথে, আফ্রিকার এসিপি প্রদেশসমূহ, ক্যারিবীয় বাসিন্দা যারা কুতুনু চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, তারা কোপ্লাক নিয়ম অনুসারে অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য হয় না।

বর্তমান স্কোয়াড[সম্পাদনা]

৩১ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[১৭৪]
রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক সার্জিও রামোস

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
কোস্টা রিকা গো কেইলর নাভাস
স্পেন দানি কারভাহাল
স্পেন হেসুস ভায়েহো
স্পেন সার্জিও রামোস (অধিনায়ক)[১৭৪]
ফ্রান্স রাফায়েল ভারান (৪র্থ অধিনায়ক)[১৭৪]
স্পেন নাচো
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র মারিয়ানো
জার্মানি টনি ক্রুস
ফ্রান্স করিম বেনজেমা (৩য় অধিনায়ক)[১৭৪]
১০ ক্রোয়েশিয়া লুকা মদ্রিচ
১১ ওয়েল্‌স্‌ গ্যারেথ বেল
১২ ব্রাজিল মার্সেলো (সহ-অধিনায়ক)[১৭৪]
১৩ স্পেন গো কিকো কাসিয়া
নং অবস্থান খেলোয়াড়
১৪ ব্রাজিল কাজিমিরো
১৫ উরুগুয়ে ফেদেরিকো বালবের্দে
১৭ স্পেন লুকাস ভাসকেজ
১৮ স্পেন মার্কোজ ইয়োরেন্তে
১৯ স্পেন আলভারো অদ্রিওজোলা
২০ স্পেন মার্কো অ্যাসেন্সিও
২২ স্পেন ইস্কো
২৩ স্পেন সার্হিও রেগুইলন
২৪ স্পেন দানি সেবায়োস
২৫ বেলজিয়াম গো থিবো কোর্তোয়া
২৮ ব্রাজিল ভিনিসিউস জুনিওর
৩০ ফ্রান্স গো লুকা জিদান

অন্য দলে ধারে[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
ইউক্রেন গো আন্দ্রি লুনিন (লেগানেসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
ব্রাজিল আবনের (করিচিবায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত)
মরক্কো আকরাফ হাকিমি (বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
স্পেন আলভারো তেহেরো (আলবাসেতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র লুইসমি কেজাদা (কর্দোবায় ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
ফ্রান্স থিও হার্নান্দেজ (রিয়াল সোসিয়েদাদে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
স্পেন আলেইক্স ফেবাস (আলবাসেতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
স্পেন এচু (রায়ো মাহাদায়োন্দায় ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
কলম্বিয়া হামেস রদ্রিগেজ (বায়ার্ন মিউনিখে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
ব্রাজিল লুকাস সিলভা (ক্রুজেইরোয় ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
নরওয়ে মার্টিন ওদেগার (ভিতেসে-এ ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
ক্রোয়েশিয়া মাতেও কোভাচিচ (চেলসিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
স্পেন অস্কার রদ্রিগেজ (লেগানেসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
চীন লিন লিয়াংমিং (ইউডি আলমেরিয়া বি-এ ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
নেদারল্যান্ডস মিঙ্ক পিটার্স (লেইদায় ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
স্পেন রাউল দে তোমাস (ভায়েকানোয় ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
প্যারাগুয়ে সার্জিও দিয়াজ (করিন্থিয়ান্সে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত)
- স্পেন বোরহা মায়োরাল (লেভান্তে তে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)

কর্মিবৃন্দ[সম্পাদনা]

বর্তমান প্রযুক্তিগত কর্মী[সম্পাদনা]

সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমান প্রধান কোচ সান্তিয়াগো সোলারি
অবস্থান কর্মী
প্রধান কোচ সান্তিয়াগো সোলারি
সহকারী কোচ আলবার্ত সেলাদেস
পাবলো সানস
অস্কার কারো
গোলরক্ষক কোচ হুয়ান কানালেস
ফিটনেস কোচ হোসে কোন্দে
আন্তোনিও পিন্তুস
ম্যাচ ভেষজবিজ্ঞানী হাভিয়ের মায়ো
  • সর্বশেষ হালনাগাদ: ১২ নভেম্বর ২০১৮
  • উৎস:[১৭৫]

ম্যানেজমেন্ট[সম্পাদনা]

স্প্যানিশ ব্যবসায়ী ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ হলেন রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট
অবস্থান কর্মী
সভাপতি স্পেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ
১ম সহকারী সভাপতি স্পেন ফার্নান্দো ফার্নান্দেজ তাপিয়াস
২য় সহকারী সভাপতি স্পেন এডুয়ার্ডো ফার্নান্দেজ ডি ব্লাস
বোর্ড সচিব স্পেন এনরিক সানচেজ গঞ্জালেজ
মহাপরিচালক স্পেন হোসে আনজেল সানচেজ
সভাপতির কার্যালয়ের পরিচালক স্পেন ম্যানুয়েল রেদন্দো
সামাজিক অঞ্চলের পরিচালক স্পেন হোসে লুইস সানচেজ

