গোদাগাড়ী উপজেলা
| গোদাগাড়ী | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে গোদাগাড়ী উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°২৭′৫৯″ উত্তর ৮৮°১৯′৫২″ পূর্ব / ২৪.৪৬৬৩৯° উত্তর ৮৮.৩৩১১১° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রাজশাহী বিভাগ |
| জেলা | রাজশাহী জেলা |
| আয়তন | |
| • মোট | ৪৭২.১৩ বর্গকিমি (১৮২.২৯ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১)[১] | |
| • মোট | ২,৭৯,৫৪৫ |
| • জনঘনত্ব | ৫৯০/বর্গকিমি (১,৫০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৪২.১০% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫০ ৮১ ৩৪ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
গোদাগাড়ী বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। একদিকে কীর্তিনাশা পদ্মা আর মহানন্দা অন্যদিকে বিস্তৃত পরিধিতে বরেন্দ্র জনপদ এই গোদাগাড়ী অঞ্চল।
অবস্থান ও আয়তন
[উৎস সম্পাদনা]গোদাগাড়ী উপজেলা রাজশাহী জেলার পশ্চিমে অবস্থিত। গোদাগাড়ী উত্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও তানোর উপজেলা, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও গঙ্গা নদী, পূর্বে পবা উপজেলা, পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা।[২]
উপজেলার ইতিহাস
[উৎস সম্পাদনা]রাজশাহী জেলার একটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ উপজেলা গোদাগাড়ী। গোদাগাড়ীর নামকরণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রথমত ইতিবৃত্তের আকারে দেখতে গেলে জানা যায়, বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারের নিমিত্তে পূর্ববঙ্গ থেকে গঙ্গা বেয়ে প্রেমতলীতে স্নান করে গৌড় গমন করেন। পরে কিংবদন্তীর পর্যায়ে কথিত আছে প্রেমতলীর বৈষ্ণব ধর্মের আনুষ্ঠানিকতায় শ্রী চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব প্রেমী ভাব শিষ্য শ্রী গোদা পরবর্তীতে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে এ এলাকায় এসে মহাগুরুর স্নান তর্পনকে ভক্তি ভরে স্মরণ করে প্রত্যেক পূর্নিমা তিথিতে স্নানে যেতেন প্রেমতলীর তমাল তলার ঘাটে। যাবার পথে যানবাহন হিসেবে গরুর গাড়ী ব্যবহার করতেন। রাতের বেলায় গরুর গাড়ীর একটা আওয়াজ হতো। লোকে বলত কার গাড়ী যায়? উত্তর আসত ‘গোদার গাড়ী’। জনশ্রুতি রয়েছে এই ‘গোদার গাড়ী’ থেকেই ‘গোদাগাড়ী’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।
আবার অনেকে মনে করেন এ জনপদের নাম গোদাগাড়ী নয় গোদাগারী। পুরনো দিনের মানচিত্রে এর সত্যতা মেলে। ‘গোদা’ শব্দের অর্থ হলো দেহ, তনু, কায়া এবং গারী শব্দের অর্থ রক্ষা করা। সুতরাং ‘গোদাগারী’ হচ্ছে নিরাপদ স্থান বা সুরক্ষিত স্থান। সুদীর্ঘ কাল হতে গোদাগারী নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। লোকমুখে প্রচলিত হতে হতে গোদাগারী > গোদাগাড়ী হয়ে যায় (তাড়নজাত ধ্বনির বিবর্তন র > ড়)। নবাব আলিবর্দী খাঁর শাসনামলে বর্গীয় হাঙ্গামায় অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে (১৭৪১-১৭৪৪) যখন দেশবাসী শঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত তখন বৃদ্ধ নবাব আলিবর্দী খাঁ ডেপুটি গভর্নর নোয়াযেশ মুহাম্মদ খানের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে নবাব প্রাসাদের মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী, অর্থসম্পদ, সোনাদানাসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই গোদাগাড়ীতে স্থানান্তরিত করেছিলেন এবং গোদাগাড়ীর অদূরে বারুইপাড়া গ্রামে একটি শিবির ও কেল্লা নির্মাণ করে নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জনশ্রুতি রয়েছে দূর অতীতে এখানে ‘গোদাবারি’ নামে একজন প্রভাবশালী ধোপা বসবাস করত। ধোপার স্ত্রী ছিলেন ব্যাভিচারিণী। গোদাবারি নামক এই ধোপা তারা স্ত্রীকে কাদায় গেড়ে (পুঁতে) ফেলেন। গোদা কর্তৃক তার স্ত্রীকে গেড়ে ফেলা থেকেই ‘গোদাগাড়ী’ নামকরণ হয়েছে ধারণা করা হয়।
প্রশাসনিক এলাকা
[উৎস সম্পাদনা]
১৮৬৫ সালে গোদাগাড়ী থানা প্রতিষ্ঠত হয় এবং ১৯৮৪ সালে উপজেলাতে রুপান্তরিত হয়। ৯টি ইউনিয়ন, ৩৮৯টি মৌজা এবং ৩৯৬টি গ্রাম বিশিষ্ট একটি থানা।[২]
ইউনিয়ন সমূহ
[উৎস সম্পাদনা]জনসংখ্যার উপাত্ত
[উৎস সম্পাদনা]মোট জনসংখ্যা ২,৭৯,৫৪৫ জন ( পুরুষ-১,৪৩,২০২ জন, মহিলা-১,৩৬,৩৪৩ জন)।
শিক্ষা
[উৎস সম্পাদনা]গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারী ৭৬টি, বেসরকারী ৭৪টি, মোট ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬২টি, ৩০টি মাদ্রাসা, ১২টি কলেজ, ৫০টি কিন্ডারগার্টেন, ১টি নূরানী কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের শিক্ষার হার ৪৬.৩০%।
গোদাগাড়ীর শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে গোদাগাড়ীতে রয়েছে একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক সংগঠন। যার নাম 'পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন গোদাগাড়ী' (পুসাগ)। সারাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর সদস্য হতে পারে। পুসাগ অত্র উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইনমূলক প্রোগ্রাম করে থাকে। এছাড়াও অলিম্পিয়াড আয়োজন পুসাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
অর্থনীতি
[উৎস সম্পাদনা]উপজেলা সম্পূর্ণ কৃষি নির্ভর। কৃষি উৎপাদিত ফসলের মাঝে ধান, গম, আলু উল্লেখযোগ্য। গোদাগাড়ী উপজেলায় সারাবছর ধান, গম, ভুট্টা, পাট, ছোলা, আলু, টমেটো, আখ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আপেল কুল, লিচুসহ বিভিন্ন ফল ও বনজ গাছ রয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। পদ্মা ও মহানন্দার মোহনায় পাঙ্গাস মাছ সংরক্ষণের একমাত্র স্থান হচ্ছে গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ এলাকা।[২]
সমিতি
[উৎস সম্পাদনা]গোদাগাড়ীতে শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সমিতি লক্ষ করা যায়, তার মধ্যে কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের সমিতি আছে। উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২টি সমিতি রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের ১টি এবং কিন্ডারগার্টেন পরিচালকদের ১টি গোদাগাড়ী আন্ত:কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন নামে সমিতি রয়েছে। [২]
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
[উৎস সম্পাদনা]১। এস.কে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার এন্ড আইটি ২৩৩৮৭, পরিচালক: আব্দুল খালেক, শ্রীমন্তপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী, 01721-031894, www.skdomainhost.com ২। সিস্টেম কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার- ২৩২২৮, পরিচালক: বুরহানুল ইসলাম, রেলগেট, গোদাগাড়ী, রাজশাহী. ৩। কুমরপুর কম্পিউটার ইন্সটিটিউট এন্ড আইটি-২৩৩১৬, পরিচালক: হাসানুজ্জামান, কুমরপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী। ৪। কাকনহাট কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি- ২৩২৪৯, পরিচালক-মোনায়েম বিল্লাহ শিলু, কাকনহাট, গোদাগাড়ী, রাজশাহী। ৫। পালপুর ধরমপুর কম্পিউটার ইন্সটিটিউট, শরিফুল ইসলাম, পালপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬ মাস মেয়াদী ও ১ বছর মেয়াদী কম্পিউটা বেসিক ট্রেড শিক্ষা দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ছাত্র/ছাত্রীদের কারিগরি বোর্ড কর্তৃক সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ সনদপত্রগুলো বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রচুর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তথ্য প্রদান করেছেন: আব্দুল খালেক এছাড়াও প্রায় শ’ খানেক কম্পিউটারের দোকান রয়েছে।
