বদলগাছী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বদলগাছি
উপজেলা
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার
বদলগাছি বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বদলগাছি
বদলগাছি
বাংলাদেশে বদলগাছী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৮′ উত্তর ৮৮°৫৪′ পূর্ব / ২৪.৯৬৭° উত্তর ৮৮.৯০০° পূর্ব / 24.967; 88.900স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৮′ উত্তর ৮৮°৫৪′ পূর্ব / ২৪.৯৬৭° উত্তর ৮৮.৯০০° পূর্ব / 24.967; 88.900 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রাজশাহী বিভাগ
জেলা নওগাঁ জেলা
আয়তন
 • মোট ২১৩.৯৭ কিমি (৮২.৬১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ২,০১,৩৪২[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৯.১৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
নওগাঁ জেলার মানচিত্র

বদলগাছি উপজেলা বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

বদলগাছী নওগাঁ জেলা শহর হতে ১৭ কিঃ মিঃ উত্তরে এবং পাকা সড়ক দ্বারা সংযুক্ত। ইহার উত্তরে জয়পুরহাট সদর উপজেলা, পশ্চিমে মহাদেবপুর উপজেলাপত্নীতলা উপজেলা, দক্ষিনে নওগাঁ সদর উপজেলা ও পূর্বে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

জেলা সদর হতে দূরত্বঃ ১৭ কিলোমিটার
আয়তনঃ ২১৩.৯৭ বর্গ কিলোমিটার
নির্বাচনী এলাকাঃ ৪৮, নওগাঁ-০৩

ইউনিয়ন সমূহ[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৯৩ সালে ঘোড়াঘাট অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[২] এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলা হিসাবে উন্নীত করা হয়। [৩]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

জনসংখ্যাঃ ২,০১,৩৪২ জন
পুরুষঃ ১,০০,৫৫৬ জন
মহিলাঃ ১,০০,৭৭৬ জন
লোক সংখ্যার ঘনত্বঃ ৯৪১ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে )[৪]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৬টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪১টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪টি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ২টি উচ্চ বিদ্যালয় (সহশিক্ষা) ২৮টি উচ্চ বিদ্যালয় (বালিকা) ০৪টি দাখিল মাদ্রাসা ১৫টি আলিম মাদ্রাসা ০৪টি ফাজিল মাদ্রাসা ০১টি কামিল মাদ্রাসা নাই কলেজ (সহপাঠ) ৮টি (কারিগরী-৪) কলেজ (বালিকা) ০১টি শিক্ষার হার ৫৯.১৫% পুরুষ ৩৮.১৫% মহিলা ২১% [১]

কৃষি[সম্পাদনা]

মোট জমির পরিমানঃ ২১,৪৪৪ হেক্টর
উচু ভূমি ৩,৬৩৬ হেক্টর
মধ্যম উচু ভূমি ৮,৭৬৯ হেক্টর
মধ্য নিম্ন ভূমি ৮,০১৫ হেক্টর
নিম্ন ভূমিঃ ১,০২৪ হেক্টর

খাস জমির পরিমানঃ ৩,৩৬৮.৩৪ একর
কৃষি খাস জমি ১,৪৪২.০৫ একর
অকৃষি খাস জমি ১,৯২৬.২৯ একর

নীট ফসলী জমি ১৬,৪৫৪ হেক্টর
মোট ফসলী জমি ৩৯,০৬৩ হেক্টর
এক ফসলী জমি ১,১১৯ হেক্টর
দোফসলী জমি ৮,৭০৯ হেক্টর
তিন ফসলী জমি ৫,৯৭৮ হেক্টর
তিনের অধিক ফসলী জমি ৬৪৮ হেক্টর
ফসলের নিবিড়তা ২৩৭.৪%
গভীর নলকূপ ২৯০
অ-গভীর নলকূপ ৬,১৮০টি
শক্তি চালিত পাম্প নাই
বল্ক সংখ্যা ২৫টি
বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা ৩০,৮০৪ মেট্রিক টন
নলকূপের সংখ্যা(জনস্বাস্থ্য কর্তৃক সরবরাহকৃত)২৭১৯

কৃষি নির্ভর এ উপজেলার উৎপাদিত ফসল হলো ধান, গম, পাট, আলু সহ সকল প্রকার সবজী। [১]

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ০১টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ০৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক ২৬টি ইপিআই আউটরিচ ১৯২টি বেসরকারী ক্লিনিক ১টি(নাজিপুর পল্লী শিশু ক্লিনিক) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ০৫টি বেডের সংখ্যা ৫০টি ডাক্তারের মঞ্জুরীকৃত পদ সংখ্যা ২৮টি কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা ১০জন সিনিয়র নার্স সংখ্যা ১৫জন(কর্মরত-৯জন) সহকারী নার্স সংখ্যা ০১টি (পদ শূন্য)[১]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার[সম্পাদনা]

পাহাড়পুর একটি প্রাচীন নিদর্শনের স্থান। ৮ম/ ৯ম শতাব্দির পালবংশের বিহার এখানে অবস্থিত। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার ( তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।

হলুদ বিহার[সম্পাদনা]

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলাধীন দ্বীপগঞ্জ গ্রামে হলুদ বিহার অবস্থিত। এখানে যে একটি বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্ব আছে তার যুগল দু'টি শব্দ হলুদ বিহার ও দ্বীপগঞ্জ থেকে উপলব্ধি করা যায়। হলুদ বিহার যেমন একটি বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্বের ইঙ্গিত বহন করে তেমনি দ্বীপগঞ্জ একটি প্রাচীন দ্বীপের অবস্থানের আভাস দেয়। এই হলুদ বিহার পাহাড়পুর গ্রামের সোমপুর বিহার থেকে ১৫/১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দ্বীপগঞ্জ গ্রামের হাটের পাশে একটি উঁচু ঢিবি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ঢিবির পরিধি প্রায় ১০০ ফুট। সমতল ভূমি থেকে এ ঢিবির উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট। এ বিহারের পার্শ্ববর্তী মাঝেমধ্যে মাটি খননকালে আকর্ষণীয় প্রত্ন নিদর্শন যেমন পাথর, ধাতবমূর্তি, পোড়া মাটির ফলক, অলংকৃত প্রাচীন ইট পাওয়া যায়। আলোচিত ঢিবি ও এ স্থানের মাটির তলা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন দেখে অনেকে মনে করতো যে, এটি একটি প্রাচীন কীর্তি।[৫]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে বদলগাছী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১১ জুলাই, ২০১৪ 
  2. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর জেলার ইতিহাস, কে পি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ২০০৬, পৃষ্ঠা ২১১
  3. বাংলাপিডিয়া
  4. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
  5. "বাংলাদেশে পুরাতত্ত্ব সমৃদ্ধ জেলা নওগাঁ"। দৈনিক সংগ্রাম। ১৫ ডিসেম্বর। ২০১২। সংগৃহীত ১১ জুলাই, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]