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

নোট[সম্পাদনা]

  1. ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্মহাদেশীয় কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ বিজয়ী ক্লাবকে "বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।[১৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দে ফুতবল" (স্পেনীয় ভাষায়)। লিগা দে ফুতবল প্রোফেসিওনাল। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ 
  2. "Los vikingos arrasan Europa"। Ligadecampeones.com। ২৩ নভেম্বর ১৯৬০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  3. Luís Miguel González। "Pre-history and first official title (1900–1910)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  4. "El Bernabéu estrena 900 localidades más"। as.com। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১১ 
  5. ডারমট করিগান (১২ নভেম্বর ২০১৮)। "Real Madrid to hire Santiago Solari as permanent coach"ইএসপিএন (ইংরেজি ভাষায়)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৮ 
  6. মিগেল আনহেল লারা (১২ নভেম্বর ২০১৮)। "Solari is officially the new Real Madrid coach"মার্কা (ইংরেজি ভাষায়)। মাদ্রিদ। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৮ 
  7. জেমি অ্যান্ডারসন (১২ নভেম্বর ২০১৮)। "Santiago Solari announcement"ডেইলি এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। লন্ডন। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৮ 
  8. "Soccer in Madrid"gomadrid.comগো মাদ্রিদ। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৮ 
  9. "Real Madrid reach century"BBC SportBritish Broadcasting Corporation। ৬ মার্চ ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  10. "On this day, Real Madrid were named Club of the Century"realmadrid.com। ১১ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭ 
  11. "Deloitte Football Money League 2018"। Deloitte। ২৩ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ 
  12. "The World's Most Valuable Soccer Teams"। Forbes। 
  13. Badenhausen, Kurt (১৫ জুলাই ২০১৩)। "Real Madrid Tops The World's Most Valuable Sports Teams"। Forbes। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  14. Dongfeng Liu, Girish Ramchandani (2012). "The Global Economics of Sport". p. 65. Routledge,
  15. "Real Madrid 1960 – the greatest club side of all time"। BBC। ২৩ মে ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৫ 
  16. "The great European Cup teams: Real Madrid 1955–60"The Guardian। ২২ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৫ 
  17. "Real Madrid 1955–1960"। Football's Greatest। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৫ 
  18. "World Football: The 11 Most Successful European Clubs in History"। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১২ 
  19. Press Association Sport (অক্টোবর ২০১৭)। "Man United retrospectively declared 1999 world club champions by FIFA"ESPN FC। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৭ 
  20. "The FIFA Club of the Century" (PDF)FIFA। ১ ডিসেম্বর ২০০০। Archived from the original on ২৩ এপ্রিল ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭ 
  21. "FIFA Centennial Orders of Merit"FIFA। ২০ মে ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭ 
  22. "UEFA Team Ranking 2016"। xs4all.nl। ১ ডিসেম্বর ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭ 
  23. "UEFA rankings for club competitions"UEFA। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭ 
  24. Shorter Oxford English Dictionary। Oxford, UK: Oxford University Press। ২০০৭। আইএসবিএন 978-0199206872 
  25. "In what century was Real Madrid founded?" (Spanish ভাষায়)। CIHEFE। ১৬ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৭ 
  26. Rowley, Christopher (২০১৫)। The Shared Origins of Football, Rugby, and Soccer.। Rowman & Littlefield। আইএসবিএন 978-1-4422-4618-8 
  27. Ball, Phil p. 117.
  28. "History — Chapter 1 – From the Estrada Lot to the nice, little O'Donnel pitch"। Realmadrid.com। ৬ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০০৮ 
  29. Luís Miguel González। "Bernabéu's debut to the title of Real (1911–1920)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  30. Luís Miguel González (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "A spectacular leap towards the future (1921–1930)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  31. Luís Miguel González। "The first two-time champion of the League (1931–1940)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০০৮ 
  32. "Real Madrid v Barcelona: six of the best 'El Clásicos'"The Daily Telegraph। London। ৯ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ 
  33. Aguilar, Paco (১০ ডিসেম্বর ১৯৯৮)। "Barca – Much more than just a Club"। FIFA। ২৯ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ 
  34. Ball, Phil (১২ ডিসেম্বর ২০০৩)। Morbo: the Story of Spanish Football। WSC Books Ltd। আইএসবিএন 978-0-9540134-6-2 
  35. Spaaij, Ramn (২০০৬)। Understanding football hooliganism: a comparison of six Western European football clubs। Amsterdam: Amsterdam University Press। আইএসবিএন 978-90-5629-445-8। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ 
  36. "De Franco, el Madrid, el Barca y otras mentiras de TV3". Diario Gol. Retrieved 25 November 2014
  37. Luís Miguel González। "Bernabéu begins his office as President building the new Chamartín Stadium (1941–1950)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  38. Luís Miguel González। "An exceptional decade (1951–1960)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  39. Matthew Spiro (১২ মে ২০০৬)। "Hats off to Hanot"। uefa.com। ২০ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০০৮ 
  40. "Regulations of the UEFA Champions League" (PDF)। UEFA। ১২ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ ; Page 4, §2.01 "Cup" & Page 26, §16.10 "Title-holder logo"
  41. Luís Miguel González। "The generational reshuffle was successful (1961–1970)"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  42. "Real Madrid History: 1961–1970". RealMadrid.com. Retrieved 1 October 2015
  43. "Trophy Room"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  44. "European Competitions 1971"। RSSS। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  45. "Santiago Bernabéu"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০০৮ 
  46. "The "Quinta del Buitre" era begins"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০০৮ 
  47. "The Real Madrid of La Quinta"Marca। ২২ মে ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৭ 
  48. "1991–2000 – From Raúl González to the turn of the new millennium"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  49. Marcotti, Gabriele (২০০৮)। Capello: The Man Behind England's World Cup Dream। Bantam Books। পৃষ্ঠা 291। আইএসবিএন 978-0-553-82566-4 
  50. "UEFA Champions League 1999/00 - History"। UEFA। ২৪ মে ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৭ 
  51. "The unluckiest manager ever sacked?"BBC Sport। ২৪ জুন ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৭ 
  52. "Florentino Pérez era" (Spanish ভাষায়)। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  53. "Figo's the Real deal"। BBC Sport। ২৪ জুলাই ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  54. "Figo's the Real deal"। BBC Sport। ২৪ জুলাই ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  55. "2001 – present — Real Madrid surpasses the century mark"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  56. "2001 – present — Real Madrid surpasses the century mark"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  57. "Real ditch Del Bosque"BBC Sport। ২৪ জুন ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৪ 
  58. "Chelsea sign Makelele"BBC Sport। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৪ 
  59. Lowe, Sid (2013). "Fear and Loathing in La Liga: The True Story of Barcelona and Real Madrid". p. 356-357. Random House,
  60. "Alberto Moreno angling for Real Madrid move". Marca. Retrieved 23 August 2014
  61. "Real Madrid 0–3 Barcelona"BBC Sport। ১৯ নভেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৪ 
  62. "Real Madrid sack coach Luxemburgo"BBC Sport। ৪ ডিসেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৪ 
  63. "Real Madrid concede six in defeat"BBC Sport। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৪ 
  64. "Perez resigns as Madrid president"BBC Sport। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  65. "Beckham's farewell cut short but he still departs a winner"। theguardian.com। ১৮ জুন ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০০৮ 
  66. "Beckham bows out with La Liga title". BBC. Retrieved 16 August 2014
  67. "Perez to return as Real president"BBC Sport। ১ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০০৯ 
  68. Wilson, Jeremy (৭ জুন ২০০৯)। "Real Madrid to confirm world record £56m signing of Kaka"The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  69. "Ronaldo completes £80m Real move". BBC. Retrieved 16 August 2014
  70. Tynan, Gordon (২৮ মে ২০১০)। "Mourinho to be unveiled at Madrid on Monday after £7m compensation deal"The Independent। London। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১০ 
  71. "Real Madrid unveil José Mourinho as their new coach"BBC Sport। ৩১ মে ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১০ 
  72. "Barcelona 1 – 1 Real Madrid (agg 3 – 1)". BBC. Retrieved 3 October 2014
  73. 2011–12 La Liga
  74. "Cristiano Ronaldo is fastest La Liga player to 100 goals"BBC Sport। ২৪ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০১২ 
  75. "Jose Mourinho, Real Madrid earn vindication after La Liga conquest – La Liga News | FOX Sports on MSN"। Msn.foxsports.com। ১৩ মে ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০১২ 
  76. "Jose Mourinho: Real Madrid boss to leave next month"। BBC। ২০ মে ২০১৩। 
  77. "Jose Mourinho: Real Madrid season worst of my career"BBC। ১৭ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৩ 
  78. "Tactical lineups" (PDF)। UEFA.com (Union of European Football Associations)। ২৪ মে ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৪ 
  79. "Carlo Ancelotti named Real Madrid boss, Laurent Blanc joins PSG"BBC Sport। ২৫ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  80. "Gareth Bale transfer"Daily Mirror। London। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  81. Lowe, Sid (১৬ এপ্রিল ২০১৪)। "Real Madrid's Gareth Bale gallops past Barcelona to land Copa del Rey"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৪ 
  82. "Bayern Munich 0–4 Real Madrid"BBC Sport। ২৯ এপ্রিল ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৪ 
  83. "Real Madrid make history with La Decima"। euronews.com। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১৪ 
  84. "Real Madrid to unleash new signings Rodriguez and Kroos in Super Cup"। First Post। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১৪ 
  85. "Real Madrid ties with Barcelona in trophies"Marca। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১৪ 
  86. "Cristiano Ronaldo hits out at loss of Angel di Maria and Xabi Alonso as Real Madrid star claims he would have 'done things differently' during summer transfer window"DailyMail। London। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  87. "Ancelotti: Madrid must start again from scratch"Yahoo! Sports। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  88. "Real Madrid stretch winning run as Ronaldo and Gareth Bale score". BBC. Retrieved 20 December 2014
  89. "Valencia 2 – 1 Real Madrid". BBC. Retrieved 4 January 2015
  90. "Florentino Pérez holds a press conference"Realmadrid.com। ২৫ মে ২০১৫। 
  91. "Rafa Benitez named new coach of Real Madrid"Sky Sports। ৩ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৫ .
  92. "Real Madrid disqualified from Copa del Rey over fielding Denis Cheryshev despite being suspended"Independent। ৪ ডিসেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৭ 
  93. "Zidane: a club legend in the Real Madrid dugout"। realmadrid.com। ৪ জানুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৬ 
  94. "Zidane replaces Benítez at Real Madrid"UEFA.com। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৬ 
  95. "2015–16 La Liga Table"Sky Sports। ৮ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৭ 
  96. "Spot-on Real Madrid defeat Atlético in final again"UEFA.com। ২৮ মে ২০১৬। 
  97. "Carvajal wonder goal wins Super Cup for Madrid"UEFA.com। Union of European Football Associations (UEFA)। ৯ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৭ 
  98. "Real Madrid 3–2 Deportivo de La Coruña"bbc.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  99. "Madrid see off spirited Kashima in electric extra time final"। FIFA। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  100. "Real Madrid break Barcelona's Spanish record as unbeaten run reaches 40"। ESPN। ১২ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৭ 
  101. West, Aaron (১৫ জানুয়ারি ২০১৭)। "Sevilla just snapped Real Madrid's unbeaten streak one match after they set the record"। Fox Sports। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৭ 
  102. "Real Madrid won their first La Liga title since 2012 thanks to a final-day victory at Malaga."। BBC.com। ২১ মে ২০১৭। 
  103. Daniel Taylor (৩ জুন ২০১৭)। "Real Madrid win Champions League as Cristiano Ronaldo double defeats Juve"। theguardian.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৭ 
  104. Andrew Haslam (৩ জুন ২০১৭)। "Majestic Real Madrid win Champions League in Cardiff"UEFA.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৭ 
  105. Das, Andrew; Smith, Rory (৩ জুন ২০১৭)। "Champions League Final: Real Madrid Confirms Its Spot as World's Best"। nytimes.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৭ 
  106. Leal, Antonio M. (৮ জুন ২০১৭)। "The best season in history"Realmadrid.com। Madrid, Spain: Real Madrid Club de Fútbol। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৭Real Madrid won four titles for the first time in their 115-year history. 