[২]
প্রেসক্লাব
[উৎস সম্পাদনা]সভাপতি পৌর প্রেসক্লাব- সারোওয়ার সবুজ
[২]অলিউল্লাহ, প্রতিনিধি দৈনিক জনকন্ঠ
দর্শনীয় স্থান
[উৎস সম্পাদনা]- সাফিনা পার্ক
- খেতুরীধাম
- সরমংলা ইকোপার্ক
- খেতুর গ্রামে পাইকড় তিন তলায় একটি দরশনীয বাড়ী।
- ঠাকুর নরোত্তম দাসের বাড়ী - গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী নামকস্থানে সনাতন ধর্মের সবচাইতে বড় তীর্থ স্থান
- শাহ্ সুলতান এর মাজার
- কদমশহরে সেন রাজাদের রাজধানীর ধ্বংশাবশেষ
- আলিবর্দি খা-র কেল্লা ধ্বংশস্তুপ
বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ
[উৎস সম্পাদনা]১. মো: মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর একজন সিনিয়র নায়েবে আমীর ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। বাংলাদেশী রাজনীতিবীদ, শিক্ষাবীদ, গবেষক ও লেখক। তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) এর সাবেক নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মো: মুজিবুর রহমান গোদাগাড়ী তানোরর একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি বেশ কিছু স্কুল, মাদরাসা, কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
২.ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি রাজশাহী-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৩. মোঃ খলিলুল্লাহ (মহাজন)। তাঁর বাড়ি গোদাগাড়ী ইউনিয়নের আই হাই (রাহী) গ্রামে।তিনি বাংলায় কাব্যাকারে সম্পূর্ণ কুরআন অনুবাদ করেন।এছাড়াও তিনি প্রচুর কবিতা ও ছড়া রচনা করেন এবং গোদাগাড়ীর ইতিহাস নামেও একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।কিন্তু এগুলো অপ্রকাশিত।তিনি একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন।তিনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-লাইব্রেরি-ক্লাব স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।তিনি একজন দাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন
৪.এনামুল হক- সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং সাবেক আইন কমিশনের সদস্য।
৫. আব্দুর রাজ্জাক প্রফেসর, মাষ্টারপাড়া, গোদাগাড়ী। তিনি গোদাগাড়ী ডিগ্রী কলেজ থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অবসরে গেছেন। তার ছেলে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের।
৬. জনাব আব্দুল খালেক, দাওরায়ে হাদীস, মাষ্টার্স, পরিচালক নূরানী কিন্ডারগার্টেন, পরিচালক এস.কে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, সম্পাদক: জিখবর পত্রিকা, তিনি সাংবাদিক, কলামিষ্ট, সাহিত্যিক, আবৃত্তিকারক, সুরকার, ক্বারী, মাওলানা, ক্যালিগ্রাফার, ওয়েবসাইট ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি আরবী, উর্দু, ফার্সি হুবহু অক্ষরে ক্যালিগ্রাফি করতে পারেন। তার প্রকাশিত বই: কম্পিউটার অফিস এ্যাপলিকেশন, শিশুদের আরবী শিক্ষা, নূরানী কায়দা, ছোটদের মুচকি হাসির ঝুলি ইত্যাদি। তার সম্পাদনায় গোদাগাড়ী থেকে সর্বপ্রথম একটি অনলাইন পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
তথ্যসূত্র
[উৎস সম্পাদনা]- ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে গোদাগাড়ী উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৪।
- 1 2 3 4 5 6 "এক নজরে গোদাগাড়ী উপজেলা"। গোদাগাড়ী উপজেলা ই-সেবা। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৬।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ আদমশুমারি ২০১১
বহিঃসংযোগ
[উৎস সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |