ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ
Trofeu SPFC - Mundial2005 01.jpg
২০০৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি; একই ধরণের ট্রফি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদেরকেও প্রদান করা হয়।
সংস্থাপিত ২০০০
অঞ্চল আন্তর্জাতিক (ফিফা)
দলের সংখ্যা ৭ (৬ কনফেডারেশন থেকে)
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন বার্সেলোনা (৩য় শিরোপা)
সর্বাধিক সফল দল(সমূহ) স্পেন বার্সেলোনা
(তিনবার)
টেলিভিশন সম্প্রচার মাধ্যম সম্প্রচারস্বত্ত্বের তালিকা
ওয়েবসাইট ক্লাব ফুটবল ক্লাব
২০১৬ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ (ইংরেজি: FIFA Club World Cup) বিশ্বের ছয়টি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা থেকে শিরোপাধারী ক্লাবগুলোর ফুটবল প্রতিযোগিতাবিশেষ। জানুয়ারি, ২০০০ সালে প্রথম ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দুই মহাদেশ নিয়ে ১৯৬০ সালে বার্ষিকাকারে প্রবর্তিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের আদলে এ প্রতিযোগিতার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। নতুন এ প্রতিযোগিতা প্রবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপাধারী দলগুলো বিশ্ব ক্লাব চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা পেয়েছে। ২০০৫ সালে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং ২০০৬ সাল থেকে এটি বর্তমান নামে অদ্যাবধি প্রচলিত রয়েছে।

২০১৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা পেয়েছে বার্সেলোনা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০০০ সালে ফিফা ক্লাব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮টি দল অংশগ্রহণ করে যাতে ৬ মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন দল, ১৯৯৮ সালের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক দেশের চ্যাম্পিয়ন দল ছিল। প্রতিযোগিতাটি ছিল বেশ বিতর্কিত। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের জাতীয় কাপ প্রতিযোগিতা এফএ কাপ বর্জন করেছিল। প্রতিযোগিতা উদ্বোধনে ফিফা এবং উয়েফা কর্তৃপক্ষের মধ্যেও বাদানুবাদ ঘটে। উয়েফা কর্তৃপক্ষ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করতো যা ফিফা'র গঠনতন্ত্রের বাইরে ছিল।[১] চূড়ান্ত খেলায় দুই ব্রাজিলীয় ক্লাব দল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয় এবং পেনাল্টি শ্যুট আউটের মাধ্যমে ভাস্কো দা গামাকে করিন্থিয়ান্স পলিস্তা স্পোর্ট ক্লাব পরাভূত করে শিরোপা জয় করে।[২]

২য় প্রতিযোগিতাটি ১২ দলের অংশগ্রহণে ২০০১ সালে স্পেনে আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু ফিফা'র ব্যবসায়িক অংশীদার আইএসএলের ব্যর্থতার কারণে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই কারণে ২০০৩ সালেও তা হয়নি। ফলে ফিফা বাধ্য হয়ে উয়েফা'র সাথে চুক্তিবদ্ধের মাধ্যমে দুই প্রতিযোগিতাকে একীভূত করে।

সর্বশেষ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ প্রতিযোগিতা ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর পুণঃপ্রবর্তিত ক্লাব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ টয়োটা কাপ নামে ১১-১৮ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৫ সালে পুণঃপ্রবর্তিত আকারে ও পূর্বেকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের তুলনায় ছোট করা হয়। বিভিন্ন মহাদেশের বিভিন্ন ক্লাবভিত্তিক প্রতিযোগিতার ভিন্নতর সময়ে আয়োজনের ফলে প্রতিযোগিতার সময়সূচীর সমস্যা দূরীকরণে সচেষ্ট হয়। ছয়টি মহাদেশ থেকে ছয় চ্যাম্পিয়নধারী দলকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তন্মধ্যে কনমেবল এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ বিজয়ী দল সরাসরি সেমি-ফাইনালে খেলার যোগ্যতা দেয়া হয়। নতুন ধরনের ট্রফি নির্মিত হয়। নতুন ট্রফি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ট্রফি, টয়োটা ট্রফি এবং ২০০০ সালে করিন্থিয়ান্সের জয়কৃত ট্রফির স্থলাভিষিক্ত হয়।

এরপর থেকেই প্রতিযোগিতাটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ নামে নামাঙ্কিত হয়।[৩]

পুরস্কারের অর্থমূল্য[সম্পাদনা]

২০১১ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন দলকে জন্যে $৫ মিলিয়ন, ২য় স্থানের জন্যে $৪ মিলিয়ন, ৩য় স্থানের জন্যে $২.৫ মিলিয়ন, ৪র্থ স্থান অধিকারীকে $২ মিলিয়ন, ৫ম স্থানকে $১.৫ মিলিয়ন, ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারীকে $১ মিলিয়ন এবং ৭ম স্থান অর্জনকারী দলকে $৫ লক্ষ মার্কিন ডলার অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।[৪]

ব্যবসায়িক অংশীদার[সম্পাদনা]

প্রতিযোগিতার প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছে টয়োটা। এরপূর্বে এটি অবলুপ্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপেরও অংশীদার ছিল। টয়োটা গাড়ী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিযোগিতাটির প্রধান অংশীদার হবার ফলে হুন্দাই-কিয়া'র মর্যাদা হচ্ছে ফিফা'র অংশীদার। তাই প্রতিষ্ঠানটি ক্লাব বিশ্বকাপে সক্রিয় নয়। অন্য পাঁচটি ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছে - এডিডাস, কোকা-কোলা, এমিরেটস, সনি এবং ভিসা পূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আসীন রয়েছে। বছর বছর ব্যবসায়িক অংশীদার ভিন্নতর হয়ে থাকে।

ফলাফল[সম্পাদনা]

সাল স্বাগতিক দেশ চূড়ান্ত খেলা ৩য় স্থান নির্ধারণী
বিজয়ী গোল রানার-আপ ৩য় স্থান গোল ৪র্থ স্থান
২০০০ ব্রাজিল ব্রাজিল ব্রাজিল করিন্থিয়ান্স ০-০ (অ.স.প.)
(৪-৩ পেনাল্টি)
ব্রাজিল ভাস্কো দা গামা মেক্সিকো নেকাক্সা ১-১ (অ.স.প.)
(৪-৩ পেনাল্টি)
স্পেন রিয়াল মাদ্রিদ
২০০৫ জাপান জাপান ব্রাজিল সাও পাউলো ১-০ ইংল্যান্ড লিভারপুল কোস্টা রিকা স্যাপ্রিসা ৩-২ সৌদি আরব ইত্তিহাদ
২০০৬ ব্রাজিল ইন্তারন্যাশিওনাল ১-০ স্পেন বার্সেলোনা মিশর আল আহলি ২-১ মেক্সিকো আমেরিকা
২০০৭ ইতালি মিলান ৪-২ আর্জেন্টিনা বোকা জুনিয়র্স জাপান ওরাওয়া রেড ডায়মন্ডস ২-২
(৪-২ পেনাল্টি)
তিউনিসিয়া এটইলে দু সাহেল
২০০৮ ইংল্যান্ড ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১-০ ইকুয়েডর এলডিইউ কিটো জাপান গ্যাম্বা ওসাকা ১-০ মেক্সিকো পচুকা
২০০৯ সংযুক্ত আরব আমিরাত সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পেন বার্সেলোনা ২-১ (অ.স.প.) আর্জেন্টিনা এস্তোডিয়ান্তেস দক্ষিণ কোরিয়া পোহ্যাং স্টিলার্স ১-১
(৪-৩ পেনাল্টি)
মেক্সিকো আতল্যান্তে
২০১০ ইতালি ইন্তারন্যাজিওন্যাল ৩-০ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র মাজেম্বি ব্রাজিল ইন্টারন্যাশিওনাল ৪-২ দক্ষিণ কোরিয়া সিউংন্যাম ইলোয়া চুনমা
২০১১ জাপান জাপান স্পেন বার্সেলোনা ৪-০ ব্রাজিল সান্তোস কাতার আল সাদ ০-০
(৫-৩ পেনাল্টি)
জাপান কাশিওয়া রেসল
২০১২ ব্রাজিল করিন্থিয়ান্স ১-০ ইংল্যান্ড চেলসি মেক্সিকো মন্তেরে ২-০ মিশর আল আহলি
২০১৩ মরক্কো জার্মানি বায়ার্ন মিউনিখ ২-০ মরক্কো রাজা কাসাব্লাঙ্কা ব্রাজিল অ্যাটলেটিকো মিনেইরো ৩-২ চীন গুয়াংজু এভারগ্রান্দে
২০১৪  Morocco স্পেন রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ আর্জেন্টিনা স্যান লরেঞ্জো নিউজিল্যান্ড অকল্যান্ড সিটি ১-১ (৪-২)[৫] মেক্সিকো ক্রুজ আজুল
২০১৫ জাপান জাপান স্পেন বার্সেলোনা ৩-০[৬] আর্জেন্টিনা রিভার প্লেত জাপান সানফুরেসি হিরোশিমা ২-১[৭] চীন গুয়াংজু এভারগ্রান্দে

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Football's global power struggle"BBC News। ১৯৯৯-১২-২০। সংগৃহীত ২০১০-০৫-০২ 
  2. "Corinthians crowned world champions"BBC News। ২০০০-০১-১৫। 
  3. Simply eliminating "Championship" and "Toyota" from the name resulting by the fusion with the Toyota Cup.
  4. http://es.fifa.com/mm/document/fifafacts/mencompcwc/01/15/71/66/statisticalkit_fcwcfinal.pdf
  5. "Auckland City claim historic bronze"FIFA.com। Fédération Internationale de Football Association। ২০ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগৃহীত ২০ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  6. https://www.fifa.com/clubworldcup/matches/round=275784/match=300338750/index.html
  7. https://www.fifa.com/clubworldcup/matches/round=275786/match=300338747/index.html

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]