বাগাতিপাড়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাগাতিপাড়া
উপজেলা
বাগাতিপাড়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বাগাতিপাড়া
বাগাতিপাড়া
বাংলাদেশে বাগাতিপাড়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২১′ উত্তর ৮৮°৫৬′ পূর্ব / ২৪.৩৫০° উত্তর ৮৮.৯৩৩° পূর্ব / 24.350; 88.933স্থানাঙ্ক: ২৪°২১′ উত্তর ৮৮°৫৬′ পূর্ব / ২৪.৩৫০° উত্তর ৮৮.৯৩৩° পূর্ব / 24.350; 88.933 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরাজশাহী বিভাগ
জেলানাটোর জেলা
আয়তন
 • মোট১৩৯.৮৬ কিমি (৫৪.০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১,৩১,০০৪[১]
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫৬.৫০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৬৪১০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫০ ৬৯ ০৯
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

বাগাতিপাড়া বাংলাদেশের নাটোর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। উত্তরে-নাটোর সদর,দক্ষিণে-লালপুর ও বাঘা উপজেলা,  পূর্বে-বড়াইগ্রাম উপজেলা এবং পশ্চিমে-চারঘাট উপজেলা। নাটোর সদর থানার দক্ষিণে মাত্র ৫ টি ইউনিয়ন যথাক্রমে পাঁকা, জামনগর, বাগাতিপাড়া, দয়ারামপুর ও ফাগুয়াড়দিয়াড়  ইউনিয়ন নিয়ে ১৯০৬ সালে বাগতিপাড়া পুলিশ ষ্টেশন স্থাপিত হয়। প্রথমে থানার নাম ছিল বাগদী পাড়া। কথিত আছে তৎকালিন রেনউইক কম্পানী এবং নীলকর সাহেবগণ স্থানীয় বাগদীদের দ্বারা প্রজাদের উপর অত্যাচার ও নীপিড়ন চালাত। যার ফলে তাদের প্রতি ঘৃণার নিদর্শন স্বরূপ বাগদীপাড়া পুলিশ ষ্টেশনের নাম করন করা হয় বাগাতিপাড়া।

অবস্থান[সম্পাদনা]

উত্তরে – নাটোর সদর উপজেলা, দক্ষিণে – লালপুর উপজেলাবাঘা উপজেলা, পূর্বে – বড়াইগ্রাম উপজেলা এবং পশ্চিমে – চারঘাট উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

বাগাতিপাড়ায় পৌরসভার সংখ্যা ১টি। যেটি হচ্ছেঃ বাগাতিপাড়া।

আর এই উপজেলার ইউনিয়নগুলি হল-

  1. পাঁকা ইউনিয়ন
  2. জামনগর ইউনিয়ন
  3. বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন
  4. দয়ারামপুর ইউনিয়ন
  5. ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়ন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অষ্টাদশ শতকের অর্ধবঙ্গেশ্বরী রাণী ভবানীর স্মৃতি বিজড়িত বিদগ্ধ প্রকৃতি প্রেমী কবি জীবনান্দ দাশের কল্পলোকের প্রেয়সী বনলতা সেন, রসনাতৃপ্ত সু-স্বাদু অবাক সন্দেশ, কাঁচাগোল্লা আর দৃষ্টি নন্দন অপূর্ব কারুকার্য্য খচিত উত্তরা গণভবন খ্যাত ঐতিহ্যবাহী নাটোর জেলার ছোট একটি উপজেলা বাগাতিপাড়া। মালঞ্চি রেলওয়ে ষ্টেশনের ২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে বড়াল নদীর পূর্ব তীরে বাগদী পাড়া নামক স্থানে নাটোর সদর থানার দক্ষিণে মাত্র ৫ টি ইউনিয়ন যথাক্রমে পাঁকা,জামনগর,বাগাতিপাড়া,দয়ারামপুর ও ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়ন নিয়ে ১৯০৬ সালে বাগতিপাড়া পুলিশ ষ্টেশন স্থাপিত হয়। প্রথমে থানার নাম ছিল বাগদী পাড়া। কথিত আছে তৎকালিন রেনউইক কম্পানী এবং নীলকর সাহেবগণ স্থানীয় বাগদীদের দ্বারা প্রজাদের উপর অত্যাচার ও নীপিড়ন চালাত। যার ফলে তাদের প্রতি ঘৃণার নিদর্শন স্বরূপ বাগদীপাড়া পুলিশ ষ্টেশনের নাম করন করা হয় বাগাতিপাড়া। এর পর ১৯৬২ সালে মালঞ্চি রেলওয়ে ষ্টেশনের ০.৭ কিঃ মিঃ দক্ষিণে রেল লাইনের পশ্চিম পার্শ্বে বড়াল নদীর উত্তর তীরে ১৬ একর ৭৭ শতাংশ অপেক্ষাকৃত নিঁচু জমিতে থানা প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র (টিটিডিসি) স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে ১৫ এপ্রিল প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ধারাবাহিকতায় মান উন্নীত থানা বাগাতিপাড়া উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।[২]

উপজেলা সদর থেকে ৬ কিঃ মিঃ পশ্চিমে নুরপুর মালঞ্চি গ্রামে হযরত শাহ মোকাররম দানেশমান্দ(রঃ) সহ তার কয়েকজন আওলিয়ার মাজার শরিফ অবস্থিত। উক্ত মাজার জিয়ারতের জন্য প্রতি বছর সেখানে হাজার হাজার ধর্মভীরু মানুষের সমাগম ঘটে। হযরত শাহ মোকাররম দানেশমান্দ(রঃ) এর মাজার পাশেই একটি অপেক্ষাকৃত ছোট কবর আছে যা তার সঙ্গী বাঘের কবর বলে জনশ্রুতি আছে। সম্ভবত এ জন্যই স্থানটির বর্তমান নাম বড়বাঘা বলে পরিচিত। ১৮৯৪ সালে দিঘাপতিয়া রাজ বংশের রাজা প্রমোথনাথ রায়ের একমাত্র কন্যা রাজকুমারী ইন্দ্র প্রভার বিয়ে হয় এই গ্রামেরই জমিদার মহিন্দ্র কুমার শাহ চৌধুরীর সঙ্গে। তাদের প্রাসাদের ধবংসাবশেষ এখনও পুরাতন ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। ঊনুবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বৃটিশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রেনউইক কোম্পানী বর্তমান উপজেলা পরিষদের ১.৫ কিঃ মিঃ পশ্চিমে নওশেরা গ্রামে তাদের কারখানার একটি শাখা স্থাপন করেন। এখানে দেশীয় আখমাড়াই কল তৈরী করা হত। যা জনসাধারণের মধ্যে ভাড়ায় বিতরণ করে কোম্পানী বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করত। ১৯৬২ সালে কলকারখানা যন্ত্রপাতি কোম্পানী তাদের কুষ্টিয়া শাখায় স্থানান্তর করে নিয়ে যায়। বর্তমানে এইখানে একটি অট্রালিকা ও কারখানার ছাওনি বিদ্যমান আছে।[৩]

এককালে বাংলার জনসাধারণের মধ্যে নীল চাষের জন্য নীলকর সাহেবদের অত্যাচার নীপিড়ন থেকে এ এলাকাও বাদ যায়নি। উপজেলা পরিষদ থেকে ২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে বড়াল নদীর অপর পার্শ্বে বর্তমান রায় পরিবারের আম্রকাননের মনোরম পরিবেশে নীল কুঠির অবস্থান ছিল।

১৮৯৪ সালে দিঘাপতিয়া রাজস্টেটের রাজা প্রমথ নাথ রায় তার কনিষ্ঠ তিন পুত্রের জন্য অত্র উপজেলার নন্দীকহজা মৌজায় একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। নন্দীকহজা মৌজার এ রাজস্টেট গড়ে ওঠে দিঘাপতিয়া রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা দয়ারামের নামে। তাঁর নাম অনুসারেই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় দয়ারামপুর । প্রাসাদ সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে কাদিরাবাদ সেনানিবাস নির্মাণ করা হয়েছে এবং দয়ারামপুর ইউনিয়ন ভেঙ্গে ফাগুয়াড়দিয়াড় নামে আরো একটি নতুন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।[৪]

উপজেলা সদরের প্রায় ১৬ কিঃ মিঃ পশ্চিমে জামনগর ইউনিয়নের শাখারী পাড়া গ্রামটি সুপ্রাচীন কাল হতে শঙ্খ শিল্পের জন্য বিখ্যাত। সুদুর শ্রীলংকা থেকে শংঙ্খ আমদানী করা হয় এবং প্রক্রিয়াজাত করে এখানে বিভিন্ন  রকমের শাঁখার অলংকার তৈরী করে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে প্রায় দু‌শো পরিবার এই শিল্পের মাধ্যমে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। ১৯৪৬ সালে অত্র উপজেলার জামনগর ইউনিয়নে সর্বপ্রথম একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপিত হয় এবং এর প্রায দু‌বছর পর ১৯৪৮ সালের ৮ই আগস্ট জেলা কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে লক্ষণহাটি দাতব্য চিকিৎসালয় নামে বিহারকোর মোড়ে আরো একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপিত হয় যা পরবর্তীকালে সত্তোর দশকের শেষের দিকে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামে ৩১ শয্যার হাসপাতালে রুপান্তরিত হয়ে এলাকার বিপুল জন গোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করছে। বর্তমানে এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামে পরিচিত।[৫]

ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

নাটোর জেলাধীন বাগাতিপাড়া উপজেলা একটি প্রসিদ্ধ উপজেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। এ উপজেলা এক সময় ঐতিহ্যমন্ডিত ছিলো। এক সময় বাগাতিপাড়া  মৃতশিল্প ও কাসাঁ শিল্পে বিখ্যাত ছিলো। তবে বর্তমানে বাগাতিপাড়ার শাখাঁ শিল্প বেশ সমাদৃত এবং প্রসিদ্ধ। আর বাগাতিপা'ড়ার ঐতিহ্য ছিলো কাঠের চাকা তৈরি । বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গরু এবং মহিষের গাড়ীর জন্য এখান হতে কাঠের চাকা কেনার জন্য আসতেন এ বাগাতিপাড়া উপজেলায়।[৬]

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা]

বাগাতিপাড়া উপজেলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্রময়। বাগাতিপাড়া উপজেলার জনসাধারণ যে ভাষায় কথা বলে তা বাংলা ভাষার পাঁচটি উপ-ভাষার অন্যতম উপ-ভাষা বরেন্দ্রী‘র অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও দলিল দস্তাবেজ লেখা তথা দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার সাধু রুপ প্রচলিত। তবে এলাকার শিক্ষিত জনগোষ্ঠী চলিত ভাষায় লেখালেখি করা বা কথাবার্তা বললেও সাধারণ মানুষ নিজ নিজ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় (কথ্য ভাষায়) কথা বলে অভ্যস্ত যা অস্টিক ভাষা দ্বারা প্রভাবিত। সময়ের বিবর্তনে এখন অফিস আদালতে সাধু ভাষার ব্যবহার ক্রমশঃ হ্রাস পাচ্ছে এবং চলিত বা শিষ্ট ভাষার ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। লক্ষণীয় বিষয় বাগাতিপাড়া উপজেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু আদিবাসী যেমন সাঁওতাল, ওরাও, বুনো, পাহাড়ী, ভূঁইমালি, বাগদী, কামার ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে। এলাকার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাথে বাস করে তারাও এখন বাংলা ভাষাতেই কথা বলে। তবে পারিবারিক, সামাজিক বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে তারা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি ব্যবহার করে থাকে।[৭]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

প্রাচীনকালে কৃষি, মাছধরা, মাটির তৈজস পত্র তৈরী ও মাতৃ-আরাধনার মাধ্যমেই বাগাতিপাড়া উপজেলায় সংস্কৃতির গোড়া পত্তন হয়। এছাড়া নৌকা, গরুর গাড়ী, লাঙ্গল নির্মাণ, কাঠ ও বাঁশের বেড়ায় কাদা-মাটির আস্তরন দিয়ে গৃহ নির্মাণ, পাতা ও খড়ের ছাউনিযুক্ত কুঁড়েঘর নির্মাণও ছিল তৎকালীন সংস্কৃতির উলেস্নখযোগ্য দিক। কালক্রমে শাঁখার অলংকার এবং বাঁশ ও বেতের আসবাব পত্র তৈরী এই জনপদে চলমান সংস্কৃতির ধারায় নতুন মাত্রা যুক্ত করে। রাজনৈতিক ও ভৌগলিক সীমানা ডিঙ্গিয়ে সংস্কৃতির এই বন্ধন অনেক দুর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।[৮]

শুরু থেকেই উৎসবপ্রিয় এই জনপদের মানুষ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও লোকজ উৎসব-পার্বন উদযাপনসহ সংস্কৃতির বৈচিত্রময় ধারার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লোক সংস্কৃতি যথা পাঁচালী, জারী, সারি, ভাটিয়ালি, ভা্ওয়াইয়া, মুর্শিদী, পালাগান, কবিগান, আলকাফ গান, মনসার গান, যাত্রা, নাটক , সাপখেলা, লাঠিখেলা, বদন ও হাডুডু খেলা। ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে উপজেলার গালিমপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় গিরিশ নাট্য মন্দির যেখানে অভিনয় করেছেন এদেশের তৎকালীন বিখ্যাত নট-নটীরা। উপজেলার বিনোদন এবং সংস্কৃতি চ্চর্চার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠে এই নাট্য মন্দির। প্রখ্যাত প্রত্নতত্ববিদ শরৎ কুমার রায় এই উপজেলার অন্তর্গত দয়ারামপুর রাজবংশের রাজকুমার। অত্র উপজেলায় উদযাপিত উৎসবসমুহ নিম্নে শ্রেণী ভিত্তিক উল্লেখ করা হলোঃ

লোকজ উৎসব[সম্পাদনা]

গার্সী, নবান্ন উৎসব, পৌষ সংক্রান্তি, তেইরি, চৈত্র সংক্রান্তি ইত্যাদি।

ধর্মীয় উৎসব[সম্পাদনা]

(ক) সনাতন ধর্মীয়ঃ জন্মাষ্টমী, শিব রাত্রী, দুর্গা পূজা, লক্ষী পূজা, শ্যামা পূজা, বাসন্তী পূজা, স্বরসতী পূজা, শীতলা পূজা, মনসা দেবীর পূজা, রাস পূজা, রথযাত্রা, দোলযাত্রা ইত্যাদি।

(খ) ইসলাম ধর্মীয়ঃ ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী, ঈদুল ফিত্‌র, ঈদুল আয্হা, শবে মিরাজ, শবে বরাত, শবে কদর, আখেরী চাহার সোম্বা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম, মহররম ইত্যাদি।

(গ) খ্রিষ্ট ধর্মীয়ঃ বড় দিন (খ্রিস্টমাস ডে), গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ইত্যাদি।

(ঘ) বৌদ্ধ ধর্মীয়ঃ বুদ্ধ পূর্ণিমা, আষাঢ়ী পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ইত্যাদি।

সামাজিক উৎসব[সম্পাদনা]

বিয়ে-শাদী, খত্না, আকিকা, অন্নপ্রাসন, গড়গড়ি দেওয়া ইত্যাদি।


কালের বিবর্তনে এসবের অনেক কিছুই এখন বিলুপ্ত প্রায়। তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বিশ্বায়নের ফলে আকাশ সংস্কৃতির অবাদ প্রবাহে বর্তমানে  গতিহারা দেশীয় সংস্কৃতি। ভীনদেশী সংস্কৃতির প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার আদি সংস্কৃতি। তবে সময়ের প্রয়োজনে স্বাধীন বাংলাদেশে যুক্ত হয়েছে উৎসবের নতুন অনুসঙ্গ। যেমন পহেলা বৈশাখ, মহান স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবস, শহীদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শোক দিবস। সারা দেশের মতো সার্বজনীনন উৎসব পহেলা বৈশাখ এখন এই জনপদের মানুষেরও প্রানের উৎসবে পরিনত হয়েছে। সেই সাথে সকল জাতীয় ও আমত্মর্জাতিক দিবস সমুহ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয় এই উপজেলায়।[৯] 

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা ১,৩১,০০৪ জন | পুরুষ ৬৫০৫৪ জন এবং মহিলা ৬৫৯৫০ জন |

শিক্ষা[সম্পাদনা]

উপজেলাটিতে শিক্ষার গড় হার ৫৬.৫০%

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা[সম্পাদনা]

  1. সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় - ৫৬ টি
  2. কিন্ডার গার্ডেন স্কুল - ১৪ টি
  3. এবতেদায়ী মাদরাসা - ৩ টি
  4. মাধ্যমিক বিদ্যালয় - ৪৩ টি
  5. মাদরাসা - ৭ টি
  6. মহাবিদ্যালয় - ১০ টি
  7. কারিগরী মহাবিদ্যালয় - ৬ টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বাগাতিপাড়া উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। এর বিস্তৃত উর্বর ফসলি জমিগুলোতে উৎপন্ন হচ্ছে নানা জাতের ফসল। আর পশুপালন এখানে অর্থনৈতিক অবস্থার অন্যতম শক্তি।

মোট আবাদী জমির পরিমাণ: ১১৬০০ হেক্টর
প্রধান ফসলসমূহ: ইক্ষু, ধান, গম, মসুর ডাল, মুগ ডাল, সরিষা, তিল, পেয়াজ, রসুন, পান
উৎপন্ন ফল-মূলসমূহ: আম, জাম, কলা, কাঁঠাল, লিচু, বরই, তরমুজ, পেয়ারামালটা, পেঁপে উল্লেখযোগ্য

এছাড়াও পশুপালনের জন্য এ উপজেলায় গড়ে উঠেছে ৩টি প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র , ডেইরী ফার্ম ৩০টি, পোল্টি ফার্ম ৮১ টি। এছাড়াও হাঁস হ্যাচারি রয়েছে ১টি |

কৃতি ব্যাক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  1. মরহুম আলহাজ আব্দুল মুত্তালিব; অবসর প্রাপ্ত সেটেলমেন্ট অফিসার (ইপিসিএস এর শেষ ব্যাচ ১৯৭০)
  2. ড. এম. এম আদেল; অধাপক, পদার্থ বিজ্ঞান, আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়, পাইন ব্লাক, আরকানসাস, আমেরিকা।
  3. ড. ইমদাদুল হক; সহযোগী অধ্যাপক, শহীদ এম.মুনছুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ।
  4. ড. মাহাবুবুল আলম; সিনিয়র সাইনটিফিক অফিসার, কৃষি মন্ত্রণালয়, ঢাকা।
  5. ড. নাজমুন নাহার; অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ,শেরে বাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  6. ড. মাহামুদ  হোসেন (আমেরিকা প্রবাসী)
  7. ড. তোহিদ হোসেন ( আমেরিকা প্রবাসী)
  8. এম.এঃ মালেক ( রাজশাহী বিভাগীয় গ্রন্থাগার থেকে সম্মাননা প্রাপ্ত); (অবঃ) রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক, লেখক ও কলামিষ্ট।[১০]

দর্শনীয় স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে বাগাতিপাড়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৭ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই,২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. পটভূমি
  3. পটভূমি
  4. পটভূমি
  5. পটভূমি
  6. ঐতিহ্য
  7. সংস্কৃতি
  8. সংস্কৃতি
  9. সংস্কৃতি
  10. ব্যক্তিত্ব

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]