  107. "Real Madrid v Manchester United: Super Cup – as it happened"TheGuardian.comGuardian Media Group। ৮ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৭ 
  108. "Real Madrid 2 Barcelona 0 (5-1 on aggregate): Woeful Barca dismissed as Zinedine Zidane's unstoppable side win Super Cup"Telegraph। ১৭ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৭ 
  109. "Zinedine Zidane Announces His Resignation From Real Madrid"Esquire (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৫-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৪ 
  110. "Zinedine Zidane: Real Madrid boss stands down five days after Champions League win"BBC Sport (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৫-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৪ 
  111. "Julen Lopetegui: Real Madrid name Spain manager as new head coach"BBC Sport (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৬-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৪ 
  112. Lowe, Sid (২০১৮-০৬-১৩)। "Julen Lopetegui sacked by Spain as Fernando Hierro takes over"the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৪ 
  113. "World Cup 2018: Spain sack manager Julen Lopetegui two days before first match"BBC Sport (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৬-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৪ 
  114. "Cristiano Ronaldo: Juventus sign Real Madrid forward for £99.2m"BBC Sport (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৭-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-১০ 
  115. "Solari se sentará en el banquillo del Real Madrid tras la destitución de Lopetegui"ABC (স্পেনীয় ভাষায়)। Vocento। ২৯ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৮ 
  116. "Escudo Real Madrid" (Spanish ভাষায়)। santiagobernabeu.com। ১৯ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০০৮ 
  117. "Presidents — Pedro Parages"। Realmadrid.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০০৮ 
  118. http://www.realmadrid.com/en/about-real-madrid/history/football/1941-1950-beginning-of-president-santiago-bernabeu
  119. "Estadio Santiago Bernabéu"। stadiumguide.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  120. http://soccernet.espn.go.com/stats/attendance/_/league/ger.1/year/2010/german-bundesliga?cc=5901
  121. http://soccernet.espn.go.com/stats/attendance/_/league/ESP.1/year/2010/spanish-primera-division?cc=5901
  122. http://soccernet.espn.go.com/stats/attendance/_/league/eng.1/year/2010/barclays-premier-league?cc=5901
  123. http://www.uefa.com/uefa/aboutuefa/organisation/executivecommittee/news/newsid=676743.html
  124. https://en.m.wikipedia.org/wiki/Real_Madrid_C.F.#cite_note-130
  125. https://en.m.wikipedia.org/wiki/Real_Madrid_C.F.#cite_note-131
  126. https://en.m.wikipedia.org/wiki/Real_Madrid_C.F.#cite_note-135
  127. http://www.skysports.com/football/news/11835/10012556/ronaldos-501-goals-the-numbers-behind-his-amazing-scoring-record
  128. http://edition.cnn.com/2003/SPORT/football/12/03/spain.real/
  129. http://news.bbc.co.uk/sport2/hi/football/8085391.stm
  130. https://www.mirror.co.uk/all-about/gareth-bale-transfer
  131. https://www.telegraph.co.uk/sport/football/players/gareth-bale/12111960/Revealed-How-Real-Madrid-claimed-Gareth-Bale-transfer-was-not-a-world-record-to-keep-Cristiano-Ronaldo-happy.html
  132. http://www.juventus.com/en/news/news/2018/cristiano-ronaldo-signs-for-juventus.php
  133. http://www.lfp.es/liga-bbva/real-madrid
  134. http://www.rsssf.com/miscellaneous/unbeaten.html#home
  135. https://sports.yahoo.com/news/real-madrid-win-club-world-cup-212643137--sow.html
  136. http://www.goal.com/en-ca/news/4199/uefa-champions-league/2015/02/18/9056442/real-madrid-equals-bayerns-champions-league-win-record
  137. http://www.marca.com/en/football/real-madrid/2017/09/17/59becb21268e3e55348b4592.html
  138. https://www.bbc.co.uk/sport/football/29697426
  139. http://www.prnewswire.com/news-releases/real-madrid-cf-reaches-the-100-million-likes-mark-on-facebook-300433058.html
  140. http://www.realmadrid.com/en/news/2017/04/real-madrid-eclipse-100-million-likes-on-facebook
  141. https://www.theguardian.com/world/2013/dec/09/real-madrid-ultras-sur-fans
  142. http://www.football-espana.net/39258/ultras-sur-protest-outside-bernabeu
  143. Kleiner-Liebau, Désirée. p. 70.
  144. Phil Ball (২১ এপ্রিল ২০০২)। "The ancient rivalry of Barcelona and Real Madrid"। The Guardian (London)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ 
  145. Spaaij, Ramón. p. 251.
  146. Fitzpatrick, Richard (২০১২)। El Clasico: Barcelona v Real Madrid: Football's Greatest Rivalry। Bloomsbury। পৃষ্ঠা 146। 
  147. Abend, Lisa (২০ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Barcelona vs. Real Madrid: More Than a Game"Time। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ 
  148. Lowe, Sid (২৬ মার্চ ২০০১)। "Morbo: The Story of Spanish Football by Phil Ball (London: WSC Books, 2001)"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়রি ২০১৩  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  149. Burns, Jimmy. pp. 31–34.
  150. García, Javier (৩১ জানুয়ারি ২০০০)। "FC Barcelona vs Real Madrid CF since 1902"। Rec.Sport.Soccer Statistics Foundation। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ 
  151. http://news.bbc.co.uk/sport2/hi/football/7773773.stm
  152. http://www.marca.com/en/football/barcelona/2017/04/24/58fe5ed8ca47413f548b461c.html
  153. http://www.egypttoday.com/Article/8/39224/When-Raul-ended-Madrid%E2%80%99s-humiliation-silenced-Nou-Camp
  154. Ballout, Richard (৭ জানুয়ারি ২০১৫)। "Why everything you know about the Madrid derby might be wrong"FourFourTwo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  155. FITZPATRICK, Richard (৭ অক্টোবর ২০১২)। "Franco, Real Madrid and Spanish football's eternal power struggle"The Scotsman। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  156. "El viejo Clásico español, Athletic–Madrid, se despide de San Mamés" [The 'old classic' of Spain, Athletic–Madrid, says goodbye to San Mamés] (স্পেনীয় ভাষায়)। আরটিভিই। ১৪ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  157. Athletic-Real Madrid Final 1903 Cup
  158. "Los Athletic-Real Madrid están a punto de cumplir 97 años" [Athletic v Real Madrid is reaching the point of 97 years]। Diario AS (Spanish ভাষায়)। ১৮ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  159. https://as.com/futbol/2011/12/10/mas_futbol/1323502015_850215.html
  160. Pete Jenson (২৬ আগস্ট ২০১৪)। "Pete Jenson: Athletic Bilbao's locals-only transfer policy shows success does not need to be bought"। The Independent। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  161. "Past seasons (filter: versus Real Madrid, League Championship)"। Athletic Bilbao। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  162. "Real Madrid matches (filter: versus Athletic Club)"Bdfutbol.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  163. "Real Madrid repelled as Gorka Iraizoz emulates the Squid"The Guardian। ১৮ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  164. http://www.worldfootball.net/teams/real-madrid/bayern-muenchen/11/
  165. https://web.archive.org/web/20120428030856/http://www.sportal.de/sportal/generated/article/fussball/2012/04/25/22383100000.html
  166. http://news.bbc.co.uk/sport2/hi/football/europe/4757112.stm
  167. "গোল! ২: লিভিং দ্য ড্রিম... (২০০৭)"ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  168. "রিয়াল মাদ্রিদ "লেজেন্ডস" শীর্ষক সঙ্গীত অ্যালবাম প্রকাশ করেছে"রিয়াল মাদ্রিদ। ২০১১। ৫ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  169. "ফুটবল অর্জনসমূহ"রিয়ালমাদ্রিদ.কমমাদ্রিদ, স্পেন: রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দে ফুটবল। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭ 
  170. "কোপা দেল রে – ইতিহাস"মার্কা.কম (স্পেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭ 
  171. গোসে কার্নিসেরো; রাউল তোরে; কার্লোস লোজানো ফেরার (২৫ আগস্ট ২০১৬)। "স্পেন – সুপার কাপ ফাইনালের তালিকা"। রেক.স্পোর্ট.সকার স্ট্যাটিসটিকস ফাউন্ডেশন (আরএসএসএসএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭ 
  172. "মেলা কাপ থেকে উয়েফা কাপ হয়ে উয়েফা ইউরোপা লীগ"উয়েফা.কমইউনিয়ন অব ইউরোপীয়ান ফুটবল এসোসিয়েশন (উয়েফা)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৭উয়েফা ইউরোপা লীগ উয়েফা কাপ হতে প্রসূত হয়েছে, যেটি সুইজারল্যান্ডের আর্নস্ট থমেন ইতালির ওত্তারিনো বারাসি এবং ইংল্যান্ডের স্যার স্ট্যানলি রুসের সাথে ধারণা করেছিলেন। 
  173. লরিস মাগরানি; কারেল স্টকারমান্স (৩০ এপ্রিল ২০০৫)। "আন্তর্মহাদেশীয় ক্লাব কাপ"। রেক.স্পোর্ট.সকার স্ট্যাটিসটিকস ফাউন্ডেশন (আরএসএসএসএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১০ 
  174. "রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় টেমপ্লেট" (স্পেনীয় ভাষায়)। রিয়াল মাদ্রিদ। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১৭ 
  175. "রিয়াল মাদ্রিদ স্কোয়াড"রিয়াল মাদ্রিদ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৭ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • তামাস দেনেস এবং জলতান রকি (২০০২)। রিয়াল মাদ্রিদ। এরিনা ২০০০। আইএসবিএন 963-86167-5-X 
  • ফিল বল (২০০৩)। মরবো: দ্য স্টোরি অফ স্প্যানিশ ফুটবল (নতুন সংস্করণ)। ডাব্লিউএসসি বুকস লিমিটেড। আইএসবিএন 0-9540134-6-8 
  • ফিল বল (২০০৩)। ওয়াইট স্টোর্ম: দ্য স্টোরি অফ রিয়াল মাদ্রিদ। মেনস্ট্রিম। আইএসবিএন 1-84018-763-8 
  • স্টিভ ম্যাকমানামান এবং সারাজ অ্যাডওয়ার্থি (২০০৩)। এল মাক্কা: ফোর ইয়ার্স উইথ রিয়াল মাদ্রিদ। সিমন অ্যান্ড স্কুস্টার। আইএসবিএন 0-7434-8920-9 
  • লুইস মিগেল গনজালেজ, লুইস গনজালেজ লোপেজ এবং ফুন্দাসিওন রিয়াল মাদ্রিদ (২০০২)। রিয়াল মাদ্রিদ: সিয়েন আনিয়োস দে লেয়েন্দা, ১৯০২–২০০২। এভারেস্ট। আইএসবিএন 84-241-9215-X 
  • স্টিভেন জি. ম্যান্ডিস (২০১৬)। দ্য রিয়াল মাদ্রিদ ওয়ে: হাউ ভাল্যুস ক্রিয়েটেড দ্য মোস্ট সাকসেসফুল স্পোর্টস টিম অন দ্য প্ল্যানেটবেনবেলা বুকসআইএসবিএন 978-1942952541 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটসমূহ