পুঠিয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পুঠিয়া উপজেলা
উপজেলা
পুঠিয়া উপজেলা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
পুঠিয়া উপজেলা
পুঠিয়া উপজেলা
বাংলাদেশে পুঠিয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২২′৩০″উত্তর ৮৮°৫১′০০″পূর্ব / ২৪.৩৭৫০° উত্তর ৮৮.৮৫০০° পূর্ব / 24.3750; 88.8500স্থানাঙ্ক: ২৪°২২′৩০″উত্তর ৮৮°৫১′০০″পূর্ব / ২৪.৩৭৫০° উত্তর ৮৮.৮৫০০° পূর্ব / 24.3750; 88.8500
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রাজশাহী বিভাগ
জেলা রাজশাহী জেলা
আয়তন
 • মোট ১৯২.৬৪ কিমি (৭৪.৩৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,০৭,৪৯০
 • ঘনত্ব ১১০০/কিমি (২৮০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৬.৯০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট puthia.rajshahi.gov.bd


পুঠিয়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা ।

অবস্থান[সম্পাদনা]

রাজশাহী শহর থেকে পুঠিয়ার দুরত্ব মাত্র ৩২ কিলোমিটার। প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ পুঠিয়ার জনবসতি হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। হাজার বছরের ইতিহাসের গতিধারা নির্ণয়কারী অসংখ্য নিদর্শন সমৃদ্ধ পুঠিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন ৪৭,৬০২ বর্গ কিলোমিটার। প্রাচীন জমিদার বাড়ীর জন্য পুঠিয়া বিখ্যাত।এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ঐতিহাসিক মন্দির রয়েছে। রাজশাহীর বিখ্যাত জনহিতৈষী পুঠিয়া রাজ পরিবারের হিন্দু জমিদার রাজাদের দ্বারা মন্দিরগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পুঠিয়ার জমিদার/রাজাগণ প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য এবং ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্নের জন্য বিভিন্ন স্থাপত্য কাঠামো ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্দির নির্মাণ করেন, যা আজও কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে আছে। পুঠিয়ায় অবস্থিত অধিকাংশ মন্দিরে পোড়ামাটির ফলক স্থাপিত আছে। এখানকার পুরাকীর্তির মধ্যে পাঁচআনি রাজবাড়ী বা পুঠিয়া রাজবাড়ী, চারআনি রাজবাড়ী ও ১৩টি মন্দির রয়েছে। পুঠিয়ার প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে ১৪টি স্থাপনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষনা করেছে।এই জেলার দক্ষিণে চারঘাট উপজেলাবাঘা উপজেলা, পশ্চিমে দূর্গাপুর উপজেলারাজশাহী শহর, পূর্বে নাটোর জেলা এবং উত্তরে বাগমারা উপজেলাতাহেরপর থেকে পুঠিয়া ১৪কিলোমিটার এবং নাটোর থেকে ১৮কিলোমিটার ।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নামকরন[সম্পাদনা]

পুঠিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিল সম্রাট আকবরের আমলে। বৎসরাচার্য নামে এক ঋষিপুরুষ বাদশাহী সূত্রে লাভ করেন পুঠিয়া রাজ্যের জমিদারি। যিনি পুঠিয়া রাজবংশের আদি রাজা নামে পরিচিত। তারও পূর্বে বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত এ উপজেলা পুঠিমাড়ীর বিল নামে পরিচিত ছিল মর্মে জানা যায়। এ থেকে এ উপজেলার নাম পুঠিয়া হয়েছে। আবার স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপে জানা যায় যে, পুঠিয়া রাজাদের এক আশ্রিতা ছিল তার নাম ছিল পুঠিবিবি। তিনি রুপে গুণে বুদ্ধিমতি এবং অতিশয় ধার্মিক ছিলেন। যাহা বলতেন তাহাই ঠিক ঠিক ফলে যেত। নীলকুঠিদের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার আগে বলেছিলেন জয় হবে সত্যিই জয় হয়েছিল। তখন পুঠিয়া রাজবংশের রাজাগণ বললেন তুমি কি চাও, যাহা চাইবে তাহাই পাইবে। তখন পুঠিবিবি বলেছিল আমাকে এমন কিছু দেওয়া হোক যা এলাকার মানুষ যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে। তখন পুঠিয়া রাজবংশের রাজাগণ একমত হয়ে তার ইচ্ছা পূরণার্থে তারই নামানুসারে এই এলাকার নাম রাখেন পুঠিয়া। যা পরবর্তীতে পুঠিয়া উপজেলা হিসাবে নামকরণ হয়।[২]

অন্য এক জনশ্রুতিতে আছে যে বর্তমান পুঁঠিয়া রাজ বাড়ি সংলগ্ন এবং পাঁচ আনি খেলার মাঠের পশ্চিমে স্যাম সাগর। এই স্যাম সাগর পুঠিয়া রাজ বাড়ি প্রতিষ্ঠার পূর্বে একটি বিল ছিল। বিলটির নাম ছিল পুঠি মারীর বিল। বিশাল জলাশয়। রাজা পীতম্বর এর সময় পুঁঠিয়া রাজ বাড়ীর সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধির জন্য এই জলাশয় কে পুকুরে রুপান্তর করা হয়। যে পুকুর এখন স্যাম সাগর নামে পরিচিত। অনেকের ধারণা এই স্যাম সাগরের পূর্বের নাম পুঠি মারীর বিল থেকেই বর্তমান পুঠিয়া নামের নামকরন । একটি বিষয় পরিষ্কার যে পুঁঠিয়া নামকরনের কোন ইতিহাস রাজশাহীর প্রাচীন পাবলিক লাইব্রেরি গুলিতে ও পাওয়া যায় নি। রাজশাহী নামকরন রাজশাহী প্রাচীন ইতিহাসে থাকলেও পুঠিয়া নামকরনের ইতিহাস পুঠিয়ার রাজ বংশের ইতিহাসে নাই। এখন সম্মানিত পাঠক মণ্ডলীই বেছে নিবেন উপরে বর্নিত কোন জনশ্রুতিটি পুঠিয়া নামকরনের জন্য গ্রহণ যোগ্য জনশ্রুতি। পুঠিয়া নাম পূর্ব থেকে জারী না থাকলে পুঠিয়া রাজ বংশের নাম পুঠিয়া রাজ বংশ না হয়ে অন্য নাম হতে পারতো। পুঠিয়া নাম পূর্ব থেকে জারী না থাকলে চর্তুদ্দশ খৃষ্টাব্দের শেষ অথবা পঞ্চদশ খৃষ্টাব্দের প্রথমেই পুঠিয়া নামে রাজধানী গঠন হত না। [৩]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

পুঠিয়া উপজেলায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে। উপজেলার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্টান গুলোতে পড়াশুনার পাঠ শেষ করে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য শহর মুখী হয়। পুঠিয়া উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্টান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোঃ পচামাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পচামাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ, পি এন উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যািদি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী পুঠিয়া রাজবাড়ীর মহারানী ছিল ।

বিবিধ[সম্পাদনা]

পুঠিয়া উপজেলা থেকে ১৭ কি.মি উত্তরে পচামাড়িয়া পাখির জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে শীত কালে এখানে প্রচুর অতিথি পাখি আসে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে পুঠিয়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ 
  2. http://www.dcrajshahi.gov.bd/index.php?opxion=com_content&view=article&id=151&Itemid=161&option=com_content
  3. http://www.amarputhia.com/puthia/?s=8&pageid=1#start

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


রাজশাহী জেলা Flag of Bangladesh.svg
উপজেলা: বাঘা  · পুঠিয়া  · পবা  · বাগমারা  · তানোর  · রাজশাহী সদর  · মোহনপুর  · চারঘাট  · গোদাগাড়ী  · দূর্গাপুর
এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন।