সিংড়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সিংড়া
উপজেলা
সিংড়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
সিংড়া
সিংড়া
বাংলাদেশে সিংড়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৩০′ উত্তর ৮৯°৮′ পূর্ব / ২৪.৫০০° উত্তর ৮৯.১৩৩° পূর্ব / 24.500; 89.133স্থানাঙ্ক: ২৪°৩০′ উত্তর ৮৯°৮′ পূর্ব / ২৪.৫০০° উত্তর ৮৯.১৩৩° পূর্ব / 24.500; 89.133 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরাজশাহী বিভাগ
জেলানাটোর জেলা
আয়তন
 • মোট৫২৮.৪৬ কিমি (২০৪.০৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৩,৫৬,৭৭৬[১]
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৫%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫০ ৬৯ ৯১
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

সিংড়া উপজেলা বাংলাদেশের নাটোর জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

মানচিত্রে সিংড়া উপজেলা

সিংড়া উপজেলার উত্তরে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা, দক্ষিণে গুরুদাসপুর উপজেলা, পূর্বে সিরাজগঞ্জের তাড়াস উপজেলা, পশ্চিমে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চলনবিলের বিশাল জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ জন্মাতো, যেমনঃ- শাপলা, পদ্ম, নলখাগড়া ও হোগলা ইত্যাদি। আরেক ধরনের জলজ উদ্ভিদ জন্মাতো যার ফল ত্রিভুজাকৃতির, যা পানিফল নামে পরিচিত। মোঘল বাদশাহ আকবরের রাজত্বের সময় পূর্বাঞ্চল হতে কর আদায়ে চলনবিলের মধ্যদিয়ে নৌযানের সাহায্যে যাতায়াত করতে গিয়ে ঐ পানি ফলের এলাকায় এসে নৌযানগুলো বাধাপ্রাপ্ত হত। মোঘল যাত্রীগণ উক্ত পানি ফলের খোসা ছাড়িয়ে ভীত সম্ভ্রস্তভাবে কিঞ্চিত আস্বাদনে দেখলেন এটা একটা সুস্বাদু ফল বিশেষ। এরপর শুরু হয় নাম দেয়ার পালা। মোঘল দরবারে ঐতিহ্যবাহী খাবার সিঙ্গারার মত হওয়ায় এর নাম দেয়া হয় সিঙ্গার। আর বিলের এ অংশটির নাম দেয়া হয় “সিঙ্গার চলনবিল”। কালের বিবর্তনে এর নাম সিংড়া’য় রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে সিংড়া নাটোর জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। ১৯৯৮ সালে উপজেলা সদর নিয়ে সিংড়া পৌরসভা গঠিত হয়।[২]

নাটোরের ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায় ১৭৪৮ খ্রিঃ রাজা রামাকান্তের মৃত্যুর পর রাজ্য পরিচালনায় পরামর্শদাতা মহিয়সী রানী ভবানীর হাতে নবাব আলীবর্দী খাঁ রাজশাহীর (নাটোর) জমিদারীর ভার অর্পণ করেন। রানী ভবানী নিঃসন্তান স্বামীর জমিদারী প্রাপ্ত হন ও অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে ১২,৯৯৯ বর্গমাইল বিস্তৃত এই রাজশাহী (নাটোর) জমিদারী অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সহিত পরিচালনা করেন। রাণী ভবানীর এই রাজ্যের রাজধানী ছিল নাটোর।[২]

নাটোর রাজবাড়ী থেকে বগুড়া জেলার পীঠস্থান ভবানীপুরের সংগে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য রানী ভবাানী ৩০ মাইল লম্বা রাস্তা ও অনেক পুল নির্মাণ করেন। পথিকদের সুবিধার জন্য রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপন ও পান্থশালা নির্মাণ করেন। এ রাস্তাটি রানী ভবানী জাংগাল নামে পরিচিত। রাস্তাটি নাটোর থেকে শুরু হয়ে সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ও পাকুরিয়ার পাশ দিয়ে বিনগ্রাম, বামিহাল, রানীহাটের মধ্যেদিয়ে ভবানীপুরে গিয়ে পৌঁছেছে। তিনি পাকুরিয়াতে ৩০০ টি পুকুর খনন করেন। বিনগ্রামের নিকট রানীর জাংগালের উপর প্রতিষ্ঠিত পুলটি এখনও রানী ভবানীর কীর্তি হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। অবশিষ্ট সবই ১৩০৪ বাংলা সালের প্রবল ভূমিকম্পে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।[২] কলম গ্রামের এক কৃতি সন্তান দেওয়ান দয়ারাম রায়, রাজা রমাকান্তের মন্ত্রী ছিলেন যিনি সে সময় ওয়ারেন হেষ্টিংস বলে পরিচিত ছিলেন। নানা কিংবদন্তী ছড়িয়ে আছে তিসিখালীর মাজার নিয়ে; সেখানে এখনও ঘাসী দেওয়ান পীর স্মরণে প্রতি বছর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চৌগ্রামের ভগ্নপ্রায় রাজদরবার এই অঞ্চলের উজ্জ্বল ইতিহাসের নীরব স্বাক্ষী। সিংড়ায় জন্মেছিলেন অঙ্কের যাদুকর বৃটিশ সরকার প্রদত্ত সি, আই, ই, ও স্যার উপাধী খ্যাত যদুনাথ সরকার, ভারতীয় কংগ্রেসের বঙ্গদেশ শাখার সেক্রেটারি শরবিন্দু ভট্রাচার্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রপথিক মাদার বক্স।[২]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। এগুলো হলো:

  1. শুকাশ ইউনিয়ন
  2. ডাহিয়া ইউনিয়ন
  3. ইটালী ইউনিয়ন
  4. কলম ইউনিয়ন
  5. চামারী ইউনিয়ন
  6. হাতিয়ান্দহ ইউনিয়ন
  7. লালোর ইউনিয়ন
  8. শেরকোল ইউনিয়ন
  9. তাজপুর ইউনিয়ন
  10. চৌগ্রাম ইউনিয়ন
  11. ছাতারদিঘী ইউনিয়ন
  12. রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়ন

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

সিংড়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা - ৩৫৬৭৭৬ জন । তন্মধ্যে পুরুষ ১৭৯৪৩১ জন ও মহিলা - ১৭৭৩৪৫ জন ।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

কৃষি[সম্পাদনা]

ধান, রসুন, গম, পাট, সরিষা, মাছ, ডিম উৎপাদন, হাস মুরগি পালন, পশু পালন

ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

একটি প্রাচীন জনপদের গৌরবোজ্জল ঐতিহ্যের ভিন্নমাত্রিক স্মারক তার প্রত্নতাত্বিক বিষয়ের গৌরবে স্থাপত্য শিল্পের নান্দনিক সৌন্দয্য। সিংড়া এক্ষেত্রে যে মোটেই পশ্চাদপদ নয় কতিপয় দৃষ্টামত্ম দিলে তা স্পষ্ট হবে। ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনাদি ও প্রত্নতত্ব এর মধ্যে চৌগ্রামের রাজবাড়ী , তিসিখালীর মাজার, চলনবিল ও গণকবর উল্লেখযোগ্য।[৩] 

সিংড়া উপজেলা সংস্কৃতির এক পীঠস্থান। অধিকাংশ জনগোষ্ঠী শিল্প ও সাহিত্যের অনুরাগী। বিখ্যাত অনেক কবি সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের জন্মভূমি এই উপজেলায়। এখানকার মানুষ বাংলা ভাষা-ভাষী। মুসলমান, হিন্দু, আদিবাসী সকলে মিলে একত্রে সংস্কৃতি চর্চা করে। এখানে শিল্পকলা একাডেমীসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও দল রয়েছে। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে অনেক আনন্দ ও উৎসব মূখর পরিবেশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রানবন্ত্য এ মেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে।[৪]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে সিংড়া উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২২ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৪ 
  2. পটভূমি
  3. ঐতিহ্য
  4. ভাষা ও সংস্কৃতি

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]